শিশু আয়াত হত্যা মামলার প্রধান আসামি আবিরের মৃত্যুদণ্ড
চট্টগ্রামে পাঁচ বছরের শিশু আলিনা ইসলাম আয়াতকে অপহরণের পর শ্বাসরোধে হত্যা এবং মরদেহ ছয় টুকরো করে বিভিন্ন স্থানে ফেলে দেওয়ার লোমহর্ষক মামলায় প্রধান আসামি আবীর আলীকে মৃত্যুদণ্ডের আদেশ দিয়েছেন আদালত।
আজ বুধবার (১৭ জুন) দুপুরে চট্টগ্রামের ষষ্ঠ অতিরিক্ত মহানগর দায়রা জজ মুহাম্মদ আলী আক্কাস এই রায় ঘোষণা করেন। রাষ্ট্রপক্ষের ৩৩ জন সাক্ষীর সাক্ষ্যগ্রহণ এবং দীর্ঘ বিচারিক প্রক্রিয়া শেষে দেশজুড়ে ব্যাপক আলোড়ন সৃষ্টিকারী এই হত্যাকাণ্ডের চার বছর পর আদালত আজ এই চূড়ান্ত রায় দিলেন।
আদালত সূত্রে জানা গেছে, গত শনিবার মামলার যুক্তিতর্ক শুনানি শেষ হয়। বিচারিক কার্যক্রমে রাষ্ট্রপক্ষের পক্ষে ৩৩ জন সাক্ষী সাক্ষ্য দেন।
মামলার বিবরণে জানা যায়, ২০২২ সালের ১৪ নভেম্বর চট্টগ্রাম নগরের ইপিজেড থানার নয়ারহাট এলাকায় বাড়ির পাশের মসজিদে আরবি পড়তে যাওয়ার সময় নিখোঁজ হয় শিশুটি। পরে তদন্তে বেরিয়ে আসে, মুক্তিপণের উদ্দেশ্যে প্রতিবেশী আবীর আলী তাকে অপহরণ করে।
তদন্তসংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে, অপহরণের পর শিশুটিকে কোথাও লুকিয়ে রাখার সুযোগ না পেয়ে আবীর শ্বাসরোধে হত্যা করে। পরে মরদেহ খণ্ডিত করে বিভিন্ন স্থানে ফেলে দেয়।
ঘটনার ১৬ দিন পর, ৩০ নভেম্বর আউটার রিং রোডের আকমল আলী ঘাটসংলগ্ন সুইচ গেট এলাকার একটি গর্ত থেকে শিশুটির দুই পা উদ্ধার করে পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশন (পিবিআই)। পরদিন একই এলাকা থেকে উদ্ধার করা হয় খণ্ডিত মাথা।
ঘটনাটি দেশজুড়ে ব্যাপক আলোড়ন সৃষ্টি করেছিল। দীর্ঘ তদন্ত ও বিচারিক প্রক্রিয়া শেষে আদালত আজ এ মামলার রায় ঘোষণা করলেন।
একনেকে ৭ হাজার কোটি টাকার ৫ প্রকল্প অনুমোদন
মঙ্গলবার (১৬ জুন) বাংলাদেশ সচিবালয়ের মন্ত্রিসভা কক্ষে অনুষ্ঠিত একনেক সভায় এই অনুমোদন দেওয়া হয়। সভায় সভাপতিত্ব করেন প্রধানমন্ত্রী ও একনেক চেয়ারপার্সন তারেক রহমান। এবারের সভায় অনুমোদিত প্রকল্পগুলোর মধ্যে ৩টি সম্পূর্ণ নতুন এবং ২টি সংশোধিত প্রকল্প রয়েছে।
সভায় অর্থ ও পরিকল্পনামন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী, স্থানীয় সরকার ও পল্লী উন্নয়ন মন্ত্রী মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর, পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. খলিলুর রহমান, শিল্প, বস্ত্র ও পাট এবং বাণিজ্য মন্ত্রী খন্দকার আব্দুল মুক্তাদির, সড়ক পরিবহন ও সেতু, রেলপথ এবং নৌপরিবহন মন্ত্রী শেখ রবিউল আলম, স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ, শিক্ষা ও প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রী ড. আ ন ম এহছানুল হক মিলন, পানিসম্পদ মন্ত্রী মো. শহীদউদ্দীন চৌধুরী এ্যানি এবং পরিকল্পনা প্রতিমন্ত্রী মো. জোনায়েদ আব্দুর রহিম সাকিসহ সরকারের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।
সভায় অনুমোদিত প্রকল্পগুলোর মধ্যে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের অধীন একটি বিশেষ প্রকল্প রয়েছে, যা হলো ‘সাপোর্টিং ইনফ্রাস্ট্রাকচার প্রজেক্ট ফর চাইনিজ ইকোনমিক অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রিয়াল জোন’। এছাড়া পানি সম্পদ মন্ত্রণালয়ের অধীনে তিনটি প্রকল্প অনুমোদন দেওয়া হয়েছে। এর মধ্যে রয়েছে ফেনী জেলাধীন মুহুরী-কহুয়া বন্যা নিয়ন্ত্রণ, নিষ্কাশন ও সেচ প্রকল্পের পুনর্বাসন (১ম পর্যায়) প্রকল্প, করতোয়া নদী সিস্টেম উন্নয়ন প্রকল্প এবং পদ্মা নদীর ভাঙন হতে কুষ্টিয়া জেলার মিরপুর উপজেলাধীন তালবাড়িয়া এবং কুমারখালী উপজেলাধীন শিলাইদহ ইউনিয়নের কোমরকান্দি এলাকা রক্ষা (১ম সংশোধিত) প্রকল্প। পাশাপাশি শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের অধীনে ‘১০০টি উপজেলায় ১টি করে টেকনিক্যাল স্কুল ও কলেজ স্থাপন (৩য় সংশোধিত)’ প্রকল্পটিও আজকের সভায় অনুমোদন পায়।
এই ৫টি প্রধান প্রকল্পের পাশাপাশি সভায় পরিকল্পনামন্ত্রীর মাধ্যমে এর আগে অনুমোদিত ৫০ কোটি টাকার কম ব্যয় সম্বলিত আরও ৪টি প্রকল্প সম্পর্কে একনেক কমিটিকে আনুষ্ঠানিকভাবে অবহিত করা হয়েছে। এই প্রকল্পগুলোর মধ্যে রয়েছে বাংলাদেশ বিমান বাহিনী ঘাঁটি কক্সবাজারে বিমানসেনা ব্যারাক কমপ্লেক্স নির্মাণ প্রকল্প, নৌবাহিনী স্কুল অ্যান্ড কলেজ সাভার স্থাপন প্রকল্প, বাংলাদেশ বিমান বাহিনী স্টেশন শমসেরনগর বিদ্যমান বিএএফ শাহীন কলেজের শিক্ষার মান উন্নয়ন ও শিক্ষাদান সক্ষমতা বৃদ্ধির জন্য ভৌত অবকাঠামো নির্মাণ প্রকল্প এবং প্যাগোডাভিত্তিক প্রাক-প্রাথমিক ও ক্রিপিটক শিক্ষা কার্যক্রম ৪র্থ পর্যায় প্রকল্প।
এলজিআরডি প্রতিমন্ত্রীর মানহানির অভিযোগে ৪ সাংবাদিকের বিরুদ্ধে মামলা
মানহানির মামলায় আত্মসমর্পণের জন্য আদালতে এমপি আমির হামজা
বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজসম্পদ মন্ত্রী ইকবাল হাসান মাহমুদ টুকুকে নিয়ে কটূক্তির অভিযোগে করা মানহানির মামলায় আত্মসমর্পণের জন্য সিরাজগঞ্জ আদালতে হাজির হয়েছেন কুষ্টিয়া-৩ আসনের সংসদ সদস্য মুফতি আমির হামজা।
রোববার (১৪ জুন) দুপুর আড়াইটার দিকে তিনি আদালত প্রাঙ্গণে পৌঁছালে সেখানে বাড়তি নিরাপত্তা ব্যবস্থা নেওয়া হয়। আদালত চত্বরের বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ স্থানে অতিরিক্ত পুলিশ সদস্য মোতায়েন করা হয়।
মামলার আইনজীবী অ্যাডভোকেট আমিনুল ইসলাম মল্লিক জানান, হাইকোর্ট থেকে আগাম জামিন নেওয়ার পর নিম্ন আদালতে আত্মসমর্পণ করে জামিন আবেদন করবেন আমির হামজা। এ বিষয়ে সিদ্ধান্ত দেবেন আদালত।
গত ২ এপ্রিল মন্ত্রী ইকবাল হাসান মাহমুদ টুকুকে ‘নাস্তিক’ ও ‘ইসলামবিদ্বেষী’ আখ্যা দেওয়ার অভিযোগে তার বিরুদ্ধে মানহানির মামলা করা হয়। একইদিন আদালত তাকে ২১ এপ্রিল হাজির হওয়ার নির্দেশ দিয়ে সমন জারি করেন।
তবে নির্ধারিত দিনে আদালতে উপস্থিত না হওয়ায় তার বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি করা হয়। পরবর্তীতে আদালতে হাজির না হওয়ায় গত ১৭ মে অতিরিক্ত চিফ জুডিসিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট সুমন কর্মকার পত্রিকায় বিজ্ঞপ্তি প্রকাশের নির্দেশ দেন।
খুলনায় মসজিদে সন্ত্রাসীদের গুলি, দুই মুসল্লি গুলিবিদ্ধ
আবু সাঈদ হত্যা মামলার পূর্ণাঙ্গ রায় প্রকাশ
নাঈমকে মারধরের ঘটনায় দায়ীদের সর্বোচ্চ শাস্তির আশ্বাস সিএমপি কমিশনারের
জাতীয় ক্রিকেট দলের স্পিনার নাঈম হাসানকে মারধর ও থানায় নিয়ে যাওয়ার ঘটনায় জড়িত পুলিশ সদস্যদের বিরুদ্ধে সর্বোচ্চ শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নেওয়ার আশ্বাস দিয়েছেন চট্টগ্রাম মেট্রোপলিটন পুলিশের (সিএমপি) কমিশনার হাসান মো. শওকত আলী।
শনিবার (১৩ জুন) দুপুরে নগরের বহদ্দারহাটের ফরিদারপাড়া এলাকায় নাঈমের বাসায় গিয়ে তার সঙ্গে এবং পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে কথা বলেন সিএমপি কমিশনার। পরে সাংবাদিকদের তিনি বলেন, “নাঈম সাহেবের কাছ থেকে আমি নিজে বিস্তারিত শুনেছি। গত রাতেই ব্যবস্থা নিতে নির্দেশ দিয়েছি। এ ঘটনায় যারা দায়ী, তাদের বিরুদ্ধে যথোপযুক্ত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”
তিনি জানান, এরই মধ্যে এসআই শফিকুল ইসলাম ও কনস্টেবল রাসেলকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছে। “শুধু সাময়িক বরখাস্ত নয়, এ ঘটনার সর্বোচ্চ শাস্তি নিশ্চিত করা হবে। পুলিশ সবসময় পেশাদারিত্বের সঙ্গে কাজ করতে চায়। কেউ যদি অপেশাদার আচরণ করে, তার বিরুদ্ধে বিধি অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া হবে”
সিএমপি কমিশনার আরও বলেন, “জড়িত কাউকে ছাড় দেওয়া হবে না। কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”
এর আগে, শুক্রবার রাতে ঢাকা থেকে চট্টগ্রামে ফেরার পথে নগরের লালখান বাজার এলাকায় নাঈমকে বহনকারী একটি সিএনজিচালিত অটোরিকশা থামিয়ে পুলিশ সদস্যরা তাকে জোরপূর্বক গাড়িতে তোলার চেষ্টা করেন বলে অভিযোগ ওঠে। নাঈমের দাবি, নিজের পরিচয় ও পরিচয়পত্র দেখানোর পরও তাকে লাঠি ও পাইপ দিয়ে মারধর করা হয় এবং পরে খুলশী থানায় নিয়ে যাওয়া হয়।
ঘটনায় পুলিশের এক সোর্স নিজেকে ডিবির সদস্য পরিচয় দিয়ে মারধরে অংশ নিয়েছিলেন—এমন অভিযোগের বিষয়ে জানতে চাইলে কমিশনার বলেন, “তাকে ইতোমধ্যে আটক করা হয়েছে। পুলিশ সদস্যদের বিরুদ্ধেও বিধি অনুযায়ী সর্বোচ্চ ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
নাঈমের সঙ্গে আলোচনার প্রসঙ্গে তিনি বলেন, “উনি আমাকে পুরো ঘটনা বলেছেন। আমি স্বীকার করছি, পুলিশের পক্ষ থেকে সেখানে পেশাদার আচরণ করা হয়নি।”
ঘটনার তদন্তে তিন সদস্যের একটি কমিটি গঠন করা হয়েছে জানিয়ে শওকত আলী বলেন, “যারা অভিযানে ছিল, তাদের সবার বিরুদ্ধে বিভাগীয় মামলা হবে। তদন্ত কমিটির প্রতিবেদন পাওয়ার পর পরবর্তী ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”
জাতীয় বাজেট ও আমাদের গণমাধ্যম --আবু সালেহ আখন্দ
বাজেটে তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রণালয়ের জন্য ১ হাজার ১৯০ কোটি টাকা বরাদ্দের প্রস্তাব করা হয়েছে। যা গতবছরের সংশোধিত বাজেটের তুলনায় ৩৩ কোটি টাকা কম। যা দু:থজনক। জাতীয় বাজেটে গণমাধ্যমের জন্য আলাদা কোন বাজেট থাকে না। তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রণালয়ের বরাদ্দ থেকেই গণমাধ্যম বরাদ্দ পায়। সেই বরাদ্দ যে যথাযথভাবে ব্যবহৃত হয় তার কোন নজির নেই!
গণমাধ্যম বেঁচে থাকার মূল যে অর্থটা আসে তা হলো বিজ্ঞাপন থেকে। সেক্ষেত্রেও দেখা গেছে দেশীয় বিজ্ঞাপনের একটি বড় অংশ চলে যায় বিদেশীদের হাতে। যেমন ফেসবুক, ইউটিউবসহ অন্যান্য মাধ্যমে। তাহলে দেশীয় গণমাধ্যম কিভাবে বাঁচবে তা নিয়ে কারো ভাবনা আপতত নেই!
আমরা বরাবরই সরকারের কাছে সাংবাদিকদের জন্য অবসরভাতা, চিকিৎসাভাতা, বেকারভাতাসহ অন্যান্য সুযোগসুবিধা দাবি করে আসছি। বরাবরের মতো এবারও সেটি উপেক্ষিত। কল্যানট্রাষ্টের মাধ্যমে সাংবাদিকদের যে অনুদান দেয়া হয়, অনেক সাংবাদিক না খেয়ে থাকলেও সেই দান গ্রহণ করবেন না। কিন্তু অবসরভাতা, চিকিৎসাভাতা বা বেকারভাতা সরকারিভাবে ঘোষণা করা হলে তা গ্রহণ করবেন। বিষয়গুলো অবশ্যই এই সরকারকে ভাবতে হবে।
ফ্যাসিষ্ট আমলে অনেক মিডিয়া মালিক এবং কিছু সাংবাদিক আঙ্গুল ফুলে কলাগাছ হয়েছে। তারা সরকারি নানা সুযোগসুবিধা ভোগ করেছে। শতশত কোটি টাকা লোপাট করেছে। বিজ্ঞাপনের ক্ষেত্রেও অসমনীতি ছিলো সেই আমলে। আমরা তেমনটি আর চাই না। বিজ্ঞাপনের সুসমবন্টন হবে, সাংবাদিকরা সকল প্রকার সুযোগ সুবিধা পাবে; এটাই এই সরকারের কাছে প্রত্যাশা।
আবু সালেহ আখন্দ, সভাপতি, ঢাকা রিপোর্টাস ইউনিটি
জুলাই স্মৃতিস্তম্ভে আগুন: নেত্রকোনায় আ.লীগ নেতাসহ ২৫ জনের বিরুদ্ধে মামলা
নেত্রকোনার জেলা শহরে জুলাই স্মৃতিস্তম্ভে অগ্নিসংযোগের ঘটনায় আওয়ামী লীগ ও সহযোগী সংগঠনের নেতাকর্মীদের বিরুদ্ধে মামলা হয়েছে। এ ঘটনায় আওয়ামী লীগ, স্বেচ্ছাসেবক লীগ, যুবলীগ ও ছাত্রলীগের ২৫ জন নেতাকর্মীকে নাম উল্লেখ করে এবং আরও ১০-১২ জনকে অজ্ঞাতনামা আসামি করা হয়েছে।
বৃহস্পতিবার (১১ জুন) সকালে বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন নেত্রকোনা মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. আল মামুন সরকার। মামলার বাদী আহত জুলাই যোদ্ধা ও এনসিপি নেত্রকোনা জেলা কমিটির সিনিয়র সদস্যসচিব মুশফিকুর রহমান মিন্টু। বুধবার রাতে তিনি মামলাটি দায়ের করেন
মামলার এজাহার অনুযায়ী, আসামিদের মধ্যে রয়েছেন জেলা আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক মারুফ হাসান খান অভ্র, সাংগঠনিক সম্পাদক রেজাউল হাফিজ রেশিম ও দেওয়ান রনি, জেলা স্বেচ্ছাসেবক লীগের সভাপতি অ্যাডভোকেট আরিফুজ্জামান রনি ও সাধারণ সম্পাদক আরেফিন কায়সার শুভ, যুবলীগ নেতা দেওয়ান বাঁধন এবং ছাত্রলীগ নেতা কৌশিক রায় ও গৌরব আহমেদ খানসহ আরও অনেকে। তবে অভিযোগের বিষয়ে তাঁদের বক্তব্য পাওয়া যায়নি।
এজাহারে বলা হয়, ২০২৪ সালের ৫ আগস্টের পর জুলাই আন্দোলনে নিহত ও আহতদের স্মরণে নেত্রকোনা শহরের জয়নগর মোড়ে জুলাই স্মৃতিস্তম্ভ নির্মাণ করা হয়। গত ১০ জুন সকালে স্থানীয়দের মাধ্যমে বাদী জানতে পারেন, রাতের আঁধারে একদল ব্যক্তি স্মৃতিস্তম্ভে আগুন দেয় এবং বিভিন্ন স্লোগান দিতে দিতে ঘটনার ভিডিও ধারণ করে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে দেয়।
বাদীর অভিযোগ, এই কর্মকাণ্ডের মাধ্যমে দেশে নৈরাজ্য সৃষ্টি, আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির অবনতি ঘটানো এবং জনমনে আতঙ্ক ছড়ানোর চেষ্টা করা হয়েছে।
নেত্রকোনা মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আল মামুন সরকার বলেন, “এ ঘটনায় মামলা দায়ের হয়েছে। এখনো কাউকে গ্রেপ্তার করা সম্ভব হয়নি। তবে আসামিদের গ্রেপ্তারে পুলিশের অভিযান অব্যাহত রয়েছে।”
উল্লেখ্য, মঙ্গলবার (৯ জুন) দিবাগত রাতে নেত্রকোনা শহরের মোক্তারপাড়া এলাকার জয়নগর মোড়ে অবস্থিত জুলাই স্মৃতিস্তম্ভে অগ্নিসংযোগের ঘটনা ঘটে।
খালাস পেলেন নাসির-তামিমা, মামলা খারিজ
আইনগতভাবে বিচ্ছেদের আগেই নতুন করে বিয়ে করার অভিযোগে দায়ের করা মামলায় ক্রিকেটার নাসির হোসেন ও তার স্ত্রী তামিমা সুলতানা তাম্মিকে খালাস দিয়েছেন আদালত।
বুধবার (১০ জুন) ঢাকার অতিরিক্ত মুখ্য মহানগর হাকিম জশিতা ইসলাম এ রায় ঘোষণা করেন। ব্যভিচারের অভিযোগ এনে তামিমার সাবেক স্বামী রাকিব হোসেন ২০২১ সালে এ মামলা করেছিলেন। এরপর থেকে চার বছরের বেশি সময় ধরে চলছিলো আলোচিত এই মামলা।
মামলার অভিযোগে বলা হয়, ২০১১ সালে রাকিবের সঙ্গে তামিমার বিয়ে হয়। তাদের একটি কন্যাসন্তানও রয়েছে। কিন্তু বৈবাহিক সম্পর্ক চলমান থাকা অবস্থায় ২০২০ সালের ১৪ ফেব্রুয়ারি তামিমা ক্রিকেটার নাসির হোসেনকে বিয়ে করেন।
২০২১ সালের ফেব্রুয়ারিতে নাসির ও তামিমার বিয়ের ছবি প্রকাশ্যে এলে বিষয়টি জানতে পারেন রাকিব। পরে তিনি ঢাকার মুখ্য মহানগর হাকিম আদালতে মামলা দায়ের করেন। তদন্ত শেষে একই বছরের সেপ্টেম্বরে নাসির, তামিমা ও তামিমার মা সুমি আক্তারকে আসামি করে অভিযোগপত্র জমা দেয় পুলিশ।
২০২২ সালে অভিযোগ গঠনের মাধ্যমে নাসির ও তামিমার বিচার শুরু হয়। তবে তামিমার মা সুমি আক্তারকে মামলা থেকে অব্যাহতি দেওয়া হয়। পরে অভিযোগ গঠনের আদেশের বিরুদ্ধে আসামিপক্ষ এবং অব্যাহতির বিরুদ্ধে বাদীপক্ষ পৃথক আবেদন করলেও ২০২৩ সালে আদালত উভয় আবেদনই খারিজ করে দেন। এর মধ্য দিয়ে মামলার বিচার কার্যক্রমের আইনি বাধা দূর হয়।
মামলায় মোট ১০ জন সাক্ষীর সাক্ষ্য গ্রহণ করা হয়। চলতি বছরের মার্চে আত্মপক্ষ সমর্থনের শুনানিতে নাসির ও তামিমা নিজেদের নির্দোষ দাবি করেন। পরে আদালতে সাফাই সাক্ষ্য দিয়ে তামিমা বলেন, আগের স্বামীর সঙ্গে দাম্পত্য জীবনের অবসান ঘটিয়ে বৈধভাবেই তিনি নাসির হোসেনকে বিয়ে করেছেন।
নাসিরের বিরুদ্ধে দুটি এবং তামিমার বিরুদ্ধে তিনটি ধারায় অভিযোগ গঠন করে বিচার পরিচালিত হয়। অভিযোগ প্রমাণিত হলে নাসিরের সর্বোচ্চ সাত বছর এবং তামিমার সর্বোচ্চ ২১ বছরের কারাদণ্ড হতে পারত। তবে বিচার শেষে আদালত অভিযোগ প্রমাণিত না হওয়ায় দুজনকেই খালাস দেন।
জাইমা রহমানকে নিয়ে আপত্তিকর পোস্ট শেয়ারের অভিযোগে কিশোর গ্রেপ্তার
বাগেরহাটের কচুয়া উপজেলায় সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের মেয়ে জাইমা রহমানকে নিয়ে আপত্তিকর পোস্ট শেয়ার করার অভিযোগে এক কিশোরকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ।
গ্রেপ্তার হওয়া কিশোরের নাম শেখ রসুল ওরফে রফিকুল (২৪)। তিনি উপজেলার গোপালপুর গ্রামের জাহিদ শেখের ছেলে। সোমবার রাতে উপজেলার বাঁধাল এলাকায় অভিযান চালিয়ে তাকে গ্রেপ্তার করা হয়।
কচুয়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) শফিকুল ইসলাম মঙ্গলবার সকালে জানান, ঢাকার মিরপুরে রামিসা হত্যা মামলার ঘটনার দুদিন পর শেখ রসুল তার ফেসবুক আইডি থেকে জাইমা রহমানকে নিয়ে একটি আপত্তিকর পোস্ট শেয়ার করেন বলে অভিযোগ পাওয়া যায়।
ওসি বলেন, এ ঘটনায় তার বিরুদ্ধে বিশেষ ক্ষমতা আইনে মামলা দায়ের করা হয়েছে। গ্রেপ্তারের পর মঙ্গলবার দুপুরে তাকে আদালতে পাঠানোর প্রক্রিয়া চলছে।
পুলিশ জানিয়েছে, রফিকুলের সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে আপত্তিকর ও উসকানিমূলক বক্তব্য প্রচারের অভিযোগ তদন্ত করে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে।