অষ্টগ্রামে খালে তীব্র ভাঙনে, হুমকিতে ইউপি ভবন-বাজার
কিশোরগঞ্জের অষ্টগ্রামে ধলেশ্বরী ও মেঘনা নদীর সংযোগস্থল গজিয়া খালে ভয়াবহ ভাঙন দেখা দিয়েছে। গত দুই দিনে খালের তীব্র স্রোতে অন্তত ১০০ মিটার এলাকা নদীগর্ভে বিলীন হয়ে গেছে। এর ফলে চরম হুমকির মুখে পড়েছে বাঙ্গালপাড়া ইউনিয়ন পরিষদের নবনির্মিত ভবন, স্থানীয় বাজার, বসতভিটা এবং কোটি টাকা ব্যয়ে নির্মিত অষ্টগ্রাম-নোয়াগাঁও সড়ক। বন্যার পানি নেমে যাওয়ার সময় স্রোতের গতি বৃদ্ধি পাওয়ায় এই ভাঙন তীব্র আকার ধারণ করেছে। ভাঙন রোধে দ্রুত কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন স্থানীয় বাসিন্দারা।
শুক্রবার বিকালে সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়, উপজেলার বাঙ্গালপাড়া ইউনিয়নের গজিয়া খালের দক্ষিণ-পশ্চিমাংশে বাজার থেকে উছমানপুর পর্যন্ত এলাকা জুড়ে ভয়াবহ ভাঙন চলছে। বড় বড় ফাটল ধরে মুহূর্তের মধ্যে বিলীন হচ্ছে তীরের মাটি, যা প্রবল স্রোতে নিমিষেই ভেসে যাচ্ছে। এমন সংকটময় পরিস্থিতিতে স্থানীয় মুসল্লিদের খালের তীরে দাঁড়িয়ে ভাঙন রোধে মহান আল্লাহর দরবারে মোনাজাত ও দোয়া করতে দেখা গেছে।
স্থানীয়রা জানান, বন্যার পানি নামতে শুরু করায় লাউড়া মাইজখোলা এলাকায় নাব্যতা সংকট দেখা দিয়েছে। এর ফলে গজিয়া খালে পানি প্রবাহের চাপ ও স্রোত অস্বাভাবিক বেড়ে যাওয়ায় এই তীব্র ভাঙনের সৃষ্টি হয়েছে।
গত দুই দিনেই প্রায় ১০০ মিটার এলাকা নদীগর্ভে বিলীন হয়ে গেছে। ভাঙন অব্যাহত থাকলে দ্রুতই বাঙ্গালপাড়া বাজারের পূর্বাংশ, ইউনিয়ন পরিষদ ভবন ও শত শত ঘরবাড়ি বিলীন হওয়ার আশঙ্কা করছেন এলাকাবাসী।
ইতিমধ্যে বাজারের একমাত্র পণ্য খালাসের ঘাট সংলগ্ন সিঁড়ির নিচের মাটি সরে যাওয়ায় সেটি ধসে পড়ার উপক্রম হয়েছে। এতে ব্যবসায়ী, ক্রেতা-বিক্রেতা ও সাধারণ যাত্রীরা চরম ভোগান্তির মুখে পড়েছেন।
অন্যদিকে, কোটি টাকা ব্যয়ে নির্মিত অষ্টগ্রাম-নোয়াগাঁও সড়কটিও এখন নদীগর্ভে বিলীন হওয়ার পথে। উদ্ভূত পরিস্থিতিতে ভাঙনরোধে দ্রুত কার্যকর পদক্ষেপ নিতে কর্তৃপক্ষের কাছে জোর দাবি জানিয়েছেন স্থানীয়রা।
স্থানীয় ইউপি চেয়ারম্যান মনিরুজ্জামান জানান, বিষয়টি আমি গত বছরই ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে অবহিত করেছি। এ বছর জরুরি ভিত্তিতে দ্রুত ব্যবস্থা গ্রহণ করা না হলে ইউনিয়ন পরিষদ ভবন, স্থানীয় বাজার ও বহু মানুষের বসতভিটা নদীগর্ভে বিলীন হয়ে যাবে। এতে এলাকাবাসী এক অপূরণীয় ক্ষতির সম্মুখীন হবেন।
কিশোরগঞ্জ পানি উন্নয়ন বোর্ডের উপ-বিভাগীয় প্রকৌশলী মাহবুব আলম জানান, বিষয়টি নিয়ে আমরা আগেও কাজ করেছি। এ বছরও দ্রুত সরেজমিনে তদন্ত সাপেক্ষে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।