বিশ্বসাহিত্য কেন্দ্রের কোটি কোটি টাকার অনুদান ও শ্রমিকের প্রতি অবজ্ঞা: তদন্তের দাবি ড. আসিফ মিজানের

Shahinur Rahman Uzzol
Shahinur Rahman Uzzol Shahinur Rahman Uzzol
প্রকাশিত: ৬:৫৬ অপরাহ্ন, ২৪ এপ্রিল ২০২৬ | আপডেট: ৪:৩৯ অপরাহ্ন, ২৫ এপ্রিল ২০২৬


ঢাকা: বিশ্বসাহিত্য কেন্দ্র এবং এর প্রতিষ্ঠাতা আবদুল্লাহ আবু সায়ীদ কর্তৃক সরকারি ও বেসরকারি পর্যায় থেকে গ্রহণ করা কোটি কোটি টাকার অনুদানের অর্থের উৎস ও ব্যবহার নিয়ে নিরপেক্ষ তদন্তের দাবি জানিয়েছেন আন্তর্জাতিক খ্যাতিসম্পন্ন শিক্ষাবিদ প্রফেসর ড. শেখ আসিফ এস. মিজান। সোমালিয়ার দারুসসালাম বিশ্ববিদ্যালয়ের এই ভাইস চ্যান্সেলর মনে করেন, আলোকিত মানুষ গড়ার নাম করে মূলত একটি বিশেষ 'এলিট' শ্রেণির জন্য কাজ করা হচ্ছে, যেখানে সাধারণ মেহনতি মানুষের কোনো স্থান নেই।


এক বিবৃতিতে ড. আসিফ মিজান বলেন, "আমরা জানতাম না যে স্যার (আবদুল্লাহ আবু সায়ীদ) সরকার থেকে কোটি কোটি টাকা অনুদান নিয়ে কেবল উচ্চবিত্ত বা এলিট শ্রেণির শহুরে মানুষের বই পড়ার অভ্যাস গড়ে তুলছেন। জনকল্যাণ ও শিক্ষার প্রসারের নামে প্রাপ্ত এই বিপুল অর্থের সঠিক ব্যবহার হচ্ছে কি না, তা খতিয়ে দেখা রাষ্ট্রের দায়িত্ব।"


বিবৃতিতে তিনি প্রবাসী শ্রমিকদের নিয়ে আবদুল্লাহ আবু সায়ীদের পূর্বের একটি বিতর্কিত মন্তব্যের তীব্র প্রতিবাদ জানান। উল্লেখ্য, প্রবাসী শ্রমিকদের বিমানের আচরণ নিয়ে ক্ষোভ প্রকাশ করে একদা আবদুল্লাহ আবু সায়ীদ বলেছিলেন- "বিমানে চড়লে দেখবেন আমাদের শ্রমিক ভাইদের অবস্থা। তারা এমনভাবে খাবার খায় বা আচরণ করে যা দেখে মনে হয় না তারা সভ্য জগতের সাথে পরিচিত। এদের কোনো রুচিবোধ নেই, কোনো শিষ্টাচার নেই।"


এই মন্তব্যের সমালোচনা করে ড. আসিফ মিজান বলেন, "স্যার এলিট ডান-বাম, সাদা-কালো সবার সাথেই পানির মতো মিশে যেতে পারেন, কিন্তু আমাদের অর্থনীতির প্রাণভোমরা শ্রমিক শ্রেণির প্রতি তাঁর এই তীব্র ক্ষোভ আমাদের ব্যথিত করে। আহারে স্যার! এই প্রবাসী শ্রমিকদের তো আর আপনার ‘বিশ্বসাহিত্য কেন্দ্র’ থেকে বই নিয়ে তথাকথিত বিড়ালতপস্বী হওয়ার সৌভাগ্য হয়নি। তাই বলে কি তাদের আপনি অসভ্য বা রুচিহীন বলবেন?"


তিনি আরও বলেন, "আলোকিত মানুষ হওয়ার প্রথম শর্তই হলো মানুষকে মর্যাদা দিতে শেখা। রাষ্ট্রীয় অনুদান নিয়ে একশ্রেণির মানুষকে আলোকিত করবেন আর মূল কারিগর শ্রমিকদের অবজ্ঞা করবেন- তা হতে পারে না। এই অর্থের বণ্টন এবং প্রতিষ্ঠানের কার্যক্রম নিয়ে উচ্চতর তদন্ত এখন সময়ের দাবি।"


বিবৃতিতে ড. মিজান সরকারের সংশ্লিষ্ট বিভাগকে বিশ্বসাহিত্য কেন্দ্রের আর্থিক স্বচ্ছতা নিশ্চিত করার আহ্বান জানান।