শিক্ষা ব্যবস্থায় টেকসই পরিবর্তন আনতে সময় প্রয়োজন: ববি হাজ্জাজ

Shahinur Rahman Uzzol
Shahinur Rahman Uzzol Shahinur Rahman Uzzol
প্রকাশিত: ২:৪৯ অপরাহ্ন, ০৯ অগাস্ট ২০২৬ | আপডেট: ৮:১৫ অপরাহ্ন, ০৯ অগাস্ট ২০২৬
আগামী সাড়ে চার বছরের মধ্যে দেশের শিক্ষা ব্যবস্থায় বড় ধরনের পরিবর্তন আনার লক্ষ্য নিয়ে সরকার কাজ করছে বলে জানিয়েছেন প্রাথমিক ও গণশিক্ষা প্রতিমন্ত্রী ববি হাজ্জাজ।

রবিবার (৯ আগস্ট) সকালে রাজধানীর হোটেল শেরাটনে ইউনিসেফ আয়োজিত এক অনুষ্ঠানে তিনি এ কথা বলেন।

ববি হাজ্জাজ বলেন, শিক্ষা ব্যবস্থায় অল্প সময়ে বড় পরিবর্তন আনা সম্ভব নয়। তবে সঠিক পরিকল্পনা, তথ্যনির্ভর সিদ্ধান্ত এবং সংশ্লিষ্ট সব পক্ষের মতামত নিয়ে কাজ করলে আগামী কয়েক বছরে বড় পরিবর্তন আনা সম্ভব।

তিনি বলেন, ছয় মাসে শিক্ষা ব্যবস্থায় কী পরিবর্তন এসেছে, এমন প্রশ্ন করা ঠিক নয়। শিক্ষা কোনো পোশাক পরিবর্তনের মতো বিষয় নয়। এটি একটি পূর্ণাঙ্গ ব্যবস্থা। তাই শিক্ষা ব্যবস্থায় টেকসই পরিবর্তন আনতে সময় প্রয়োজন।

প্রাথমিক শিক্ষায় ফাউন্ডেশনাল লার্নিংয়ের দুর্বলতা দূর করার ওপর গুরুত্বারোপ করে প্রতিমন্ত্রী বলেন, দেশের অনেক শিক্ষার্থী শ্রেণি অনুযায়ী প্রয়োজনীয় মৌলিক বাংলা ও পড়ার দক্ষতা অর্জন করতে পারছে না। এ সমস্যা সমাধানে রিমিডিয়াল এডুকেশন বা পিছিয়ে পড়া শিক্ষার্থীদের জন্য অতিরিক্ত সহায়তামূলক শিক্ষার ওপর গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে।

ববি হাজ্জাজ বলেন, কোনো শিক্ষার্থী পঞ্চম শ্রেণিতে পড়লেও যদি সে প্রথম বা দ্বিতীয় শ্রেণির প্রয়োজনীয় পড়াশোনা না জানে, তাহলে তাকে পঞ্চম শ্রেণির পড়া দিয়ে এগিয়ে নেওয়া কঠিন। তাই শিক্ষার্থীর শেখার ঘাটতি চিহ্নিত করে সেই অনুযায়ী শিক্ষা দেওয়ার ব্যবস্থা করতে হবে।

আউট অব স্কুল চিলড্রেন কমিয়ে সব শিশুকে বিদ্যালয়ের আওতায় আনার লক্ষ্য নিয়েও কাজ চলছে বলে জানান তিনি। এ ক্ষেত্রে বাংলাদেশ নন ফরমাল এডুকেশন ব্যুরোর বিভিন্ন কর্মসূচির পাশাপাশি স্কুলে শিক্ষার্থীদের আগ্রহ বাড়াতে বিনামূল্যে স্কুল ইউনিফর্ম দেওয়ার পাইলট কার্যক্রম শুরু হচ্ছে বলেও জানান প্রতিমন্ত্রী।

মিড ডে মিল কর্মসূচি নিয়েও কথা বলেন তিনি। ববি হাজ্জাজ বলেন, প্রথম পর্যায়ের কর্মসূচিতে যেসব সমস্যা দেখা গেছে, সেগুলো চিহ্নিত করে সমাধানের চেষ্টা চলছে। তার মতে, একটি পাইলট প্রকল্প সফল কি না তা শুধু কতদূর বাস্তবায়ন হয়েছে তা দিয়ে বিচার না করে, এর মাধ্যমে কতগুলো সমস্যা চিহ্নিত ও সমাধান করা গেছে সেটিও বিবেচনায় নিতে হবে।

শিক্ষার্থীদের অগ্রগতি পর্যবেক্ষণে প্রযুক্তিনির্ভর ব্যবস্থা চালুর কথাও জানান প্রাথমিক ও গণশিক্ষা প্রতিমন্ত্রী। তিনি বলেন, প্রতিটি শিক্ষার্থীর শেখার অগ্রগতি যেন আলাদাভাবে পর্যবেক্ষণ করা যায়, সে জন্য প্রযুক্তিনির্ভর একটি ব্যবস্থা তৈরির কাজ চলছে।

পিইডিপি ৫ নিয়েও নতুনভাবে কাজ করার কথা জানান তিনি। ববি হাজ্জাজ বলেন, আগামী দিনে প্রকল্পগুলোকে আরও যৌক্তিক ও কার্যকর কাঠামোর মধ্যে আনা হবে। পিইডিপি ৫-এর আওতায় থাকা কার্যক্রমগুলো থাকবে, তবে সেগুলোকে আরও কার্যকর ও অপারেশনাল কাঠামোয় সাজানো হবে।

প্রাথমিক শিক্ষায় বিজ্ঞান, গণিত ও প্রযুক্তিনির্ভর শিক্ষার ওপরও গুরুত্ব দেওয়ার কথা জানান তিনি। শিক্ষার্থীদের মধ্যে ক্রিটিক্যাল থিংকিং বা সমালোচনামূলক চিন্তার দক্ষতা গড়ে তুলতে প্রাথমিক পর্যায় থেকেই স্টিম শিক্ষা জোরদারের পরিকল্পনার কথা বলেন প্রতিমন্ত্রী।

তিনি জানান, প্রাথমিক বিদ্যালয়ে ম্যাথ ল্যাব চালুর পাশাপাশি কারিকুলামে সায়েন্স টয়েজ ও ডিজাইনভিত্তিক কার্যক্রম যুক্ত করার পরিকল্পনা রয়েছে। এর মাধ্যমে শিক্ষার্থীরা হাতে কলমে গণিত, বিজ্ঞান ও নকশা সম্পর্কে শেখার সুযোগ পাবে।


শিক্ষকদের দক্ষতা বাড়ানো এবং পুরো প্রশাসনিক ও মনিটরিং ব্যবস্থা আরও কার্যকর করার ওপরও গুরুত্ব দেন ববি হাজ্জাজ। এ জন্য নতুন শিক্ষক সম্পর্কিত নীতি এবং মাঠপর্যায় থেকে বিভাগীয় পর্যায় পর্যন্ত মনিটরিং ব্যবস্থাকে আরও শক্তিশালী করার কাজ চলছে বলে জানান তিনি।

শিক্ষার্থীদের পাশাপাশি শিক্ষক ও পুরো কমিউনিটির কল্যাণ নিশ্চিত করার কথাও বলেন প্রতিমন্ত্রী। তার মতে, শুধু শিক্ষার্থী বা শিক্ষক নয়, অভিভাবক ও স্থানীয় জনগোষ্ঠীকে সম্পৃক্ত করে সামগ্রিক সামাজিক কল্যাণ নিশ্চিত করার মাধ্যমে স্কুল ব্যবস্থাকে এগিয়ে নিতে হবে।

ববি হাজ্জাজ বলেন, সরকারের শিক্ষা বিষয়ক পরিকল্পনা বাস্তবায়নে মন্ত্রণালয়, অধিদপ্তর, এনসিটিবি, নেপ, বিএনএফই এবং সহযোগী বিভিন্ন সংস্থার পাশাপাশি গণমাধ্যমের ভূমিকা গুরুত্বপূর্ণ। শিক্ষা ব্যবস্থার কোথায় ঘাটতি রয়েছে, তা চিহ্নিত করে সমাধানের জন্য সবার কাছ থেকে সৎ ও বাস্তবভিত্তিক মতামত প্রয়োজন।

তিনি আরও বলেন, ডাটা ডিপেন্ডেন্ট ও এভিডেন্স বেজড পদ্ধতিতে কাজ করে আগামী কয়েক বছরের মধ্যে বাংলাদেশের শিক্ষা ব্যবস্থায় বড় পরিবর্তন আনার লক্ষ্য রয়েছে। সরকারের পরিকল্পনা বাস্তবায়নে সংশ্লিষ্ট সবাই সহযোগিতা করলে সেই লক্ষ্য অর্জন সম্ভব হবে বলে আশাবাদ ব্যক্ত করেন তিনি।