জাতীয় বাজেট ও আমাদের গণমাধ্যম --আবু সালেহ আখন্দ
বাজেটে তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রণালয়ের জন্য ১ হাজার ১৯০ কোটি টাকা বরাদ্দের প্রস্তাব করা হয়েছে। যা গতবছরের সংশোধিত বাজেটের তুলনায় ৩৩ কোটি টাকা কম। যা দু:থজনক। জাতীয় বাজেটে গণমাধ্যমের জন্য আলাদা কোন বাজেট থাকে না। তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রণালয়ের বরাদ্দ থেকেই গণমাধ্যম বরাদ্দ পায়। সেই বরাদ্দ যে যথাযথভাবে ব্যবহৃত হয় তার কোন নজির নেই!
গণমাধ্যম বেঁচে থাকার মূল যে অর্থটা আসে তা হলো বিজ্ঞাপন থেকে। সেক্ষেত্রেও দেখা গেছে দেশীয় বিজ্ঞাপনের একটি বড় অংশ চলে যায় বিদেশীদের হাতে। যেমন ফেসবুক, ইউটিউবসহ অন্যান্য মাধ্যমে। তাহলে দেশীয় গণমাধ্যম কিভাবে বাঁচবে তা নিয়ে কারো ভাবনা আপতত নেই!
আমরা বরাবরই সরকারের কাছে সাংবাদিকদের জন্য অবসরভাতা, চিকিৎসাভাতা, বেকারভাতাসহ অন্যান্য সুযোগসুবিধা দাবি করে আসছি। বরাবরের মতো এবারও সেটি উপেক্ষিত। কল্যানট্রাষ্টের মাধ্যমে সাংবাদিকদের যে অনুদান দেয়া হয়, অনেক সাংবাদিক না খেয়ে থাকলেও সেই দান গ্রহণ করবেন না। কিন্তু অবসরভাতা, চিকিৎসাভাতা বা বেকারভাতা সরকারিভাবে ঘোষণা করা হলে তা গ্রহণ করবেন। বিষয়গুলো অবশ্যই এই সরকারকে ভাবতে হবে।
ফ্যাসিষ্ট আমলে অনেক মিডিয়া মালিক এবং কিছু সাংবাদিক আঙ্গুল ফুলে কলাগাছ হয়েছে। তারা সরকারি নানা সুযোগসুবিধা ভোগ করেছে। শতশত কোটি টাকা লোপাট করেছে। বিজ্ঞাপনের ক্ষেত্রেও অসমনীতি ছিলো সেই আমলে। আমরা তেমনটি আর চাই না। বিজ্ঞাপনের সুসমবন্টন হবে, সাংবাদিকরা সকল প্রকার সুযোগ সুবিধা পাবে; এটাই এই সরকারের কাছে প্রত্যাশা।
আবু সালেহ আখন্দ, সভাপতি, ঢাকা রিপোর্টাস ইউনিটি
নবাব সলিমুল্লাহ ও তাঁর সময়---অধ্যাপক ড. শেখ আকরাম আলী
নবাব সলিমুল্লাহকে দক্ষিণ এশিয়ার মুসলিম রাজনীতির অগ্রদূত এবং মুসলিম লীগের প্রতিষ্ঠাতা হিসেবে বিবেচনা করা হয়। তাঁর জীবন ও সময়কাল উনিশ শতকের শেষভাগ এবং বিশ শতকের প্রথম ভাগে ভারতে মুসলমানদের উত্থানের ইতিহাসে একটি গুরুত্বপূর্ণ মাইলফলক। তাঁর সময়ে তিনটি গুরুত্বপূর্ণ ঐতিহাসিক ঘটনা ঘটেছিল, যা মুসলমানদের রাজনৈতিক যাত্রার ক্ষেত্রে স্মরণীয় দিকচিহ্ন (ল্যান্ডমার্ক) হিসেবে গণ্য হয়। ১৯০৬ সালে তিনি যে রাজনৈতিক যাত্রা শুরু করেছিলেন, তা অবশেষে ১৯৪৭ সালের আগস্টে মোহাম্মদ আলী জিন্নাহর যোগ্য নেতৃত্বের মাধ্যমে 'পাকিস্তান' সৃষ্টির মধ্য দিয়ে তার গন্তব্যে পৌঁছায়।
নবাব সলিমুল্লাহর সেই স্বপ্ন পাকিস্তান সৃষ্টির মাধ্যমে সত্যি হয়েছিল, যা একটি নতুন জাতির জন্ম দেয়। এই সময়ের তিনজন মহান ব্যক্তিত্ব—ঢাকার (বাংলাদেশ) নবাব সলিমুল্লাহ, পাঞ্জাবের (পাকিস্তান) আল্লামা মোহাম্মদ ইকবাল এবং করাচিতে জন্মগ্রহণকারী গুজরাটের (ভারত) মোহাম্মদ আলী জিন্নাহ—দক্ষিণ এশিয়ার মুসলমানদের স্বাধীনতার জন্য ঐতিহাসিক ভূমিকা পালন করেছিলেন।
১৯০৫ সালের বঙ্গভঙ্গ এবং ‘পূর্ববঙ্গ ও আসাম’ নামে একটি নতুন প্রদেশ গঠন ভারতের ব্রিটিশ সরকারের জন্য প্রশাসনিক প্রয়োজনের ফল হলেও, এটি মুসলিম সংখ্যাগরিষ্ঠ পূর্ববঙ্গের মানুষের জীবনে এক নতুন অধ্যায়ের পথ সুগম করেছিল। নতুন প্রদেশের রাজধানী ঢাকাকে কেন্দ্র করে মুসলমানরা উন্নত ভবিষ্যতের নতুন আশা ও আকাঙ্ক্ষায় উজ্জীবিত হয়েছিল।
কিন্তু কলকাতার হিন্দু জমিদার ও বুদ্ধিজীবীরা সংকীর্ণ ঈর্ষাকাতরতা থেকে এই বঙ্গভঙ্গের তীব্র বিরোধিতা করেন এবং তা রদের (বাতিল) জন্য আন্দোলন শুরু করেন। এই রদ আন্দোলন একসময় ভয়াবহ রূপ নেয় এবং মানুষের জীবন স্তব্ধ হয়ে পড়ে। কবি রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর এবং স্যার আশুতোষ রায় এতে অগ্রণী ভূমিকা পালন করেন এবং প্রদেশ গঠনের মাত্র ছয় বছর পর, ১৯১১ সালে তাঁরা সরকারকে এটি চূড়ান্তভাবে বাতিল করতে বাধ্য করেন। বাংলাদেশের জাতীয় সংগীত ‘সোনার বাংলা’ মূলত এই আন্দোলন চলাকালীন সময়েই বঙ্গভঙ্গের বিরুদ্ধে জনসচেতনতা তৈরির উদ্দেশ্যে রচিত হয়েছিল।
বঙ্গভঙ্গ এবং ঢাকাকে রাজধানী করে পূর্ববঙ্গ ও আসাম প্রদেশ গঠন মুসলিম জনগোষ্ঠীর মনে নতুন আশা-আকাঙ্ক্ষার সৃষ্টি করলেও, অভিজাত হিন্দু সমাজ এর বিরুদ্ধে অবস্থান নেয় এবং শেষ পর্যন্ত তা নস্যাৎ করে দেয়। এরই মধ্যে, নবাব সলিমুল্লাহ ঢাকায় (শাহবাগ) ‘অল ইন্ডিয়া মোহামেডান এডুকেশনাল কনফারেন্স’-এর একটি সভা আহ্বান করেন, যেখানে সমগ্র ভারতের অনেক বিশিষ্ট মুসলিম নেতা অংশ নেন। এই সভায় ভারতের মুসলিম সম্প্রদায়ের অধিকার ও স্বার্থ রক্ষার উদ্দেশ্যে মুসলমানদের একটি রাজনৈতিক প্ল্যাটফর্ম হিসেবে ‘অল ইন্ডিয়া মুসলিম লীগ’ আত্মপ্রকাশ করে।
নিঃসন্দেহে মুসলিম লীগের জন্ম ছিল ঢাকার নবাব সলিমুল্লাহরই মস্তিষ্কপ্রসূত চিন্তা। কিন্তু দলটি একটি সত্যিকারের রাজনৈতিক দলের পূর্ণ রূপ নেওয়ার আগেই তিনি তাঁর সম্প্রদায়ের জন্য অবদানের এক গৌরবময় ইতিহাস রেখে এই পৃথিবী থেকে বিদায় নেন। ভারতের মুসলিম সম্প্রদায়ের জন্য তাঁর অক্লান্ত সেবা ও আত্মত্যাগ তাঁকে ভারতের একজন কিংবদন্তি রাজনৈতিক নেতায় পরিণত করেছে। মুসলিম জনগোষ্ঠীর মধ্যে শিক্ষা বিস্তারে তাঁর অবদান ইতিহাসে অত্যন্ত প্রশংসিত।
বঙ্গভঙ্গ রদের ঘোষণার পর পূর্ববঙ্গের heartbroken (ম্রিয়মাণ/হতআশ) মানুষকে শান্ত করতে তিনি ঢাকায় একটি বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠার জন্য বেঙ্গল সরকারের কাছে আন্তরিক প্রস্তাব জানান। বেঙ্গল সরকার তাঁর অনুরোধ রক্ষা করে এবং ঢাকায় একটি বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠার প্রতিশ্রুতি দেয়। ঢাকার কেন্দ্রস্থলে নবাব সলিমুল্লাহ একাই ছয়শত একর জমি দান করেছিলেন, পাশাপাশি টাঙ্গাইলের ধনবাড়ীর নবাব নওয়াব আলী চৌধুরী ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠার জন্য কয়েক লক্ষ টাকা অনুদান দিয়েছিলেন।
রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরসহ কলকাতার হিন্দু বুদ্ধিজীবী নেতৃবৃন্দ আবারও ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠার বিরোধিতা করেন এবং ১৯২১ সালে যখন এটি বাস্তবে রূপ নেয়, তখন তাঁরা এটিকে ‘মক্কা বিশ্ববিদ্যালয়’ বলে কটূক্তি করেন। এটি পূর্ববঙ্গের দরিদ্র মধ্যবিত্ত মানুষের প্রতি—যারা প্রধানত মুসলিম ছিলেন—তাঁদের চরম সংকীর্ণতা ও বিদ্বেষেরই প্রকাশ ঘটায়।
যেহেতু শিক্ষাকে একটি জাতির মেরুদণ্ড হিসেবে বিবেচনা করা হয়, তাই তাঁরা আশঙ্কা করেছিলেন যে এটি ভবিষ্যতে রাজনীতিতে তাঁদের একচেটিয়া প্রভাবের ক্ষেত্রে চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়াবে। ফলে, মুসলিম সম্প্রদায়ের এই ভবিষ্যৎ উত্থানকে তাঁরা মেনে নিতে পারেননি, যা ভবিষ্যতে তাঁদের রাজনৈতিক মাথাব্যথার কারণ হয়ে উঠতে পারত। ভারতের হিন্দু রাজনৈতিক উচ্চবিত্তরা আজও ভারতের মুসলমানদের প্রতি এই ধরনের সংকীর্ণ মানসিকতা থেকে মুক্ত হতে পারেনি।
নবাব স্যার সলিমুল্লাহ নিজের সম্প্রদায়ের সেবা করার জন্য ময়মনসিংহের লাভজনক ম্যাজিস্ট্রেসি চাকরি ছেড়ে এগিয়ে এসেছিলেন এবং শেষ পর্যন্ত নিজের স্বপ্নের যোগ্য প্রমাণ রেখেছিলেন। তিনি কোনো ব্যক্তিগত লাভের দ্বারা অনুপ্রাণিত হননি, বরং দেশবাসীর সেবা করার উদ্দেশ্যেই নিয়োজিত হয়েছিলেন, যখন তাঁদের তাঁর মতো একজন দূরদর্শী নেতার অত্যন্ত প্রয়োজন ছিল।
তিনি তাঁর সম্প্রদায়কে রাজনীতির পথ দেখিয়েছিলেন, যখন কোনো রাজনৈতিক দিকনির্দেশনা ছাড়া তারা ডানে-বামে দিকবিদিক ছুটছিল।
স্যার সৈয়দ আহমদ খান, সৈয়দ আমীর আলী এবং নবাব আব্দুল লতিফ ভারতের মুসলমানদের মধ্যে আধুনিক শিক্ষার বিস্তারের জন্য কাজ করেছিলেন; অন্যদিকে নবাব সলিমুল্লাহ তাদের অধিকার নিশ্চিত করার জন্য রাজনীতির পথে পরিচালিত করেছিলেন, যা ইন্ডিয়ান ন্যাশনাল কংগ্রেস দ্বারা সম্পূর্ণ উপেক্ষিত হচ্ছিল। মুসলমানদের রাজনীতিতে নিয়ে আসার ক্ষেত্রে তিনি অগ্রগামী ভূমিকা পালন করেছিলেন।
স্যার সৈয়দ আহমদকে যদি শিক্ষার পথপ্রদর্শক (প্রফেট অফ এডুকেশন) হিসেবে বিবেচনা করা হয়, তবে দক্ষিণ এশিয়ার মুসলমানদের জন্য নবাব সলিমুল্লাহকে রাজনীতির পথপ্রদর্শক (প্রফেট অফ পলিটিক্স) হিসেবে গণ্য করা উচিত। নবাব সলিমুল্লাহ ছাড়া আর কেউ রাজনীতিতে অংশগ্রহণের মাধ্যমে মুসলমানদের অধিকার রক্ষার সঠিক পথ দেখাতে পারেননি।
পরবর্তীতে আল্লামা মোহাম্মদ ইকবাল তাঁর রাজনৈতিক চিন্তাধারায় উদ্বুদ্ধ হয়ে নিরন্তর লেখালেখির মাধ্যমে তা ভারতের মুসলিম জনগোষ্ঠীর মধ্যে জনপ্রিয় করে তোলেন। ড. মোহাম্মদ ইকবাল মূলত নবাব সলিমুল্লাহর রাজনৈতিক মিশনকেই এগিয়ে নিয়ে গিয়েছিলেন এবং তা বাস্তবায়নের জন্য মোহাম্মদ আলী জিন্নাহর হাতে ন্যস্ত করেছিলেন।
এই তিন মহান নেতাই মুসলিম জনগোষ্ঠীকে সেই সংখ্যাগরিষ্ঠ হিন্দু জনগোষ্ঠীর হাত থেকে রক্ষা করতে নিজ নিজ ভূমিকা পালন করেছিলেন, যারা ঐতিহাসিকভাবেই ভারতে মুসলমানদের উত্থানের প্রতি ঈর্ষাপরায়ণ ছিল। এবং তাঁরা নিজ সম্প্রদায়ের জন্য 'পাকিস্তান' নামক একটি পৃথক স্বাধীন আবাসভূমি প্রতিষ্ঠার মাধ্যমে নিজ নিজ মিশনে সফল হয়েছিলেন।
আজ নবাব স্যার সলিমুল্লাহর ১৫৫তম জন্মদিন, যিনি দক্ষিণ এশিয়ার মুসলমানদের রাজনৈতিক পিতা; তাঁকে কোনোভাবেই বিস্মৃতির অতলে হারিয়ে যেতে দেওয়া যাবে না। আমাদের তরুণ প্রজন্মকে অবশ্যই আমাদের জন্য তাঁর এই নিঃস্বার্থ সেবা ও আত্মত্যাগ সম্পর্কে যথাযথ গুরুত্বের সাথে জানতে হবে।
আইন বিষয়ের অধ্যাপক এবং সম্পাদক, সামরিক ইতিহাস সাময়িকী।
১১ জুন, ২০২৬
আদ্-দ্বীনের লাইসেন্স বাতিল, আপিলের ঘোষণা হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের
রাজধানীর মগবাজারের আদ্-দ্বীন হাসপাতালের লাইসেন্স বাতিল করেছে সরকার। ছয় নবজাতকের মৃত্যুর ঘটনায় তদন্ত ও পর্যালোচনার পর এ সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। তবে সরকারের এ সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে আপিলের ঘোষণা দিয়েছে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ।
আজ বৃহস্পতিবার (১১ জুন) বিকেলে স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের সম্মেলন কক্ষে এক সংবাদ সম্মেলনে অধিদপ্তরের মহাপরিচালক ডা. প্রভাত চন্দ্র বিশ্বাস বলেন, 'শোকজ নোটিশের যে জবাব ও ব্যাখ্যা প্রদান করা হয়, তা কর্তৃপক্ষের নিকট সন্তোষজনক না হওয়ায় মেডিকেল প্র্যাকটিস অ্যান্ড প্রাইভেট ক্লিনিক অ্যান্ড ল্যাবোরেটরিস রেগুলেশন অর্ডিনেন্স ১৯৮২ এর ১১ (২) খ ধারা অনুযায়ী অত্র হাসপাতালের লাইসেন্স বাতিল করা হলো।'
তিনি আরও বলেন, 'উক্ত অধ্যাদেশের ১২ ধারা অনুযায়ী লাইসেন্স বাতিলের পরবর্তী ৩০ দিনের মধ্যে বাতিলের বিরুদ্ধে সরকারের কাছে আপনার আপিল বা পুনর্বিবেচনা করার আইনি সুযোগ রয়েছে।'
এই মুহূর্তে আদ্-দ্বীন হাসপাতালে প্রায় সাড়ে চার শ রোগী হাসপাতালটিতে ভর্তি আছেন বলে জানা গেছে। সরকার রোগীদের স্থানান্তরে হাসপাতালটিকে ৩০ দিনের সময় দিয়েছে। তবে লাইসেন্স বাতিলের সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে আপিল করার কথা জানিয়েছেন আদ্-দ্বীন হাসপাতালের পরিচালক (প্রশাসন) তারিকুল ইসলাম মুকুল। তিনি রাজনীতি ডটকমকে বলেন, ‘আমরা এই সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে আপিল করব। আশা করি ন্যায়বিচার পাবো।’
এর আগে বুধবার সচিবালয়ে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে স্বাস্থ্য ও পরিবারকল্যাণমন্ত্রী সরদার মো. সাখাওয়াত হোসেন বকুল হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের দেওয়া ব্যাখ্যায় অসন্তোষ প্রকাশ করেছিলেন। তিনি বলেছিলেন, স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের নোটিশের জবাবে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ কয়েক পৃষ্ঠার ব্যাখ্যা জমা দিলেও সেখানে ঘটনার সুনির্দিষ্ট কারণ ব্যাখ্যার পরিবর্তে নানা ধরনের তথ্য উপস্থাপন করা হয়েছে। বিষয়টি পর্যালোচনার পর সরকার প্রয়োজনীয় সিদ্ধান্ত গ্রহণ করে।
গত ২৭ মে ঈদুল আজহার আগের দিন মগবাজারের আদ্-দ্বীন মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের পোস্ট-অপারেটিভ ওয়ার্ডে চিকিৎসাধীন ছয় নবজাতক হঠাৎ অসুস্থ হয়ে পড়ে। অল্প সময়ের ব্যবধানে একে একে তাদের মৃত্যু হলে দেশজুড়ে ব্যাপক আলোচনার সৃষ্টি হয়।
ঘটনার পর ভুক্তভোগী পরিবারগুলো চিকিৎসায় অবহেলার অভিযোগ এনে রমনা থানায় মামলা করে। পরে স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের তদন্ত কমিটির প্রাথমিক প্রতিবেদনে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের অবহেলার প্রমাণ পাওয়া যায়।
তদন্ত প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়, ওয়ার্ডে অতিরিক্ত মানুষের উপস্থিতি, দীর্ঘ সময় শীতাতপনিয়ন্ত্রণ ব্যবস্থা (এসি) বন্ধ থাকা এবং পর্যাপ্ত বায়ু চলাচলের ব্যবস্থা না থাকায় কার্বন ডাই-অক্সাইডের মাত্রা বেড়ে যেতে পারে, যা নবজাতকদের মৃত্যুর সম্ভাব্য কারণ হিসেবে চিহ্নিত হয়েছে।
প্রতিবেদন প্রকাশের পর স্বাস্থ্য অধিদপ্তর হাসপাতালটিকে কারণ দর্শানোর নোটিশ দেয় এবং ছয় নবজাতকের মৃত্যুর ঘটনায় তাদের লাইসেন্স কেন বাতিল করা হবে না, সে বিষয়ে ব্যাখ্যা চায়। পরবর্তীতে সেই ব্যাখ্যায় সন্তুষ্ট না হওয়ায় হাসপাতালের লাইসেন্স বাতিলের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়।
উল্লেখ্য, আদ্-দ্বীন হাসপাতাল অলাভজনক দাতব্য প্রতিষ্ঠান আদ্-দ্বীন ফাউন্ডেশনের অধীন পরিচালিত হয়। ফাউন্ডেশনটির প্রতিষ্ঠাতা ও চেয়ারম্যান সেখ মহিউদ্দিন, যিনি আকিজ গ্রুপের প্রতিষ্ঠাতা মরহুম সেখ আকিজ উদ্দিনের জ্যেষ্ঠ পুত্র।
শিক্ষায় বরাদ্দ জিডিপির ২%, বাড়ল ৫০ হাজার কোটি টাকা
২০২৬-২৭ অর্থবছরের জন্য প্রস্তাবিত বাজেটে শিক্ষা খাতে ১ লাখ ৩৬ হাজার ৬০৬ কোটি টাকা বরাদ্দের প্রস্তাব করেছেন অর্থমন্ত্রী আমীর খসরু মাহমুদ চৌধুরী। তিনি জানান, এই বরাদ্দ জিডিপির ২ শতাংশ। আগের অর্থবছরের তুলনায় এ বরাদ্দ ৪৯ হাজার ৪০০ কোটি টাকা বেশি। পাঁচ বছর আগের ২০২১-২২ অর্থবছরের তুলনায় এ বরাদ্দ প্রায় দ্বিগুণ। বাজেট বক্তৃতায় অর্থমন্ত্রী বলেন, চলতি ২০২৫-২৬ অর্থবছরে শিক্ষা খাতে বরাদ্দ ছিল ৮৭ হাজার ২০৬ কোটি টাকা, যা জিডিপির ১ দশমিক ৩৯ শতাংশ।
বৃহস্পতিবার (১১ জুন) জাতীয় সংসদে ‘গণতান্ত্রিক, মানবিক ও অন্তর্ভুক্তিমূলক অর্থনীতির অভিযাত্রা’ শিরোনামের এই বাজেট উত্থাপন করেন অর্থমন্ত্রী।
গত ৫ অর্থবছরে শিক্ষায় বরাদ্দ
আওয়ামী লীগ সরকারের আমলে ২০২১-২২ অর্থবছরের প্রস্তাবিত বাজেটে শিক্ষা খাতে বরাদ্দ দেওয়া হয়েছিল ৭১ হাজার ৯৫১ কোটি টাকা। ২০২২-২৩ অর্থবছরের প্রস্তাবিত বাজেটে ৯ হাজার ৪৯৮ কোটি টাকা বাড়িয়ে বরাদ্দ করা হয় অর্থবছরে ৮১ হাজার ৪৪৯ কোটি টাকা।
পরের অর্থবছরে আরও ৬ হাজার ৭১৩ কোটি টাকা বরাদ্দ বাড়ে শিক্ষায়। তাতে ২০২৩-২৪ অর্থবছরে রবাদ্দ দাঁড়ায় ৮৮ হাজার ১৬২ কোটি টাকা। আওয়ামী লীগ আমলের শেষ বাজেটে ২০২৪-২৫ অর্থবছরে আরও ৬ হাজার ৫৪৮ কোটি টাকা বাড়িয়ে শিক্ষা খাতে ৯৪ হাজার ৭১০ কোটি টাকা বরাদ্দ রাখা হয়।
অন্তর্বর্তী সরকারের আমলে এসে শিক্ষা খাতে বাজেট বৃদ্ধির ধারাবাহিকতায় ছেদ পড়ে। ২০২৫-২৬ অর্থবছরের এই বাজেটে প্রায় সাড়ে ৭ হাজার কোটি টাকা রাদ্দ কমে যায়। এ অর্থবছরে শিক্ষায় বরাদ্দের পরিমাণ ছিল ৮৭ হাজার ২০৬ কোটি টাকা। এবার বিএনপি সরকারের প্রথম বাজেটে শিক্ষা খাতে বরাদ্দ এক লাফে বাড়ল প্রায় ৫০ হাজার কোটি টাকা।
শিক্ষায় কোন বিভাগে বরাদ্দ কত
আগামী অর্থবছরের প্রস্তাবিত বাজেটে প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয়ে বরাদ্দ রাখা হয়েছে ৪৬ হাজার ৭৩৭ কোটি টাকা। চলতি অর্থবছরে এ বরাদ্দের পরিমাণ ৩৫ হাজার ৪০৩ কোটি টাকা হলেও সংশোধিত বাজেটে তা কমে ৩১ হাজার ৭১৮ কোটিতে দাঁড়ায়।
শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা বিভাগে আগামী অর্থবছরে বরাদ্দ রাখা হয়েছে ৫৭ হাজার ৩০১ কোটি টাকা। চলতি অর্থবছরে এই বরাদ্দের পরিমাণ ছিল ৪৭ হাজার ৫৬৩ কোটি টাকা। পরে সংশোধিত বাজেটে এ খাতে বরাদ্দ কমে দাঁড়ায় ৪১ হাজার ৭৫৩ কোটি টাকা।
একই মন্ত্রণালয়ের কারিগরি ও মাদরাসা শিক্ষা বিভাগে আগামী অর্থবছরে বরাদ্দ রাখা হয়েছে ১৮ হাজার ৪৫৭ কোটি টাকা, চলতি অর্থবছরে যা ছিল ১২ হাজার ৬৭৮ কোটি টাকা। সংশোধিত বাজেটে এ খাতে বরাদ্দ কমিয়ে ১২ হাজার ৩৯৬ কোটি করা হয়।
রাত ৯টা পর্যন্ত দোকানপাট খোলা রাখার সিদ্ধান্ত, আজ থেকেই কার্যকর
সারা দেশে আজ বৃহস্পতিবার (১১ জুন) থেকে সন্ধ্যা ৭টা থেকে রাত ৯টা পর্যন্ত দোকানপাট, বিপণি বিতান ও শপিং মল খোলা থাকবে বলে জানিয়েছে বাংলাদেশ দোকান মালিক সমিতি। আজ থেকেই এই সিদ্ধান্ত কার্যকর হবে।
দোকান মালিক সমিতির সভাপতি মো. হেলাল উদ্দিন বলেন, বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ মন্ত্রণালয়ের মন্ত্রী কিছুক্ষণ আগে আমাদের জানিয়েছেন, আজ থেকে সকাল ১১টা থেকে রাত ৯টা পর্যন্ত মার্কেট, বিপণি বিতান ও দোকানপাট খোলা রাখা যাবে।
এ সিদ্ধান্তের জন্য প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান এবং জ্বালানিমন্ত্রী ইকবাল হাসান মাহমুদ টুকুকে অভিনন্দন জানিয়েছেন দোকান মালিক সমিতির সভাপতি মো. হেলাল উদ্দিন।
এর আগে ঈদুল আজহা উপলক্ষ্যে দোকানপাট ও শপিংমল রাত ১০টা পর্যন্ত খোলা রাখার সিদ্ধান্ত জানিয়েছিল বিদ্যুৎ বিভাগ। তবে ঈদের পর আবারও সন্ধ্যা ৭টায় দোকান-ব্যবসা প্রতিষ্ঠান ও শপিংমল যথারীতি বন্ধ রাখা হয়।
দেশের ৫৫তম বাজেট উপস্থাপন করছেন অর্থমন্ত্রী
বাজেট ২০২৬-২৭ : মূল্যস্ফীতি ৭.৫ শতাংশে নামিয়ে আনার লক্ষ্য সরকারের
১ জুলাই থেকে নতুন পে-স্কেল
১ জুলাই থেকে সরকারি কর্মকর্তা ও কর্মচারীদের জন্য নতুন পে-স্কেল বা বেতন কাঠামো কার্যকর করতে যাচ্ছে সরকার।
অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী বৃহস্পতিবার (১১ জুন) বিকেলে সংসদে প্রস্তাবিত বাজেট পেশ করার সময় এই পদক্ষেপের ঘোষণা দেবেন। তবে এই নতুন বেতন কাঠামো ধাপে ধাপে বাস্তবায়ন করা হবে।
দীর্ঘ ১১ বছর পর সরকারি চাকরিজীবীদের জন্য নতুন এই পে-স্কেল আসতে যাচ্ছে। অর্থ মন্ত্রণালয়ের একটি সূত্র এ তথ্য নিশ্চিত করেছে।
নতুন এই বেতন কাঠামো পূর্ণাঙ্গভাবে কার্যকর হতে তিন অর্থবছর সময় লাগতে পারে। আগামী অর্থবছরে সংশোধিত মূল বেতনের ৫০ শতাংশ কার্যকর হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে।
এটি বাস্তবায়নের লক্ষ্যে সরকার জনসেবা খাতে এক লাখ ৪১ হাজার ৪৩৪ কোটি টাকা বরাদ্দ দিতে পারে, যা চলতি অর্থবছরের মূল বাজেটের ৭২ হাজার ২৪ কোটি টাকার তুলনায় ৯৬ শতাংশ বেশি।
পরে এই পরিমাণটি সংশোধন করে ৮৬ হাজার ৮৬২ কোটি টাকা করা হয়েছিল। ফলে সংশোধিত হিসাবের তুলনায় এবার বরাদ্দ বাড়ছে প্রায় ৫৫ হাজার কোটি টাকা।
তবে, এই বরাদ্দের পুরো অর্থ সরকারি কর্মচারীদের বর্ধিত বেতন ও ভাতার পেছনে ব্যয় হবে না।
এই বরাদ্দের মধ্যে নতুন নিয়োগ, এমপিওভুক্ত শিক্ষক ও কর্মচারীদের বর্ধিত বেতন এবং পেনশনভোগীদের জন্য অতিরিক্ত সুবিধাও অন্তর্ভুক্ত রয়েছে।
মন্ত্রিসভার বিশেষ বৈঠকে প্রস্তাবিত বাজেট অনুমোদন
মন্ত্রিসভার বিশেষ বৈঠকে জাতীয় সংসদে উপস্থাপনের জন্য ২০২৬-২৭ অর্থবছরের প্রস্তাবিত বাজেট অনুমোদন দেওয়া হয়েছে।
বৃহস্পতিবার (১১ জুন) সকালে জাতীয় সংসদ ভবনে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সভাপতিত্বে এ বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়।
এতে অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরীসহ মন্ত্রিপরিষদের অন্য সদস্যরা অংশ নেন।
অনুমোদিত ২০২৬-২৭ অর্থবছরের বাজেট বিকেলে জাতীয় সংসদে উপস্থাপন করবেন অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী।
আসন্ন ২০২৬–২৭ অর্থবছরের প্রস্তাবিত বাজেটের আকার ধরা হয়েছে ৯ লাখ ৩৮ হাজার কোটি টাকা। এর বিপরীতে রাজস্ব আয়ের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে ৬ লাখ ৯৫ হাজার কোটি টাকা। ফলে আয় ও ব্যয়ের মধ্যে ব্যবধান দাঁড়াচ্ছে ২ লাখ ৪৩ হাজার কোটি টাকা। বাজেটের বিশাল এই ঘাটতি পূরণে সরকার অভ্যন্তরীণ ও বৈদেশিক-দুই উৎস থেকেই অর্থ সংগ্রহের পরিকল্পনা করেছে।
প্রস্তাবিত বাজেট অনুযায়ী, বৈদেশিক ঋণ ও অনুদান থেকে ১ লাখ ১৬ হাজার কোটি টাকা এবং অভ্যন্তরীণ উৎস থেকে ১ লাখ ২৭ হাজার কোটি টাকা সংগ্রহ করা হবে। এর মধ্যে ব্যাংক ব্যবস্থা থেকে নেওয়া হবে ১ লাখ ১২ হাজার কোটি টাকা এবং সঞ্চয়পত্র ও অন্যান্য উৎস থেকে ১৫ হাজার কোটি টাকার অর্থ সংগ্রহ করা হবে।
জাতীয় সংসদের স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদের সভাপতিত্বে এবং প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের উপস্থিতিতে এই বাজেট প্রস্তাব পেশ করা হবে। এটি দেশের ৫৫তম বাজেট। এছাড়া বর্তমান সরকারের মেয়াদে অর্থমন্ত্রী হিসেবে এটি আমির খসরুর প্রথম বাজেট উপস্থাপন।
নিয়ম অনুযায়ী, সংসদে উপস্থাপনের আগে বাজেটটি মন্ত্রিসভায় অনুমোদিত হবে এবং পরে রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিন এতে সম্মতি জানিয়ে সই করবেন। ১ জুলাই থেকে আনুষ্ঠানিকভাবে কার্যকর হবে নতুন এই অর্থবছর।
বিশ্বকাপ ফুটবল উপলক্ষে স্মারক ডাকটিকিট উন্মোচন প্রধানমন্ত্রীর
বিশ্বকাপ ফুটবল-২০২৬ উপলক্ষে ১০ টাকা মূল্যমানের স্মারক ডাকটিকিট উন্মোচন করেছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। আজ বৃহস্পতিবার সকালে জাতীয় সংসদ সচিবালয়ের নিজ কার্যালয়ে এ স্মারক ডাকটিকিট উন্মোচন করেন তিনি।
এছাড়া ৫০ টাকা মূল্যমানের খাম-সম্বলিত স্যুভেনির শিট ও ৫ টাকা মূল্যমানের ডাটা কার্ডও প্রকাশ করেন প্রধানমন্ত্রী। এতে বিশেষ সিলমোহর ব্যবহার করা হয়। প্রধানমন্ত্রীর উপ প্রেস সচিব জাহিদুল ইসলাম রনি এ কথা জানান।
এ সময় ডাক, টেলিযোগাযোগ ও তথ্যপ্রযুক্তিমন্ত্রী ফকির মাহবুব আনাম, মন্ত্রণালয়ের সচিব বিলকিস জাহান রিমি, প্রধানমন্ত্রীর অতিরিক্ত প্রেস সেক্রেটারি আতিকুর রহমান রুমন এবং ডাক অধিদপ্তরের অতিরিক্ত মহাপরিচালক এস এম হারুনুর রশীদ উপস্থিত ছিলেন।
ইতিহাসের সর্বোচ্চ ৪৮ দল নিয়ে প্রথমবারের মতো আয়োজিত হতে যাওয়া ফিফা ফুটবল বিশ্বকাপ শুরু হতে যাচ্ছে আজ। যুক্তরাষ্ট্র, মেক্সিকো ও কানাডার মাটিতে হতে যাচ্ছে বিশ্বকাপের ২৩তম আসর। তিনটি দেশ একসঙ্গে বিশ্বকাপ আয়োজনের ঘটনাও এবারই প্রথম।
প্রতিরক্ষা খাতে বরাদ্দ বাড়ছে ১ হাজার ৫৯৩ কোটি টাকা
২০২৬-২৭ অর্থবছরের প্রস্তাবিত বাজেটে প্রতিরক্ষা খাতে বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে ৪২ হাজার ২৯১ কোটি টাকা, যা বিদায়ী অর্থবছরের তুলনায় ১ হাজার ৫৯৩ কোটি টাকা বেশি। ২০২৫-২৬ অর্থবছরে প্রতিরক্ষা খাতে ৪০ হাজার ৬৯৮ কোটি টাকা বরাদ্দ দেওয়ার প্রস্তাব করা হয়েছিল। যা সংশোধিত বাজেটে ৪০ হাজার ৫০২ কোটি টাকা দাঁড়ায়।
বৃহস্পতিবার (১১ জুন) বিকেলে জাতীয় সংসদে ৯ লাখ ৩৮ হাজার কোটি টাকার এ বাজেট পেশ করা হবে। এবার প্রতিরক্ষা বাজেটে প্রতিরক্ষা সার্ভিসের পরিচালন ব্যয় বাবদ ৩৮ হাজার ৭২১ কোটি টাকা এবং উন্নয়ন ব্যয়ের জন্য ১ হাজার ৬১১ কোটি টাকা বরাদ্দের প্রস্তাব করা হয়েছে। প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়ের অন্যান্য সার্ভিসের জন্য পরিচালন ব্যয় ধরা হয়েছে ১ হাজার ৯৫৯ কোটি টাকা।
জানা গেছে, এদিন বিকেলে জাতীয় সংসদে ২০২৬-২৭ অর্থবছরের বাজেট ঘোষণা করবেন অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী। তারেক রহমানের নেতৃত্বাধীন বিএনপি সরকারের এটি প্রথম বাজেট। দেশের ইতিহাসের এবারই সবচেয়ে বড় বাজেট ঘোষণা হবে।
এবারের প্রস্তাবিত বাজেটের আকার ধরা হয়েছে ৯ লাখ ৩৮ হাজার কোটি টাকা। এর বিপরীতে রাজস্ব আয়ের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে ৬ লাখ ৯৫ হাজার কোটি টাকা। ফলে আয় ও ব্যয়ের মধ্যে ব্যবধান দাঁড়াচ্ছে ২ লাখ ৪৩ হাজার কোটি টাকা। বাজেটের বিশাল এই ঘাটতি পূরণে সরকার অভ্যন্তরীণ ও বৈদেশিক-দুই উৎস থেকেই অর্থ সংগ্রহের পরিকল্পনা করেছে।
প্রস্তাবিত বাজেট অনুযায়ী, বৈদেশিক ঋণ ও অনুদান থেকে ১ লাখ ১৬ হাজার কোটি টাকা এবং অভ্যন্তরীণ উৎস থেকে ১ লাখ ২৭ হাজার কোটি টাকা সংগ্রহ করা হবে। এর মধ্যে ব্যাংক ব্যবস্থা থেকে নেওয়া হবে ১ লাখ ১২ হাজার কোটি টাকা এবং সঞ্চয়পত্র ও অন্যান্য উৎস থেকে ১৫ হাজার কোটি টাকার অর্থ সংগ্রহ করা হবে।
জাতীয় সংসদের স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদের সভাপতিত্বে এবং প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের উপস্থিতিতে এই বাজেট প্রস্তাব পেশ করা হবে। এটি দেশের ৫৫তম বাজেট। এছাড়া বর্তমান সরকারের মেয়াদে অর্থমন্ত্রী হিসেবে এটি আমির খসরুর প্রথম বাজেট উপস্থাপন।
নিয়ম অনুযায়ী, সংসদে উপস্থাপনের আগে বাজেটটি মন্ত্রিসভায় অনুমোদিত হবে এবং পরবর্তীতে রাষ্ট্রপতি মোহাম্মদ সাহাবুদ্দিন এতে সম্মতি জানিয়ে সই করবেন। ১ জুলাই থেকে আনুষ্ঠানিকভাবে কার্যকর হবে নতুন এই অর্থবছর।