চীনের পথে পররাষ্ট্রমন্ত্রী, চূড়ান্ত হতে পারে প্রধানমন্ত্রীর বেইজিং সফরের সূচি

Shahinur Rahman Uzzol
Shahinur Rahman Uzzol Shahinur Rahman Uzzol
প্রকাশিত: ১১:৫২ পূর্বাহ্ন, ০৫ মে ২০২৬ | আপডেট: ৩:৫৭ অপরাহ্ন, ০৫ মে ২০২৬

মোংলা বন্দরের আধুনিকায়ন, জ্বালানি সহযোগিতা এবং রোহিঙ্গা সংকটসহ একাধিক গুরুত্বপূর্ণ ইস্যু সামনে রেখে তিন দিনের সফরে বেইজিং যাচ্ছেন পররাষ্ট্রমন্ত্রী খলিলুর রহমান।

মঙ্গলবার (৫ মে) দুপুরে বেইজিংয়ের উদ্দেশে ঢাকা ছাড়ছেন পররাষ্ট্রমন্ত্রী খলিলুর রহমান।

বুধবার বেইজিংয়ে চীনের পররাষ্ট্রমন্ত্রী ওয়াং ই-এর সঙ্গে দ্বিপক্ষীয় বৈঠকে অংশ নেবেন তিনি। এই সফরে ব্যবসা-বাণিজ্য ও সরাসরি ফ্লাইট চালুর মতো আলোচনার পাশাপাশি আসন্ন জুন-জুলাইয়ে প্রধানমন্ত্রীর চীন সফরের বিষয়টিও চূড়ান্ত হতে পারে।

ত্রয়োদশ জাতীয় নির্বাচনে বিএনপি সরকার গঠনের পর এটিই তার প্রথম চীন সফর। সফরে তার সঙ্গে থাকছেন প্রধানমন্ত্রীর পররাষ্ট্রবিষয়ক উপদেষ্টা হুমায়ুন কবির।

বাংলাদেশ ও চীনের দ্বিপাক্ষিক সম্পর্ক জোরদারের পাশাপাশি দুই দেশের কৌশলগত যোগাযোগ আরও শক্তিশালী করাই এই সফরের মূল লক্ষ্য।

গত এপ্রিলের শুরুতে পররাষ্ট্রমন্ত্রী ভারত সফর করেছিলেন। এর এক মাসের ব্যবধানে এখন বেইজিং সফরকে কূটনৈতিক ভারসাম্য বজায় রাখার ক্ষেত্রে একটি গুরুত্বপূর্ণ বার্তা হিসেবে দেখছেন বিশ্লেষকরা।

সং‌শ্লিষ্টরা জা‌নি‌য়ে‌ছেন, বৈঠ‌কে জ্বালানি সংকট, ব্যবসা-বা‌ণিজ্য, মোংলা বন্দরের আধুনিকায়নের বাস্তবায়ন, চীনে কাঁঠাল রপ্তানি, গুয়াংজু-চট্টগ্রাম ও সাংহাই-চট্টগ্রামের মধ্যে সরাসরি ফ্লাইট চালু, চীনা শিল্প স্থানান্তর, রোহিঙ্গা সংকট এবং চাইনিজ অর্থনৈতিক অঞ্চলসহ আলোচনায় জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের ৮১তম অধিবেশনের সভাপতি পদে বাংলাদেশের প্রার্থিতার পক্ষে চীনের সমর্থন চাওয়ার প্রতি জোর দেওয়া হবে।

অন্যদিকে, বাংলাদেশের বৃহত্তম উন্নয়ন অংশীদার চীন তিস্তা মহাপরিকল্পনা, উচ্চমানের ‘বেল্ট অ্যান্ড রোড ইনিশিয়েটিভ’ সহযোগিতা জোরদার করা এবং রাজনৈতিক প্রভাব বিস্তারের চীনের ‘গ্লোবাল ডেভেলপমেন্ট ইনিশিয়েটিভ’সহ অন্যান্য উদ্যোগ ব্যবহার করে বাংলাদেশের সঙ্গে ভবিষ্যৎ আলোচনায় গুরুত্ব দিতে পারে।

বৈঠ‌কে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের চীন সফর নিয়েও আলোচনা হবে। আশা করা হ‌চ্ছে, জুনের মাঝামাঝি থেকে জুলাইয়ের প্রথমার্ধের মধ্যে সরকারপ্রধান বেই‌জিং সফর কর‌বেন।

এছাড়া রোহিঙ্গা ইস্যু ও মিয়ানমারসহ আঞ্চলিক ও মধ্যপ্রাচ্যের চলমান বিভিন্ন সংকটের কারণে সৃষ্ট সমস্যা নিয়ে দুই দেশ আলোচনা করতে পারে।

পররাষ্ট্রমন্ত্রীর এই সফরে বেইজিংয়ে চীনা কমিউনিস্ট পার্টির একাধিক নেতার সঙ্গেও বৈঠকের কথা রয়েছে।