রাজধানী থেকে তিন বাস টার্মিনাল স্থানান্তরের নির্দেশ প্রধানমন্ত্রীর
ফ্যাসিবাদের অদৃশ্য ডালপালা: প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয় কি ঝুঁকিমুক্ত? - প্রফেসর ড. আসিফ মিজান
নেটের দুনিয়ায় এখন একটি খবরই সবচেয়ে বেশি ভাসছে—বিদেশে পালিয়ে থাকা অর্থ পাচার, দুর্নীতি ও বিচারবহির্ভূত হত্যাকাণ্ডের অন্যতম মাস্টারমাইন্ড সাবেক আইজিপি বেনজীর আহমেদ অবশেষে ইন্টারপোলের সহায়তায় দুবাইয়ে গ্রেপ্তার হয়েছেন। অবধারিতভাবে এটি জুলাই-আগস্টের রক্তাক্ত গণ-অভ্যুত্থানের স্পিরিটের পক্ষে একটি বড় আইনি ও মনস্তাত্ত্বিক বিজয়।
কিন্তু একজন অপরাধবিজ্ঞানী (Criminologist) ও রাজনৈতিক বিশ্লেষক হিসেবে যখন ক্ষমতার গভীর স্তরগুলো এবং সমসাময়িক অপরাধচিত্র পর্যবেক্ষণ করি, তখন এই একটি ‘বেনজীর’ গ্রেপ্তারের আলোড়নে মন পুরোপুরি আশ্বস্ত হতে পারে না। কারণ, অপরাধবিজ্ঞানের সুপরিচিত 'অর্গানাইজড ক্রাইম অ্যান্ড সিন্ডিকেশন’ (Organized Crime Syndication) তত্ত্ব অনুযায়ী, দৃশ্যমান অপরাধের মূল হোতা বা ‘কিংপিন’ (Kingpin) অপসারিত হলেও তার তৈরি করা গভীর প্রাতিষ্ঠানিক নেটওয়ার্ক এবং অপরাধের দোসররা সুযোগ পেলেই ভিন্ন অবয়বে নিজেদের পুনর্বাসন করে।
অত্যন্ত উদ্বেগের বিষয় হলো, জুলাই-আগস্টের ছাত্র-জনতার বিপ্লবের মূল চেতনাকে নস্যাৎ করতে ফ্যাসিবাদের সেই অদৃশ্য ডালপালাগুলো এখন অত্যন্ত সূক্ষ্ম ও সুসংগঠিত উপায়ে রাষ্ট্রের সবচেয়ে সংবেদনশীল জায়গায় পুনর্বাসিত হচ্ছে। বড় বেনজীরদের অধ্যায় আপাতদৃষ্টিতে শেষ মনে হলেও, শত শত ‘ছোট বেনজীর’ বা ফ্যাসিবাদের সুবিধাভোগী কুশীলবরা এখন রাষ্ট্রের রন্ধ্রে রন্ধ্রে জেঁকে বসছে। সবচেয়ে ভয়াবহ আশঙ্কার জায়গা হলো, এই অনুপ্রবেশের থাবা এখন খোদ প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয় (PMO) পর্যন্ত বিস্তৃত হয়েছে। ফলে স্বাভাবিকভাবেই প্রশ্ন জাগে—ক্ষমতার এই শীর্ষ কেন্দ্রটি কি আসলে ঝুঁকিমুক্ত?
নীতিবিচ্যুতি ও তৃণমূলের পুঞ্জীভূত ক্ষোভঃ
সংবাদমাধ্যম এবং রাজনৈতিক অঙ্গনের নানামুখী তথ্য-উপাত্ত বিশ্লেষণ করলে দেখা যায়, একটি বিশেষ সুবিধাবাদী চক্রের সহায়তায় ফ্যাসিবাদের গর্ভে লালিত আমলারা রাষ্ট্রের সর্বোচ্চ নীতিনির্ধারণী কেন্দ্রে আসীন হতে শুরু করেছে। এটি অত্যন্ত দুঃখজনক এবং আত্মঘাতী যে, বিএনপি নামধারী কিছু অতি-উৎসাহী বা নীতিভ্রষ্ট ব্যক্তি নিজেদের ব্যক্তিগত বা গোষ্ঠীগত আখের গোছাতে এদেরকে হাতে ধরে রাষ্ট্রের শীর্ষ দফতরগুলোতে বসাচ্ছেন। অপরাধবিজ্ঞানের ভাষায় একে বলা হয় ‘ইনসাইডার থ্রেট’ (Insider Threat) বা প্রাতিষ্ঠানিক অভ্যন্তরের গোপন শত্রু।
এই সুবিধাবাদী চক্রের কারণে খোদ তৃণমূল বিএনপিতে তীব্র ক্ষোভ, হতাশা ও অসন্তোষের আগুন জ্বলছে।
ত্যাগের অবমূল্যায়ন: যে তৃণমূল কর্মীরা দীর্ঘ ১৫ বছর রাজপথে ফ্যাসিবাদী সরকারের অবর্ণনীয় জুলুম, মিথ্যা মামলা, হুলিয়া এবং অমানবিক নির্যাতন সহ্য করেছেন, তারা যখন দেখেন যে তাদেরই দলের কিছু নেতার প্রশ্রয়ে ফ্যাসিবাদের দোসররা প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের মতো অতি-গুরুত্বপূর্ণ জায়গায় বহাল তবিয়তে পুনর্বাসিত হচ্ছে, তখন তাদের সেই দীর্ঘদিনের ত্যাগ ও আনুগত্য চরম উপহাসের পাত্রে পরিণত হয়।
স্থিতিশীলতার সংকট: তুষের আগুনের মতো জ্বলতে থাকা তৃণমূলের এই ক্ষোভ যেকোনো সময় দলের অভ্যন্তরীণ শৃঙ্খলা ও সামগ্রিক রাজনৈতিক স্থিতিশীলতাকে বড় ধরনের ধাক্কা দিতে পারে।
ক্রিমিনাল ইনফিলট্রেশন' ও জাতীয় নিরাপত্তার তিন টেকনিক্যাল ঝুঁকিঃ
প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে এই ধরনের বিতর্কিত কর্মকর্তাদের উপস্থিতি কেবল রাজনৈতিক অসন্তোষেরই জন্ম দিচ্ছে না, বরং অপরাধবিজ্ঞানের দৃষ্টিকোণ থেকে এটি রাষ্ট্র এবং খোদ প্রধানমন্ত্রীর ব্যক্তিগত নিরাপত্তার জন্য এক চরম এবং অপরিসীম সংকট তৈরি করেছে। প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয় হলো রাষ্ট্রের স্পর্শকাতর সিদ্ধান্ত গ্রহণ, জাতীয় নিরাপত্তা ও গোয়েন্দা সমন্বয়ের প্রধান স্নায়ুকেন্দ্র (Nerve Center)।
অপরাধবিজ্ঞানের ‘ক্রিমিনাল ইনফিলট্রেশন’ (Criminal Infiltration) বা অপরাধমূলক অনুপ্রবেশ তত্ত্ব অনুযায়ী, যখন কোনো কর্তৃত্ববাদী ব্যবস্থার অনুগত ও সুবিধাভোগী অংশ কোনো নতুন শাসনব্যবস্থার সর্বোচ্চ নিরাপত্তা বলয়ে ঢুকে পড়ে, তখন তারা মূলত তিনটি বড় ধরনের স্ট্র্যাটেজিক ও টেকনিক্যাল ঝুঁকি তৈরি করে:
| ঝুঁকির ধরন | বিবরণ ও সম্ভাব্য প্রভাবঃ
| ১. তথ্য পাচার ও গোয়েন্দা ঝুঁকি (Information Leakage & Espionage) | রাষ্ট্রের অতি-গোপনীয় অভ্যন্তরীণ ও বৈদেশিক গোয়েন্দা তথ্য প্রতিবিপ্লবী শক্তির কাছে পাচার হওয়া। |
| ২. policy বা নীতিগত অন্তর্ঘাত (Policy Sabotage) | সরকারের জনকল্যাণমুখী নীতিনির্ধারণে ভেতর থেকে প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টি করে কৃত্রিম সংকট তৈরি করা এবং জনমনে ক্ষোভ উসকে দেওয়া। |
| ৩. কৌশলগত অরক্ষিততা (Tactical Vulnerability) | সুযোগ বুঝে প্রধানমন্ত্রীর ব্যক্তিগত নিরাপত্তা বলয়কে (Security Perimeter) অরক্ষিত বা দুর্বল করে ফেলা। |
যে ফ্যাসিবাদী শক্তিকে ছাত্র-জনতা রাজপথে রক্ত দিয়ে তাড়িয়েছে, তাদেরই বিশ্বস্ত অনুচরেরা যদি প্রধানমন্ত্রীর চারপাশে দেয়াল তুলে দাঁড়ায়, তবে প্রধানমন্ত্রীর প্রতিদিনের রুটিন, মুভমেন্ট এবং রাষ্ট্রীয় সিদ্ধান্তগুলো এক অদৃশ্য ব্ল্যাকমেইলিং ও গভীর ষড়যন্ত্রের বেড়াজালে বন্দি হয়ে পড়ে। এই ধরনের কৌশলগত অবস্থান থেকে যেকোনো মুহূর্তে বড় ধরনের প্রশাসনিক অভ্যুত্থান বা ‘ইনসাইডার অ্যাটাক’ (Insider Attack)-এর আশঙ্কা বহুগুণ বেড়ে যায়—যা রাষ্ট্রের সার্বভৌমত্বকে সরাসরি হুমকির মুখে ফেলতে পারে।
শহীদান ও আহতদের রক্তের সাথে চরম বিশ্বাসঘাতকতাঃ
সবচেয়ে বড় মনোবেদনা ও নৈতিক সংকটের জায়গাটি তৈরি হয় যখন আমরা সেইসব বীরদের দিকে তাকাই, যারা নিজেদের জীবন বা পঙ্গুত্বকে বাজি রেখে এই ফ্যাসিবাদের পতন ঘটিয়েছেন।
গুলির মুখে বুক পেতে দাঁড়িয়ে যে তরুণটি ফ্যাসিস্ট তাড়ালো, যে পরিবারটি তাদের একমাত্র প্রিয় সন্তানকে হারিয়ে আজ নিঃস্ব, কিংবা যে ভাই-বোনটি পঙ্গুত্ব বরণ করে আজও হাসপাতালে জীবন-মৃত্যুর সন্ধিক্ষণে দাঁড়িয়ে বাঁচার আকুতি জানাচ্ছেন—তাদের এই আত্মত্যাগের মূল্যায়ন কোথায়?
যখন এই হতভাগ্য পরিবারগুলো ও চিকিৎসাধীন বিপ্লবীরা দেখেন যে, ফ্যাসিবাদের গর্ভে জন্ম নেওয়া ‘ছোট ফ্যাসিস্টরা’ আজ রাষ্ট্রের গুরুত্বপূর্ণ চেয়ারে বসে ক্ষমতার রস আস্বাদন করছে, তখন তাদের মনোবেদনার গভীরতা মাপা অসম্ভব। অপরাধী চক্রের একজন শীর্ষ নেতার গ্রেপ্তারের সাময়িক আনন্দধারা দিয়ে এই বঞ্চিত ভাই-বোনদের ভেতরের অন্তর্দহন এবং কষ্টের আগুন কখনো মুছে ফেলা যাবে না।
প্রাতিষ্ঠানিক শুদ্ধি অভিযানের আবশ্যকতাঃ
ফ্যাসিবাদের পতন মানে কেবল একজন ব্যক্তির বিদায় নয়, বরং ফ্যাসিবাদী মানসিকতা, আমলাতান্ত্রিক অপরাধী সিন্ডিকেট (Bureaucratic Criminal Syndicate) ও দুর্নীতির প্রাতিষ্ঠানিক কাঠামোর আমূল উৎপাটন।
রাষ্ট্রের গুরুত্বপূর্ণ সংবেদনশীল জায়গা, বিশেষ করে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়কে এই সব বিষাক্ত উপাদান, জাতীয় নিরাপত্তার জন্য হুমকিস্বরূপ অনুপ্রবেশকারী ও ‘ইনসাইডার থ্রেট’ থেকে অবিলম্বে মুক্ত করতে হবে। দেশপ্রেমিক নেতৃত্ব ও তৃণমূলের ত্যাগী কর্মীদের আবেগকে মর্যাদা দিয়ে এই ‘ছোট বেনজীরদের’ চিহ্নিত করে এখনই উপযুক্ত ব্যবস্থা নেওয়া সময়ের দাবি। অন্যথায়, যে রক্তের ওপর দাঁড়িয়ে আজকের নতুন রাজনৈতিক বাস্তবতার সূচনা হয়েছে, সেই ঐতিহাসিক অর্জন এবং খোদ প্রধানমন্ত্রীর নিরাপত্তা—দুই-ই এক মহাবিপর্যয়ের মুখে পতিত হতে পারে।
লেখক: প্রফেসর ড. আসিফ মিজান, উপাচার্য, দারু সালাম বিশ্ববিদ্যালয়, সোমালিয়া এবং রাজনীতি ও অপরাধ বিশ্লেষক।
আগস্ট থেকে সব গণপরিবহনে জিপিএস বাধ্যতামূলক, জানাল বিআরটিএ
আগামী ১ আগস্ট থেকে দেশের সব গণপরিবহনে জিপিএস (গ্লোবাল পজিশনিং সিস্টেম) ডিভাইস স্থাপন ও সচল রাখা বাধ্যতামূলক করা হয়েছে। নিরাপদ সড়ক পরিবহন ব্যবস্থাপনা নিশ্চিত করতে এ সিদ্ধান্ত কার্যকর হচ্ছে বলে জানিয়েছে বাংলাদেশ সড়ক পরিবহন কর্তৃপক্ষ (বিআরটিএ)।
সোমবার (১৫ জুন) এ-সংক্রান্ত একটি গণবিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করে বিআরটিএ। এতে বলা হয়, গণপরিবহন ব্যবস্থায় আধুনিক তথ্যপ্রযুক্তির ব্যবহার বাড়ানো এবং যানবাহন পর্যবেক্ষণ কার্যক্রম জোরদারের লক্ষ্যে দেশের সব গণপরিবহনে জিপিএস ডিভাইস সংযুক্ত রাখা বাধ্যতামূলক করা হয়েছে।
বিআরটিএ জানায়, এ বিষয়ে সড়ক পরিবহন ও মহাসড়ক বিভাগ গত ১১ জুন একটি প্রজ্ঞাপন জারি করেছে। জিপিএস ডিভাইসের নির্ধারিত কারিগরি মান (স্পেসিফিকেশন) বিআরটিএর স্থানীয় কার্যালয় অথবা সংস্থাটির ওয়েবসাইট থেকে সংগ্রহ করা যাবে।
গণবিজ্ঞপ্তিতে আরও বলা হয়, সড়ক পরিবহন আইন, ২০১৮-এর ধারা ২৫ এবং সড়ক পরিবহন বিধিমালা, ২০২২-এর বিধি ৫৫ অনুযায়ী গণপরিবহনে জিপিএস সংযুক্তির বিষয়টি নিশ্চিত হওয়ার পরই যানবাহনের রেজিস্ট্রেশন ও ফিটনেস সনদ নবায়নের কার্যক্রম সম্পন্ন করা হবে।
এ সিদ্ধান্ত বাস্তবায়নে গণপরিবহন মালিক ও সংশ্লিষ্ট সবার সহযোগিতা কামনা করেছে বিআরটিএ।
এসএসসি পরীক্ষার ফল কবে প্রকাশ হবে জানালেন শিক্ষামন্ত্রী
ভঙ্গুর অর্থনীতিকে সমৃদ্ধশালী করাই বাজেটের বড় চ্যালেঞ্জ : অর্থমন্ত্রী
উপদেষ্টাকে দিল্লিতে প্রবেশে বাধা, যথোপযুক্ত ব্যবস্থা নিচ্ছে সরকার: পররাষ্ট্রমন্ত্রী
দিল্লির বিমানবন্দর থেকে ফেরত আসছেন প্রধানমন্ত্রীর তথ্য উপদেষ্টা
ভারতের নয়াদিল্লির বিমানবন্দর থেকে ফেরত এসেছেন প্রধানমন্ত্রীর তথ্য উপদেষ্টা ডা. জাহেদ উর রহমান। আগাম অবহিত করার পরও দিল্লি বিমানবন্দরে ইমিগ্রেশন কর্তৃপক্ষের অনাকাঙ্ক্ষিত ব্যবহারের ঘটনাকে কেন্দ্র করে দেশে ফিরে আসছেন তিনি।
রবিবার (১৪ জুন) সন্ধ্যায় দিল্লির ইন্দিরা গান্ধী আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে পৌঁছান ডা. জাহেদ। সোমবার (১৫ জুন) থেকে দিল্লিতে অনুষ্ঠেয় ইন্ডিয়ান ওশান রিম অ্যাসোসিয়েশনের (আইওআরএ) সম্মেলনে অংশ নেওয়ার কথা ছিল তার।
জানা গেছে, ওই বৈঠকে বাংলাদেশ প্রতিনিধিদলের নেতা হিসেবে উপদেষ্টার অংশগ্রহণের বিষয়ে গত শুক্রবার দিল্লিতে বাংলাদেশ হাইকমিশন আনুষ্ঠানিকভাবে ভারতের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়কে জানিয়েছিল।
কিন্তু সন্ধ্যায় দিল্লি বিমানবন্দরে অবতরণের পর তাকে রহস্যজনক কারণে ভারতের ইমিগ্রেশন কর্তৃপক্ষ আড়াই ঘণ্টা বসিয়ে রাখে। তাকে দিল্লিতে প্রবেশের অনুমতি দেওয়া হবে কি না, সে বিষয়টি স্পষ্ট করেনি।
এমন পরিস্থিতিকে আত্মসম্মানে আঘাত হিসেবে দেখে পাসপোর্ট ফেরত চেয়ে দেশে আসার সিদ্ধান্ত নেন জাহেদ উর রহমান। তবে পরিস্থিতি বেগতিক দেখে ইমিগ্রেশন কর্তৃপক্ষ তাকে বারবার ভারতে প্রবেশের অনুরোধ জানালেও তিনি দেশে ফেরার সিদ্ধান্তে অটল থাকেন।
রাতেই তিনি তৃতীয় একটি দেশ হয়ে দেশে ফিরে আসার ফ্লাইট ধরেন। সব ঠিক থাকলে সোমবার দুপুরের আগেই তার দেশে ফেরার কথা রয়েছে।
প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে 'ছোট বেনজীর': রাষ্ট্র যখন ঘরের শত্রুর মুখে---প্রফেসর ড. আসিফ মিজান
নেটের দুনিয়ায় এখন একটি খবরই সবচেয়ে বেশি ভাসছে—বিদেশে পালিয়ে থাকা অর্থ পাচার, দুর্নীতি ও বিচারবহির্ভূত হত্যাকাণ্ডের অন্যতম মাস্টারমাইন্ড সাবেক আইজিপি বেনজীর আহমেদ অবশেষে ইন্টারপোলের সহায়তায় দুবাইয়ে গ্রেপ্তার হয়েছেন। অবধারিতভাবে এটি জুলাই-আগস্টের গণ-অভ্যুত্থানের স্পিরিটের পক্ষে একটি বড় আইনি ও মনস্তাত্ত্বিক বিজয়। কিন্তু একজন অপরাধবিজ্ঞানী (Criminologist) ও রাজনৈতিক বিশ্লেষক হিসেবে যখন ক্ষমতার গভীর স্তরগুলো এবং সমসাময়িক অপরাধচিত্র পর্যবেক্ষণ করি, তখন এই একটি ‘বেনজীর’ গ্রেপ্তারের আলোড়নে মন পুরোপুরি আশ্বস্ত হতে পারে না। কারণ, অপরাধবিজ্ঞানের সুপরিচিত ‘অর্গানাইজড ক্রাইম অ্যান্ড সিন্ডিকেশন’ (Organized Crime Syndication) তত্ত্ব অনুযায়ী, দৃশ্যমান অপরাধের মূল হোতা বা ‘কিংপিন’ (Kingpin) অপসারিত হলেও তার তৈরি করা গভীর প্রাতিষ্ঠানিক নেটওয়ার্ক এবং অপরাধের দোসররা সুযোগ পেলেই ভিন্ন অবয়বে নিজেদের পুনর্বাসন করে। অত্যন্ত উদ্বেগের বিষয় হলো, জুলাই-আগস্টের রক্তাক্ত গণ-অভ্যুত্থানের মূল স্পিরিটকে নস্যাৎ করতে ফ্যাসিবাদের সেই ডালপালাগুলো এখন অত্যন্ত সূক্ষ্ম ও সুসংগঠিত উপায়ে রাষ্ট্রের সবচেয়ে সংবেদনশীল জায়গায় পুনর্বাসিত হচ্ছে। বড় বেনজীরদের অধ্যায় আপাতদৃষ্টিতে শেষ মনে হলেও, শত শত ‘ছোট বেনজীর’ বা ফ্যাসিবাদের সুবিধাভোগী কুশীলবরা এখন রাষ্ট্রের রন্ধ্রে রন্ধ্রে জেঁকে বসছে। সবচেয়ে ভয়াবহ আশঙ্কার জায়গা হলো, এই অনুপ্রবেশের থাবা এখন খোদ প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয় (PMO) পর্যন্ত বিস্তৃত হয়েছে।
সংবাদমাধ্যম এবং রাজনৈতিক অঙ্গনের নানামুখী তথ্য-উপাত্ত বিশ্লেষণ করলে দেখা যায়, একটি বিশেষ সুবিধাবাদী চক্রের সহায়তায় ফ্যাসিবাদের গর্ভে লালিত আমলারা রাষ্ট্রের সর্বোচ্চ নীতিনির্ধারণী কেন্দ্রে আসীন হতে শুরু করেছে। এটি অত্যন্ত দুঃখজনক এবং আত্মঘাতী যে, বিএনপি নামধারী কিছু অতি-উৎসাহী বা নীতিভ্রষ্ট ব্যক্তি নিজেদের ব্যক্তিগত বা গোষ্ঠীগত আখের গোছাতে এদেরকে হাতে ধরে রাষ্ট্রের শীর্ষ দফতরগুলোতে বসাচ্ছেন। অপরাধবিজ্ঞানের ভাষায় একে বলা হয় ‘ইনসাইডার থ্রেট’ (Insider Threat) বা প্রাতিষ্ঠানিক অভ্যন্তরের গোপন শত্রু। এই সুবিধাবাদী দালাল চক্রের কারণে খোদ তৃণমূল বিএনপিতে তীব্র ক্ষোভ, হতাশা ও অসন্তোষের আগুন জ্বলছে। যে তৃণমূল কর্মীরা দীর্ঘ ১৫ বছর রাজপথে ফ্যাসিবাদী সরকারের অবর্ণনীয় জুলুম, মিথ্যা মামলা, হুলিয়া এবং অমানবিক নির্যাতন সহ্য করেছেন, তারা যখন দেখেন যে তাদেরই দলের কিছু নেতার প্রশ্রয়ে ফ্যাসিবাদের দোসররা প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের মতো অতি-গুরুত্বপূর্ণ জায়গায় বহাল তবিয়তে পুনর্বাসিত হচ্ছে, তখন তাদের সেই দীর্ঘদিনের ত্যাগ ও আনুগত্য চরম উপহাসের পাত্রে পরিণত হয়। তুষের আগুনের মতো জ্বলতে থাকা তৃণমূলের এই ক্ষোভ যেকোনো সময় দলের অভ্যন্তরীণ শৃঙ্খলা ও রাজনৈতিক স্থিতিশীলতাকে বড় ধরনের ধাক্কা দিতে পারে।
প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে এই ধরনের বিতর্কিত কর্মকর্তাদের উপস্থিতি কেবল রাজনৈতিক অসন্তোষেরই জন্ম দিচ্ছে না, বরং অপরাধবিজ্ঞানের দৃষ্টিকোণ থেকে এটি রাষ্ট্র এবং খোদ প্রধানমন্ত্রীর ব্যক্তিগত নিরাপত্তার জন্য এক চরম এবং অপরিসীম সংকট তৈরি করেছে। প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয় হলো রাষ্ট্রের স্পর্শকাতর সিদ্ধান্ত গ্রহণ, জাতীয় নিরাপত্তা ও গোয়েন্দা সমন্বয়ের প্রধান স্নায়ুকেন্দ্র (Nerve Center)। অপরাধবিজ্ঞানের ‘ক্রিমিনাল ইনফিলট্রেশন’ (Criminal Infiltration) বা অপরাধমূলক অনুপ্রবেশ তত্ত্ব অনুযায়ী, যখন কোনো কর্তৃত্ববাদী ব্যবস্থার অনুগত ও সুবিধাভোগী অংশ কোনো নতুন শাসনব্যবস্থার সর্বোচ্চ নিরাপত্তা বলয়ে ঢুকে পড়ে, তখন তারা মূলত তিনটি বড় ধরনের স্ট্র্যাটেজিক ও টেকনিক্যাল ঝুঁকি তৈরি করে:
তথ্য পাচার ও গোয়েন্দা ঝুঁকি (Information Leakage & Espionage): রাষ্ট্রের অতি-গোপনীয় অভ্যন্তরীণ ও বৈদেশিক গোয়েন্দা তথ্য প্রতিবিপ্লবী শক্তির কাছে পাচার হওয়া।
নীতিগত অন্তর্ঘাত (Policy Sabotage): সরকারের জনকল্যাণমুখী নীতিনির্ধারণে ভেতর থেকে প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টি করে কৃত্রিম সংকট তৈরি করা এবং জনমনে ক্ষোভ উসকে দেওয়া।
শারীরিক ও কৌশলগত অরক্ষিততা (Physical & Tactical Vulnerability): সুযোগ বুঝে প্রধানমন্ত্রীর ব্যক্তিগত নিরাপত্তা বলয়কে (Security Perimeter) অরক্ষিত বা দুর্বল করে ফেলা।
যে ফ্যাসিবাদী শক্তিকে ছাত্র-জনতা রাজপথে রক্ত দিয়ে তাড়িয়েছে, তাদেরই বিশ্বস্ত অনুচরেরা যদি প্রধানমন্ত্রীর চারপাশে দেয়াল তুলে দাঁড়ায়, তবে প্রধানমন্ত্রীর প্রতিদিনের রুটিন, মুভমেন্ট এবং রাষ্ট্রীয় সিদ্ধান্তগুলো এক অদৃশ্য ব্ল্যাকমেইলিং ও জীবননাশী ষড়যন্ত্রের বেড়াজালে বন্দি হয়ে পড়ে। এই ধরনের কৌশলগত অবস্থান থেকে যেকোনো মুহূর্তে বড় ধরনের প্রশাসনিক অভ্যুত্থান বা ‘ইনসাইডার অ্যাটাক’ (Insider Attack)-এর আশঙ্কা বহুগুণ বেড়ে যায়—যা রাষ্ট্রের সার্বভৌমত্বকে হুমকির মুখে ফেলতে পারে।
সবচেয়ে বড় মনোবেদনা ও নৈতিক সংকটের জায়গাটি তৈরি হয় যখন আমরা সেইসব বীরদের দিকে তাকাই, যারা নিজেদের জীবন বা পঙ্গুত্বকে বাজি রেখে এই ফ্যাসিবাদের পতন ঘটিয়েছেন। গুলির মুখে বুক পেতে দাঁড়িয়ে যে তরুণটি ফ্যাসিস্ট তাড়ালো, যে পরিবারটি তাদের একমাত্র প্রিয় সন্তানকে হারিয়ে আজ নিঃস্ব, কিংবা যে ভাই-বোনটি পঙ্গুত্ব বরণ করে আজও হাসপাতালে জীবন-মৃত্যুর সন্ধিক্ষণে দাঁড়িয়ে বাঁচার আকুতি জানাচ্ছেন—তাদের এই আত্মত্যাগের মূল্যায়ন কোথায়? যখন এই হতভাগ্য পরিবারগুলো ও চিকিৎসাধীন বিপ্লবীরা দেখেন যে, ফ্যাসিবাদের গর্ভে জন্ম নেওয়া ‘ছোট ফ্যাসিস্টরা’ আজ রাষ্ট্রের গুরুত্বপূর্ণ চেয়ারে বসে ক্ষমতার রস আস্বাদন করছে, তখন তাদের মনোবেদনার গভীরতা মাপা অসম্ভব। অপরাধী চক্রের একজন শীর্ষ নেতার গ্রেপ্তারের সাময়িক আনন্দধারা দিয়ে এই বঞ্চিত, রক্তাক্ত ভাই-বোনদের ভেতরের অন্তর্দহন এবং কষ্টের আগুন কখনো মুছে ফেলা যাবে না।
ফ্যাসিবাদের পতন মানে কেবল একজন ব্যক্তির বিদায় নয়, বরং ফ্যাসিবাদী মানসিকতা, আমলাতান্ত্রিক অপরাধী সিন্ডিকেট (Bureaucratic Criminal Syndicate) ও দুর্নীতির প্রাতিষ্ঠানিক কাঠামোর আমূল উপাটন। রাষ্ট্রের গুরুত্বপূর্ণ সংবেদনশীল জায়গা, বিশেষ করে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়কে এই সব বিষাক্ত উপাদান, জাতীয় নিরাপত্তার জন্য হুমকিস্বরূপ অনুপ্রবেশকারী ও ‘ইনসাইডার থ্রেট’ থেকে অবিলম্বে মুক্ত করতে হবে। দেশপ্রেমিক নেতৃত্ব ও তৃণমূলের ত্যাগী কর্মীদের আবেগকে মর্যাদা দিয়ে এই ‘ছোট编বেনজীরদের’ অপরাধী হিসেবে চিহ্নিত করে এখনই ঝেঁটিয়ে বিদায় করা সময়ের দাবি। অন্যথায়, যে রক্তের ওপর দাঁড়িয়ে আজকের নতুন রাজনৈতিক বাস্তবতার সূচনা হয়েছে, সেই ঐতিহাসিক অর্জন এবং খোদ প্রধানমন্ত্রীর জীবন—দুই-ই এক মহাবিপর্যয়ের মুখে পতিত হতে পারে।
লেখক: উপাচার্য, দারু সালাম বিশ্ববিদ্যালয়, সোমালিয়া এবং রাজনীতি ও অপরাধ বিশ্লেষক।
বাংলাদেশ ব্যাংক থেকে ২৫০০ কোটি টাকা পেল ইসলামী ব্যাংক
নগদ টাকার সংকট সামাল দিতে বাংলাদেশ ব্যাংক থেকে ২ হাজার ৫০০ কোটি টাকার বিশেষ তারল্য সহায়তা পেয়েছে ইসলামী ব্যাংক। ব্যাংকটি মূলত ১০ হাজার কোটি টাকার সহায়তা চেয়ে আবেদন করেছিল।
রোববার (১৪ জুন) কেন্দ্রীয় ব্যাংক থেকে এ অর্থ সহায়তা দেওয়া হয় বলে সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে।
এর আগে ইসলামী ব্যাংকের নতুন চেয়ারম্যানের অপসারণ দাবিতে ঈদের পর থেকে আন্দোলন চলছিল। পাশাপাশি ব্যাংকটি থেকে বড় অঙ্কের আমানত উত্তোলনের কারণে তারল্য চাপ তৈরি হয়।
পরিস্থিতি মোকাবিলায় গত সপ্তাহে ব্যাংকটি কেন্দ্রীয় ব্যাংকের কাছে ১০ হাজার কোটি টাকার তারল্য সহায়তার আবেদন করে। তার মধ্যে প্রাথমিক ধাপে ২ হাজার ৫০০ কোটি টাকা ছাড় করা হলো।
গত শুক্রবার বাজেট-পরবর্তী সংবাদ সম্মেলনে গভর্নর মোস্তাকুর রহমান ইসলামী ব্যাংকে তারল্য সহায়তার ইঙ্গিত দেন। তিনি বলেন, আমানতকারীদের আতঙ্কের কিছু নেই এবং ব্যাংকের সংকট দ্রুত কেটে যাবে। আমানত তুলতে কোনো সমস্যা হবে না বলে আশ্বস্ত করেন তিনি।
কেউ আইনের ঊর্ধ্বে নয়, বেনজীর প্রসঙ্গে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী
বাংলাদেশ পুলিশের সাবেক মহাপরিদর্শক (আইজিপি) বেনজীর আহমেদকে আন্তর্জাতিক পুলিশ সংস্থা ইন্টারপোলের সহায়তায় গ্রেপ্তারের ঘটনায় জাতীয় সংসদে কথা বলেছেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমেদ। তিনি বলেন, শিগগিরই তাকে দেশে ফিরিয়ে এনে বিচারের মুখোমুখি করা হবে।
রোববার (১৪ জুন) জাতীয় সংশদের অধিবেশনে এসব কথা বলেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমেদ।
তিনি বলেন, “সাবেক আইজিপি বেনজীর আহমেদকে দুবাইয়ে গ্রেপ্তার করে হয়েছে। শিগগিরই দেশে ফিরিয়ে এনে বিচারের মুখোমুখি করা হবে। এর মাধ্যমে প্রমাণিত কেউ আইনের ঊর্ধ্বে নয়”
এর আগে, দুর্নীতি দমন কমিশনের (দুদক) মামলায় ইন্টারপোলের রেড নোটিশভুক্ত সাবেক পুলিশ মহাপরিদর্শক (আইজিপি) বেনজীর আহমেদকে দুবাইয়ে আটক করা হয়। আজ রোববার দুপুরে বাংলাদেশ পুলিশের কয়েকটি সূত্র এ তথ্য নিশ্চিত করে।
তবে পুলিশ সদর দপ্তরের সূত্রগুলো জানায়, গত ১২ জুন ইন্টারপোল বাংলাদেশ পুলিশ কর্তৃপক্ষকে এ বিষয়ে অবহিত করে। তবে তাকে ঠিক কবে গ্রেপ্তার করা হয়েছে, তা নিশ্চিত হওয়া যায়নি।
বেনজীর আহমেদ ২০২০ সালের এপ্রিল থেকে ২০২২ সালের সেপ্টেম্বর পর্যন্ত বাংলাদেশ পুলিশের মহাপরিদর্শক (আইজিপি) হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট শেখ হাসিনার সরকারের পতনের পর তিনি দেশ ছেড়ে চলে যান।
বাংলাদেশ পুলিশের সাবেক আইজি বেনজীর আহমেদ গ্রেপ্তার
পুলিশের সাবেক আইজিপি বেনজীর আহমেদকে আটক করেছে দুবাই পুলিশ। দুদকের একটি মামলায় তাকে আটক করা হয় বলে জানিয়েছেন পুলিশের দায়িত্বশীল একাধিক কর্মকর্তা।
পুলিশ কর্মকতারা জানান, দুদকের মামলায় ২০২৫ সালের ফেব্রুয়ারিতে ইন্টারপোলের মাধ্যমে রেড নোটিশ জারি করে সরকার। গত ১২ জুন দুবাইয়ের ইন্টারপোল অফিস থেকে সাবেক আইজিপি বেনজীর আহমেদকে আটকের কথা জানানো হয়।
দুবাইয়ের একটি সূত্র জানায়, গত ১২ জুন তিনি দুবাইতে আসেন। পরে সেখানে তাকে আটক করা হয়। তাকে জিজ্ঞাসাবাদ করা হচ্ছে।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক পুলিশের একজন ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা বলেছেন, স্বরাষ্ট্র ও পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মাধ্যমে তাকে দেশে আনার প্রক্রিয়া চলছে।
সর্বশেষ - বাংলাদেশ
- ১ ফ্যাসিবাদের অদৃশ্য ডালপালা: প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয় কি ঝুঁকিমুক্ত? - প্রফেসর ড. আসিফ মিজান
- ২ রাজধানী থেকে তিন বাস টার্মিনাল স্থানান্তরের নির্দেশ প্রধানমন্ত্রীর
- ৩ আগস্ট থেকে সব গণপরিবহনে জিপিএস বাধ্যতামূলক, জানাল বিআরটিএ
- ৪ এসএসসি পরীক্ষার ফল কবে প্রকাশ হবে জানালেন শিক্ষামন্ত্রী
- ৫ ভঙ্গুর অর্থনীতিকে সমৃদ্ধশালী করাই বাজেটের বড় চ্যালেঞ্জ : অর্থমন্ত্রী