চীন-বাংলাদেশ সম্পর্ক কেউ বিচ্ছিন্ন করতে পারবে না: মির্জা ফখরুল

Shahinur Rahman Uzzol
Shahinur Rahman Uzzol Shahinur Rahman Uzzol
প্রকাশিত: ৪:০০ অপরাহ্ন, ১৮ জুলাই ২০২৬ | আপডেট: ৪:৪৭ পূর্বাহ্ন, ১৯ জুলাই ২০২৬

চীনের সঙ্গে বাংলাদেশের দীর্ঘদিনের সম্পর্ক কোনো পক্ষই সহজে বিচ্ছিন্ন করতে পারবে না বলে মন্তব্য করেছেন স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায়মন্ত্রী এবং বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। তিনি বলেন, রাজনৈতিক আস্থার ভিত্তিতে গড়ে ওঠা এই সম্পর্ক ভবিষ্যতে আরও শক্তিশালী হবে এবং বাংলাদেশ চায় চীন অর্থনৈতিকভাবে দেশের পাশে থাকুক।

শনিবার (১৮ জুলাই) রাজধানীর প্যান প্যাসিফিক সোনারগাঁও হোটেলে বাংলাদেশ-চায়না ফ্রেন্ডশিপ অ্যাসোসিয়েশনের (বিসিএফএ) এক অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।

মির্জা ফখরুল বলেন, বর্তমান বিশ্বে চীনের রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিক গুরুত্ব ক্রমেই বাড়ছে। উন্নয়নশীল দেশগুলোর মতো বাংলাদেশও বাণিজ্য, উন্নয়ন ও নিরাপত্তাসহ বিভিন্ন ক্ষেত্রে চীনের সঙ্গে সহযোগিতা আরও বিস্তৃত করতে আগ্রহী।

বিশ্বে অন্যায়, আধিপত্যবাদ ও সম্প্রসারণবাদের বিরুদ্ধে চীন কার্যকর নেতৃত্ব দিতে পারে বলেও মন্তব্য করেন তিনি। তার ভাষায়, আন্তর্জাতিক অঙ্গনে ন্যায়ভিত্তিক বিশ্বব্যবস্থা প্রতিষ্ঠায় চীনের আরও সক্রিয় ভূমিকা প্রয়োজন এবং বাংলাদেশ এ প্রচেষ্টায় চীনের পাশে থাকতে চায়।


চাইনিজ কমিউনিস্ট পার্টির (সিপিসি) সঙ্গে বিএনপির দীর্ঘদিনের সম্পর্কের কথাও তুলে ধরেন মির্জা ফখরুল। তিনি বলেন, বিরোধী দলে থাকাকালেও দুই দলের যোগাযোগ অব্যাহত ছিল। একসময় ধারণা ছিল চীন শুধু আওয়ামী লীগের সঙ্গে সম্পর্ক রাখে, কিন্তু পরে তারা বুঝেছেন চীন সব রাজনৈতিক পক্ষের সঙ্গে সম্পর্ক বজায় রাখে এবং বাংলাদেশের সঙ্গে অর্থনৈতিক ও বাণিজ্যিক সম্পর্ক জোরদারে আগ্রহী।

তিনি বলেন, জাতীয় স্বার্থেই চীনের সঙ্গে সম্পর্ক আরও গভীর করতে চায় বিএনপি। একই সঙ্গে বাংলাদেশ ভারতের সঙ্গে সুসম্পর্ক বজায় রাখার পাশাপাশি ইউরোপ ও যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে বাণিজ্যিক সম্পর্কও সম্প্রসারণ করতে চায়।

দেশের প্রায় চার কোটি বেকার তরুণের কর্মসংস্থান তৈরিতে চীনের প্রযুক্তি, বিনিয়োগ ও অর্থনৈতিক সহযোগিতার প্রয়োজন রয়েছে উল্লেখ করে মির্জা ফখরুল বলেন, এ বাস্তবতা বিবেচনায় নিয়েই প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সাম্প্রতিক চীন সফর হয়েছে। তার দাবি, ওই সফরের মাধ্যমে দুই দেশের সম্পর্ক নতুন উচ্চতায় পৌঁছেছে।

তিনি আরও বলেন, এখন প্রতিশ্রুতির বাস্তবায়ন দেখতে চায় বাংলাদেশ। যেসব খাতে চীনের প্রযুক্তি প্রয়োজন, সেসব ক্ষেত্রে দ্রুত সহযোগিতা শুরু হওয়ার প্রত্যাশাও ব্যক্ত করেন তিনি।

অনুষ্ঠানে বাংলাদেশে নিযুক্ত চীনের রাষ্ট্রদূত ইয়াও ওয়েন, তথ্য ও সম্প্রচারমন্ত্রী জাহির উদ্দিন স্বপন, বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটন প্রতিমন্ত্রী রাশিদুজ্জামান মিল্লাত, সংসদ সদস্য শিমুল বিশ্বাসসহ কূটনীতিক, ব্যবসায়ী ও বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার প্রতিনিধিরা উপস্থিত ছিলেন।