বিএনপি জাতির সঙ্গে সুস্পষ্ট প্রতারণা করছে: জামায়াত আমির

Shahinur Rahman Uzzol | প্রকাশিত: ৫:১৭ অপরাহ্ন, ২৫ এপ্রিল ২০২৬
বিএনপি প্রত্যেকটি বিষয়ে পালিয়ে যাওয়া ফ্যাসিবাদের রাস্তা ধরে হাঁটা শুরু করেছে বলে মন্তব্য করেছেন বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর আমির ডা. শফিকুর রহমান।তিনি বলেন, বিএনপির সঙ্গে আমরা একসময় একসঙ্গে মজলুম ছিলাম। আমি বিনয়ের সঙ্গে বলতে চাই—আপনারা হাজার চেষ্টা করলেও ওই আওয়ামী লীগ হতে পারবেন না; বড়জোর দুর্বল আওয়ামী লীগ হতে পারবেন। যে আওয়ামী লীগ একসময় পুরো জাতিকে নিয়ে কিংবা বিরোধী দলকে নিয়ে ব্যঙ্গ-বিদ্রূপ করত, আজ তাদের কী দশা? আপনারা ঠিক একই কাজ শুরু করেছেন।

শনিবার (২৫ এপ্রিল) জুলাই যোদ্ধা এবং শহীদ পরিবারের সদস্যদের জাতীয় সমাবেশে তিনি এসব কথা বলেন ।

ডা. শফিকুর রহমান  বলেন, আওয়ামী লীগ তাদের পোষ্য লাঠিয়াল বাহিনী দিয়ে সমাজের বিভিন্ন স্তরে কর্তৃত্ব কায়েম করেছিল। কিন্তু আজ তাদের সেই দুর্দিনে কোনো লাঠিয়াল পাশে এসে দাঁড়ায়নি।

জামায়াত আমির বলেন, রাষ্ট্রের মৌলিক যে সমস্ত জায়গায় পরিবর্তন দরকার, সুশাসন কায়েমের জন্য সত্যিকারের স্বাধীনতার স্বাদ জনগণকে দেওয়ার জন্য প্রত্যেকটি বিষয়ে বিএনপি বিরোধিতা করে চলছে। এটি জাতির সঙ্গে সুস্পষ্ট প্রতারণা।

তিনি বলেন, বিএনপি তাদের দেওয়া ৩১ তফা কর্মসূচি সংস্কারের তাদের ইশতেহারেই তারা বিরোধিতা করছে। আমার মনে হয়, তারা যে বিরোধিতা করছে এই জ্ঞানটাও বোধহয় তারা হারিয়ে ফেলেছে।

তিনি আরও বলেন, বিএনপি ভুলে যাবেন না। এই জুলাই না হলে, এই মায়েদের, এই বাবাদের, এই ভাইদের, এই বোনদের, সন্তান, স্বামী, ভাই, বোন জীবন না দিলে আজকে আপনারা ক্ষমতার এনজয় করতে পারতেন না। ক্ষমতায় আসার আগেই আপনারা ভুলেছিলেন, শহীদ পরিবার যখন বুকে কষ্ট নিয়ে কান্নাকাটি করছিল। শহীদ পরিবারের কাছে তখন আপনাদের ছুটে যাওয়ার সময় ছিল না। 

আপনারা ৫ আগস্টের পর ৭ আগস্ট পার্টি অফিসের সামনে দাঁড়িয়ে বললেন আমাদের নির্বাচন দাও আমরা ক্ষমতায় বসতে চাই। শহীদ পরিবারের দুঃখ আপনাদের অন্তরকে স্পর্শ করেনি। আহত বন্ধুদের নিয়ে আপনাদের কোনো কর্মসূচি, ভাবনা জাতি দেখেনি। কিন্তু এই বিপ্লবের বেনিফিশিয়ারি আপনারা।

বিরোধীদলীয় নেতা বলেন, যারা বিদেশে ছিলেন, স্বদেশে আসার সুযোগ পেয়েছেন। এই বিপ্লব না হলে আপনারা বোধহয় কল্পনাও করতেন না দেশে ফিরে আসার। আমার জেলের সহকর্মী পার্টনার আল্লামা মামুনুল হক বলেছেন বিএনপির শীর্ষ নেতারা জেলে ছিলেন একসঙ্গেই ছিলাম তারা হতাশা ব্যক্ত করে বলতেন ৪১ এর আগে হাসিনা এবং আওয়ামী লীগকে ক্ষমতা থেকে সরানো সম্ভব না। 

২৪ এর অভ্যুত্থানের পরে যখন বঙ্গভবনে শপথ নিলেন উপদেষ্টারা বিএনপির বাংলাদেশে উপস্থিত সর্বোচ্চ পর্যায়ের একজন নেতার আমি পাশাপাশি ছিলাম। উনি আমাকে জিজ্ঞেস করলেন এটা কি হলো? আমি কিছু না বলে আসমানের দিকে আমার এই আঙুলটা উঠলো। তিনি বললেন আসলেই এটা খোদার দান। এটাই মিরাকল। সেই খোদার দান ভুলে গেলেন। এখন কেউ কেউ দাবি করে অমুক আন্দোলনের মাস্টার মাইন্ড। অমুকের নেতৃত্বে আন্দোলন সফল হয়েছে। এগুলো সব ভুয়া।

তিনি বলেন, আমরা কারো ন্যাজ্য অবদানকে কখনো অস্বীকার করি না। আন্দোলন আমরা সবাই করেছি। কিন্তু আমরা তীরে ফিরতে পারি নাই। আমাদের তরি সমুদ্রে ভাসমান ছিল। জুলাই আন্দোলনের নায়করা এই তরি নিয়ে ঘাটে বেড়েছে। 

জাতিকে মুক্তির পথ দেখিয়েছে। তাদের সম্মান করতে, ভালোবাসতে শিখুন। তাদের নিয়ে তুচ্ছতাচ্ছিল্য করবেন না। আপামর স্বার্থ সমাজ জীবন বাঁচিয়ে রেখে তখন জাপিয়ে পড়েছিল। শ্রমিকরা পাশে দাঁড়িয়েছিল। মায়েরা রাস্তায় নেমে এসেছিলেন। স্ত্রী তার স্বামীকে পানি এগিয়ে দিয়েছিল। সন্তান কোলে নিয়ে মা রাস্তায় নেমে এসেছিলেন। এই দিনগুলো ভুলে যাবেন না।

জামায়াতে আমির আরও বলেন, সংসদে আমরা প্রথম দিনে দাবি তুলেছি, আমরা শপথ নিয়েছি, তারা শপথ নেন নাই। জাতির সঙ্গে দেওয়া ওয়াদা ভঙ্গ করে তারা প্রতারণা করেছে। এরপরে যখন জাতিকে প্রতারিত করা হয়েছে, আমরা নোটিশ দিয়ে আলোচনার ব্যবস্থা করেছি। তারা তার বিরোধিতা করেছে। যে আইনগুলো সংশোধন না হলে অধ্যাদেশ বাস্তবায়ন না হলে, ফ্যাসিবাদী শাসনের পরিবর্তন হবে না। 

সবগুলো আগের স্বৈরাচারী সরকারের মতো রাখার পক্ষে তারা অবস্থান নিয়েছে। আমরা বিএনপিকে পরিষ্কার দেখতে পাচ্ছি সম্প্রতি কয়েকদিন ধরে বিভিন্ন জায়গায়, জায়গায়, শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে, এমনকি এখান থেকে মাত্র কয়েক গোজ দূরে মানুষের আইনের আশ্রয়ের থানার ভেতরে ঢুকে দুঃখজনকভাবে ডাকসুর নির্বাচিত প্রতিনিধিদের ওপরে হামলা করা হয়েছে। বার্তা পরিষ্কার যেদিন তারা গণভোটের রায় অস্বীকার করেছেন আমি বলেছিলাম বিএনপি আজকে থেকে ফ্যাসিবাদের পথে যাত্রা শুরু করল। এটা ফ্যাসিবাদ।

তিনি বলেন, এ বাংলাদেশ আমরা চাই না। আমরা পরিবর্তনের বাংলাদেশ চাই। যেই বাংলাদেশে শিশু যখন ঘর থেকে বের হবে, কিশোর যখন বের হবে, যুবক যুবতীরা বের হবে, আমার মা বোনেরা বের হবে, তখন কারো বুক কাঁপবে না। নিরাপত্তার সঙ্গে বের হবে। আমরা শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে আমাদের সন্তানদের হাতে দা কুড়াল দেখতে চাই না। আমরা খাতা এবং কলম দেখতে চাই। আমরা কোনো আদুভাই, দাদুভাই, শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে গিয়ে আমাদের সন্তানদের পথ আটকাবে আমরা এটা দেখতে চাই না। 

এই সংস্কৃতি বন্ধ করতে হবে। যদি বন্ধ না করেন, মনে রাখবেন জুলাই শুধু ২৪ সালে ছিল না। জুলাই প্রত্যেক বসরে আসে। সে জুলাই আবার ফিরে আসবে। তখন ফাইনালি ফ্যাসিবাদের কবর রচনা হবে। শুভ বুদ্ধির উদয় হোক জনগণের রায়ের প্রতি সম্মান দেখান। ৭০ ভাগ মানুষের রায় মেনে নিন। গণভোটের রায় বাস্তবায়ন যদি না করেন, আমাদের লড়াই সংসদের ভেতরেও চলবে, খোলা ময়দানেও চলবে ইনশাআল্লাহ।
পরবর্তী খবর

দারুসসালাম ভার্সিটির ভিসি ড. আসিফ মিজান এর সাথে ওয়ার্ল্ড ক্যান্সার সোসাইটির মতবিনিময়

| প্রকাশিত: ৩:২১ অপরাহ্ন, ২৬ এপ্রিল ২০২৬


সোমালিয়ার দারুসসালাম ইউনিভার্সিটির মাননীয় উপাচার্য প্রফেসর ড. শেখ আসিফ এস. মিজানের সাথে এক গুরুত্বপূর্ণ মতবিনিময় সভায় মিলিত হয়েছেন ওয়ার্ল্ড ক্যান্সার সোসাইটি বাংলাদেশ-এর শীর্ষ কর্মকর্তাবৃন্দ।


🏢 প্রধান কার্যালয়ে উষ্ণ অভ্যর্থনা


ঢাকা, ২৫ এপ্রিল ২০২৬: 


সোমালিয়ার দারুসসালাম বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য প্রফেসর ড. শেখ আসিফ এস. মিজান ওয়ার্ল্ড ক্যান্সার সোসাইটি বাংলাদেশ-এর প্রধান কার্যালয় পরিদর্শনে আসেন। তিনি সংস্থাটির আমন্ত্রণে সেখানে উপস্থিত হলে সংস্থার চেয়ারম্যান এবং ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাবৃন্দ তাঁকে ফুলেল তোড়া উপহার দিয়ে আন্তরিক অভ্যর্থনা জানান।


🤝 পারস্পরিক সহযোগিতার মেলবন্ধন

অত্যন্ত সৌহার্দ্যপূর্ণ পরিবেশে আয়োজিত এই মতবিনিময় সভায় ওয়ার্ল্ড ক্যান্সার সোসাইটি বাংলাদেশ-এর প্রেসিডেন্ট ড. সৈয়দ হুমায়ুন কবীর এবং সংস্থার সম্মানিত প্রকল্প উপদেষ্টা মো. নিয়ামত আলী উপস্থিত ছিলেন। এ সময় তাঁরা মাননীয় উপাচার্যকে বিশেষভাবে ফুলেল শুভেচ্ছা ও সম্মাননা জানান।


💡 ভবিষ্যৎ সম্ভাবনার দিগন্ত

মতবিনিময় সভায় বক্তারা আন্তর্জাতিক পরিমণ্ডলে শিক্ষা, উন্নত গবেষণা এবং ক্যান্সার সচেতনতা বৃদ্ধির ওপর গুরুত্বারোপ করেন। ড. আসিফ মিজান ওয়ার্ল্ড ক্যান্সার সোসাইটির এমন মানবিক ও সামাজিক উদ্যোগের ভূয়সী প্রশংসা করেন এবং ভবিষ্যতে বড় পরিসরে যৌথভাবে কাজ করার দৃঢ় আশাবাদ ব্যক্ত করেন। উল্লেখ্য যে, ওয়াল্ড হিউম্যান রাইটস অর্গানাইজেশন এর চেয়ারম্যান জনাব মহি উদ্দিন আমিন সফরসঙ্গী হিসেবে ড. আসিফ মিজানের সাথে ছিলেন।

পরবর্তী খবর

গুলশানে প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে ছাত্রদল নেতাদের বৈঠক

| প্রকাশিত: ১১:০২ পূর্বাহ্ন, ২৬ এপ্রিল ২০২৬
বিএনপির চেয়ারম্যান ও প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সঙ্গে বৈঠক করেছেন ছাত্রদলের শীর্ষ নেতারা। 

শনিবার (২৫ এপ্রিল) রাতে ঢাকার গুলশানে বিএনপি চেয়ারম্যানের কার্যালয়ে এই বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়।

বৈঠকে ছাত্রদলের সভাপতি রাকিবুল ইসলাম রাকিব ও সাধারণ সম্পাদক নাছির উদ্দীন নাছিরের নেতৃত্বে সংগঠনের নেতারা অংশ নেন। প্রায় এক ঘণ্টাব্যাপী বৈঠক শেষে রাত ৯টার দিকে তা শেষ হয়।

বৈঠক শেষে ছাত্রদল নেতারা গণমাধ্যমকে জানান, সমসাময়িক রাজনৈতিক পরিস্থিতি নিয়ে গুরুত্বপূর্ণ দিকনির্দেশনা দিয়েছেন তাদের সাংগঠনিক অভিভাবক তারেক রহমান।

এর আগে সন্ধ্যা সাড়ে ৬টার দিকে গুলশান কার্যালয়ে আসেন তারেক রহমান। এ সময় বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরসহ দলের অন্যান্য শীর্ষ নেতারা তার সঙ্গে সাক্ষাৎ করেন। পরে রাত পৌনে ১০টার দিকে কার্যালয় ত্যাগ করেন তিনি।
পরবর্তী খবর

সাংবাদিক নির্যাতন প্রতিরোধ কমিটির কেন্দ্রীয় কাউন্সিলের সভাপতি জাফর সম্পাদক ইমন

| প্রকাশিত: ৬:৫৫ অপরাহ্ন, ২৫ এপ্রিল ২০২৬



ঢাকা, শনিবার, ২৫ এপ্রিল, ২০২৬ খ্রী: সাংবাদিক নির্যাতন প্রতিরোধ কমিটি, বাংলাদেশের কেন্দ্রীয় কমান্ড কাউন্সিলের সভাপতি-সম্পাদক মনোনীত করা হয়েছে। সভাপতি মনোনীত হয়েছেন বাংলা পোর্টালের সম্পাদক ও বাংলাদেশ মফস্বল সাংবাদিক ফোরামের ট্রাস্টি বোর্ডের চেয়ারম্যান আহমেদ আবু জাফর। সাধারণ সম্পাদক মনোনীত হয়েছেন এটিএন বাংলার বিশেষ প্রতিনিধি আলী আজগর ইমন। 


শনিবার ২৫ এপ্রিল দুপুর ২টায় সংগঠনের এক ভার্চুয়াল সবশেষে সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়েছে। সভায় দেশের বিভিন্ন এলাকার সাংবাদিকরা অংশগ্রহণ করেন। 


সারাদেশে অব্যাহত সাংবাদিক নির্যাতন বন্ধে বিভিন্ন পেশাজীবি মানুষের অংশগ্রহণে শীঘ্রই এ সংগঠনটির কেন্দ্রীয় কমান্ড কাউন্সিলের ১৫১ সদস্য বিশিষ্ট পূর্ণাঙ্গ কমিটি ঘোষণা করা হবে। 


সাংবাদিক নির্যাতন মুক্ত আগামীর বাংলাদেশ বিনির্মাণে বাংলাদেশ মফস্বল সাংবাদিক ফোরামের সহযোগী সংগঠন হিসেবে এ সংগঠনটি মাঠে কাজ করবে। 


উল্লেখ্য, ২০২০ সালে করোনা কালীন সময়ে দেশে অব্যাহত সাংবাদিক নির্যাতনের ঘটনা বৃদ্ধি পেলে এ সংগঠনটির আত্মপ্রকাশ ঘটে। এর পর থেকে দেশের বিভিন্ন এলাকায় বেশ কিছু শাখা কমিটি গঠন করে সংগঠিত করা হয়।


সংগঠনের কার্যক্রম সম্প্রসারণের লক্ষ্যে কেন্দ্রীয় কমান্ড কাউন্সিল গঠনের উদ্যোগ নেয়া হয়েছে। ইতিমধ্যে বেশ কয়েকটি ভার্চুয়াল মিটিংয়ে কেন্দ্রীয় কমিটি গঠনের প্রস্তাব করা হলে সভাপতি ও সম্পাদক মনোনীত করার মধ্য থেকে বাকি পদগুলো দ্রুত গঠন করা হবে বলে সংগঠনের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে। 


এ কমিটিতে সাংবাদিকদের পাশাপাশি আইনজীবী, ইমাম, পুরোহিত, চিকিৎসক, শিক্ষক, অবসরপ্রাপ্ত সরকারি কর্মকর্তা, ব্যবসায়ী, নারী নেত্রী, ছাত্র নেতা, এনজিও প্রতিনিধি, আইটি বিশেষজ্ঞ, শ্রমিক নেতা ও মানবাধিকার কর্মীরা সম্পৃক্ত হবেন।

পরবর্তী খবর

ফের বন্ধ হয়ে গেলো বড়পুকুরিয়া তাপবিদ্যুৎ কেন্দ্র

| প্রকাশিত: ৫:১৯ অপরাহ্ন, ২৫ এপ্রিল ২০২৬
উৎপাদনে ফেরার মাত্র ১৫ ঘণ্টার মাথায় আবারও বন্ধ হয়ে গেল দিনাজপুরের পার্বতীপুরে অবস্থিত বড়পুকুরিয়া কয়লাভিত্তিক তাপবিদ্যুৎ কেন্দ্র।

শনিবার (২৫ এপ্রিল) বেলা সাড়ে ১১টার দিকে হঠাৎ করেই প্রথম ইউনিটের বয়লারের টিউব বিস্ফোরিত হয়। এতে তাৎক্ষণিকভাবে বিদ্যুৎ উৎপাদন বন্ধ করে দিতে বাধ্য হয় কর্তৃপক্ষ।

জানা গেছে, বয়লারের টিউব ফেটে যাওয়ার ঘটনায় ১২৫ মেগাওয়াট ক্ষমতাসম্পন্ন প্রথম ইউনিটটি বন্ধ হয়ে যাওয়ায় বর্তমানে কেন্দ্রটির সব ইউনিটের উৎপাদন সম্পূর্ণ বন্ধ রয়েছে।

এর আগে, গত বুধবার (২২ এপ্রিল) রাত ১০টা ৩ মিনিটে কয়লার সঙ্গে পাথর আসায় বয়লারের পাইপ ফেটে যায় এবং কুলিং ফ্যান ক্ষতিগ্রস্ত হয়। ওই ঘটনায় কেন্দ্রটির প্রথম ইউনিট বন্ধ হয়ে যায়। টানা ৪৮ ঘণ্টা মেরামতের পর শুক্রবার (২৪ এপ্রিল) রাত ৮টার দিকে পুনরায় উৎপাদনে ফেরে ইউনিটটি। তবে উৎপাদন শুরুর অল্প সময়ের মধ্যেই নতুন করে যান্ত্রিক ত্রুটিতে আবারও বন্ধ হয়ে গেল বিদ্যুৎকেন্দ্রটি।

কেন্দ্রটির প্রধান প্রকৌশলী আবু বক্কর সিদ্দিক জানান, বয়লারের টিউব ফেটে যাওয়ায় ইউনিটটি বন্ধ করতে হয়েছে। বর্তমানে বয়লারের স্টিম ঠান্ডা হওয়ার প্রক্রিয়া চলছে। মেরামত কাজ সম্পন্ন করে পুনরায় উৎপাদনে ফিরতে ৫ থেকে ৬ দিন সময় লাগতে পারে।

এদিকে, বড়পুকুরিয়া তাপবিদ্যুৎ কেন্দ্রের উৎপাদন পুরোপুরি বন্ধ হয়ে যাওয়ায় পার্বতীপুরসহ উত্তরাঞ্চলের অন্তত ৮টি জেলায় বিদ্যুৎ সরবরাহে বিঘ্ন দেখা দিয়েছে। ফলে এসব এলাকায় লোডশেডিং বাড়ার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে।
পরবর্তী খবর

হাম ও উপসর্গ নিয়ে গত আরও ১১ শিশুর মৃত্যু

| প্রকাশিত: ৫:১৪ অপরাহ্ন, ২৫ এপ্রিল ২০২৬
দেশে গত ২৪ ঘণ্টায় হাম ও উপসর্গ নিয়ে আরও ১১ শিশুর মৃত্যু হয়েছে। শুক্রবার (২৪ এপ্রিল) সকাল ৮টা থেকে শনিবার (২৫ এপ্রিল) সকাল ৮টা পর্যন্ত এ ২৪ ঘণ্টায় তাদের মৃত্যু হয়েছে। 

এই সময়ে হাসপাতালে নতুন করে ভর্তি হয়েছে ১ হাজার ২৮৭ জন।

শনিবার(২৫ এপ্রিল) বিকেলে স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের নিয়মিত প্রতিবেদনে এ তথ্য জানানো হয়েছে। 

স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের তথ্যমতে, গত ১৫ মার্চ থেকে ২৫ এপ্রিল সকাল ৮টা পর্যন্ত মোট সন্দেহভাজন রোগীর সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ৩০ হাজার ৬০৭ জনে। এর মধ্যে ৪ হাজার ৪৬০ জনের হাম নিশ্চিত হয়েছে। এ পর্যন্ত সন্দেহভাজন ও নিশ্চিত মিলিয়ে ২০ হাজার ৪৭৫ জন রোগী হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন।

আর ১৭ হাজার ৮১ জন চিকিৎসা শেষে সুস্থ হয়ে বাড়ি ফিরেছেন। প্রাদুর্ভাব শুরুর পর থেকে এখন পর্যন্ত হামে আক্রান্ত হয়ে ৪২টি শিশু মারা গেছে। আর হামের উপসর্গ নিয়ে প্রাণ হারিয়েছে ২০৯টি শিশু।
পরবর্তী খবর

উচ্ছেদ হওয়া হকারদের দ্রুত পুনর্বাসনের নির্দেশ দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান

| প্রকাশিত: ৫:০৭ অপরাহ্ন, ২৫ এপ্রিল ২০২৬



রাজধানী ঢাকার সড়ক থেকে উচ্ছেদ হওয়া হকারদের দ্রুত পুনর্বাসনের নির্দেশ দিয়েছেন গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকারের মাননীয় প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। এ বিষয়ে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিতে বলেছেন তিনি। 


আজ শনিবার (২৫ এপ্রিল ২০২৬) দুপুরে তেজগাঁওয়ে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে অনুষ্ঠিত এক বৈঠকে তিনি এ নির্দেশ দেন। 


বৈঠকে স্থানীয় সরকার বিভাগ, ঢাকা উত্তর ও দক্ষিণ সিটি করপোরেশন, রাজধানী উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ (রাজউক) ও ডিএমপির ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন। 


বৈঠকে প্রধানমন্ত্রী সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয় ও প্রতিষ্ঠানের সমন্বয়ে দ্রুত বিকল্প স্থান নির্ধারণ করার নির্দেশ দিয়েছেন। তিনি বলেন, উচ্ছেদ হওয়া হকারদের এমন জায়গায় পুনর্বাসন করতে হবে, যেখানে তারা স্বাচ্ছন্দ্য ও উৎসাহের সঙ্গে ব্যবসা করতে পারবেন।


সম্প্রতি ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনের মিরপুর-১ এলাকা এবং ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের মতিঝিল, বায়তুল মোকাররম, পল্টন ও গুলিস্তানসহ কয়েকটি এলাকার সড়ক থেকে কয়েক শতাধিক দোকান উচ্ছেদ করা হয়। 


বৈঠকে সিদ্ধান্ত হয়েছে, উচ্ছেদ হওয়া হকারদের বিকল্প জায়গা ব্যবস্থা করে দেবে সরকার। পাশাপাশি নিবন্ধনের মাধ্যমে হকারদের পরিচয়পত্র দেওয়া হবে, যাতে তাদের কার্যক্রম সুশৃঙ্খলভাবে পরিচালনা করা যায়।


এছাড়া স্কুল-কলেজে ক্লাস শুরু ও শেষের সময় সড়কে যানজট কমাতে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার তাগিদ দেন প্রধানমন্ত্রী। তিনি বলেন, শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের সামনে অনিয়ন্ত্রিত গাড়ি পার্কিংয়ের কারণে যানজট তৈরি হয়। এ সমস্যা সমাধানে সংশ্লিষ্ট শিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলোর নিজস্ব মাঠের একটি অংশ গাড়ি পার্কিংয়ের জন্য ব্যবহার করা যেতে পারে।


বৈঠকে স্থানীয় সরকার বিভাগের সচিব শহীদুল হাসান, রাজধানী উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের (রাজউক) চেয়ারম্যান ইঞ্জিনিয়ার রিয়াজুল ইসলাম, ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের প্রশাসক আবদুস সালাম, ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনের প্রশাসক শফিকুল ইসলাম খান, ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশের (ডিএমপি) ভারপ্রাপ্ত কমিশনার মো. সরওয়ার ও ডিআইজি (ট্রাফিক) আনিছুর রহমান।

পরবর্তী খবর

সৌদি পৌঁছেছেন ৩২৫৩২ জন বাংলাদেশি হজযাত্রী

| প্রকাশিত: ১১:২৭ পূর্বাহ্ন, ২৫ এপ্রিল ২০২৬
পবিত্র হজ পালনের উদ্দেশে এখন পর্যন্ত ৮১টি ফ্লাইটে সৌদি আরবে পৌঁছেছেন মোট ৩২ হাজার ৫৩২ জন বাংলাদেশি হজযাত্রী। এর মধ্যে সরকারি ব্যবস্থাপনায় গেছেন ৩ হাজার ২৮৪ জন এবং বেসরকারি ব্যবস্থাপনায় ২৯ হাজার ২৪৮ জন।

শনিবার (২৫ এপ্রিল) ভোররাতে হজ পোর্টালের আইটি হেল্পডেস্কের সর্বশেষ দৈনিক বুলেটিনে এ তথ্য জানানো হয়।

ফ্লাইট পরিচালনার ক্ষেত্রে বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্স পরিচালনা করেছে ৩৩টি, সৌদি এয়ারলাইন্স পরিচালনা করেছে ৩০টি এবং ফ্লাইনাস পরিচালনা করেছে ১৮টি ফ্লাইট।

এদিকে, সৌদি আরবে গিয়ে এখন পর্যন্ত দুইজন বাংলাদেশি হজযাত্রীর মৃত্যু হয়েছে। সর্বশেষ গত বুধবার (২২ এপ্রিল) মক্কায় ৭০ বছর বয়সী মো. আবুল কাশেম মারা যান। এর আগের দিন জয়পুরহাটের মো. নইম উদ্দীন মন্ডলের মৃত্যু হয়।

চাঁদ দেখা সাপেক্ষে আগামী পবিত্র হজ অনুষ্ঠিত হবে মঙ্গলবার (২৬ মে)। এর আগে গত শনিবার (১৮ এপ্রিল) ঢাকার হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে আনুষ্ঠানিকভাবে হজ ফ্লাইট কার্যক্রমের উদ্বোধন করেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান।

আগামী রবিবার (৩১ মে) পর্যন্ত সৌদি আরবে যাওয়ার ফ্লাইট চলবে। হজ শেষে ফিরতি ফ্লাইট শুরু হবে শনিবার (৩০ মে) এবং তা চলবে মঙ্গলবার (৩০ জুন) পর্যন্ত।
পরবর্তী খবর

সংসদ ভবনসহ গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনায় নাশকতার পরিকল্পনা, নিরাপত্তা জোরদার

| প্রকাশিত: ১১:২৫ পূর্বাহ্ন, ২৫ এপ্রিল ২০২৬

জাতীয় সংসদ ভবন, আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর স্থাপনা ও সদস্য, ধর্মীয় উপাসনালয়, বিনোদনকেন্দ্র এবং শাহবাগসহ জাতীয় গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনায় একটি উগ্রবাদী সংগঠন নাশকতা ও হামলার পরিকল্পনা করতে পারে বলে আশঙ্কা করছে পুলিশ। এ আশঙ্কায় এসব গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনাগুলোর নিরাপত্তা জোরদারের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

সম্প্রতি রেঞ্জ ডিআইজি, মেট্রোপলিটন কমিশনার ও সব জেলা পুলিশ সুপারসহ পুলিশের সব ইউনিটকে নিরাপত্তা জোরদারের নির্দেশে চিঠি দিয়েছে পুলিশ সদর দপ্তর।

চিঠিতে বলা হয়েছে, সংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে, সম্প্রতি গ্রেপ্তার উগ্রবাদী সংগঠনের সদস্য ইসতিয়াক আহম্মেদ সামী ওরফে আবু বক্কর ওরফে আবু মোহাম্মদের সঙ্গে একটি বাহিনীর চাকরিচ্যুত দুই সদস্যের নিয়মিত যোগাযোগের তথ্য পাওয়া গেছে।

চক্রটি জাতীয় গুরুত্বপূর্ণ বিভিন্ন স্থাপনায় হামলার পরিকল্পনা করতে পারে। বোমা বিস্ফোরণের পাশাপাশি দেশীয় ধারালো অস্ত্র বা আগ্নেয়াস্ত্র ব্যবহার করে হামলার আশঙ্কাও উড়িয়ে দেওয়া যাচ্ছে না।

গোয়েন্দা তথ্যে আরও ইঙ্গিত রয়েছে, উগ্রবাদী ওই গোষ্ঠীর সদস্যরা বিভিন্ন বাহিনীর অস্ত্রাগারে হামলার পরিকল্পনাও করে থাকতে পারে বলে।

এসব ব্যক্তি দেশের সার্বিক নিরাপত্তার জন্য উচ্চ ঝুঁকিপূর্ণ উল্লেখ করে চিঠিতে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনাগুলোর নিরাপত্তা জোরদার করতে ও নজরদারি বাড়াতে বলা হয়েছে। পাশাপাশি সন্দেহভাজনদের বিরুদ্ধে আইনি ব্যবস্থা নিতে বলা হয়েছে।

পরবর্তী খবর

তীব্র লোডশেডিং কবে কমবে, জানালেন বিদ্যুৎ প্রতিমন্ত্রী

| প্রকাশিত: ১১:২১ পূর্বাহ্ন, ২৫ এপ্রিল ২০২৬

তীব্র দাবদাহে পুড়ছে পুরো দেশ। অসহনীয় গরমের মধ্যে লোডশেডিংয়ের যন্ত্রণা জনজীবনকে অতিষ্ঠ করে তুলেছে। বিশেষ করে গত কয়েক দিনের অস্বাভাবিক গরম ও বিদ্যুতের ঘন ঘন বিভ্রাটের কারণে স্থবির হয়ে পড়েছে স্বাভাবিক জীবনযাত্রা। 

শিল্প কারখানা থেকে শুরু করে কৃষি উৎপাদন, সবখানেই এর নেতিবাচক প্রভাব স্পষ্ট হয়ে উঠছে। তীব্র গরমে মানুষের কষ্ট চরম পর্যায়ে পৌঁছেছে। তবে এই সংকটের দিন শেষ হওয়ার আশা জাগিয়েছে বিদ্যুৎ বিভাগ। আগামী কয়েক দিনের মধ্যে বিদ্যুৎ পরিস্থিতির উন্নতির সুখবর জানিয়েছেন সংশ্লিষ্টরা।বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ প্রতিমন্ত্রী অনিন্দ্য ইসলাম অমিত জানিয়েছেন, লোডশেডিংয়ের মাত্রা শিগগিরই সহনীয় পর্যায়ে নেমে আসবে। 

বিদ্যুৎ বিভাগ থেকে পাওয়া তথ্যানুযায়ী, ২৬ এপ্রিল থেকেই আদানির পাওয়ার প্ল্যান্ট থেকে বিদ্যুৎ সরবরাহ আবারও স্বাভাবিক হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। একই সঙ্গে আগামী ২৮ এপ্রিল থেকে বাঁশখালীর এসএস পাওয়ারের আইপিপি প্ল্যান্ট থেকে ৬৫০ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ জাতীয় গ্রিডে যুক্ত হবে। এই দুটি উৎস থেকে বড় অংকের বিদ্যুৎ পাওয়া গেলে পরিস্থিতির উল্লেখযোগ্য উন্নতি ঘটবে বলে আশা করছে মন্ত্রণালয়। 

বিষয়টি নিয়ে বিদ্যুৎ বিভাগের যুগ্ম সচিব উম্মে রেহানা জানান, ২৮ এপ্রিল থেকে প্রায় ১৩০০ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ নতুন করে জাতীয় গ্রিডে যুক্ত হবে। এতে গ্রাহক পর্যায়ে লোডশেডিংয়ের তীব্রতা অনেকটাই কমে আসবে। পাশাপাশি জ্বালানি সংকটের কারণে বন্ধ হয়ে যাওয়া আরএনপিএন এর ইউনিটটি সচল করার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। সবকিছু ঠিকঠাক থাকলে মে মাসের প্রথম সপ্তাহ নাগাদ জাতীয় গ্রিডে অতিরিক্ত প্রায় দুই হাজার মেগাওয়াট বিদ্যুৎ সরবরাহ করা সম্ভব হবে বলে তিনি নিশ্চিত করেছেন।

প্রতিমন্ত্রী অনিন্দ্য ইসলাম অমিত একটি গণমাধ্যমকে বলেন, আদানির পাওয়ার প্ল্যান্টের একটি ইউনিটে কারিগরি ত্রুটির কারণে এতদিন অর্ধেক বিদ্যুৎ পাওয়া যাচ্ছিল। একই ধরনের সমস্যার মুখোমুখি হয়েছিল বাঁশখালীর এসএস পাওয়ার প্ল্যান্টও। সংশ্লিষ্ট কোম্পানিগুলোর সাথে আলোচনার পর আশা করা যাচ্ছে, আগামী এক সপ্তাহের মধ্যেই বিদ্যুৎ সরবরাহের পরিস্থিতির উন্নতি ঘটবে। সরকার সাধারণ মানুষের কষ্ট লাঘবে নিরলসভাবে কাজ করছে এবং দ্রুততম সময়ে পরিস্থিতি স্বাভাবিক করার চেষ্টা চলছে। 

পরবর্তী খবর

মে দিবস উপলক্ষে শ্রমিক দলের সমাবেশে প্রধান অতিথি থাকবেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান

| প্রকাশিত: ১১:১৯ পূর্বাহ্ন, ২৫ এপ্রিল ২০২৬

আন্তর্জাতিক শ্রমিক দিবস উপলক্ষে জাতীয়তাবাদী শ্রমিক দলের উদ্যোগে আগামী ১ মে বেলা আড়াইটায় রাজধানীর নয়াপল্টনে বিএনপির কেন্দ্রীয় কার্যালয়ের সামনে সমাবেশ অনুষ্ঠিত হবে।

সমাবেশে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত থাকবেন প্রধানমন্ত্রী ও বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দলের (বিএনপি) চেয়ারম্যান তারেক রহমান। বিশেষ অতিথি থাকবেন দলের মহাসচিব ও স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় মন্ত্রী মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর।

আজ শুক্রবার রাজধানীর নয়াপল্টনে বিএনপির কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে দলের স্থায়ী কমিটির সদস্য ও প্রধানমন্ত্রীর রাজনৈতিক উপদেষ্টা নজরুল ইসলাম খান এ কর্মসূচির বিস্তারিত তুলে ধরেন।

সমাবেশে সভাপতিত্ব করবেন শ্রমিক দলের সভাপতি আনোয়ার হোসেন। এছাড়াও দলের কেন্দ্রীয় ও অঙ্গসংগঠনের শীর্ষ নেতারা এতে অংশ নেবেন।

নজরুল ইসলাম খান বলেন, এটি একটি বড় কর্মসূচি এবং একটি বৃহৎ শ্রমিক সমাবেশে পরিণত করার জন্য ইতোমধ্যে ব্যাপক প্রস্তুতি গ্রহণ করা হয়েছে। গতকাল থেকে প্রস্তুতি সভা শুরু হয়েছে এবং পহেলা মে পর্যন্ত এই প্রস্তুতি অব্যাহত থাকবে।

তিনি আশা প্রকাশ করে বলেন, এবারের সমাবেশ একটি ঐতিহাসিক সমাবেশে রূপ নেবে।

নজরুল ইসলাম খান তার বক্তব্যে বলেন, মহান মে দিবস কেবল একটি আনুষ্ঠানিক দিবস নয়, এটি শ্রমজীবী মানুষের অধিকার আদায়ের সংগ্রামের প্রতীক।

শ্রমিক আন্দোলনের ইতিহাস তুলে ধরে তিনি বলেন, শ্রমিকদের সংগঠিত হওয়া ছাড়া তাদের অধিকার প্রতিষ্ঠা সম্ভব নয়। ১৮৮৫ সালে শ্রমিকরা সিদ্ধান্ত নেয় যে পরবর্তী বছরের মে মাসে তারা সর্বাত্মক আন্দোলন গড়ে তুলবে এবং সেই ধারাবাহিকতায় ১৮৮৬ সালের আন্দোলন বিশ্ব ইতিহাসে স্থান পায়।

তিনি উল্লেখ করেন, শ্রমিকরা তখন শুধু আন্দোলনই করেনি, বরং সামাজিকভাবে সচেতনতা তৈরির জন্য নানা ধরনের উদ্যোগ নিয়েছিল। যেমন, যেসব কারখানা আট ঘণ্টা কর্মঘণ্টা মেনে নিয়েছিল, শ্রমিকরা সেসব প্রতিষ্ঠানের পণ্যই ব্যবহার করত।

তার মতে, এটাই সংগঠিত শ্রমিক আন্দোলনের শক্তি, সংহতি, ত্যাগ এবং ঐক্য।

নজরুল ইসলাম খান তার বক্তব্যে সাংবাদিকদেরও শ্রমজীবী মানুষের অংশ হিসেবে উল্লেখ করেন। তিনি বলেন, সংবাদপত্র, টেলিভিশন ও অনলাইন মিডিয়ায় যারা কাজ করেন, তারাও শ্রমিক। তাদের সংগঠনও শ্রম আইনের অধীনে নিবন্ধিত। অতএব, আপনাদের কাছেও আমাদের আহ্বান শ্রমজীবী মানুষের এই গৌরবের দিনটিকে সফল করতে সহযোগিতা করুন।

সংবাদ সম্মেলনে জানানো হয়, এবারের সমাবেশ আয়োজনের জন্য প্রয়োজনীয় অর্থ শ্রমিক দলের নেতাকর্মীরা নিজেদের উদ্যোগেই সংগ্রহ করছেন।


নজরুল ইসলাম খান বলেন, আমরা নিজেরাই চাঁদা দিয়ে এই কর্মসূচি বাস্তবায়ন করছি। কারো কাছে অর্থের জন্য যেতে হচ্ছে না। এটি আমাদের স্বনির্ভরতার একটি উদাহরণ।

তিনি বলেন, এটি শ্রমিকদের নিজেদের শক্তিতে দাঁড়ানোর একটি প্রচেষ্টা এবং ভবিষ্যতে দেশের পরিবর্তনে শ্রমিক শ্রেণীর ভূমিকা আরও সুদৃঢ় হবে।

সংবাদ সম্মেলনে এক প্রশ্নের জবাবে নজরুল ইসলাম খান বলেন, শ্রমিকদের সব দাবি একসাথে পূরণ করা সম্ভব নয়। তবে সরকার শ্রমিকবান্ধব নীতি গ্রহণ করেছে বলে তিনি উল্লেখ করেন।

তিনি বলেন, নির্বাচনের আগে যে ইশতেহার দেওয়া হয়েছে, তাতে শ্রমিকদের জন্য অনেক ইতিবাচক প্রতিশ্রুতি রয়েছে। তবে আন্তর্জাতিক পরিস্থিতি, বিশেষ করে সাম্প্রতিক বৈশ্বিক সংঘাতের কারণে কিছু ক্ষেত্রে বাস্তবায়নে বিলম্ব হতে পারে।

তিনি উদাহরণ দিয়ে বলেন, আন্তর্জাতিক অস্থিরতা দেশের উন্নয়ন কার্যক্রমে প্রভাব ফেলতে পারে, যা সরকারের নিয়ন্ত্রণের বাইরে।

নজরুল ইসলাম খান জানান, গত বছরের মে দিবসে যে দাবিগুলো উত্থাপন করা হয়েছিল, এর মধ্যে যেগুলো এখনো বাস্তবায়িত হয়নি, সেগুলোই এবারের প্রধান দাবি হিসেবে থাকবে। নতুন কোনো দাবি নয়, বরং পূর্বের অপূর্ণ দাবিগুলোর বাস্তবায়নই আমাদের লক্ষ্য।

সংবাদ সম্মেলনে বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব ও প্রধানমন্ত্রীর রাজনৈতিক উপদেষ্টা অ্যাডভোকেট রুহুল কবির রিজভী, শ্রমিক দলের সভাপতি আনোয়ার হোসেন ও মহাসচিব নুরুল ইসলাম খান নাসিমসহ দলের কেন্দ্রীয় ও মহানগর পর্যায়ের নেতৃবৃন্দ এবং বিভিন্ন শ্রমিক সংগঠনের প্রতিনিধিরা উপস্থিত ছিলেন।