পত্নীতলায় সাংবাদিক ও পুলিশের হস্তক্ষেপে রেহাই পেলো অসহায় পরিবার
নওগাঁর পত্নীতলায় নির্মইল ইউনিয়নের হাটশাউলি গ্রামে দশ দিন ধরে একঘরে অবস্থায় ছিলো একটি পরিবার। সাংবাদিক ও প্রশাসনের হসÍক্ষেপে অবশেষে একঘরে অবস্থা থেকে মুক্তি পেলো ওই গ্রামের আব্দুর রউফ এবং তার পরিবার।
আজ সোমবার (২৩ আগস্ট) সরেজমিনে জানা যায়, নির্মইল ইউনিয়নের হাটশাউলি গ্রামের আব্দুর রউফ এর কন্যা লতা পারভীন (২০) কর্মসূত্রে দীর্ঘদিন যাবৎ ঢাকায় অবস্থান করে আসছিলো। ঢাকা থেকে বেশ কিছুদিন আগে সে তার গ্রামের বাসায় চলে আসে। কিন্তু কিছুদিনের মধ্যেই তার পরিবার জানতে পারে তাদের মেয়ে অন্তঃসত্ত্বা এবং এর অল্প ক’দিনের মধ্যে সে একটি কন্যা সন্তান প্রসব করে।
বিষয়টি জানাজানি হলে এলাকায় মিশ্র প্রতিক্রিয়ার সৃষ্টি হয়, স্থানীয় ইউপি সদস্য ইয়াছিন আলী এবং গ্রামের কিছু প্রভাবশালী ব্যাক্তিবর্গ গ্রাম্য সালিশের মাধ্যমে ওই পরিবারের উপর চাপ সৃষ্টি করে। সেই সালিশে সিদ্ধান্ত হয় সদ্যজাত শিশুটির পিতৃপরিচয় না দিতে পারলে তাদেরকে ৩০ হাজার টাকা জরিমানা এবং গ্রাম ছেড়ে অন্যত্র চলে যেতে হবে। এছাড়াও বিভিন্নভাবে তাদেরকে ভয়ভীতি প্রদর্শন করা হয়। উপায়ন্তর না দেখে এবং লোক লজ্জার ভয়ে প্রসব করবার আট দিনের মধ্যেই লতা তার শিশু সন্তানকে নিয়ে গ্রাম ছেড়ে চলে যেতে বাধ্য হয়। গ্রামের প্রভাবশালী এবং স্থানীয় ওই মেম্বার এখানেই ক্ষান্ত হননি ।
নতুন উদ্দ্যোমে ওই নিরীহ পরিবারের উপরে নিজেদের মনগড়া আইনে নতুন নতুন চাপ সৃষ্টি করতে থাকেন। গত দশ দিন যাবৎ পরিবারটিকে সমাজ থেকে সম্পূর্ণরূপে বিছিন্ন করে রাখা হয়, যাতে কোথাও যোগাযোগ করতে না পারে সেজন্য কেড়ে নেয়া হয় তাদের মুঠোফোনটিও। নিজের একমাত্র সম্বল বসতবাড়িটি ছেড়ে অনত্র চলে যেতে বেঁধে দেওয়া হয় চারদিনের সময়সীমা। আজ সোমবার (২৩ আগস্ট) ছিলো সেই সময়সীমার শেষ দিন। প্রতিবেদক ওই ঘটনাস্থলে পৌঁছানোর পূর্বেই নিয়ে নেয়া হয় জরিমানার ৩০ হাজার টাকা।
এ বিষয়ে ভুক্তভোগী পরিবারটির অভিভাবক লতার বাবা আব্দুর রউফ-এর সাথে কথা বললে তিনি সাংবাদিকদের জানান, জন্মের পর থেকে আমরা এই গ্রামে বসবাস করে আসছি। এই ভিটামাটি ছেড়ে আমি কোথায় যাবো! তাদেরকে অনুরোধ করেছিলাম আমি অসুস্থ গরীব মানুষ কাজ কর্ম ঠিকমতো করতে পারিনা, জরিমানার টাকাটা মাফ দেওয়া হোক। কিন্তু তারা টাকাটা নিয়েই ছাড়লো।
এ বিষয়ে নির্মইল ইউনিয়নের ৪ নং ওয়ার্ড এর ইউপি সদস্য ইয়াছিন আলী’র সাথে যোগাযোগ করলে তিনি কোন সদুত্তর না দিয়ে বিষয়টিকে এড়িয়ে যাবার চেষ্টা করেন।
তৎক্ষনাত বিষয়টি পত্নীতলা থানার ওসি শামসুল আলম শাহ্’কে জানানো হলে তিনি বিষয়টিকে আমলে নিয়ে দ্রুত ঘটনাস্থলে র্ফোস পাঠান। অবস্থা বেগতিক দেখে পরিস্থিতি সামাল দিতে ওই ইউপি সদস্য ঘটনাস্থলে এসে প্রশাসনের চাপের মুখে নিজের ভুল স্বীকার করে পরিবারটিকে আগের মতোই বসবাস করতে বলেন এবং ভুক্তভোগী পরিবারটির প্রতি গ্রামবাসীকে সহনশীল হবার অনুরোধ করেন।
এ বিষয়ে উপজেলা নির্বাহী অফিসার লিটন সরকার-এর সঙ্গে মুঠোফোনে যোগাযোগ করলে তিনি বলেন, আপনাদের মাধ্যমে বিষয়টি জানলাম। ভুক্তভোগী পরিবারটির সাথে যা হয়েছে সেটি অন্যায়। কাউকে তার নিজ বসতভিটা থেকে উচ্ছেদ কারার এখতিয়ার কারোর নেই, এ জন্য প্রচলিত আইন রয়েছে।
আমীরে জামায়াত ডা. শফিকুর রহমান এমপি খুলনায় পৌছেছেন
আজ ২০ জুন, শনিবার, দুপুর ২টায় অনুষ্ঠিতব্য ১১ দলীয় ঐক্যের খুলনা বিভাগীয় সমাবেশে যোগ দিতে মাননীয় বিরোধীদলীয় নেতা ও আমীরে জামায়াত ডা. শফিকুর রহমান এমপি খুলনায় পৌছলে তাঁকে খুলনাবাসীর পক্ষ থেকে ফুলেল শুভেচ্ছা জানিয়ে বরণ করে নেওয়া হয়।
আমীরে জামায়াতকে শুভেচ্ছা জানাতে উপস্থিত ছিলেন সংগঠনের সেক্রেটারি জেনারেল ও সাবেক এমপি জনাব মিয়া গোলাম পরওয়ার, কেন্দ্রীয় নির্বাহী পরিষদ সদস্য মুহাম্মদ ইজ্জত উল্লাহ এমপি, কেন্দ্রীয় নির্বাহী পরিষদ সদস্য মো: মোবারক হোসাইন, কেন্দ্রীয় কর্মপরিষদ সদস্য মুহাদ্দিস আব্দুল খালেক এমপি ও আবুল কালাম আজাদ এমপি, কেন্দ্রীয় কর্মপরিষদ সদস্য ও খুলনা মহানগরী আমীর অধ্যাপক মাহফুজুর রহমানসহ স্থানীয় নেতৃবৃন্দ।
চাঁপাইনবাবগঞ্জে ফারিয়া’র ঈদ পুনর্মিলনী ও সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান
মাহিদুল ইসলাম ফরহাদ
চাঁপাইনবাবগঞ্জ জেলা প্রতিনিধি
চাঁপাইনবাবগঞ্জে ফার্মাসিউটিক্যালস্ রিপ্রেজেন্টেটিভস্ অ্যাসোসিয়েশন (ফারিয়া)-এর জেলা শাখার উদ্যোগে জাঁকজমকপূর্ণভাবে 'ঈদুল আজহা' পরবর্তী ঈদ পুনর্মিলনী ও সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান অনুষ্ঠিত হয়েছে। শুক্রবার (১৯ জুন), রোজ শুক্রবার সকাল ৯:৩০ মিনিটে জেলা শহরের শহীদ সাটু হল অডিটোরিয়ামে এই অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়। দেরিতে হলেও আয়োজকেরা পবিত্র ঈদুল আজহার আনন্দ ভাগাভাগি করে নিতে এবং সংগঠনের সদস্যদের মধ্যে পারস্পরিক সৌহার্দ্য বাড়াতে এই মিলনমেলার আয়োজন করা হয়। সংগঠনের চাঁপাইনবাবগঞ্জ জেলা শাখার সভাপতি জনাব মো: নাসিরুল হক-এর সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানটি অত্যন্ত প্রাণবন্ত পরিবেশে সম্পন্ন হয়। অনুষ্ঠানটি সফলভাবে সঞ্চালনা করেন জেলা ফারিয়া'র সাধারণ সম্পাদক জনাব মো: জামিউল হক সোহেল। অনুষ্ঠানের শুরুতে পবিত্র কুরআন থেকে তিলাওয়াত করেন ওমর ফারুক । উক্ত অনুষ্ঠানে অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন নাটোর জেলার ফারিয়ার সভাপতি আব্দুল্লাহেল বাকী, রাজশাহী জেলার ফারিয়ার সভাপতি মোঃ খাইরুল ইসলাম, রাজশাহী মহানগরের সভাপতি মোঃ শামস্ উদ্দীন (নয়ন), একমির এরিয়া ম্যানেজার মোহাঃ তৌহিদুল ইসলাম । এছাড়াও চাঁপাইনবাবগঞ্জ জেলার নাচোল উপজেলার ফারিয়ার সভাপতি ডালিম রানা ও সাধারণ সম্পাদক মাসুদ রানা, রহনপুর পৌরসভার ফারিয়ার সভাপতি তোতা ও সাধারণ সম্পাদক আরিফ হোসেন, ভোলাহাট উপজেলার ফারিয়ার সভাপতি নাজমুল হুদা রানা ও সাধারণ সম্পাদক হোসেন, শিবগঞ্জ উপজেলার ফারিয়ার সভাপতি আঃ সালাম ও সাধারণ সম্পাদক নুরে আলম নুপুর প্রমুখ। আলোচনা সভায় বক্তারা ওষুধ প্রতিনিধিদের পেশাগত মান উন্নয়ন, পারস্পরিক ঐক্য বজায় রাখা এবং কর্মক্ষেত্রে বিভিন্ন চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় একতাবদ্ধ হয়ে কাজ করার ওপর গুরুত্বারোপ করেন। আলোচনা সভা শেষে এক মনোজ্ঞ সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়। এতে সংগঠনের সদস্য ও আমন্ত্রিত শিল্পীরা অংশ নেন। উপস্থিত ফারিয়া নেতৃবৃন্দ ও সাধারণ সদস্যরা একত্রে এই আনন্দঘন অনুষ্ঠানটি উপভোগ করেন।
আ. লীগকে রাজনীতিতে ফিরতে দেওয়া হবে না: প্রতিমন্ত্রী শাহে আলম
আওয়ামী লীগকে দেশের রাজনীতিতে পুনরায় সক্রিয় হওয়ার সুযোগ দেওয়া হবে না বলে মন্তব্য করেছেন স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় প্রতিমন্ত্রী মীর শাহে আলম। একই সঙ্গে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে বিভ্রান্তি ছড়িয়ে দলটিকে পুনর্বাসনের চেষ্টা হতে পারে বলেও সতর্ক করেছেন তিনি।
বৃহস্পতিবার (১৮ জুন) সকালে বগুড়ায় শহীদ জিয়াউর রহমান শিশু হাসপাতালের বহির্বিভাগ ও আন্তঃবিভাগের সেবা কার্যক্রম উদ্বোধন অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে এসব কথা বলেন প্রতিমন্ত্রী।
মীর শাহে আলম বলেন, আওয়ামী লীগের প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষে ২৩ জুনকে সামনে রেখে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে নানা ধরনের বিভ্রান্তিকর প্রচারণা চালানো হচ্ছে। তার দাবি, কিছু গোষ্ঠী পরিকল্পিতভাবে জনমত প্রভাবিত করে স্বৈরাচারী শক্তিকে আবারও রাজনৈতিক পরিসরে ফিরিয়ে আনার চেষ্টা করছে। এ ধরনের প্রচেষ্টার বিরুদ্ধে সবাইকে সতর্ক ও ঐক্যবদ্ধ থাকার আহ্বান জানান তিনি।
অনুষ্ঠানে স্বাস্থ্য খাত নিয়েও কথা বলেন প্রতিমন্ত্রী। তিনি জানান, শহীদ জিয়াউর রহমান শিশু হাসপাতালের নির্ধারিত ছয়তলা ভবনকে আটতলায় উন্নীত করার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। পাশাপাশি হাসপাতালের পাশে থাকা একটি বহুতল ভবন অধিগ্রহণ করে চিকিৎসাসেবার পরিধি বাড়ানোর পরিকল্পনাও রয়েছে সরকারের।
অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন বগুড়া-৬ আসনের সংসদ সদস্য ও জেলা বিএনপির সভাপতি রেজাউল করিম বাদশা। উপস্থিত ছিলেন স্বাস্থ্য ও পরিবারকল্যাণ মন্ত্রণালয়ের সচিব কামরুজ্জামান চৌধুরী, বগুড়া-৪ আসনের সংসদ সদস্য ও জেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক মোশারফ হোসেন, বিএনপি চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা এ কে এম মাহবুবুর রহমান, বগুড়া সিটি করপোরেশনের প্রশাসক এম আর ইসলাম স্বাধীন এবং জেলা পরিষদের প্রশাসক আহসানুল তৈয়ব জাকিরসহ বিভিন্ন পর্যায়ের নেতারা।
দিনব্যাপী কর্মসূচির অংশ হিসেবে সাধারণ মানুষের জন্য বিনামূল্যে হৃদরোগবিষয়ক পরামর্শসেবা দেওয়া হয়। পাশাপাশি হৃদরোগ প্রতিরোধে সচেতনতা বাড়াতে একটি আলোচনা সভার আয়োজন করা হয়।
শিশু আয়াত হত্যা মামলার প্রধান আসামি আবিরের মৃত্যুদণ্ড
চট্টগ্রামে পাঁচ বছরের শিশু আলিনা ইসলাম আয়াতকে অপহরণের পর শ্বাসরোধে হত্যা এবং মরদেহ ছয় টুকরো করে বিভিন্ন স্থানে ফেলে দেওয়ার লোমহর্ষক মামলায় প্রধান আসামি আবীর আলীকে মৃত্যুদণ্ডের আদেশ দিয়েছেন আদালত।
আজ বুধবার (১৭ জুন) দুপুরে চট্টগ্রামের ষষ্ঠ অতিরিক্ত মহানগর দায়রা জজ মুহাম্মদ আলী আক্কাস এই রায় ঘোষণা করেন। রাষ্ট্রপক্ষের ৩৩ জন সাক্ষীর সাক্ষ্যগ্রহণ এবং দীর্ঘ বিচারিক প্রক্রিয়া শেষে দেশজুড়ে ব্যাপক আলোড়ন সৃষ্টিকারী এই হত্যাকাণ্ডের চার বছর পর আদালত আজ এই চূড়ান্ত রায় দিলেন।
আদালত সূত্রে জানা গেছে, গত শনিবার মামলার যুক্তিতর্ক শুনানি শেষ হয়। বিচারিক কার্যক্রমে রাষ্ট্রপক্ষের পক্ষে ৩৩ জন সাক্ষী সাক্ষ্য দেন।
মামলার বিবরণে জানা যায়, ২০২২ সালের ১৪ নভেম্বর চট্টগ্রাম নগরের ইপিজেড থানার নয়ারহাট এলাকায় বাড়ির পাশের মসজিদে আরবি পড়তে যাওয়ার সময় নিখোঁজ হয় শিশুটি। পরে তদন্তে বেরিয়ে আসে, মুক্তিপণের উদ্দেশ্যে প্রতিবেশী আবীর আলী তাকে অপহরণ করে।
তদন্তসংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে, অপহরণের পর শিশুটিকে কোথাও লুকিয়ে রাখার সুযোগ না পেয়ে আবীর শ্বাসরোধে হত্যা করে। পরে মরদেহ খণ্ডিত করে বিভিন্ন স্থানে ফেলে দেয়।
ঘটনার ১৬ দিন পর, ৩০ নভেম্বর আউটার রিং রোডের আকমল আলী ঘাটসংলগ্ন সুইচ গেট এলাকার একটি গর্ত থেকে শিশুটির দুই পা উদ্ধার করে পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশন (পিবিআই)। পরদিন একই এলাকা থেকে উদ্ধার করা হয় খণ্ডিত মাথা।
ঘটনাটি দেশজুড়ে ব্যাপক আলোড়ন সৃষ্টি করেছিল। দীর্ঘ তদন্ত ও বিচারিক প্রক্রিয়া শেষে আদালত আজ এ মামলার রায় ঘোষণা করলেন।
রামগঞ্জে ছাত্রবাস থেকে শিক্ষার্থীর মরদেহ উদ্ধার
লক্ষ্মীপুরের রামগঞ্জ উপজেলার ফরিদ আহমেদ ভূঁইয়া একাডেমির ছাত্রবাস থেকে মেহেদী হাসান (১৫) নামে এক শিক্ষার্থীর ঝুলন্ত মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে। তবে পরিবারের দাবি—তাকে পিটিয়ে হত্যা করা হয়েছে।
এ ঘটনাকে কেন্দ্র করে মঙ্গলবার (১৬ জুন) রাতে বিক্ষুব্ধ এলাকাবাসী শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানটিতে ব্যাপক ভাঙচুর চালায়।
এর আগে বিকেলে প্রতিষ্ঠানটির ছাত্রবাস থেকে শিক্ষার্থী মেহেদী হাসানের (১৫) মরদেহ উদ্ধার করা হয়। সে ইছাপুর ইউনিয়নের রাঘবপুত গ্রামের জিয়াউদ্দিন জিয়ার ছেলে।
পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, মেহেদীকে পিটিয়ে হত্যা করা হয়েছে—পরিবারের এমন অভিযোগের পর রাত ৮টার দিকে একাডেমির সামনে লোকজন জড়ো হতে থাকে। একপর্যায়ে উত্তেজিত জনতা শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানটির প্রধান ফটক ও অভ্যর্থনা কক্ষ ভাঙচুর করে এবং ইটপাটকেল ছুড়তে শুরু করে। খবর পেয়ে উপজেলা প্রশাসন ও পুলিশ দ্রুত ঘটনাস্থলে উপস্থিত হয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে।
পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে রামগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) নিজেই মাইক হাতে উত্তেজিত এলাকাবাসীকে শান্ত করার চেষ্টা করেন। তিনি মাইকে ঘোষণা করেন, ‘পুলিশ মরদেহ উদ্ধার করেছে এবং তদন্তের মাধ্যমে ঘটনার মূল কারণ উদঘাটন করা হবে।’ তদন্ত শেষ না হওয়া পর্যন্ত তিনি সবাইকে ধৈর্য ধরে শান্ত থাকার আহ্বান জানান।
এ বিষয়ে জেলার অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (প্রশাসন ও অর্থ) হোসাইন মোহাম্মদ রায়হান কাজেমী বলেন, ‘ছাত্রের ঝুলন্ত মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে। ময়নাতদন্তের চূড়ান্ত প্রতিবেদন পেলেই মৃত্যুর আসল কারণ জানা যাবে।’
তিনি আরও জানান, তাকে হত্যা করা হয়েছে দাবি করে উত্তেজিত এলাকাবাসী শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে ভাঙচুর চালিয়েছে। তবে অনাকাঙ্ক্ষিত পরিস্থিতি মোকাবিলায় ঘটনাস্থলে অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয় এবং বর্তমানে পরিস্থিতি স্বাভাবিক রয়েছে।
দিনাজপুর বোচাগঞ্জে সাবেক স্ত্রীর হাতে স্বামী খু'ন পায়ের রগ কেটে নির্মম হ'ত্যাকাণ্ড ।
রনজিৎ সরকার রাজ দিনাজপুর প্রতিনিধি :দিনাজপুরের বোচাগঞ্জে সাবেক স্ত্রীর হাতে নির্মমভাবে প্রাণ হারিয়েছেন ডিএন অটো রাইস মিলের স্বত্বাধিকারী মোস্তাফিজুর রহমান। অভিযোগ উঠেছে, তার সাবেক স্ত্রী মোছা. শিল্পী পায়ের রগ কেটে তাকে হ'ত্যা করেছেন।
সোমবার (১৫ জুন) বোচাগঞ্জে এই মর্মান্তিক ঘটনাটি ঘটে। স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, এর আগেও একাধিকবার মোস্তাফিজুর রহমানের উপর শারীরিক নি'র্যাতনের অভিযোগ উঠেছিল। তবে এবার সেই নি'র্যাতনই তার মৃ'ত্যুর কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে।
হ'ত্যাকাণ্ডের খবর ছড়িয়ে পড়লে স্থানীয়দের মধ্যে তীব্র আ'তঙ্ক ও ক্ষো'ভের সৃষ্টি হয়। বোচাগঞ্জ থানা পুলিশ দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে তদন্ত শুরু করেছে।
এ বিষয়ে বোচাগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) জানান, ঘটনাটি তদন্তাধীন রয়েছে এবং আইনগত ব্যবস্থা প্রক্রিয়াধীন।
এলজিআরডি প্রতিমন্ত্রীর মানহানির অভিযোগে ৪ সাংবাদিকের বিরুদ্ধে মামলা
৩ তরুণকে নির্যাতনের ঘটনায় মামলা: বাদীর 'চোখ তুলে নেওয়া'র হুমকি
পটুয়াখালী সদর উপজেলায় তিন তরুণকে গাছে বেঁধে নির্যাতনের ঘটনায় দায়ের করা মামলার বাদী ও তার পরিবারকে হুমকি দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে। মামলা প্রত্যাহার না করলে বাদীর (ভুক্তভোগী এক তরুণের বাবা) 'হাত-পা ভেঙে দেওয়া এবং চোখ তুলে নেওয়া'র হুমকি দেওয়া হচ্ছে বলে অভিযোগ উঠেছে।
মামলার বাদী আব্দুর রব মোল্লা বলেন, এজাহারভুক্ত আসামি মনির গাইন, সুমন মোল্লা ও মুসা নিয়মিত তার স্বজনদের ফোন করে মামলা তুলে নিতে চাপ দিচ্ছেন। এতে তিনি ও তার পরিবারের সদস্যরা নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছেন।
ঘটনাটি ঘটে গত ৩ জুন পটুয়াখালী সদর উপজেলার বোতলবুনিয়া গ্রামে। ব্যাটারি চুরির অভিযোগ তুলে বায়জীদ মোল্লা, মিরাজ মৃধা ও আসলাম নামে তিন তরুণকে বাড়ি থেকে ধরে নিয়ে একটি পরিত্যক্ত বাগানে গাছের সঙ্গে বেঁধে মারধর করা হয়। ভুক্তভোগীদের অভিযোগ, প্রায় আধা ঘণ্টা ধরে তাদের ওপর নির্যাতন চালানো হয়। পরে ঘটনাটি প্রকাশ না করার জন্যও হুমকি দেওয়া হয়।
এ ঘটনায় নির্যাতনের একটি ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ে। ১ মিনিট ২৪ সেকেন্ডের ওই ভিডিওতে বায়জীদকে লাঠি ও শক্ত বস্তু দিয়ে মারধরের দৃশ্য দেখা যায়। একপর্যায়ে তিনি বাঁচার জন্য দৌড়ে পালানোর চেষ্টা করলেও তাকে ধরে এনে আবার গাছের সঙ্গে বেঁধে নির্যাতন করা হয়। একইভাবে নির্যাতনের শিকার হন মিরাজ ও আসলামও।
ভিডিওটি ছড়িয়ে পড়ার পর গত ১০ জুন বায়জীদের বাবা আব্দুর রব মোল্লা পাঁচজনের বিরুদ্ধে থানায় লিখিত অভিযোগ দেন। পরে ১২ জুন অভিযোগটি মামলা হিসেবে নথিভুক্ত করে পুলিশ। তবে এখনো কাউকে গ্রেপ্তার করা হয়নি।
ভুক্তভোগী বায়জীদের দাবি, ঘটনার আগে নূর মোহাম্মদ নামে এক ব্যক্তি তার কাছে ১০ হাজার টাকা দাবি করেছিলেন। টাকা না পেয়ে তিনি ক্ষুব্ধ হন এবং পরে শ্বশুরবাড়ি থেকে তুলে এনে তাকে নির্যাতন করা হয়। আহত অবস্থায় তাকে পটুয়াখালী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছিল।
মামলার বাদীর (বায়জীদের বাবা) অভিযোগ, কয়েকজন আসামি পলাতক থাকলেও অন্যরা প্রকাশ্যে ঘুরে বেড়াচ্ছেন এবং রাজনৈতিক প্রভাব ব্যবহার করে ভয়ভীতি দেখাচ্ছেন। অভিযোগের বিষয়ে বক্তব্য জানতে মনির গাইন ও সুমন মোল্লার মুঠোফোনে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও সেগুলো বন্ধ পাওয়া যায়।
মামলার তদন্ত কর্মকর্তা সদর থানার উপপরিদর্শক (এসআই) কমল বড়াল বলেন, আসামিদের গ্রেপ্তারে পুলিশ কাজ করছে। হুমকির বিষয়ে নির্দিষ্ট অভিযোগ পেলে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. মনিরুজ্জামান বলেন, বাদী নিরাপত্তাহীনতার অভিযোগ করলে সে বিষয়েও প্রয়োজনীয় আইনি পদক্ষেপ নেওয়া হবে। পাশাপাশি মামলার তদন্তের ভিত্তিতে আসামিদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
আনোয়ারায় মা-মেয়েকে কুপিয়ে হত্যার ঘটনায় প্রতিবেশী গ্রেপ্তার
চট্টগ্রামের আনোয়ারার পরৈকোড়া ইউনিয়নে এনি বড়ুয়া ও তার মেয়ে প্রিয়ন্তী বড়ুয়াকে হত্যা মামলায় এক প্রতিবেশীকে পুলিশ গ্রেপ্তার করেছে। গ্রেপ্তার প্রতিবেশীর নাম তেজ বড়ুয়া (৩২)। তিনি পরৈকোড়া ইউনিয়নের চেনামতি এলাকার বেশান্ত বড়ুয়ার ছেলে।
গতকাল রোববার (১৪ জুন) দিবাগত রাত ১২টার দিকে তাকে পার্শ্ববর্তী পটিয়া উপজেলা থেকে গ্রেপ্তার করা হয়। মা-মেয়েকে খুনের ঘটনায় হওয়া মামলার প্রধান আসামি তিনি।
তেজ বড়ুয়াকে গ্রেপ্তারের বিষয়টি চট্টগ্রাম জেলার অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (ডিবি ও শিল্পাঞ্চল) মো. রাসেল নিশ্চিত করেছেন। তিনি বলেন, আনোয়ারা থানা ও জেলা গোয়েন্দা পুলিশের যৌথ অভিযানে তেজ বড়ুয়াকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।
এর আগে গত শনিবার রাতে নিজ বাড়ি থেকে এনি বড়ুয়া ও তার মেয়ে প্রিয়ন্তী বড়ুয়ার রক্তাক্ত লাশ উদ্ধার হয়। তাদের কুপিয়ে হত্যা করা হয়েছে বলে জানায় পুলিশ। একই সময়ে এনি বড়ুয়ার পাঁচ বছর বয়সী এক শিশুসন্তানকেও কুপিয়ে জখম করা হয়।
নিহত এনির পরিবার ও স্থানীয় বাসিন্দারা জানান, শনিবার দিবাগত রাত ১২টার সময় প্রতিবেশীরা এনি বড়ুয়ার ঘরে চিৎকার শুনে এগিয়ে যান। ওই সময় ঘরের দরজায় এনি বড়ুয়া রক্তাক্ত অবস্থায় ছটফট করছিলেন। একই সময়ে ঘরের ভেতরে প্রিয়ন্তী বড়ুয়ার রক্তাক্ত মরদেহ পড়ে ছিল। লোকজন এনিকে উদ্ধার করে হাসপাতালে নিতে চাইলে তিনি কথা বলতে বলতে মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়েন।
এ ঘটনায় রাতে আনোয়ারা থানায় মামলা করেন এনি বড়ুয়ার স্বামী সুজন বড়ুয়া। মামলায় তেজ বড়ুয়াকে প্রধান আসামি করা হয়। এ ছাড়া অজ্ঞাতপরিচয় দু-তিনজনকে আসামি করা হয়। সুজন বড়ুয়া বলেন, ‘প্রধান আসামি গ্রেপ্তার হওয়ায় বিচারের পথ সুগম হলো।’ তিনি নিজের স্ত্রী ও মেয়ে হত্যাকাণ্ডের কঠিন শাস্তি দাবি করেন।
খুলনায় মসজিদে সন্ত্রাসীদের গুলি, দুই মুসল্লি গুলিবিদ্ধ