হামের উপসর্গে আরও ৬ শিশুর মৃত্যু
দেশে হামের উপসর্গ নিয়ে গত ২৪ ঘণ্টায় (রোববার সকাল ৮টা থেকে আজ সোমবার সকাল ৮টা পর্যন্ত) আরও ৬ শিশুর মৃত্যু হয়েছে। মৃত শিশুদের মধ্যে ঢাকায় ৩, চট্টগ্রামে ২ ও ময়মনসিংহে ১ শিশু মারা গেছে। এদের কারও হাম শনাক্ত হয়নি।
সোমবার (১১ মে) স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়। স্বাস্থ্য অধিদপ্তর বলছে, গত ২৪ ঘণ্টায় সারা দেশে আরও ১ হাজার ৩৪১ শিশুর শরীরে হামের উপসর্গ দেখা দিয়েছে।
এ নিয়ে গত ১৫ মার্চ থেকে হামের উপসর্গে দেশে ৩৫০ শিশুর মৃত্যুর তথ্য জানা গেছে। এ সময়ে হাম শনাক্তের পর মারা গেছে ৬৫ শিশু। এ পর্যন্ত মোট মারা গেছে ৪১৫ শিশু।
স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের তথ্য বলছে, চলতি বছরের ১৫ মার্চ থেকে হামের উপসর্গ দেখা দিয়েছে ৫০ হাজার ৫০০ শিশুর। এ সময় হামের উপসর্গ নিয়ে হাসপাতালে ভর্তি হয়েছে ৩৫ হাজার ৯৮০ শিশু। এর মধ্যে সুস্থ হয়ে হাসপাতাল থেকে ৩১ হাজার ৯৯২ শিশু বাড়ি ফিরেছে।
১৫ মার্চ থেকে দেশে ৬ হাজার ৯৩৭ শিশুর শরীরে হাম শনাক্ত হয়েছে বলেও উল্লেখ করেছে স্বাস্থ্য অধিদপ্তর।
সাংবাদিকদের নিরাপত্তা, সম্মান ও ন্যায্য অধিকার প্রতিষ্ঠায় কার্যকর পদক্ষেপ জরুরি
বাংলাদেশে গণমাধ্যমকে রাষ্ট্রের চতুর্থ স্তম্ভ বলা হয়। একটি গণতান্ত্রিক রাষ্ট্রে সাংবাদিকরা সমাজের চোখ ও বিবেক হিসেবে কাজ করেন। দেশের সমস্যা, সম্ভাবনা, দুর্নীতি, অন্যায়, অনিয়ম ও জনদুর্ভোগের চিত্র জনগণের সামনে তুলে ধরেন তারাই। কিন্তু দুঃখজনক হলেও সত্য, যারা সমাজের জন্য নিরলসভাবে কাজ করেন, সেই সাংবাদিকদের একটি বড় অংশ আজ নিরাপত্তাহীনতা, অবমূল্যায়ন ও অধিকার বঞ্চনার শিকার।
বর্তমান সময়ে সাংবাদিকদের পেশাগত ঝুঁকি আগের যেকোনো সময়ের তুলনায় বেড়েছে। সংবাদ সংগ্রহ করতে গিয়ে অনেক সাংবাদিক হামলা, হুমকি, মামলা ও হয়রানির শিকার হচ্ছেন। স্থানীয় পর্যায়ে কর্মরত সাংবাদিকদের অবস্থা আরও বেশি উদ্বেগজনক। অনেক সময় প্রভাবশালী মহলের অনিয়ম বা দুর্নীতির সংবাদ প্রকাশ করায় তাদের ওপর নেমে আসে ভয়াবহ চাপ। কোথাও শারীরিক হামলা, কোথাও মিথ্যা মামলা, আবার কোথাও প্রাণনাশের হুমকি—এসব যেন এখন নিত্যদিনের ঘটনা হয়ে দাঁড়িয়েছে।
একটি স্বাধীন ও দায়িত্বশীল গণমাধ্যম গড়ে তুলতে হলে সাংবাদিকদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা অত্যন্ত জরুরি। কারণ একজন ভীত সাংবাদিক কখনোই স্বাধীনভাবে সত্য প্রকাশ করতে পারেন না। যখন একজন সংবাদকর্মী নিজের জীবন ও পরিবারের নিরাপত্তা নিয়ে আতঙ্কে থাকেন, তখন তার পক্ষে নিরপেক্ষ সাংবাদিকতা করা কঠিন হয়ে পড়ে। তাই সাংবাদিকদের পেশাগত নিরাপত্তা নিশ্চিত করা শুধু তাদের ব্যক্তিগত অধিকার নয়, এটি একটি সুস্থ গণতান্ত্রিক রাষ্ট্রেরও প্রয়োজন।
নিরাপত্তার পাশাপাশি সাংবাদিকদের সম্মান ও মর্যাদার বিষয়টিও অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। সমাজে এখনও অনেক ক্ষেত্রে সাংবাদিকদের প্রতি অবহেলা বা নেতিবাচক দৃষ্টিভঙ্গি দেখা যায়। অথচ একজন প্রকৃত সাংবাদিক রাষ্ট্র ও সমাজের উন্নয়নে গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখেন। দুর্নীতির বিরুদ্ধে জনমত গঠন, জনগণের অধিকার আদায় এবং সচেতনতা তৈরিতে সাংবাদিকদের ভূমিকা অপরিসীম। তাই তাদের যথাযথ সম্মান দেওয়া রাষ্ট্র ও সমাজের নৈতিক দায়িত্ব।
বাংলাদেশের অনেক গণমাধ্যম প্রতিষ্ঠানে কর্মরত সাংবাদিকরা এখনও ন্যায্য বেতন ও সুযোগ-সুবিধা থেকে বঞ্চিত। অনেকেই নিয়মিত বেতন পান না, নেই চাকরির নিশ্চয়তা কিংবা স্বাস্থ্যসেবা ও বীমা সুবিধা। বিশেষ করে স্থানীয় ও অনলাইন সাংবাদিকদের দুর্দশা সবচেয়ে বেশি। অনেক প্রতিষ্ঠান শ্রম আইন বা ওয়েজ বোর্ড বাস্তবায়ন করে না। ফলে সাংবাদিকদের জীবনে অনিশ্চয়তা তৈরি হয়, যা পেশাগত মান ও স্বাধীনতার ওপরও নেতিবাচক প্রভাব ফেলে।
বর্তমান বাস্তবতায় সাংবাদিকদের অধিকার প্রতিষ্ঠায় কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণ করা সময়ের দাবি। প্রথমত, সাংবাদিক নির্যাতনের ঘটনায় দ্রুত তদন্ত ও বিচার নিশ্চিত করতে হবে। দ্বিতীয়ত, গণমাধ্যম কর্মীদের জন্য বিশেষ নিরাপত্তা আইন ও সুরক্ষা নীতিমালা বাস্তবায়ন প্রয়োজন। তৃতীয়ত, সকল গণমাধ্যম প্রতিষ্ঠানে ওয়েজ বোর্ড বাস্তবায়ন, সময়মতো বেতন প্রদান এবং চাকরির নিশ্চয়তা নিশ্চিত করতে হবে। একই সঙ্গে সাংবাদিকদের জন্য স্বাস্থ্যবীমা, কল্যাণ তহবিল ও প্রশিক্ষণের সুযোগ বাড়াতে হবে।
মনে রাখতে হবে, শক্তিশালী গণমাধ্যম ছাড়া গণতন্ত্র কখনো শক্তিশালী হতে পারে না। আর নিরাপদ, সম্মানিত ও অধিকারপ্রাপ্ত সাংবাদিক ছাড়া শক্তিশালী গণমাধ্যম গড়ে ওঠা সম্ভব নয়। তাই রাষ্ট্র, গণমাধ্যম মালিক, প্রশাসন ও সমাজের সকল শ্রেণিকে সাংবাদিকদের পাশে দাঁড়াতে হবে।
সত্য ও ন্যায়ের পথে যারা কলম ধরেন, তাদের নিরাপত্তা ও মর্যাদা রক্ষা করা জাতির দায়িত্ব। কারণ সাংবাদিকদের কণ্ঠস্বর রুদ্ধ হয়ে গেলে ক্ষতিগ্রস্ত হয় পুরো সমাজ ও রাষ্ট্র। তাই এখনই সময়—সাংবাদিকদের নিরাপত্তা, সম্মান ও ন্যায্য অধিকার প্রতিষ্ঠায় কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়ার।
সাংবাদিক শেখ মো শাহিনুর রহমান উজ্জ্বল
লেখক ও কলামিস্ট
সাংবাদিক শাকিল-ফারজানার জামিন, তবে মিলছে না মুক্তি
সাংবাদিক দম্পতি শাকিল আহমেদ ও ফারজানা রুপাকে জামিন দিয়েছেন হাইকোর্ট। আজ সোমবার (১১ মে) বিচারপতি কে এম জাহিদ সরওয়ার ও বিচারপতি শেখ আবু তাহেরের বেঞ্চ এ আদেশ দেন। তবে সব মামলায় জামিন না হওয়ায় তারা এখনই কারামুক্ত হচ্ছেন না বলে জানিয়েছেন আইনজীবীরা।
শাকিল আহমেদকে পাঁচ মামলায় এবং ফারজানা রুপাকে ছয় মামলায় জামিন দিয়েছেন হাইকোর্ট। এ ছাড়া তাদের এক মামলায় কেন জামিন দেওয়া হবে না, তা জানতে চেয়ে রুল জারি করেছেন হাইকোর্ট। তাঁরা পৃথক ১৩ মামলায় জামিন আবেদন করেছিলেন। তার মধ্যে ১১ মামলায় জামিন হয়েছে।
সাংবাদিক দম্পতির পক্ষে শুনানি করেন ব্যারিস্টার জ্যোতির্ময় বড়ুয়া। রাষ্ট্রপক্ষে ছিলেন অতিরিক্ত অ্যাটর্নি জেনারেল অনীক আর হক।
ব্যারিস্টার জ্যোতির্ময় বড়ুয়া বলেন, রাজধানীর মোহাম্মদপুর, মিরপুর, যাত্রাবাড়ী ও তেজগাঁও থানায় সাংবাদিক শাকিল আহমেদকে ৬টি এবং ফারজানা রুপাকে ৭টি মামলায় গ্রেপ্তার দেখানো হয়েছিল। এগুলোর মধ্যে একটি হত্যাচেষ্টা। বাকিগুলো হত্যামামলা। হাইকোর্ট শাকিল আহমেদকে পাঁচ মামলা ও ফারজানা রুপাকে ছয় মামলায় জামিন দিয়েছেন আর একটিতে রুল জারি করেছেন। সেই মামলায় দুজনই আসামি।
২০২৪ সালের ২১ আগস্ট রাজধানীর শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর থেকে বিদেশ যাওয়ার প্রাক্কালে একাত্তর টেলিভিশনের সাবেক সংবাদপ্রধান (হেড অব নিউজ) শাকিল আহমেদ এবং তাঁর স্ত্রী ফারজানা রুপাকে (চ্যানেলটির সাবেক প্রতিবেদক ও সংবাদ উপস্থাপক) আটক করে পুলিশ। পরে একেক সময় একেক মামলায় গ্রেপ্তার দেখানো হয়।
পুলিশ বাহিনীতে চেইন অব কমান্ড ভাঙলে ব্যবস্থা: স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী
পুলিশ বাহিনীতে যারা চেইন অব কমান্ড ভাঙবেন তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হবে জানিয়ে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ বলেন, ‘বাহিনীর শৃঙ্খলা রক্ষায় কোনো আপস করা হবে না। অতীতের মতো পুলিশ ক্লিয়ারেন্স রিপোর্ট পেতে যেন ভোগান্তি না হয়।’
সোমবার (১১ মে) সকালে রাজধানীর তেজগাঁওয়ে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের শাপলা হলে আয়োজিত ‘পুলিশের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের উদ্দেশে প্রধানমন্ত্রীর দিকনির্দেশনামূলক ভাষণ’ অনুষ্ঠানে এসব কথা বলেন তিনি।
স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, ‘পুলিশের অপারেশনাল কার্যক্রম, ট্রাফিক ব্যবস্থাপনা এবং অন্যান্য কাজে স্বচ্ছতা বাড়াতে বডিওর্ন ক্যামেরার ব্যবহার আমরা বাড়াতে চাচ্ছি। আমাদের কিছু বডিওর্ন ক্যামেরা আছে, ভবিষ্যতে সব পর্যায়ে বডিওর্ন ক্যামেরা ব্যবহার করে তদন্ত-অপারেশন সব কার্যক্রম যেন রেকর্ডে রাখতে পারি সে ব্যবস্থা নেব।’
পুলিশের সাইবার ক্রাইম ইউনিট প্রতিষ্ঠায় আইন প্রণয়নে কমিটি করা হয়েছে বলেও জানান তিনি।
পর্যটকদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে টুরিস্ট পুলিশের সক্ষমতা বাড়ানো হচ্ছে বলে জানান তিনি। সালাহউদ্দিন আহমদ বলেন, ‘এখানে আমরা এখনো সুনাম অর্জন করতে পারিনি।’
এখানে দেশের ভাবমূর্তির বিষয়টি জড়িত উল্লেখ করে ট্যুরিস্ট পুলিশকে এ বিষয়ে সমন্বিত উদ্যোগ নেওয়ার আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেন, ‘যাতে দেশের ভাবমূর্তি ও পর্যটকদের সংখ্যা বৃদ্ধি পায়।’
পশুবাহী গাড়িতে চাঁদাবাজির সুযোগ নেই : সড়কমন্ত্রী
১৬ মে জাতীয় চলচ্চিত্র সংসদ সম্মেলন
লাইফ সাপোর্টে ফুটবলার কায়সার কন্যা কারিনা
গর্ভের শিশুর লিঙ্গ পরিচয় প্রকাশ করা যাবে না : হাইকোর্ট
লিঙ্গ নির্ধারণ ও তা প্রকাশের অনৈতিক চর্চা বন্ধে গুরুত্বপূর্ণ রায় দিয়েছেন হাইকোর্ট। বিচারপতি নাইমা হায়দার ও বিচারপতি কাজী জিনাত হকের সমন্বয়ে গঠিত হাইকোর্ট বেঞ্চ ২০২৪ সালের ২৫ ফেব্রুয়ারি এ রায় ঘোষণা করেন।
সোমবার (১১ মে) রায়ের পূর্ণাঙ্গ অনুলিপি প্রকাশিত হয়েছে।
রায়ে বলা হয়েছে, অনাগত শিশুর লিঙ্গ নির্ধারণ ও প্রকাশ নারীর প্রতি বৈষম্য, কন্যাশিশু হত্যার প্রবণতা, সামাজিক ভারসাম্যহীনতা এবং সাংবিধানিক অধিকারের পরিপন্থি। আদালতের মতে, এ ধরনের চর্চা নারীর মর্যাদা, সমতা ও জীবনের অধিকারের বিরুদ্ধে যায় এবং এটি আন্তর্জাতিক মানবাধিকার বাধ্যবাধকতারও লঙ্ঘন।
আদালত পর্যবেক্ষণে বলেন, বাংলাদেশে এ বিষয়ে কার্যকর নিয়ন্ত্রণ, মনিটরিং ও জবাবদিহিমূলক ব্যবস্থা দীর্ঘদিন অনুপস্থিত ছিল। শুধু একটি গাইডলাইন প্রণয়ন করলেই দায়িত্ব শেষ হয় না; বাস্তবায়ন, ডিজিটাল নজরদারি ও কার্যকর নিয়ন্ত্রণ ব্যবস্থা ছাড়া এই অনৈতিক কার্যক্রম বন্ধ করা সম্ভব নয়।
রায়ে উল্লেখ করা হয়, নিবন্ধিত হাসপাতাল, ক্লিনিক ও ডায়াগনস্টিক সেন্টারে পরিচালিত অনাগত শিশুর ডায়াগনস্টিক রিপোর্ট সংরক্ষণ ও তদারকির জন্য একটি কেন্দ্রীয় ডাটাবেজ থাকা প্রয়োজন।
হাইকোর্ট স্বাস্থ্য অধিদপ্তরকে ৬ মাসের মধ্যে একটি কেন্দ্রীয় ডিজিটাল ডাটাবেজ তৈরি ও নিয়মিত হালনাগাদ করার নির্দেশ দেন। একইসঙ্গে আদালত বলেন, ভ্রূণের লিঙ্গ নির্ধারণের মাধ্যমে কন্যাশিশুর বিরুদ্ধে বৈষম্য ও সম্ভাব্য নারী ভ্রূণ হত্যার ঝুঁকি তৈরি হয়, যা সংবিধানের ১৮, ২৭, ২৮, ৩১ ও ৩২ অনুচ্ছেদের সঙ্গে সাংঘর্ষিক। আদালত আরও উল্লেখ করেন, ভারতসহ বিভিন্ন দেশে এ ধরনের কার্যক্রম আইন দ্বারা কঠোরভাবে নিয়ন্ত্রিত।
রায়ে আদালত এ নির্দেশনাকে ‘continuous mandamus’ হিসেবে ঘোষণা করেন, যাতে ভবিষ্যতে নির্দেশনার বাস্তবায়ন আদালত তদারকি করতে পারেন।
২০২০ সালের ২৬ জানুয়ারি সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী ইশরাত হাসান গর্ভের শিশুর পরিচয় প্রকাশ বন্ধে এ রিট আবেদন করেন।
আদালতে রিটের পক্ষে ছিলেন আইনজীবী ইশরাত হাসান। তাকে সহযোগিতা করেন তানজিলা রহমান। রাষ্ট্রপক্ষে ছিলেন ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেল অমিত দাশ গুপ্ত।
অব্যবহৃত ৬ শিশু হাসপাতাল চালুর নির্দেশ প্রধানমন্ত্রীর
অব্যবহৃত ৬ শিশু হাসপাতাল চালুর নির্দেশ দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। পাশাপাশি আগামী ২ জুন নির্দেশনা বাস্তবায়ন ও অগ্রগতির বিষয়ে সার্বিক প্রতিবেদন পেশ করতে বলেছেন তিনি। রবিবার এ তথ্য জানিয়েছে প্রধানমন্ত্রীর প্রেস উইং।
প্রেস উইং জানায়, ‘৩২০ কোটি টাকা খরচে ৬ শিশু হাসপাতালের ভবন পড়ে আছে’ শীর্ষক গত ১২ এপ্রিল গণমাধ্যমে প্রকাশিত রিপোর্টটি প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের দৃষ্টিগোচর হয়েছে। রিপোর্টে উল্লেখ করা হয়ু রংপুর, খুলনা, রাজশাহী, বরিশাল, সিলেট ও কুমিল্লায় আধুনিক ৬টি হাসপাতাল ভবন নির্মাণ হলেও বছরের পর বছর তা অব্যবহৃত পড়ে আছে।
প্রেস উইং আরও জানায়, গণমাধ্যমে প্রকাশিত খবর পড়ার পর প্রধানমন্ত্রী স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রণালয়ের মন্ত্রী সরদার মো. সাখাওয়াত হোসেন, প্রতিমন্ত্রী ডা. এম এ মুহিত এবং স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রণালয়ের সচিব মো. কামরুজ্জামান চৌধুরীসহ সংশ্লিষ্টদের সঙ্গে জরুরি বৈঠক করেন। প্রধানমন্ত্রী বৈঠকে উপস্থিত স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রণালয়ের সচিবসহ সংশ্লিষ্টদের দ্রুত এই অব্যবহৃত ৬টি হাসপাতাল পরিদর্শন করে চালু করার জন্য নির্দেশ দেন। একই সঙ্গে আগামী ২ জুন নির্দেশনা বাস্তবায়ন ও অগ্রগতির বিষয়ে সার্বিক প্রতিবেদন পেশ করতে বলেছেন প্রধানমন্ত্রী।
বৈঠকে আলোচনা হয়, কুষ্টিয়া মেডিকেল কলেজ হাসপাতালটি আংশিক চালু রয়েছে। এক্ষেত্রে ৫০০ শয্যাবিশিষ্ট এই হাসপাতালটি পূর্ণাঙ্গভাবে চালু করার নির্দেশ দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। পাশাপাশি রাজধানী ঢাকার শাহবাগে বাংলাদেশ মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়ের অধীনে সুপার স্পেশালাইজড হাসপাতালসহ বাকি হাসপাতালগুলো দ্রুত চালুর নির্দেশ দেন তিনি।
এদিকে, ১০০০ শয্যাবিশিষ্ট নীলফামারীতে বাংলাদেশ-চীন মৈত্রী হাসপাতালের কাজ দ্রুত এগিয়ে নিতে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মাধ্যমে চীনা দূতাবাসকে সম্পৃক্ত করে দ্রুত কাজ শুরু করার নির্দেশ দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। জানা গেছে, নীলফামারীতে বাংলাদেশ-চীন মৈত্রী হাসপাতালটি সদর উপজেলায় নির্মাণ করা হবে। এই প্রকল্পটি বর্তমান সরকারের নির্বাচনী ইশতেহার-প্রতিটি জেলায় আধুনিক সেকেন্ডারি স্বাস্থ্যসেবা ইউনিট প্রতিষ্ঠা' এর সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ।
স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রণালয়ের সচিব কামরুজ্জামান চৌধুরী জানান, বাংলাদেশের উত্তরাঞ্চলে, বিশেষ করে রংপুর বিভাগে প্রায় ২ কোটি জনগোষ্ঠীর জন্য উচ্চ দারিদ্রের হার, সীমিত স্বাস্থ্য অবকাঠামো এবং দক্ষ মানবসম্পদের অভাবের কারণে জটিল রোগের চিকিৎসা নিশ্চিত করা কঠিন হয়ে পড়েছে। এমন পরিস্থিতিতে বাংলাদেশ-চীন মৈত্রী হাসপাতাল নির্মিত হলে হাসপাতালটি একটি আঞ্চলিক রেফারেল কেন্দ্র হিসেবে কাজ করবে।'
এছাড়া, উত্তরাঞ্চলে উন্নত চিকিৎসাসেবা সম্প্রসারণ একটি সময়োপযোগী ও কৌশলগত পদক্ষেপ’ বলেও মন্তব্য করেন স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রণালয়ের সচিব।
রাষ্ট্রাচারের বিচ্যুতি ও প্রাতিষ্ঠানিক মর্যাদার সংকট: একটি প্রশাসনিক পর্যালোচনা - প্রফেসর ড. আসিফ মিজান
একটি স্বাধীন ও সার্বভৌম রাষ্ট্রের অভ্যন্তরীণ শৃঙ্খলা, শাসনতান্ত্রিক অনুক্রম এবং প্রশাসনিক গাম্ভীর্যের দৃশ্যমান বহিঃপ্রকাশ ঘটে তার রাষ্ট্রাচার বা প্রটোকল (State Protocol) কাঠামোর মাধ্যমে। রাষ্ট্রাচার কেবল আনুষ্ঠানিক কোনো রীতি বা শিষ্টাচার নয়; এটি রাষ্ট্রের ক্ষমতা বিন্যাস ও সাংবিধানিক ভারসাম্যের প্রতীকী রূপ। পুলিশ সপ্তাহের মতো গুরুত্বপূর্ণ রাষ্ট্রীয় অনুষ্ঠানে স্যালুট গ্রহণ বা অভিবাদন মঞ্চে সরকারপ্রধানের সমান্তরালে অন্য ব্যক্তিবর্গের অবস্থান গ্রহণ প্রশাসনিক বিজ্ঞান, সামরিক-বেসামরিক প্রটোকল এবং রাষ্ট্রাচারের মৌলিক নীতিমালার আলোকে গভীর পর্যালোচনার দাবি রাখে।
সাংবিধানিক অনুক্রম ও স্যালুটিং ডেক প্রটোকল (Saluting Deck Protocol)
সংসদীয় গণতান্ত্রিক শাসনব্যবস্থায় 'মাননীয় প্রধানমন্ত্রী' হলেন রাষ্ট্রের সর্বোচ্চ নীতি-নির্ধারণী ও শাসনতান্ত্রিক কাঠামোর কেন্দ্রবিন্দু এবং চিফ এক্সিকিউটিভ (Chief Executive)। রাষ্ট্রাচার এবং সামরিক-বেসামরিক কুচকাওয়াজের সুনির্দিষ্ট নিয়ম (Ceremonial Protocol) অনুযায়ী, রাষ্ট্রীয় স্যালুট গ্রহণের মূল মঞ্চে বা ডেক-এ সরকারপ্রধান এককভাবে অগ্রভাগে অবস্থান করবেন। সংশ্লিষ্ট অন্যান্য উচ্চপদস্থ কর্মকর্তা বা দায়িত্বপ্রাপ্ত ব্যক্তিবর্গ তাঁর ঠিক পেছনে (In the Rear) নির্দিষ্ট দূরত্ব বজায় রেখে দাঁড়াবেন। প্রধানমন্ত্রীর সমান্তরালে বা একই লাইনে অবস্থান নেওয়া 'এক্সিকিউটিভ প্রিমাসি' বা নির্বাহী শ্রেষ্ঠত্বের নীতিকে চরমভাবে ক্ষুণ্ন করে।
প্রাতিষ্ঠানিক প্রতীকীবাদ (Institutional Symbolism) ও ক্ষমতার অনুক্রম
রাষ্ট্রবিজ্ঞানের দৃষ্টিতে, রাষ্ট্রীয় মঞ্চে ব্যক্তিবর্গের শারীরিক অবস্থান বা 'স্পেশিয়াল অ্যারেঞ্জমেন্ট' (Spatial Arrangement) ক্ষমতার একটি সুনির্দিষ্ট চেইন অব কমান্ড প্রকাশ করে। প্রধানমন্ত্রী পদটি কোনো একক ব্যক্তির পরিচয় নয়, এটি রাষ্ট্রের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ সার্বভৌম প্রতিষ্ঠান। এই প্রতিষ্ঠানের সমান্তরালে অন্যদের অবস্থান গ্রহণ 'প্রাতিষ্ঠানিক প্রতীকীবাদ'কে বিভ্রান্ত করে। এটি দেখার পর জনমনে এবং প্রশাসনিক স্তরে ক্ষমতার ভারসাম্য ও চেইন অব কমান্ড নিয়ে একটি ভুল বার্তা পৌঁছাতে পারে, যা রাষ্ট্রীয় শৃঙ্খলার জন্য মোটেও কাম্য নয়।
জবাবদিহিতা ও কাঠামোগত অবক্ষয় (Structural Decay)
রাষ্ট্রীয় স্যালুট গ্রহণের মতো সংবেদনশীল ও আনুষ্ঠানিক মঞ্চে এই ধরনের দৃশ্যমান ব্যত্যয় প্রটোকল ব্যবস্থাপনার দায়িত্বে থাকা সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের পেশাদারিত্ব, প্রাতিষ্ঠানিক সচেতনতা এবং দূরদর্শিতার অভাবকে নির্দেশ করে। একে সাধারণ ভুল হিসেবে অবহেলা করার সুযোগ নেই। নিয়মের এই ধারাবাহিক বিচ্যুতি যদি অব্যাহত থাকে, তবে তা একপর্যায়ে 'সাংবিধানিক রাষ্ট্রাচার কাঠামো'র (Constitutional Protocol Framework) প্রাতিষ্ঠানিক অবক্ষয় বা ধস ডেকে আনতে পারে।
একটি সুশাসিত রাষ্ট্রে যেকোনো মূল্যে রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠানের মর্যাদা, ঐতিহ্য এবং প্রটোকলের কঠোর নিয়ম সমুন্নত রাখা অপরিহার্য। উদ্ভূত এই সমান্তরাল অবস্থান গ্রহণের বিষয়টি সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের অনিচ্ছাকৃত অজ্ঞতা, নাকি পদ্ধতিগত ত্রুটি- তা কঠোরভাবে খতিয়ে দেখা প্রয়োজন। রাষ্ট্রের সর্বোচ্চ নির্বাহী প্রতিষ্ঠানের অনন্য সম্মান ও গুরুত্ব অক্ষুণ্ন রাখতে এবং ভবিষ্যতে যেকোনো আনুষ্ঠানিকতায় এর পুনরাবৃত্তি রোধে সংশ্লিষ্ট প্রটোকল কর্মকর্তাদের জবাবদিহিতার আওতায় আনা সময়ের দাবি। সময় থাকতেই এই প্রশাসনিক বিচ্যুতি সংশোধন করা না হলে, তা রাষ্ট্রের প্রাতিষ্ঠানিক শৃঙ্খলার ভিত্তিকে দুর্বল করে তুলবে।
আপিল বিভাগেও আইভীর জামিন, মুক্তিতে বাধা নেই
হত্যাসহ বিভিন্ন অভিযোগে দায়ের করা ১০ মামলায় নারায়ণগঞ্জ সিটি করপোরেশনের সাবেক মেয়র সেলিনা হায়াৎ আইভীর জামিন বহাল রেখেছেন আপিল বিভাগ। এর ফলে তার মুক্তিতে আর কোনো আইনগত বাধা নেই বলে জানিয়েছেন সংশ্লিষ্ট আইনজীবীরা।
রোববার (১০ মে) হাইকোর্টের জামিন আদেশের বিরুদ্ধে রাষ্ট্রপক্ষের করা আবেদন খারিজ করে প্রধান বিচারপতির নেতৃত্বাধীন আপিল বিভাগ এ আদেশ দেন।
আদালতে সেলিনা হায়াৎ আইভীর পক্ষে শুনানিতে অংশ নেন সিনিয়র অ্যাডভোকেট মো. মোতাহার হোসেন সাজু।
এর আগে গত বছরের ৯ মে ভোরে নারায়ণগঞ্জ শহরের দেওভোগ এলাকার চুনকা কুটির থেকে সাবেক মেয়র সেলিনা হায়াৎ আইভীকে গ্রেপ্তার করা হয়। পরে বিভিন্ন মামলায় তাকে গ্রেপ্তার দেখানো হয়। পরবর্তীতে হাইকোর্ট পাঁচ মামলায় তাকে জামিন দেন।
তবে ওই জামিন আদেশ আপিল বিভাগে স্থগিত হয়। এর মধ্যে গত ১৮ নভেম্বর আরও পাঁচ মামলায় তাকে গ্রেপ্তার দেখানো হয়। পরে বিচারপতি কে এম জাহিদ সারওয়ার ও বিচারপতি শেখ আবু তাহেরের সমন্বয়ে গঠিত হাইকোর্ট বেঞ্চ গত ২৬ ফেব্রুয়ারি এসব মামলায় তাকে জামিন দেন।
সর্বশেষ আপিল বিভাগের আদেশে তার জামিন বহাল থাকায় কারামুক্তির পথে আর কোনো বাধা থাকছে না বলে জানিয়েছেন আইনজীবীরা।