দেশে ফিরেছেন ৬০ হাজারের বেশি হাজি, মৃত্যু ৫৪ জনের

Newsdesk | প্রকাশিত: ২:৫৭ অপরাহ্ন, ১৯ জুন ২০২৬

পবিত্র হজ পালন শেষে সৌদি আরব থেকে এখন পর্যন্ত দেশে ফিরেছেন ৬০ হাজার ৫৮৮ জন বাংলাদেশি হাজি। অন্যদিকে হজ মৌসুমে সৌদি আরবে গিয়ে এ পর্যন্ত ৫৪ জন বাংলাদেশি মৃত্যুবরণ করেছেন।

ধর্মবিষয়ক মন্ত্রণালয়ের হজ ব্যবস্থাপনা–সংক্রান্ত সর্বশেষ প্রতিবেদনে এ তথ্য জানানো হয়েছে। প্রতিবেদন অনুযায়ী, দেশে ফেরা হাজিদের মধ্যে সরকারি ব্যবস্থাপনায় ফিরেছেন ৪ হাজার ৩১৯ জন এবং বেসরকারি ব্যবস্থাপনায় ফিরেছেন ৫৬ হাজার ২৬৯ জন। মারা যাওয়া ৫৪ হাজির মধ্যে ৩৬ জন পুরুষ ও ১৮ জন নারী। তাদের মধ্যে মক্কায় সর্বোচ্চ ৩৭ জন, মদিনায় ১৬ জন এবং জেদ্দায় একজনের মৃত্যু হয়েছে।


ফিরতি হজযাত্রী পরিবহনে শীর্ষে বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইনস। সংস্থাটি এখন পর্যন্ত ২৬ হাজার ৮৬৮ জন হাজিকে দেশে ফিরিয়েছে। এছাড়া সৌদি এয়ারলাইনসের মাধ্যমে ফিরেছেন ২১ হাজার ৪৫ জন, ফ্লাইনাসে ৮ হাজার ৬৭২ জন এবং অন্যান্য এয়ারলাইনসের মাধ্যমে ফিরেছেন ৪ হাজার ৩ জন।

হজযাত্রীদের ফেরাতে এ পর্যন্ত মোট ১৫২টি ফ্লাইট পরিচালিত হয়েছে। এর মধ্যে বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইনস পরিচালনা করেছে ৭৬টি, সৌদি এয়ারলাইনস ৫৪টি এবং ফ্লাইনাস ২২টি ফ্লাইট।

স্বাস্থ্যসেবা কার্যক্রমের আওতায় সৌদি আরবে বাংলাদেশি চিকিৎসাকেন্দ্রগুলো থেকে এখন পর্যন্ত ৬৬ হাজার ২৪৯টি স্বয়ংক্রিয় চিকিৎসা ব্যবস্থাপত্র দেওয়া হয়েছে। পাশাপাশি আইটি হেল্পডেস্কের মাধ্যমে ২৮ হাজার ১৯৮টি সেবা প্রদান করা হয়েছে।

চলতি বছর ২৬ মে পবিত্র হজ অনুষ্ঠিত হয়। বাংলাদেশ থেকে সরকারি ব্যবস্থাপনায় ৪ হাজার ৫৬৫ জন এবং বেসরকারি ব্যবস্থাপনায় ৭৩ হাজার ৯৩৫ জন হজযাত্রী সৌদি আরবে যান।

হজযাত্রীদের প্রথম ফিরতি ফ্লাইট শুরু হয় ৩০ মে। আগামী ৩০ জুন শেষ ফিরতি ফ্লাইট পরিচালিত হওয়ার কথা রয়েছে। সরকার ও সংশ্লিষ্ট সংস্থাগুলো হাজিদের নিরাপদ প্রত্যাবর্তনে প্রয়োজনীয় কার্যক্রম চালিয়ে যাচ্ছে।

পরবর্তী খবর

১ বছরে সুইস ব্যাংকে বাংলাদেশিদের অর্থ বেড়েছে ৪১ শতাংশ

| প্রকাশিত: ২:৫৪ অপরাহ্ন, ১৯ জুন ২০২৬

সুইজারল্যান্ডের ব্যাংকগুলোতে বাংলাদেশি ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠানের নামে থাকা অর্থ ২০২৫ সালে উল্লেখযোগ্য হারে বেড়েছে। দেশটির কেন্দ্রীয় ব্যাংক সুইস ন্যাশনাল ব্যাংক (এসএনবি) প্রকাশিত সর্বশেষ পরিসংখ্যান অনুযায়ী, এক বছরে এ অর্থের পরিমাণ বেড়েছে ৪১ শতাংশ।

প্রকাশিত তথ্য অনুযায়ী, ২০২৫ সাল শেষে সুইস ব্যাংকিং ব্যবস্থায় বাংলাদেশের নামে মোট অর্থের পরিমাণ দাঁড়িয়েছে ৮৩ কোটি ৪২ লাখ সুইস ফ্রাঁ। বর্তমান বিনিময় হার অনুযায়ী যার মূল্য ১২ হাজার ৭৬০ কোটি টাকার বেশি। ২০২৪ সালের শেষে এই পরিমাণ ছিল ৫৮ কোটি ৯৫ লাখ সুইস ফ্রাঁ, যা বাংলাদেশি মুদ্রায় প্রায় ৯ হাজার কোটি টাকার সমান।


গত পাঁচ বছরের হিসাবে সুইস ব্যাংকে বাংলাদেশের নামে সবচেয়ে কম অর্থ ছিল ২০২৩ সালে। সে সময় জমার পরিমাণ নেমে এসেছিল মাত্র ১ কোটি ৭৭ লাখ সুইস ফ্রাঁতে, যার মূল্য প্রায় ২৭০ কোটি টাকা। অন্যদিকে সবচেয়ে বেশি অর্থ ছিল ২০২১ সালে, যখন এ পরিমাণ দাঁড়িয়েছিল ৮৭ কোটি ১০ লাখ সুইস ফ্রাঁ বা প্রায় ১৩ হাজার ৩২৫ কোটি টাকা।

এসএনবির পরিসংখ্যানের এই হিসাবে বাংলাদেশের ব্যাংকগুলোর পাওনা, গ্রাহক আমানত এবং পুঁজিবাজার–সংশ্লিষ্ট বিনিয়োগও অন্তর্ভুক্ত রয়েছে। বাংলাদেশ ব্যাংক অতীতে একাধিকবার ব্যাখ্যা দিয়ে বলেছে, এসব অর্থের বড় অংশই আন্তর্জাতিক বাণিজ্য ও আন্তঃব্যাংক লেনদেনসংক্রান্ত।

তবে সুইস ব্যাংকে থাকা অর্থের একটি অংশ অর্থপাচারের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট হতে পারে—এমন আলোচনা দীর্ঘদিন ধরেই রয়েছে। যদিও সুইস কর্তৃপক্ষ কোনো ব্যক্তি বা প্রতিষ্ঠানের পৃথক তথ্য প্রকাশ করে না। গোপনীয়তা নীতির কারণে দেশভিত্তিক সমন্বিত পরিসংখ্যান প্রকাশ করা হলেও নির্দিষ্ট হিসাবধারীদের তথ্য প্রকাশ করা হয় না।

বাংলাদেশ ব্যাংক বিভিন্ন সময়ে জানিয়েছে, বাংলাদেশ ও সুইজারল্যান্ডের মধ্যে ব্যাংকিং চ্যানেলে পরিচালিত সব অর্থই পাচারের অর্থ নয়। বরং এর বড় অংশ আমদানি-রপ্তানি ও আন্তর্জাতিক বাণিজ্যিক কার্যক্রমের সঙ্গে সম্পর্কিত।

তবে ২০১৭ সালে জাতীয় সংসদে তৎকালীন অর্থমন্ত্রী প্রয়াত আবুল মাল আব্দুল মুহিত বলেছিলেন, সুইস ব্যাংকে থাকা অর্থের মধ্যে পাচারের কিছু অর্থ থাকতে পারে, যদিও তার পরিমাণ খুব বেশি নয়।

পরবর্তী খবর

রোহিঙ্গা প্রত্যাবাসনে জোরালো বৈশ্বিক পদক্ষেপের আহ্বান পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রীর

| প্রকাশিত: ২:৫০ অপরাহ্ন, ১৯ জুন ২০২৬

বেসামরিক নাগরিকদের সুরক্ষা নিশ্চিতকরণ, আন্তর্জাতিক মানবিক আইন সমুন্নত রাখা এবং মিয়ানমারে রোহিঙ্গাদের নিরাপদ ও স্বেচ্ছায় প্রত্যাবাসনে আরও জোরালো বৈশ্বিক পদক্ষেপের আহ্বান জানিয়েছেন পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী শামা ওবায়েদ ইসলাম।

গতকাল বৃহস্পতিবার নিউইয়র্কে জাতিসংঘ সদরদপ্তরে অনুষ্ঠিত ২০২৬ সালের ইকোসক হিউম্যানিটারিয়ান অ্যাফেয়ার্স সেগমেন্টে উচ্চপর্যায়ের প্যানেল আলোচনায় বক্তব্যকালে তিনি এ আহ্বান জানান।

আজ (শুক্রবার) এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়। 

পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী আন্তর্জাতিক মানবিক আইন লঙ্ঘনের জন্য জবাবদিহিতা নিশ্চিতকরণ, সংঘাত প্রতিরোধে অধিক বিনিয়োগ এবং মানবিক, শান্তি ও উন্নয়ন কার্যক্রমের মধ্যে সমন্বয় জোরদারের ওপর গুরুত্বারোপ করেন। তিনি নারী ও কিশোরীদের বিরুদ্ধে ক্রমবর্ধমান প্রযুক্তিনির্ভর হয়রানি ও অপব্যবহারের বিষয়টিও তুলে ধরেন।  এ ধরনের হুমকি মোকাবিলায় একটি বৈশ্বিক প্ল্যাটফর্ম প্রতিষ্ঠার আহ্বান পুনর্ব্যক্ত করেন শামা ওবায়েদ।

প্রতিমন্ত্রী রোহিঙ্গা নারী ও কিশোরীদের সহায়তায় চলমান অর্থায়ন সংকটের নেতিবাচক প্রভাব নিয়ে গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেন। তিনি রোহিঙ্গা সংকটের টেকসই সমাধানে আন্তর্জাতিক সহযোগিতা অব্যাহত রাখার ওপর গুরুত্বারোপ করে দ্রুত মিয়ানমারে প্রত্যাবাসনের আহ্বান জানান।

দীর্ঘায়িত রোহিঙ্গা সংকটের বিষয়ে বাংলাদেশের অবস্থান পুনর্ব্যক্ত করে তিনি বলেন, জোরপূর্বক বাস্তুচ্যুত মিয়ানমারের নাগরিকদের নিজ মাতৃভূমিতে নিরাপদ, স্বেচ্ছায় এবং মর্যাদাপূর্ণ প্রত্যাবাসনই এই সমস্যার একমাত্র টেকসই সমাধান।

অনুষ্ঠানের ফাঁকে পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী ভিয়েতনামের উপ-পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. নগুয়েন মিন ভুর সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাৎ করেন। বৈঠকে উভয় পক্ষ পারস্পরিক স্বার্থসংশ্লিষ্ট বিষয়ে আলোচনা করেন।

পরবর্তী খবর

জনগণের ভালোবাসা বড় শক্তি, নিরাপত্তা কড়াকড়ি যেন দূরত্ব তৈরি না করে: প্রধানমন্ত্রী

| প্রকাশিত: ৫:০১ অপরাহ্ন, ১৮ জুন ২০২৬

প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান বলেছেন, সরকার প্রধান হিসেবে জনগণের বিশ্বাস ও ভালোবাসার ওপর আমার সবচেয়ে বেশি নির্ভরতা। তাই নিরাপত্তার ঘেরাটোপ যাতে সরকার প্রধানকে জনগণ থেকে দূরে ঠেলে না দেয়, উন্নত বাহিনী হিসেবে সেদিকে বিশেষভাবে লক্ষ্য রাখার জন্য ‘এসএসএফ’ প্রতি আহ্বান জানাই। 

আজ তেজগাঁওয়ে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে স্পেশাল সিকিউরিটি ফোর্স (এসএসএফ)-এর ৪০তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষ্যে আয়োজিত অনুষ্ঠানে এসব কথা বলেন তিনি।

অনুষ্ঠানে এসএসএফ সদস্যদের উদ্দেশ্যে প্রধানমন্ত্রী বলেন, আপনারা অবশ্যই গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তিদের নিরাপত্তাকে সর্বোচ্চ প্রাধান্য দেবেন। তবে দায়িত্ব পালন করতে গিয়ে জনগণ যাতে দুর্ব্যবহারের শিকার না হয় সে দিকেও বিশেষভাবে সতর্ক থাকতে হবে।

প্রতিষ্ঠাকালীন এসএসএফ আর বর্তমান সময়ের এসএসএফ এর মধ্যে অনেক পার্থক্য রয়েছে উল্লেখ করে তারেক রহমান বলেন, বর্তমানে আর্থ-সামাজিক, রাজনৈতিক অবস্থা, ভূ-রাজনৈতিক পরিস্থিতি এবং তথ্যপ্রযুক্তির অবাধ বিকাশের ফলে বহুমাত্রিক নিরাপত্তা চ্যালেঞ্জ তৈরি হয়েছে। এইসব চ্যালেঞ্জ মোকাবেলায় আধুনিক ও যুগোপযোগী প্রশিক্ষণের মাধ্যমে নিজেদের সার্বক্ষণিক প্রস্তুত রাখা জরুরি। একটি বিশেষায়িত বাহিনী হিসেবে সাহস, দক্ষতা, কৌশল এবং সর্বাধুনিক প্রযুক্তিতে এসএসএফ-এর পিছিয়ে থাকার কোনো সুযোগ নেই।

তিনি বলেন, আজ থেকে ৪০ বছর আগে সময়ের প্রয়োজনে এই বিশেষ নিরাপত্তা বাহিনী প্রতিষ্ঠিত হয়। তবে ১৯৯১ সালের ২৭ সেপ্টেম্বর নাম পরিবর্তন করে ‘এসএসএফ’ নামে এই বিশেষ বাহিনী যাত্রা শুরু করে। 

প্রতিষ্ঠাকাল থেকে আজ পর্যন্ত এই বিশেষ নিরাপত্তাবাহিনীর সঙ্গে যারা যুক্ত ছিলেন ও আছেন সবাইকে প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীর শুভেচ্ছা জানাই।

এসএসএফ এর অসাধারণ ভূমিকার বিষয়ে তারেক রহমান বলেন, সাবেক প্রধানমন্ত্রী মরহুমা বেগম খালেদা জিয়া বিভিন্ন মেয়াদে সরকার প্রধান থাকাকালে এবং সর্বশেষ জীবনের শেষদিনগুলোতে তিনি এভারকেয়ার হাসপাতালে চিকিৎসাধীন থাকা অবস্থায় এসএসএফ অত্যন্ত আন্তরিকতার সঙ্গে দায়িত্ব পালন করেছে।

তিনি বলেন, বেগম খালেদা জিয়ার মৃত্যুর পর শুধু বাংলাদেশ নয়, বিশ্বের ইতিহাসের অন্যতম বৃহত্তম নামাজে জানাজা আয়োজনের ক্ষেত্রেও প্রধান সমন্বয়ক হিসেবে এসএসএফ গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেছে।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, সরকার প্রধান হিসেবে প্রতিদিন, প্রতি মুহূর্তে এসএসএফে’র কার্যক্রম সরাসরি প্রত্যক্ষ করছি। 

এসএসএফে’র কার্যক্রমের সঙ্গে আমার পরিচয় নতুন নয়। মরহুমা প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়া যখন সরকার প্রধান হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছেন তখন থেকেই অর্থাৎ আমার তরুণ বেলা থেকেই আমি এসএসএফ’র কার্যক্রমের সঙ্গে পরিচিত।

তিনি বলেন, গত ১২ ফেব্রুয়ারি অনুষ্ঠিত জাতীয় নির্বাচনে রাষ্ট্র পরিচালনার জন্য বিএনপি জনগণের রায় পায়। 

এরপর ১৭ ফেব্রুয়ারি থেকে বর্তমান গণতান্ত্রিক সরকার রাষ্ট্র পরিচালনার দায়িত্ব পালন করছে। রাষ্ট্রীয় নিয়ম অনুযায়ী, সরকার প্রধানের জন্য এসএসএফ সার্বিক নিরাপত্তা ব্যবস্থা গ্রহণ করেছে।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, জনগণের দুর্ভোগ লাঘব করে সড়কে যানবাহনের চলাচল স্বাভাবিক রাখতে আমার গাড়িবহরের আকার সীমিত করেছি। বিদ্যমান পরিস্থিতিতে সদস্য সংখ্যা বাড়ানোর পরিবর্তে এসএসএফকে দক্ষতা ও নিরাপত্তা কৌশলের উপর বেশি জোর দিতে হচ্ছে। আপনারা সুন্দরভাবে দায়িত্ব পালন করছেন।

তিনি বলেন, একটি গণতান্ত্রিক সরকারের প্রধান হিসেবে রাজধানী ঢাকা ও ঢাকার বাইরে দেশের প্রত্যন্ত অঞ্চলে প্রায়ই জনসভা ও বিভিন্ন রাষ্ট্রীয় কর্মসূচিতে অংশ গ্রহণ করতে হয়। এই ধরনের অনুষ্ঠানে ব্যাপক জনসমাগমের মধ্যে নিরাপত্তা নিশ্চিত করা কিছুটা জটিল।

এ ধরনের পরিস্থিতিতে একদিকে সরকার প্রধানের নিরাপত্তা ব্যবস্থা বজায় রাখা অপরদিকে নাগরিক জীবনের স্বাচ্ছন্দ্য নিশ্চিত রাখা এই দুটির মধ্যে ভারসাম্য রক্ষা করেই এসএসএফ-কে নিরাপত্তা কৌশল প্রণয়ন করতে হয়। এ ধরণের পরিস্থিতিতে সুষ্ঠু ও সমন্বিতভাবে দায়িত্ব পালনের মাধ্যমে এসএসএফে’র কর্মদক্ষতাও প্রতিভাত হয়ে ওঠে।

এসএসএফ-এর নবনির্মিত অত্যাধুনিক ফায়ারিং রেঞ্জ এর বিষয়ে প্রধানমন্ত্রী বলেন, পেশাগত কর্মদক্ষতা বাড়াতে নবনির্মিত এই ফায়ারিং রেঞ্জ নিঃসন্দেহে বিশেষ ভূমিকা রাখবে।

আশা করি, নিরাপত্তা কৌশল প্রণয়ন ও পেশাগত কর্মদক্ষতা বাড়াতে আপনারা এই ফায়ারিং রেঞ্জের সর্বোত্তম ব্যবহার নিশ্চিত করবেন।

রেড বুকের নির্দেশনা যথাযথভাবে অনুসরণ করা জরুরি উল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ২০০২ সালের পর এসএসএফ’এর ‘রেড বুক’ পুনরায় সংস্কার করে বর্তমানে আরও আধুনিক ও সময়োপযোগী করা হয়েছে। এটি এসএসএফে’র কর্মপদ্ধতির নীতিমালা প্রদানের পাশাপাশি আইনি সুরক্ষাও নিশ্চিত করেছে।

তিনি বলেন, এসএসএফ’র মত বিশেষায়িত বাহিনীর জন্য আধুনিক নিরাপত্তা কৌশল ও প্রযুক্তিগত দক্ষতা অর্জনের পাশাপাশি প্রতিটি সদস্যের সাহস, সততা, বিশ্বস্ততা সর্বোচ্চ পেশাদারিত্ব এবং সর্বোপরি ‘চেইন অফ কমান্ড’ এর বিষয়গুলো কঠোরভাবে মেনে চলা অপরিহার্য।

তারেক রহমান বলেন, রাষ্ট্র প্রধান, সরকার প্রধান এবং দেশে-বিদেশে রাষ্ট্রঘোষিত বিশেষ গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তিদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করার সঙ্গে দেশের জাতীয় নিরাপত্তার বিষয়টিও জড়িত।

তিনি বলেন, নিরাপত্তা ব্যবস্থা সুদৃঢ় করতে দেশের অন্য নিরাপত্তা ও আইনশৃঙ্খলা বাহিনী, গোয়েন্দা সংস্থা এবং বিভিন্ন মন্ত্রণালয়ের সঙ্গে সমন্বয়ের মাধ্যমেই এসএসএফ-কে নিরাপত্তা কৌশল নিশ্চিত করতে হয়। সমন্বয় যত বেশি করা যায়, নিরাপত্তা ব্যবস্থাও ততবেশি সুচারুভাবে সম্পন্ন করা সম্ভব হয়।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, দেশের সেনা, নৌ, বিমান, পুলিশ এবং আনসার বাহিনীর মধ্য থেকে দক্ষ কর্মকর্তাদের বাছাই করেই এসএসএফ গঠন করা হয়। এরপর গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তিদের নিরাপত্তার উপর আপনাদের দেশে বিদেশে উন্নত মানের প্রশিক্ষণ গ্রহণ করতে হয়।

আধুনিক বিশ্বের সঙ্গে তাল মিলিয়ে এসএসএফ-কে আরও কর্মদক্ষ করে গড়ে তোলার লক্ষ্যে সরকার প্রয়োজনীয় সব ধরনের পদক্ষেপ অব্যাহত রাখার আশ্বাস দেন তিনি।

এসএসএফ সদস্যদের উদ্দেশ্যে প্রধানমন্ত্রী বলেন, গণতান্ত্রিক রীতিনীতির প্রতি শ্রদ্ধাশীল থেকে, দেশপ্রেমের আদর্শে উজ্জীবিত হয়ে আপনারা সর্বোচ্চ পেশাদারিত্বের সঙ্গে দায়িত্ব পালন অব্যাহত রাখবেন, এই প্রত্যাশা করছি। 

অনুষ্ঠানে মন্ত্রীপরিষদ সদস্যবৃন্দ, সেনা, নৌ ও বিমান বাহিনীর প্রধানগণ, এসএসএফ প্রধান এবং বিভিন্ন কর্মকর্তা ও সদস্যবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন।

পরবর্তী খবর

জাতীয়তাবাদী পাট শ্রমিক দলের সংবাদ সম্মেলন অনুষ্ঠিত

| প্রকাশিত: ৪:০৯ অপরাহ্ন, ১৮ জুন ২০২৬

রিপোর্ট : তাজউদ্দীন আহমদ 


আজ জাতীয় প্রেস ক্লাবে জাতীয়তাবাদী পাট শ্রমিক দলের উদ্যোগে "পাটশিল্প রক্ষা ও শ্রমিকদের কর্মসংস্থান এবং সুরক্ষা" শীর্ষক একটি সংবাদ সম্মেলন অনুষ্ঠিত হয়েছে


উক্ত সংবাদ সম্মেলনে প্রধান অতিথি হিসেবে বক্তব্য রাখেন  এ্যাড শামছুর রহমান শিমুল বিশ্বাস এমপি, বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য রাখেন বিএনপির তথ্য বিষয়ক  আজিজুল বারী হেলাল এমপি, আরো বক্তব্য রাখেন সহিদুল ইসলাম বাবুল এমপি।  সভাপতিত্ব করেন জাতীয়তাবাদী পাট শ্রমিক দলের সভাপতি সাঈদ আল নোমান।


সংবাদ সম্মেলনে উত্থাপিত মূল দাবিগুলোর মধ্যে , বন্ধ রাষ্ট্রায়ত্ত পাটকলগুলো পুনরায় চালু করা।

পাট খাতের পুনর্জাগরণ এবং শ্রমিকদের কর্মসংস্থান নিশ্চিত করা।

শ্রমিকদের পরিবারের সার্বিক সামাজিক ও আর্থিক সুরক্ষা প্রদান অন্যতম।

সংবাদ সম্মেলন সঞ্চালনা করেন সংগঠনের সাধারণ সম্পাদক আবুল খায়ের খাজা

পরবর্তী খবর

কূটনৈতিক সম্পর্ক নতুন উচ্চতায় নিতে একমত বাংলাদেশ-স্পেন

| প্রকাশিত: ৩:৫১ অপরাহ্ন, ১৮ জুন ২০২৬

বাংলাদেশ ও স্পেনের মধ্যকার দ্বিপাক্ষিক ও বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্ককে আরও শক্তিশালী ও বহুমাত্রিক করার প্রত্যয় ব্যক্ত করেছেন প্রধানমন্ত্রীর পররাষ্ট্র বিষয়ক উপদেষ্টা হুমায়ুন কবির এবং ঢাকায় নিযুক্ত স্পেনের রাষ্ট্রদূত গ্যাব্রিয়েল মারিয়া সিস্তিয়াগা ওচোয়া দে চিনচেত্রু।

আজ বৃহস্পতিবার (১৮ জুন, ২০২৬) প্রধানমন্ত্রীর তেজগাঁও কার্যালয়ে এক সৌজন্য সাক্ষাতে দুই দেশের প্রতিনিধি এই আশাবাদ ব্যক্ত করেন।

সাক্ষাৎকালে উভয় পক্ষ বাংলাদেশ ও স্পেনের মধ্যকার বন্ধুত্বপূর্ণ দ্বিপাক্ষিক সম্পর্ককে আরও শক্তিশালী ও বহুমাত্রিক করার বিভিন্ন বিষয় নিয়ে আলোচনা করেন। বাণিজ্য, বিনিয়োগ, নবায়নযোগ্য জ্বালানি, অবকাঠামো উন্নয়ন, পর্যটন, কৃষি, শিক্ষা, প্রযুক্তি এবং দক্ষ মানবসম্পদ উন্নয়নের ক্ষেত্রে সহযোগিতা সম্প্রসারণের ওপর বিশেষ গুরুত্বারোপ করা হয়।

স্পেনের রাষ্ট্রদূত বাংলাদেশের চলমান অর্থনৈতিক অগ্রগতি, বিনিয়োগবান্ধব পরিবেশ এবং কৌশলগত অবস্থানের প্রশংসা করেন। তিনি উৎপাদনশিল্প, নবায়নযোগ্য জ্বালানি, অবকাঠামো, প্রযুক্তি এবং অন্যান্য সম্ভাবনাময় খাতে স্পেনের বিনিয়োগ ও বাণিজ্যিক সম্পৃক্ততা বৃদ্ধির আগ্রহ ব্যক্ত করেন। এছাড়াও দুই দেশের বেসরকারি খাতের মধ্যে সহযোগিতা জোরদার করার সম্ভাবনা নিয়েও আলোচনা হয়।

পররাষ্ট্র বিষয়ক উপদেষ্টা হুমায়ুন কবির বাংলাদেশ ও স্পেনের মধ্যকার অর্থনৈতিক ও উন্নয়ন সহযোগিতার ক্রমবর্ধমান ধারা উল্লেখ করে স্পেনের বিনিয়োগকারীদের বাংলাদেশে বিনিয়োগের জন্য স্বাগত জানান। তিনি বলেন, বাংলাদেশ বিদেশি বিনিয়োগ আকর্ষণে একটি স্থিতিশীল ও সম্ভাবনাময় গন্তব্য হিসেবে আত্মপ্রকাশ করেছে এবং সরকার বিনিয়োগকারীদের জন্য অনুকূল পরিবেশ নিশ্চিত করতে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ।

সৌহার্দ্যপূর্ণ পরিবেশে অনুষ্ঠিত বৈঠকে উভয় পক্ষ পারস্পরিক স্বার্থসংশ্লিষ্ট বিষয়সমূহে সহযোগিতা আরও জোরদার করার প্রত্যয় ব্যক্ত করেন এবং বাংলাদেশ-স্পেন সম্পর্ককে নতুন উচ্চতায় উন্নীত করার আশাবাদ ব্যক্ত করেন।

পরবর্তী খবর

প্রতীকী শাস্তির আবরণে দায়মুক্তি: জাহাঙ্গীরনগরে বিচারের প্রহসন -- প্রফেসর ড. আসিফ মিজান

| প্রকাশিত: ৩:৪৭ অপরাহ্ন, ১৮ জুন ২০২৬



গত ১৫ জুন, ২০২৬ তারিখে অনুষ্ঠিত জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের সিন্ডিকেট ও আপিল সভার সিদ্ধান্তসমূহ কেবল একটি সাধারণ প্রশাসনিক আদেশ নয়, বরং তা উচ্চশিক্ষা প্রতিষ্ঠানের প্রাতিষ্ঠানিক সংস্কৃতির এক গভীর সংকটের স্মারক। ২০২৪ সালের জুলাই গণ-অভ্যুত্থানের সময় সাধারণ শিক্ষক-শিক্ষার্থীদের ওপর সংঘটিত বর্বরোচিত সহিংসতার দায়ে অভিযুক্ত শিক্ষক, কর্মকর্তা এবং নিষিদ্ধ সংগঠন ছাত্রলীগের নেতাকর্মীদের জন্য যে দণ্ড ও আপিল মওকুফের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে, তা অপরাধবিজ্ঞানের (Criminology) তাত্ত্বিক নিরিখে এক গভীর পর্যালোচনার দাবি রাখে। আপাতদৃষ্টিতে একে বিচারিক প্রক্রিয়া মনে হলেও, গভীর বিশ্লেষণে স্পষ্ট হয় যে এটি মূলত **'প্রতীকী শাস্তি'র (Symbolic Punishment)** মোড়কে জনক্ষোভ প্রশমিত করার এবং অপরাধী চক্রকে সুনির্দিষ্ট ফৌজদারি দায়বদ্ধতা থেকে এক ধরনের প্রশাসনিক সুরক্ষাকবচ দেওয়ার চতুর প্রয়াস। এটি আমাদের উচ্চশিক্ষা কাঠামোর রন্ধ্রে রন্ধ্রে জেঁকে বসা এক নেতিবাচক সমঝোতার রাজনীতির বহিঃপ্রকাশ।

১. অপরাধতাত্ত্বিক দৃষ্টিকোণ: প্রতীকী শাস্তি বনাম প্রাতিষ্ঠানিক দায়মুক্তিঃ

অপরাধবিজ্ঞানের মৌলিক নীতি অনুযায়ী, যেকোনো অপরাধের দণ্ড হতে হবে অপরাধের গুরুত্ব, অভিঘাত ও মাত্রার সাথে সম্পূর্ণ আনুপাতিক (Proportional)। ২০২৪ সালের জুলাই আন্দোলনে সাধারণ শিক্ষার্থীদের ওপর সংঘটিত হামলা, উস্কানি এবং দমনপীড়ন কোনো সাধারণ প্রশাসনিক শৃঙ্খলাভঙ্গ বা চাকুরিকালীন অসদাচরণ ছিল না। এটি ছিল মৌলিক মানবাধিকারের চরম লঙ্ঘন এবং প্রাতিষ্ঠানিক ক্ষমতার অপব্যবহারের এক নিকৃষ্টতম উদাহরণ।

অথচ, বিশ্ববিদ্যালয় সিন্ডিকেটের রায়ে বাধ্যতামূলক অবসর, পদাবনতি কিংবা বার্ষিক ইনক্রিমেন্ট বাতিলের মতো যে সমস্ত দণ্ড প্রদান করা হয়েছে, অপরাধতত্ত্বে তাকে **"প্রতীকী শাস্তি"** হিসেবে চিহ্নিত করা যায়। এ ধরনের দণ্ডের নেপথ্য মনস্তত্ত্ব হলো অপরাধের মূল গুরুত্বকে লঘু করা (Trivialization) এবং অভিযুক্তদের সামাজিক ও আইনিভাবে পুনর্বাসিত হওয়ার পথ সুগম করা। মূল কুশীলবদের মূল বেতন স্কেলে নামিয়ে আনা বা সাময়িক প্রশাসনিক দায়িত্বে অযোগ্য ঘোষণা করার মাধ্যমে তাদের মূল অপরাধের গুরুত্বকে এক প্রকার আড়াল করা হয়েছে, যা প্রকারান্তরে প্রাতিষ্ঠানিক সংস্কারের অন্তরায়।

২. আপিল সিদ্ধান্ত ও অপরাধ লঘুকরণের রাজনীতিঃ

এই প্রশাসনিক প্রক্রিয়ার সবচেয়ে উদ্বেগজনক দিকটি উন্মোচিত হয়েছে জুলাই গণ-অভ্যুত্থানের সময় মাঠপর্যায়ে দমন-পীড়নে জড়িত ব্যক্তিদের অপরাধের বিচারিক ফ্রেমিং ও আপিল সিদ্ধান্তে। অপরাধবিজ্ঞানের "অর্গানাইজড ক্রাইম" বা প্রাতিষ্ঠানিক অপরাধের সূত্র অনুযায়ী, উস্কানিদাতা এবং প্রত্যক্ষ বাস্তবায়নকারী উভয়ই সমভাবে দায়ী।

জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদ (জাকসু)-র সাম্প্রতিক আনুষ্ঠানিক বিবৃতিতে অত্যন্ত যৌক্তিকভাবে এই সংকটের দিকে আলো তুলেছে। জাকসু নেতৃবৃন্দের মতে, প্রশাসনের এই আপিল সিদ্ধান্তের মাধ্যমে জুলাই আন্দোলনের সময় শিক্ষার্থীদের ওপর হামলা ও নিপীড়নে অভিযুক্তদের পূর্বে ঘোষিত শাস্তি হ্রাস, পরিবর্তন ও আংশিক অব্যাহতি প্রদান করা হয়েছে। এই "শাস্তির পুনর্বিন্যাস" এবং নম্রতা প্রদর্শন ন্যায়বিচারের চেতনাকে মারাত্মকভাবে আঘাত করেছে। কোনো আপিল প্রক্রিয়া তখনই গ্রহণযোগ্য হতে পারে, যখন তা স্বচ্ছ, জবাবদিহিমূলক এবং সুনির্দিষ্ট নীতিমালার ভিত্তিতে পরিচালিত হয়। কিন্তু কোন তথ্য-প্রমাণ, কী মানদণ্ড এবং কোন যুক্তির ভিত্তিতে এই আপিল সিদ্ধান্তগুলো নেওয়া হয়েছে, সে বিষয়ে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন সাধারণ শিক্ষার্থী ও অংশীজনদের কাছে কোনো স্পষ্ট ব্যাখ্যা প্রদান করেনি। ফলে পুরো প্রক্রিয়াটি এক ধরনের গভীর আস্থাহীনতায় রূপ নিয়েছে, যা প্রকারান্তরে অপরাধীদের সুরক্ষার এক প্রাতিষ্ঠানিক বন্দোবস্তে পরিণত হয়েছে।

৩. পারস্পরিক সুরক্ষার অলিখিত মৈত্রীচুক্তি ও সুবিধা বণ্টনঃ

বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক ও প্রশাসনিক রাজনীতির একটি বড় অংশ দীর্ঘদিন ধরে এক ধরণের সুবিধাবাদ এবং আদর্শহীনতার ওপর ভিত্তি করে আবর্তিত হচ্ছে। ক্ষমতার সমীকরণ পরিবর্তিত হলেও পারস্পরিক সুরক্ষার যে অলিখিত মৈত্রীচুক্তি (Collusion), তা সব সময়ই অপরিবর্তিত থেকে যায়।

যখনই ক্ষমতার ভারসাম্য রক্ষার প্রশ্ন আসে, তখনই এক ধরণের কৌশলগত আপোষের সংস্কৃতি তৈরি হয়। বর্তমান প্রশাসনের অনেকেই অতীতে ভিন্ন অবয়বে পূর্ববর্তী নীতিমালার সুবিধাভোগী ছিলেন। ফলে, অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে চূড়ান্ত বা দৃষ্টান্তমূলক আইনি ব্যবস্থা গ্রহণ করলে অতীতে সংঘটিত বিভিন্ন অনিয়ম ও দুর্নীতির খতিয়ান পুনরায় জনসমক্ষে চলে আসার আশঙ্কা থাকে। এই পারস্পরিক ভীতি ও সমঝোতার কারণেই প্রশাসন অনেক সময় দৃঢ় ও কঠোর অবস্থান নিতে দ্বিধাবোধ করে, যা উচ্চশিক্ষা প্রতিষ্ঠানের নৈতিক ভিত্তিকে দুর্বল করে দেয়।

৪. উপাচার্যীয় দৃষ্টিভঙ্গি ও প্রশাসনিক নৈতিকতার দায়বদ্ধতাঃ

একটি উচ্চশিক্ষা প্রতিষ্ঠানের সর্বোচ্চ অভিভাবক হিসেবে উপাচার্যের মূল দায়িত্ব হলো ক্যাম্পাসে পরিপূর্ণ পরিবেশ, ন্যায়বিচার, আইনের শাসন এবং প্রাতিষ্ঠানিক নৈতিকতা অক্ষুণ্ণ রাখা। গণ-অভ্যুত্থানের প্রেক্ষাপটে গঠিত একটি প্রশাসনের কাছ থেকে সাধারণ সমাজ ও শিক্ষার্থীরা যে আপসহীন ও "জিরো টলারেন্স" নীতি আশা করেছিল, বর্তমান প্রশাসনের এই আপোষকামী সিদ্ধান্ত তার সাথে এক ধরণের বৈপরীত্য তৈরি করেছে।

আমলাতান্ত্রিক দীর্ঘসূত্রিতা ও নামকাওয়াস্তে শাস্তির মাধ্যমে শিক্ষার্থীদের আকাঙ্ক্ষাকে খর্ব করা হয়েছে। যে শিক্ষকরা সরাসরি সহিংসতায় উস্কানি দিয়েছেন কিংবা শান্তি বিঘ্নিত করার পথ সুগম করেছেন, তারা যখন দৃশ্যমান কোনো কঠোর ফৌজদারি প্রক্রিয়ার মুখোমুখি না হয়ে নামমাত্র প্রশাসনিক সাজার আওতায় থাকেন, তখন তা প্রাতিষ্ঠানিক ইতিহাসের একটি অন্ধকার অধ্যায় হিসেবেই বিবেচিত হয়।


সিন্ডিকেটের সিদ্ধান্ত: অভিযুক্ত, দণ্ডপ্রাপ্ত ও অব্যাহতিপ্রাপ্তদের খতিয়ানঃ

১৫ জুন, ২০২৬-এর সিন্ডিকেট সভার সিদ্ধান্ত অনুযায়ী অভিযুক্তদের দণ্ড এবং অব্যাহতির একটি তুলনামূলক চিত্র নিচে উপস্থাপন করা হলো:

ক. দণ্ডপ্রাপ্ত শিক্ষক ও কর্মকর্তা (১৩ শিক্ষক ও ১ কর্মকর্তা):


| ক্র. | নাম ও পদবি | বিভাগের নাম | সিন্ডিকেট কর্তৃক নির্ধারিত শাস্তি |

| ১ | মেহেদী ইকবাল (সহযোগী অধ্যাপক ও সাবেক সহকারী প্রক্টর) | ভূগোল ও পরিবেশ | বাধ্যতামূলক অবসর। |

| ২ | মহিবুর রৌফ শৈবাল (সহকারী অধ্যাপক ও সাবেক সহকারী প্রক্টর) | নাটক ও নাট্যত্ত্ব | সহকারী অধ্যাপক পদ থেকে প্রভাষক পদে পদাবনতি। |

| ৩ | মোস্তফা ফিরোজ (অধ্যাপক ও সাবেক প্রো-ভিসি) | প্রাণিবিদ্যা | গ্রেড-২ তে পদাবনতি। |

| ৪ | তাজউদ্দীন সিকদার (অধ্যাপক ও সাবেক সহকারী প্রক্টর) | পাবলিক হেলথ এন্ড ইনফরমেটিক্স | আগামী ২ বছরের জন্য প্রারম্ভিক স্কেল, ৫ বছরের জন্য প্রশাসনিক দায়িত্বে অযোগ্য ঘোষণা। |

| ৫ | বশির আহমেদ (অধ্যাপক ও সাবেক ডিন) | সরকার ও রাজনীতি | আগামী ২ বছরের জন্য প্রারম্ভিক স্কেল, ৫ বছরের জন্য প্রশাসনিক দায়িত্বে অযোগ্য ঘোষণা। |

| ৬ | আ. স. ম ফিরোজ-উল-হাসান (অধ্যাপক ও সাবেক প্রক্টর) | সরকার ও রাজনীতি | আগামী ২ বছরের জন্য প্রারম্ভিক স্কেল, ৫ বছরের জন্য প্রশাসনিক দায়িত্বে অযোগ্য ঘোষণা। |

| ৭ | আলমগীর কবীর (অধ্যাপক ও সাবেক প্রক্টর) | পরিসংখ্যান | আগামী ৫ বছর কোনো প্রশাসনিক দায়িত্ব পালন নিষিদ্ধ, বেতন প্রারম্ভিক স্কেলে নামানো। |

| ৮ | ইসরাফিল আহমেদ (অধ্যাপক) | নাটক ও নাট্যতত্ত্ব | বেতন বর্তমান পদের প্রারম্ভিক স্কেলে নামিয়ে দেওয়া হয়েছে। |

| ৯ | নাজমুল হোসেন তালুকদার (অধ্যাপক) | বাংলা | দুই বছরের বার্ষিক ইনক্রিমেন্ট বাতিলসহ নিম্নতর বেতনস্তর নির্ধারণ। |

| ১০ | কানন কুমার সেন (প্রভাষক) | অ্যাকাউন্টিং অ্যান্ড ইনফরমেশন সিস্টেমস | দুই বছরের বার্ষিক ইনক্রিমেন্ট বাতিল। |

| ১১ | এ এ মামুন (অধ্যাপক ও সাবেক শিক্ষক সমিতির সভাপতি) | পদার্থবিজ্ঞান | সতর্কীকরণের পাশাপাশি পাঁচ বছরের জন্য প্রশাসনিক দায়িত্বে অযোগ্য ঘোষণা। |

| ১২ | নাহিদুর রহমান খান (ডেপুটি রেজিস্ট্রার) | প্রশাসনিক শাখা | डिप्टी রেজিস্ট্রার পদ থেকে সহকারী রেজিস্ট্রার পদে পদাবনতি (২ বছর পর পুনরায় আবেদনের সুযোগসহ)। |


খ. সম্পূর্ণ অব্যাহতিপ্রাপ্ত শিক্ষক ও কর্মকর্তা:

তদন্তে সুস্পষ্ট অভিযোগ ও প্রমাণের গুঞ্জন থাকা সত্ত্বেও নিম্নলিখিত ব্যক্তিবর্গকে সমস্ত অভিযোগের দায় থেকে সম্পূর্ণ অব্যাহতি দেওয়া হয়েছে:

অধ্যাপক শফি মোহাম্মদ তারেক (পরিবেশ বিজ্ঞান বিভাগ)

অধ্যাপক জহিরুল ইসলাম খোন্দকার (পদার্থবিজ্ঞান বিভাগ)

অধ্যাপক মোহাম্মদ ছায়েদুর রহমান (লোকপ্রশাসন বিভাগ)

সহযোগী অধ্যাপক মনির উদ্দিন শিকদার (লোকপ্রশাসন বিভাগ)

অধ্যাপক মোহাম্মদ জাহাঙ্গীর আলম (অর্থনীতি বিভাগ)

অধ্যাপক আনোয়ার খসরু পারভেজ (মাইক্রোবায়োলজি বিভাগ)

সহকারী অধ্যাপক পলাশ সাহা (আইবিএ)

রাজীব চক্রবর্তী (সহকারী রেজিস্ট্রার ও সাবেক ছাত্রলীগ নেতা)


গ. তদন্তাধীন শীর্ষ নেতৃত্ব (স্ট্রাকচারাল কমিটি):

প্রাথমিক তদন্ত প্রতিবেদনে নাম আসায় তৎকালীন শীর্ষ তিন কর্মকর্তার বিরুদ্ধে পৃথক তিনটি স্ট্রাকচারাল কমিটি গঠনের সিদ্ধান্ত নিয়েছে সিন্ডিকেট, যা মূলত মূল বিচার প্রক্রিয়াকে দীর্ঘায়িত করার কৌশল হিসেবে দেখছেন বিশ্লেষকরা:

১. অধ্যাপক মো. নুরুল আলম (তৎকালীন উপাচার্য)

২. অধ্যাপক মনজুরুল ইসলাম (তৎকালীন সহ-উপাচার্য-প্রশাসন)

৩. অধ্যাপক রাশেদ আখতার: (তৎকালীন কোষাধ্যক্ষ)


ছাত্রসমাজের প্রতিক্রিয়া ও যৌক্তিক ক্ষোভঃ

সিন্ডিকেটের এই সিদ্ধান্ত প্রকাশের সাথে সাথেই সাধারণ শিক্ষার্থী ও ছাত্রনেতৃত্বের মধ্যে তীব্র ক্ষোভের সঞ্চার হয়েছে। জাকসু সাধারণ সম্পাদক মো. মাজহারুল ইসলামের বক্তব্য এই রায়ের অসারতাকে অত্যন্ত স্পষ্টভাবে তুলে ধরে:

"গণ-অভ্যুত্থানের ২০ মাস পর জুলাই হামলায় অভিযুক্ত শিক্ষকদের বিচারের রায়ে প্রশাসন আবারও প্রমাণ করলো তারা শিক্ষার্থীদের সঙ্গে প্রতারণা করেছে, জুলাই শহীদদের রক্তের সঙ্গে বেইমানি করেছে।"


জাকসু’র আনুষ্ঠানিক যৌথ বিবৃতিতে স্পষ্টভাবে হুশিয়ারি দেওয়া হয়েছে যে, এই সিদ্ধান্তের মাধ্যমে জুলাই গণ-অভ্যুত্থানের সময় শিক্ষার্থীদের বিরুদ্ধে অবস্থান নেওয়া ব্যক্তি ও গোষ্ঠীগুলোর পুনর্বাসনের সুযোগ সৃষ্টি করা হয়েছে, যা বিশ্ববিদ্যালয়ের সামগ্রিক পরিবেশের জন্য অত্যন্ত উদ্বেগজনক। এর ফলে ক্যাম্পাসে এক ধরণের 'দায়মুক্তির সংস্কৃতি' আরও উৎসাহিত হবে। ছাত্রসমাজ সাফ জানিয়ে দিয়েছে, ন্যায়বিচার, স্বচ্ছতা এবং জবাবদিহিতা নিশ্চিত না হওয়া পর্যন্ত তারা এই বিষয়ে কঠোর ও সোচ্চার অবস্থানে থাকবে। ইতিমধ্যেই এই সিদ্ধান্তের প্রতিবাদে বিশ্ববিদ্যালয়ের বটতলায় বিক্ষোভ ও প্রতিবাদ সমাবেশ শুরু হয়েছে।


অপরাধবৈজ্ঞানিক ও প্রশাসনিক সুপারিশমালাঃ

বিশ্ববিদ্যালয় প্রাঙ্গণে আইনের শাসন, প্রাতিষ্ঠানিক শৃঙ্খলা এবং নৈতিক ভারসাম্য ফিরিয়ে আনতে হলে বর্তমান কাঠামোগত সংস্কারের পাশাপাশি দীর্ঘমেয়াদী কিছু পদক্ষেপ গ্রহণ করা জরুরি:

 ১. স্বাধীন ও নিরপেক্ষ উচ্চতর কমিশন গঠনঃ

বিশ্ববিদ্যালয়ের অভ্যন্তরীণ ও দলীয় রাজনৈতিক প্রভাবমুক্ত একটি স্বাধীন তৃতীয় পক্ষীয় তদন্ত বা বিচার বিভাগীয় কমিশন গঠন করতে হবে—যেখানে দেশের লব্ধপ্রতিষ্ঠ নাগরিক সমাজ, মানবাধিকার কর্মী এবং আইনি বিশেষজ্ঞরা অন্তর্ভুক্ত থাকবেন।

 ২. ফৌজদারি কার্যবিধি (Criminal Proceedings) অনুসরণঃ 

প্রাতিষ্ঠানিক বা প্রশাসনিক সাজার গণ্ডি পেরিয়ে যেসকল ব্যক্তির বিরুদ্ধে সহিংসতায় সরাসরি সম্পৃক্ততা, অস্ত্র ব্যবহার বা উস্কানির প্রমাণ মিলেছে, তাদের বিরুদ্ধে দেশের প্রচলিত দণ্ডবিধির আওতায় নিয়মিত ফৌজদারি মামলা দায়ের করতে হবে।

 ৩. স্বচ্ছতা ও তথ্য প্রকাশঃ

তদন্তের পূর্ণাঙ্গ প্রতিবেদন, আপিল সভার পর্যালোচনার ভিত্তি এবং অপরাধ সংক্রান্ত প্রাপ্ত মেটাডাটা (ভিডিও, অডিও ও ছবি) পাবলিক ডোমেইনে প্রকাশ করতে হবে, যাতে কোনো অপরাধী প্রশাসনিক সমঝোতার অন্ধকার গলির সুযোগ না পায়।

 ৪. সাক্ষী সুরক্ষা নিশ্চিতকরণঃ

তদন্ত প্রক্রিয়ায় এবং সাক্ষ্যদানে অংশ নেওয়া সাধারণ শিক্ষার্থী, কর্মকর্তা ও কর্মচারীদের প্রাতিষ্ঠানিক বা রাজনৈতিক হয়রানি থেকে বাঁচাতে কঠোর গোপনীয়তা ও নিরাপত্তা প্রদান করতে হবে।


জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের এই আপোষকামী রায় মূলত উচ্চশিক্ষার সেই ক্ষয়ে যাওয়া প্রশাসনিক ও নৈতিক কাঠামোকে নির্দেশ করে, যেখানে অন্যায়ের বিরুদ্ধে দৃষ্টান্তমূলক ব্যবস্থা গ্রহণের চেয়ে কৌশলগত পিঠ বাঁচানোর নীতিই শেষ কথা হয়ে দাঁড়ায়। শিক্ষার্থীরা তাদের অধিকার ও ন্যায়ের জন্য আত্মত্যাগ করলেও, প্রাতিষ্ঠানিক নেতৃত্ব দিনশেষে নিজেদের সংকীর্ণ স্বার্থে অপরাধীদের এক ধরণের ছায়া প্রদান করে। এই প্রাতিষ্ঠানিক দায়মুক্তির সংস্কৃতির বিরুদ্ধে সাধারণ শিক্ষার্থীদের বিক্ষোভ কেবল একটি সাময়িক প্রতিক্রিয়া নয়, বরং এটি বিশ্ববিদ্যালয়ের নৈতিক পুনর্গঠন ও সত্যিকারের ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠার লড়াইয়ে এক নতুন ও অনিবার্য অধ্যায়ের সূচনা।


লেখকঃ প্রফেসর ড. আসিফ মিজান, ভাইস-চ্যান্সেলর, দারু সালাম বিশ্ববিদ্যালয়, সোমালিয়া এবং রাজনীতি ও অপরাধ বিশ্লেষক।

পরবর্তী খবর

প্রাথমিক বিদ্যালয়ে ম্যাথ ল্যাব প্রতিষ্ঠার উদ্যোগ নিয়েছে সরকার : প্রতিমন্ত্রী ববি হাজ্জাজ

| প্রকাশিত: ৩:৩৯ অপরাহ্ন, ১৮ জুন ২০২৬

প্রাথমিক ও গণশিক্ষা প্রতিমন্ত্রী ববি হাজ্জাজ বলেছেন, শিক্ষার্থীদের গণিতভিত্তিক দক্ষতা, যৌক্তিক চিন্তাশক্তি এবং সমস্যা সমাধানের সক্ষমতা বৃদ্ধি করে বিজ্ঞান ও প্রযুক্তিমুখী প্রজন্ম গড়ে তুলতে দেশের সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়গুলোতে পর্যায়ক্রমে ‘ম্যাথ ল্যাব’ প্রতিষ্ঠার উদ্যোগ নিয়েছে সরকার।

তিনি আজ বৃহস্পতিবার রাজধানীর সাতারকুলে (বাড্ডা) গ্লেনরিচ ইন্টারন্যাশনাল স্কুল পরিদর্শন এবং শিক্ষার্থী, শিক্ষক ও অভিভাবকদের সাথে এক মতবিনিময় সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে এ কথা বলেন।

প্রাথমিক ও গণশিক্ষা প্রতিমন্ত্রী বলেন, ‘বর্তমান বিশ্ব দ্রুত প্রযুক্তিনির্ভর অর্থনীতি ও জ্ঞানভিত্তিক সমাজের দিকে এগিয়ে যাচ্ছে। এই পরিবর্তনের সঙ্গে তাল মিলিয়ে চলতে হলে শিশুদের মধ্যে ছোটবেলা থেকেই গণিত, বিজ্ঞান ও উদ্ভাবনী চিন্তার ভিত্তি শক্তিশালী করতে হবে।’

এ লক্ষ্যেই প্রাথমিক বিদ্যালয়গুলোতে আধুনিক, যুগোপযোগী ও আনন্দময় শিক্ষার পরিবেশ তৈরির অংশ হিসেবে ম্যাথ ল্যাব প্রতিষ্ঠার পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে বলে তিনি জানান।

ববি হাজ্জাজ আরও বলেন, ‘বর্তমান সরকারের নির্বাচনী ইশতেহার ও প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের দূরদর্শী শিক্ষা-ভিশনের আলোকে আমরা দেশের প্রাথমিক শিক্ষা ব্যবস্থাকে আমূল বদলে দিতে চাই। আমরা এমন একটি প্রাথমিক শিক্ষা ব্যবস্থা গড়ে তুলতে বদ্ধপরিকর, যেখানে প্রতিটি শিক্ষার্থী ভবিষ্যতের বিজ্ঞানী, প্রকৌশলী, গবেষক ও প্রযুক্তি উদ্ভাবক হিসেবে নিজেকে প্রস্তুত করার সমান সুযোগ পাবে। ম্যাথ ল্যাব সেই লক্ষ্য অর্জনের একটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ও বৈপ্লবিক পদক্ষেপ।’

প্রতিমন্ত্রী বলেন, এই যুগান্তকারী উদ্যোগ দেশের প্রাথমিক শিক্ষাকে আরও বেশি আধুনিক, আন্তর্জাতিক মানসম্পন্ন, দক্ষতা-ভিত্তিক এবং প্রযুক্তিবান্ধব করে তুলবে। একই সাথে এটি একটি স্মার্ট ও জ্ঞানভিত্তিক বাংলাদেশ গঠনে সুদূরপ্রসারী ও গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখবে।

মতবিনিময় সভায় প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয়ের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাবৃন্দ, সংশ্লিষ্ট স্কুলের শিক্ষক, শিক্ষার্থীবৃন্দ এবং অভিভাবকগণ উপস্থিত ছিলেন।

পরবর্তী খবর

গণমাধ্যম সংস্কার প্রক্রিয়ায় সরকার কেবলই সহায়ক: তথ্যমন্ত্রী

| প্রকাশিত: ৩:৩৭ অপরাহ্ন, ১৮ জুন ২০২৬

দেশের ইতিহাসে এই প্রথম গণমাধ্যমের সব ধারার অংশীজনকে এক মঞ্চে সমবেত করেছে সরকার।

এর মাধ্যমে গণমাধ্যমের স্বাধীনতা নিশ্চিত ও দেশে একটি স্বাধীন জাতীয় গণমাধ্যম কমিশন গঠনের বিরাট সুযোগ সৃষ্টি হয়েছে। এমনটাই জানিয়েছেন তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রী জহির উদ্দিন স্বপন।

তিনি বলেন, ‘এই সংস্কার প্রক্রিয়ায় সরকার রাষ্ট্রের পক্ষ থেকে কেবল একজন ‘সহায়ক’ ও সহযোগী অংশীদার হিসেবে দায়িত্ব পালন করবে।’

আজ বৃহস্পতিবার সকালে রাজধানীর হোটেল ইন্টারকন্টিনেন্টাল-এ জাতীয় গণমাধ্যম কমিশনের রূপরেখা প্রণয়নের লক্ষ্যে আয়োজিত এক কর্মশালায় সভা প্রধানের বক্তব্যে তিনি এ কথা বলেন।

তথ্যমন্ত্রী বলেন, ‘আজকের দিনটি দেশের গণমাধ্যম ইতিহাসের জন্য এক অনন্য মাইলফলক। বাংলাদেশে এই প্রথম গণমাধ্যমের মূল ধারার সকল অংশীজনকে আমরা একই মঞ্চে জড়ো করতে পেরেছি।’

তিনি বলেন, ‘আজকের এই আয়োজন মূলত একটি উন্মুক্ত সম্ভাবনার দুয়ার খুলে দিয়েছে। আমরা সবাই যদি আলোচনার মধ্য দিয়ে সর্বসম্মতিক্রমে আমাদের পথ চলার মূল বিন্দুটি খুঁজে বের করতে পারি, তবেই এই আয়োজন সার্থক হবে। রাষ্ট্রের পক্ষ থেকে গণমাধ্যমের মহান ও স্বাধীন উদ্দেশ্যকে সফলভাবে সামনের দিকে এগিয়ে নেওয়ার ক্ষেত্রে সরকার কেবল একজন ‘সহায়ক’ এবং ‘সমন্বয়কারী’র দায়িত্ব পালন করবে।’

বর্তমান সরকারের গণতান্ত্রিক ও কল্যাণকামী রাষ্ট্র গঠনের দৃঢ় অঙ্গীকার পুনর্ব্যক্ত করে তথ্যমন্ত্রী বলেন, ‘প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের নেতৃত্বাধীন সরকার নির্বাচনে যাওয়ার আগেই দেশের জনগণের কাছে প্রতিশ্রুতি দিয়েছিলÑ রাষ্ট্রকে একটি প্রকৃত গণতান্ত্রিক ও কল্যাণ রাষ্ট্রে পরিণত করার। এজন্য রাষ্ট্রের কাঠামোগত যেসব জায়গায় মেরামত বা সংস্কার করা দরকার, সকলকে সাথে নিয়ে সেসব জায়গায় সরকার মেরামত করবে।’

তিনি বলেন, ‘সংস্কারের এইতালিকাভুক্ত খাতগুলোর মধ্যে অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ হচ্ছে গণমাধ্যম। সরকার গণমাধ্যমের স্বাধীনতা নিশ্চিত করতে অঙ্গীকারাবদ্ধ।’

তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রণালয়ের উদ্যোগে আয়োজিত এ কর্মশালায় মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন প্রধানমন্ত্রীর তথ্য উপদেষ্টা ডা. জাহেদ উর রহমান। অনুষ্ঠানে স্বাগত বক্তব্য রাখেন প্রতিমন্ত্রী ইয়াসের খান চৌধুরী।

স্বাগত বক্তব্যে তথ্য প্রতিমন্ত্রী বলেন, একটি রক্তক্ষয়ী বিপ্লব ও সংগ্রামের পর দেশে একটি গণতান্ত্রিক সরকার প্রতিষ্ঠিত হয়েছে। এই গণতন্ত্রকে কীভাবে সমুন্নত রাখা যায় এবং সরকারের এই উন্নয়ন যাত্রায় গণমাধ্যম কীভাবে সহযাত্রী ও সহযোগী হতে পারে, সে বিষয়ে সুনির্দিষ্ট পরামর্শ প্রয়োজন। গণমাধ্যমের অগ্রযাত্রায় সরকার ও গণমাধ্যমকে একযোগে কাজ করার আহ্বান জানান তিনি।

প্রস্তাবিত গণমাধ্যম কমিশনকে শক্তিশালী করার ওপর জোর দিয়ে ইয়াসের খান চৌধুরী বলেন, ‘আমরা এমন একটি গণমাধ্যম কমিশন গঠন করতে চাই যা অত্যন্ত শক্তিশালী হবে এবং যেখানে জবাবদিহিতা থাকবে। এই কমিশনকে কীভাবে আরও কার্যকর ও জবাবদিহিতামূলক করা যায়, সে বিষয়ে আপনাদের মূল্যবান মতামত ও পরামর্শ অত্যন্ত জরুরি।‘

মন্ত্রণালয়ের সচিব মাহবুবা ফারজানার সঞ্চালনায় কর্মশালায় ন্যাশনাল এডিটরস কাউন্সিল, সম্পাদক পরিষদ, জাতীয় নিউজপেপার ওনার্স অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশ (নোয়াব), টেলিভিশন এডিটরস কাউন্সিল, অ্যাসোসিয়েশন অব টেলিভিশন চ্যানেল ওনার্সের (অ্যাটকো), ন্যাশনাল মিডিয়া ওয়াচ কাউন্সিল, বাংলাদেশ ফেডারেল সাংবাদিক ইউনিয়ন (বিএফইউজে), ঢাকা সাংবাদিক ইউনিয়ন (ডিইউজে), ঢাকা রিপোর্টার্স ইউনিটি (ডিআরইউ) ব্রডকাস্ট জার্নালিস্ট সেন্টার (বিজেসি), ফটো জার্নালিস্ট অ্যাসোসিয়েশন, বাংলাদেশ সংবাদ সংস্থা (বাসস), বাংলাদেশ সাংবাদিক কল্যাণ ট্রাস্টসহ বিভিন্ন টেলিভিশন মালিক, সম্পাদকবৃন্দ, বেসরকারি সংস্থার প্রতিনিধি এবং দেশের শীর্ষ গণমাধ্যম বিশেষজ্ঞরা অংশ নেন।

তথ্যমন্ত্রীর দিকনির্দেশনামূলক বক্তব্যের পর কর্মশালার মূল অধিবেশনে উপদেষ্টার উপস্থাপিত রূপরেখার ওপর ভিত্তি করে উপস্থিত গণমাধ্যম নেতৃবৃন্দ, সম্পাদক ও সাংবাদিক প্রতিনিধিরা স্বাধীন গণমাধ্যম কমিশন গঠনের প্রক্রিয়াকে গতিশীল করতে স্ব-স্ব মতামত, ন্যাশনাল অ্যাকশন প্ল্যানের খসড়া এবং গুরুত্বপূর্ণ সুপারিশ তুলে ধরেন।

পরবর্তী খবর

রিজার্ভ চুরি: আতিউরসহ ৬৪ ব্যক্তি-প্রতিষ্ঠানকে অভিযুক্ত করছে সিআইডি

| প্রকাশিত: ৩:৩৩ অপরাহ্ন, ১৮ জুন ২০২৬

বাংলাদেশ ব্যাংকের রিজার্ভ চুরির ঘটনায় সাবেক গভর্নর ড. আতিউর রহমানসহ দেশি-বিদেশি ৬৪ ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে অভিযোগ আনার প্রস্তুতি নিয়েছে পুলিশের অপরাধ তদন্ত বিভাগ (সিআইডি)। দীর্ঘ তদন্ত শেষে প্রস্তুত করা খসড়া অভিযোগপত্র আইনি মতামতের জন্য অ্যাটর্নি জেনারেলের কার্যালয়ে পাঠানো হয়েছে।

তদন্তসংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে, অভিযুক্তদের মধ্যে বাংলাদেশের ১০ ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠান রয়েছে। তাদের অধিকাংশই বাংলাদেশ ব্যাংকের তৎকালীন কর্মকর্তা। এ তালিকায় সাবেক গভর্নর ড. আতিউর রহমান ছাড়াও কে এম আব্দুল ওয়াদুদ, শুভঙ্কর সাহা, রেজাউল করিম, মেজবাউল হক ও আবুল কাসেমের নাম রয়েছে।

সিআইডির দাবি, তদন্তে দায়িত্বে অবহেলা, নিরাপত্তা ত্রুটি এবং ঘটনার পর প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা না নেওয়ার প্রমাণ মিলেছে। সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা সুইফট (SWIFT) সিস্টেমের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে ব্যর্থ হন। এমনকি ব্যাংকিং কার্যক্রম শেষে হ্যাকারদের পাঠানো ফিশিং লিংক সক্রিয় অবস্থায় রেখেই কর্মস্থল ত্যাগ করার তথ্যও তদন্তে উঠে এসেছে।


তদন্তকারীদের ভাষ্য, ওই নিরাপত্তা দুর্বলতার সুযোগ নিয়েই হ্যাকাররা বাংলাদেশ ব্যাংকের রিজার্ভে প্রবেশ করে অর্থ সরিয়ে নেয়। পরে ঘটনা জানার পরও কয়েকজন কর্মকর্তা যথাযথ পদক্ষেপ নেননি; বরং বিষয়টি আড়াল করার চেষ্টা করেছিলেন বলেও অভিযোগপত্রে উল্লেখ করা হয়েছে।

মামলার সর্বশেষ তদন্ত কর্মকর্তা ও সিআইডির ফাইন্যান্সিয়াল ক্রাইম ইউনিটের অতিরিক্ত বিশেষ পুলিশ সুপার আল মামুন বলেন, তদন্তের সব কাজ শেষ হয়েছে। শতভাগ তথ্য-প্রমাণের ভিত্তিতে খসড়া চার্জশিট প্রস্তুত করে অ্যাটর্নি জেনারেলের কার্যালয়ে পাঠানো হয়েছে। আইনি মতামত পাওয়ার পর পরবর্তী পদক্ষেপ নেওয়া হবে।

সিআইডি সূত্রে জানা গেছে, খসড়া অভিযোগপত্রে ফিলিপাইনের ৩৬, উত্তর কোরিয়ার ২, চীনের ৩, শ্রীলঙ্কার ৮, জাপানের ১, ভারতের ৪ এবং বাংলাদেশের ১০ ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠানের নাম রয়েছে। প্রায় ১০ হাজার পৃষ্ঠার মামলার ডকেট ও চার্জশিটে ফরেনসিক বিশ্লেষণসহ বিভিন্ন ধরনের তথ্য-প্রমাণ সংযুক্ত করা হয়েছে।


তদন্তসংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা জানান, মামলার শুরুতে নানা প্রতিবন্ধকতার মুখে পড়তে হয়েছিল। রিজার্ভ চুরির ৪১ দিন পর মামলা হওয়ায় প্রকৃত ক্রাইম সিন অক্ষত অবস্থায় পাওয়া যায়নি। এর আগেই একটি বিদেশি আইটি প্রতিষ্ঠানসহ কয়েকজন অননুমোদিত ব্যক্তি সেখানে প্রবেশ করেছিলেন। এরপরও দেশ-বিদেশ থেকে তথ্য সংগ্রহ, ফরেনসিক বিশ্লেষণ এবং সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের জিজ্ঞাসাবাদের মাধ্যমে তদন্ত এগিয়ে নেওয়া হয়।

২০১৬ সালের ফেব্রুয়ারিতে নিউইয়র্কের ফেডারেল রিজার্ভ ব্যাংকে থাকা বাংলাদেশ ব্যাংকের রিজার্ভ থেকে ১০ কোটি ১০ লাখ ডলার চুরি হয়। সুইফট পেমেন্ট ব্যবস্থায় ভুয়া বার্তা পাঠিয়ে হ্যাকাররা অর্থ সরিয়ে নেয়। ঘটনাটি প্রকাশ্যে এলে আন্তর্জাতিক অঙ্গনে ব্যাপক আলোড়ন সৃষ্টি হয়। পরে ৩৯ দিন পর মতিঝিল থানায় মানি লন্ডারিং আইনে মামলা করে বাংলাদেশ ব্যাংক। সেই মামলার তদন্ত করছে সিআইডি।


পরবর্তী খবর

শান্তি প্রতিষ্ঠায় নারীদের বৃহত্তর অংশগ্রহণে জাতিসংঘের সহায়তা চাইলেন শামা ওবায়েদ

| প্রকাশিত: ৩:৩০ অপরাহ্ন, ১৮ জুন ২০২৬

পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী শামা ওবায়েদ ইসলাম ক্রমবর্ধমান বৈশ্বিক সংকট ও মানবিক চ্যালেঞ্জের প্রেক্ষাপটে মানবিক সহায়তা জোরদার করা এবং শান্তি প্রতিষ্ঠার প্রচেষ্টায় নারীদের আরও বেশি অংশগ্রহণ নিশ্চিত করতে জাতিসংঘের (ইউএন) প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন।

বুধবার নিউইয়র্কে জাতিসংঘ সদর দপ্তরে অনুষ্ঠিত ২০২৬ সালের ইকোনমিক অ্যান্ড সোশ্যাল কাউন্সিল (ইকোসক)-এর মানবিক বিষয়ক অধিবেশনে বক্তব্যকালে তিনি এ আহ্বান জানান।

বৃহস্পতিবার (১৮ জুন) ঢাকায় প্রাপ্ত এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়।

মানবিক নীতিমালার প্রতি বাংলাদেশের অঙ্গীকার পুনর্ব্যক্ত করে পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী বলেন, প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের নেতৃত্বে বাংলাদেশ সামাজিক সুরক্ষা কর্মসূচির সম্প্রসারণ, দুর্যোগ মোকাবিলা সক্ষমতা বৃদ্ধি, নারীর ক্ষমতায়ন এবং ঝুঁকিপূর্ণ জনগোষ্ঠীর সহায়তায় বিভিন্ন উদ্যোগ বাস্তবায়ন করছে।


এছাড়া নারী, শান্তি ও নিরাপত্তা (ডব্লিউপিএস) বিষয়ক জাতিসংঘ নিরাপত্তা পরিষদের উন্মুক্ত বিতর্কে অংশ নিয়ে তিনি টেকসই শান্তি প্রতিষ্ঠা ও পুনর্মিলন প্রক্রিয়ায় নারীদের গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকার ওপর গুরুত্বারোপ করেন। একই সঙ্গে বিভিন্ন জাতিসংঘ শান্তিরক্ষা মিশনে কর্মরত বাংলাদেশি নারী শান্তিরক্ষীদের অবদানের প্রশংসা করেন।

বিশ্বের বিভিন্ন অঞ্চলে সংঘাতের কারণে নারী ও শিশুদের দুর্ভোগ নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করে তিনি ক্ষতিগ্রস্ত জনগোষ্ঠীর জন্য পর্যাপ্ত সহায়তা নিশ্চিত করতে মানবিক অর্থায়নের ঘাটতি দূর করার আহ্বান জানান।

তিনি মিয়ানমারে রোহিঙ্গাদের নিরাপদ, স্বেচ্ছামূলক ও টেকসই প্রত্যাবাসনের জন্য আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের অব্যাহত সহযোগিতাও কামনা করেন।

জাতিসংঘে অবস্থানকালে শামা ওবায়েদ ইসলাম আজ ২০২৬ সালের ইকোসক মানবিক বিষয়ক অধিবেশনের উচ্চপর্যায়ের প্যানেল আলোচনা-২-এ অংশ নেবেন।

এছাড়া তিনি নিউইয়র্কে জাতিসংঘ সদর দপ্তরে জাতিসংঘ উইমেনের আন্ডার-সেক্রেটারি-জেনারেল ও নির্বাহী পরিচালক সিমা বাহুস-এর সঙ্গে দ্বিপাক্ষিক বৈঠকে বাংলাদেশ প্রতিনিধিদলের নেতৃত্ব দেবেন।