মহাসড়কে ক্যামেরা বসিয়ে সেনা তথ্য পাকিস্তানে পাচার, ভারতে গ্রেপ্তার ১

Newsdesk
Newsdesk Newsdesk
প্রকাশিত: ১২:২২ অপরাহ্ন, ২২ মে ২০২৬ | আপডেট: ১১:২৬ অপরাহ্ন, ২২ মে ২০২৬

ভারতের পাঞ্জাবে একটি সন্দেহভাজন গুপ্তচর চক্রের নেটওয়ার্কের সন্ধান পেয়েছে দেশটির পুলিশ। ভারতীয় সেনাবাহিনী ও আধাসামরিক বাহিনীর চলাচলের সংবেদনশীল তথ্য পাকিস্তানের হ্যান্ডলারদের (যোগাযোগকারী) কাছে পাচারের অভিযোগে বলজিৎ সিং ওরফে বিট্টু নামের এক ব্যক্তিকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। ভারতীয় সংবাদমাধ্যম এনডিটিভির এক প্রতিবেদন থেকে এই তথ্য জানা গেছে।

পুলিশ জানিয়েছে, অভিযুক্ত বলজিৎ পাঞ্জাবের পাঠানকোটের চাক ধারিওয়াল গ্রামের বাসিন্দা। তিনি পাঠানকোট-জম্মু ৪৪ নম্বর জাতীয় সড়কের একটি ব্রিজের পাশের দোকানে সিসিটিভি ক্যামেরা স্থাপন করেছিলেন। এর উদ্দেশ্য ছিল ওই সড়ক দিয়ে যাতায়াত করা সেনা ও আধাসামরিক বাহিনীর ওপর নজর রাখা।


পাঠানকোটের জ্যেষ্ঠ পুলিশ কর্মকর্তা দলজিন্দর সিং ধিলোন জানান, এই সিসিটিভি ক্যামেরার লাইভ ফুটেজ ও তথ্য ইলেকট্রনিক মাধ্যমে পাকিস্তান এবং দেশের বাইরে থাকা অপারেটদের কাছে পাঠানো হতো।

জিজ্ঞাসাবাদে বলজিৎ স্বীকার করেছেন যে, চলতি বছরের জানুয়ারিতে তিনি সুজানপুরের কাছে মহাসড়কের একটি দোকানে ইন্টারনেট-সংযুক্ত এই সিসিটিভি ক্যামেরাটি বসিয়েছিলেন। এই কাজের জন্য দুবাইয়ে অবস্থানরত এক অজ্ঞাত ব্যক্তির কাছ থেকে তিনি নির্দেশনা পাচ্ছিলেন এবং বিনিময়ে তাকে ৪০ হাজার রুপি দেওয়া হয়েছিল। গ্রেপ্তারের সময় তার কাছ থেকে সিসিটিভি ক্যামেরা এবং একটি ওয়াইফাই রাউটার উদ্ধার করা হয়।

জাতীয় সড়কের পাঠানকোট-জম্মু অংশে সন্দেহভাজন কার্যক্রমের গোয়েন্দা তথ্যের ভিত্তিতে সুজানপুর পুলিশ এই অভিযান চালায়। এ ঘটনায় চারজনের বিরুদ্ধে মামলা করা হয়েছে। বলজিৎ ছাড়া বাকি অভিযুক্তরা হলেন— বিক্রমজিৎ সিং ওরফে ভিক্কা, বলবিন্দর সিং ওরফে ভিকি এবং তারনপ্রীত সিং ওরফে তন্নু। পুলিশ জানিয়েছে, আসামিরা দেশবিরোধী ও অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডে জড়িত। ঘটনার সঙ্গে আন্তর্জাতিক চক্রের যোগসূত্র এবং অর্থায়নের উৎস খতিয়ে দেখতে তদন্ত চলছে এবং বাকি আসামিদের গ্রেপ্তারে অভিযান অব্যাহত রয়েছে।


পাঞ্জাবে সক্রিয় ‘হাইটেক’ গুপ্তচর চক্র

এনডিটিভির প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, গত মাসেও পাঞ্জাব পুলিশ পাকিস্তানের গোয়েন্দা সংস্থা আইএসআই সমর্থিত দুটি বড় চর চক্রের সন্ধান পেয়েছিল। ওই চক্রগুলো সংবেদনশীল সামরিক এলাকার লাইভ ফুটেজ পাকিস্তানে পাঠানোর জন্য চীনের তৈরি উচ্চ প্রযুক্তির সৌরবিদ্যুৎ চালিত সিসিটিভি ক্যামেরা ব্যবহার করছিল।

এর মধ্যে জলন্ধর থেকে কাউন্টার ইন্টেলিজেন্স উইং এক অপারেটকে গ্রেপ্তার করে এবং তার কাছ থেকে ফোরজি কানেক্টিভিটি সম্পন্ন চীনের তৈরি সিসিটিভি ক্যামেরা ও সোলার প্লেট উদ্ধার করে। অন্যদিকে, কাপুরথালা পুলিশ একটি কেন্দ্রীয় সংস্থার সাথে যৌথ অভিযান চালিয়ে দুইজনকে গ্রেপ্তার এবং বিদেশী হ্যান্ডলারদের সাথে যুক্ত চারটি মোবাইল ফোন ও সিসিটিভি সেট উদ্ধার করে।

পাঞ্জাবের ডিরেক্টর জেনারেল অব পুলিশ (ডিজিপি) গৌরব যাদব জানান, এই চক্রগুলো কৌশলগতভাবে বিভিন্ন সামরিক স্থাপনার কাছাকাছি সিম-কার্ড ও সৌরবিদ্যুৎ চালিত ক্যামেরা বসাচ্ছিল। ফোর-জি (৪ জি) কানেক্টিভিটি ও সোলার প্যানেল থাকায় এই চীনা ক্যামেরাগুলোর জন্য কোনো প্রথাগত তারের সংযোগ প্রয়োজন হয় না, ফলে এগুলো অফ-গ্রিড নজরদারির জন্য অত্যন্ত সুবিধাজনক। মোবাইল অ্যাপের মাধ্যমে এই ক্যামেরার লাইভ ফুটেজ পাকিস্তানের হ্যান্ডলারদের কাছে চলে যেত।


পুলিশ জানিয়েছে, কাউন্টার ইন্টেলিজেন্সের অভিযানে গ্রেপ্তার হওয়া ব্যক্তির নাম সুখবিন্দর সিং ওরফে সুখা। আর কাপুরথালা পুলিশের অভিযানে গ্রেপ্তার দুই ব্যক্তি হলেন— সোনা এবং সন্দীপ সিং ওরফে সোনু।

কাপুরথালার জ্যেষ্ঠ পুলিশ সুপার (এসএসপি) গৌরব টুরা জানান, ক্যান্টনমেন্ট এলাকার কাছে নজরদারি চালানোর গোপন খবরের ভিত্তিতে মডেল টাউনের একটি দোকানে অভিযান চালানো হয়। গ্রেপ্তারকৃতরা মূলত সেনা মুভমেন্টের ওপর নজর রাখতে একটি খুঁটিতে সিমভিত্তিক ক্যামেরা বসানোর উদ্দেশ্যে ওই দোকানটি ভাড়া নিয়েছিল।

তদন্তে আরও জানা গেছে, ‘ফৌজি’ নামের এক পাকিস্তানি হ্যান্ডলার এই ক্যামেরা বসানোর জন্য অভিযুক্তদের ৩৫ হাজার রুপি দিয়েছিল। গ্রেপ্তারকৃত সন্দীপ মাদক পাচারের সঙ্গেও জড়িত। একই পাকিস্তানি হ্যান্ডলারের পাঠানো ১ কেজি হেরোইন ড্রোনের মাধ্যমে নির্দিষ্ট জায়গায় পৌঁছে দেওয়ার বিনিময়ে তিনি আরও ৫০ হাজার রুপি পেয়েছিলেন বলে জানায় পুলিশ।