মানিকগঞ্জে মাদরাসা শিক্ষকের বেত্রাঘাতে ভাঙলো শিশুর হাড়, থানায় অভিযোগ

Newsdesk
Newsdesk Newsdesk
প্রকাশিত: ৪:১৮ অপরাহ্ন, ১৫ জুলাই ২০২৬ | আপডেট: ৪:১১ পূর্বাহ্ন, ১৬ জুলাই ২০২৬

মানিকগঞ্জের সাটুরিয়ায় মাদরাসা শিক্ষকের বেত্রাঘাতে সাত বছর বয়সী এক শিশুশিক্ষার্থীর বাম হাতের কনুইয়ের হাড় ফেটে যাওয়ার অভিযোগ উঠেছে। কান্না থামাতে শিশুটির মুখে কলম গুঁজে রেখে আবার মারধরের হুমকি দেওয়ার অভিযোগও করেছে শিশুটির পরিবার। ঘটনার পর অভিযুক্ত শিক্ষক নিজের ‘ভুল’ স্বীকার করেছেন।

গত ১১ জুলাই সকালে সাটুরিয়া উপজেলার চরতিল্লি দারুল উলুম মাদরাসা ও এতিমখানায় এ ঘটনা ঘটে। একই দিন শিশুটির বাবা মাদরাসার সহকারী শিক্ষক মো. আব্দুল্লাহ ও অধ্যক্ষ মো. ওমর ফারুকের বিরুদ্ধে সাটুরিয়া থানায় লিখিত অভিযোগ দেন।

শিশুটির বাবা জানান, কিছুটা দুষ্টু স্বভাবের হওয়ায় নিরাপদ পরিবেশে লেখাপড়া শেখানোর আশায় ছেলেকে ওই মাদরাসায় ভর্তি করেছিলেন। কিন্তু ঘটনার দিন সকাল পৌনে ৯টার দিকে ছেলে কান্নাকাটি করতে করতে বাড়ি ফিরে এসে জানায়, সে আর কখনো মাদরাসায় যাবে না।



তিনি বলেন, পরে ছেলের বাম হাত ফুলে যাওয়া এবং রক্ত জমাট বাঁধার চিহ্ন দেখতে পান। পিঠেও ছিল বেতের আঘাতের দাগ। পরে মানিকগঞ্জ শহরের একটি ডায়াগনস্টিক সেন্টারে এক্স-রে করালে জানা যায়, শিশুটির বাম হাতের কনুইয়ের ওপরের হাড় ফেটে গেছে।

শিশুটির ভাষ্য, পড়া ঠিকমতো না পারায় সহকারী শিক্ষক প্রথমে তাকে পিঠে, পরে হাতে মোটা বেত দিয়ে আঘাত করেন। এরপর গালে থাপ্পড় মারেন। ব্যথায় চিৎকার করে কাঁদতে থাকলে তার মুখে একটি কলম গুঁজে দিয়ে ২০ থেকে ২৫ মিনিট সেটি পড়ে গেলে আবার মারধরের হুমকি দেওয়া হয়।

পরিবারের দাবি, ঘটনার পর থেকে শিশুটি শারীরিক আঘাতের পাশাপাশি মানসিকভাবেও ভেঙে পড়েছে। এখন মাদরাসার নাম বা ওই শিক্ষকের কথা শুনলেই সে আতঙ্কিত হয়ে পড়ে।

অভিযুক্ত সহকারী শিক্ষক মো. আব্দুল্লাহ ঘটনার কথা স্বীকার করে বলেন, শিক্ষার্থীটি পড়ার সময় অমনোযোগী থাকায় তাকে দুটি বেতের আঘাত করেছিলেন। একটি হাতে লাগে, অন্যটি নড়াচড়া করায় অন্য জায়গায় লাগে। পরে জানতে পারেন, তার হাতের হাড় ফেটে গেছে।


তিনি বলেন, “এটা আমার অনেক বড় অন্যায় হয়েছে। আমি অধ্যক্ষকে বিষয়টি জানিয়েছি।”

মাদরাসার অধ্যক্ষ মো. ওমর ফারুকও ঘটনাটিকে অন্যায় বলে স্বীকার করেছেন। তিনি জানান, অভিযুক্ত শিক্ষক নিজের দোষ স্বীকার করেছেন এবং তার বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

সাটুরিয়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোহাম্মদ মোশারফ হোসেন বলেন, অভিযোগ পাওয়ার পর ঘটনাস্থলে পুলিশ পাঠানো হয়েছিল। ভুক্তভোগী পরিবারকে মামলা করতে থানায় আসতে বলা হয়েছে। তারা এলে মামলা নেওয়া হবে।