রামিসা হত্যার বিচার এক মাসেই নিশ্চিত করা হবে: প্রধানমন্ত্রী

Shahinur Rahman Uzzol
Shahinur Rahman Uzzol Shahinur Rahman Uzzol
প্রকাশিত: ৭:৩১ অপরাহ্ন, ২৩ মে ২০২৬ | আপডেট: ১১:১৪ অপরাহ্ন, ২৩ মে ২০২৬

রামিসা হত্যাকাণ্ডের বিচার আগামী এক মাসের মধ্যে নিশ্চিত করার প্রত্যয় ব্যক্ত করেছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। তিনি বলেছেন, এই হত্যাকাণ্ডের সাথে জড়িতদের সর্বোচ্চ শাস্তি নিশ্চিত করা হবে। একটি নিরাপদ সমাজ প্রতিষ্ঠা করতে পারলে তবেই আমরা দেশকে এগিয়ে নিয়ে যেতে পারব।

শনিবার (২৩ মে) বেলা ২টা ২০ মিনিটে ময়মনসিংহ জেলার ত্রিশাল উপজেলার বৈলর ইউনিয়নের দরিয়ারপুর গ্রামের ‘ধরার খাল’ পুনঃখনন কাজ উদ্বোধন শেষে আয়োজিত এক আলোচনা সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, জনগণ যেহেতু বিএনপিকে ভোট দিয়ে সরকার গঠন করার ক্ষমতা দিয়েছে, সেই কারণেই একটি পক্ষের মনে জ্বালা ধরেছে এবং এই জ্বালার কারণেই তারা নানামুখী অরাজক কর্মকাণ্ড করছে। দেশে বিশৃঙ্খল পরিবেশ সৃষ্টি করে যারা মানুষের জানমালের ক্ষতি করার চেষ্টা করছে, তারা কৃষক, মানুষের কর্মসংস্থান কিংবা কৃষকের খাল কাটা নিয়ে কোনো কথা বলে না। তারা রাস্তাঘাট বন্ধ করে অবরোধ সৃষ্টি করতে চাইলেও গ্রামের মাসুম বাচ্চারা কীভাবে খালি পায়ে স্কুলে যায়, সেদিকে তাদের খেয়াল নেই। 

দেশের সাধারণ মানুষকে এদের ব্যাপারে সতর্ক থাকার আহ্বান জানিয়ে প্রধানমন্ত্রী বলেন, এই অরাজকতা সৃষ্টিকারীরা সফল হলে দেশে খাল কাটা, ফ্যামিলি কার্ড ও কৃষক কার্ডের বিতরণ বন্ধ হয়ে যাবে। এতে ইমাম, মোয়াজ্জেম ও খতিব সাহেবসহ অন্যান্য ধর্মের ধর্মগুরুদের সম্মানী দেওয়া এবং গ্রামের বাচ্চাদের নতুন স্কুল ড্রেস ও ব্যাগ দেওয়ার যে প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে, তা থমকে যাবে। ফলে চূড়ান্তভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হবে গ্রামের খেটে খাওয়া সাধারণ মানুষ।

জনগণকে সচেতন থাকার অনুরোধ জানিয়ে তিনি আরও বলেন, গত ৫ আগস্ট যাদেরকে বাংলাদেশের মানুষ এই দেশ থেকে বিতাড়িত করেছিল, এখন যারা অরাজকতা সৃষ্টি করতে চাইছে তারা তলে তলে সেই বিতাড়িত শক্তির সাথে সমঝোতা করেছে। যেভাবে তারা ৯৬ ও ৮৬ সালে করেছিল, ঠিক তেমনিভাবে এখন তাদের সাথে নতুন কয়েকটি ‘লেজ’ গজিয়েছে। রাজপথে নেমে সর্বস্তরের জনগণ যে স্বৈরাচারকে বিদায় করেছে, যারা মানুষের ভোটের ও কথা বলার অধিকার কেড়ে নিয়েছিল, তাদের আর ফিরে আসতে দেওয়া হবে না।

নতুন বাংলাদেশ গড়ার প্রত্যাশা ব্যক্ত করে তারেক রহমান বলেন, বাংলাদেশের মানুষ এখন দেশ গঠন ও নিজেদের ভাগ্যের পরিবর্তন করতে চায়। আর এই পরিবর্তনের জন্য আমাদের বিশ কোটি মানুষের চল্লিশ কোটি হাতকে দক্ষ শ্রমিক হিসেবে কাজে লাগিয়ে সক্রিয় করে তুলতে হবে। নতুন ব্রিজ, কালভার্ট, স্কুল, কলেজ ও হাসপাতাল তৈরির মাধ্যমে দেশের রূপান্তর ঘটাতে হবে। 

আলোচনা সভা শেষে প্রধানমন্ত্রী জাতীয় পর্যায়ে আয়োজিত জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলামের ১২৭তম জন্মজয়ন্তীর তিন দিনব্যাপী উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে যোগ দেন এবং সেখানে উপস্থিত জনতার উদ্দেশ্যেও বক্তব্য রাখেন।