ছিনতাইয়ের পর গার্মেন্টস কর্মীকে হত্যা: ৩ জনের মৃত্যুদণ্ড

Newsdesk
Newsdesk Newsdesk
প্রকাশিত: ৩:৫৬ অপরাহ্ন, ০৬ অক্টোবর ২০২৬ | আপডেট: ৩:৫৭ পূর্বাহ্ন, ০৭ অক্টোবর ২০২৬

চার বছর আগে মিরপুর শহীদ বুদ্ধিজীবী স্মৃতিসৌধে সায়মন নামে এক গার্মেন্টস কর্মীর টাকা ও মোবাইল ফোন ছিনিয়ে নিয়ে তাকে হত্যার মামলায় তিনজনকে মৃত্যুদণ্ড দিয়েছেন আদালত। একই মামলায় চোরাই মোবাইল কেনার দায়ে সুজন নামে আরেক আসামিকে তিন বছরের কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছে।

মঙ্গলবার (৬ অক্টোবর) ঢাকার ১৩তম অতিরিক্ত মহানগর দায়রা জজ জাহিদুল ইসলামের আদালত এ রায় দেন। আদালতের বেঞ্চ সহকারী সোহেল মিয়া এ তথ্য জানিয়েছেন।

মৃত্যুদণ্ড পাওয়া তিন আসামি হলেন— মো. ইউসুফ, ইকবাল খাঁ ও মেহেদী হাসান। মৃত্যুদণ্ডের পাশাপাশি তাদের ২০ হাজার টাকা করে অর্থদণ্ড করা হয়েছে।

আদালতের অ্যাডিশনাল পাবলিক প্রসিকিউটর আবুল কালাম আজাদ বলেন, রায় ঘোষণার আগে কারাগারে থাকা তিন আসামি ইউসুফ, ইকবাল ও মেহেদী হাসানকে আদালতে হাজির করা হয়। রায় শেষে সাজা পরোয়ানা দিয়ে তাদের কারাগারে পাঠানো হয়। সুজন পলাতক থাকায় তার বিরুদ্ধে সাজা পরোয়ানাসহ গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি করা হয়েছে।

মামলার বিবরণে বলা হয়েছে, ১৭ বছর বয়সী সায়মন মিরপুর-১ নম্বরে সনি সিনেমা হলের পেছনে লিবার্টি গার্মেন্টসে ১০ হাজার টাকা বেতনে চাকরি করতেন। ২০২২ সালের ১১ অক্টোবর অফিস থেকে বেতন তুলে দুই সহকর্মী রিফাত হোসেন রাব্বি ও হৃদয় হাসানের সঙ্গে কেনাকাটা করতে মিরপুর-১ এলাকায় যান তিনি।

এজহারে আরও বলা হয়, কেনাকাটা শেষে রাত ৯ টার দিকে বাসায় ফেরার পথে অজ্ঞাতনামা তিন ছিনতাইকারীর একজন আড়ং শপিং সেন্টারের সামনে সায়মনকে বলেন, সে নাকি তার ছোট ভাইকে মেরেছে। ‘কথা আছে’ বলে তিনি সায়মান ও রিফাতকে ভয়ভীতি দেখিয়ে রূপায়ন টাওয়ারের সামনে থেকে রিকশায় করে দারুস সালাম থানার কোনাবাড়ি হয়ে কাঁচাবাজারের সামনে নিয়ে যান।

শহীদ বুদ্ধিজীবী স্মৃতিসৌধের কাঁচাবাজারের সামনে রিফাতকে নামিয়ে দেওয়া হয় রিকশা থেকে। আর সায়মনকে বুদ্ধিজীবী স্মৃতিসৌধের ভেতর নিয়ে যান। সেখানে তিন ছিনতাইকারী চাকু বের করে ভয় দেখিয়ে সায়মনের কাছে যা যা আছে দিয়ে দিতে বলেন।

মামলার বিবরণে আরও বলা হয়, সায়মন মোবাইল ও টাকা দিতে অস্বীকৃতি জানালে তারা তাকে ছুরি দিয়ে আঘাত করেন। তার কাছে থাকা টাকা ও মোবাইল ফোন ছিনিয়ে নিয়ে ঘটনাস্থল থেকে চলে যায় তারা। সায়মনের চিৎকারে আশপাশের লোকজন গিয়ে তাকে উদ্ধার করে পঙ্গু হাসপাতালে নিয়ে যায়। সেখানে নেওয়ার পর কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন।

এ ঘটনায় সায়মনের বাবা শাজাহান শেখ অজ্ঞাতনামাদের আসামি করে দারুস সালাম থানায় মামলা করেন। তদন্তে নেমে দারুস সালাম থানা পুলিশ ইউসুফকে গ্রেপ্তার করে। পরে তিনি ইকবাল ও মেহেদী হাসানও ঘটনার সাথে জড়িত মর্মে স্বীকার করে।

সায়মনের মোবাইল বিক্রির টাকা ইউসুফের বাসা থেকে উদ্ধার করে পুলিশ। সুজনের কাছে সায়মনের মোবাইলটি ২ হাজার ২০০ টাকায় বিক্রি করার কথাও সে স্বীকার করে।

মামলার তদন্ত শেষে ইউসুফ, ইকবাল ও মেহেদী হাসানের বিরুদ্ধে ছিনতাইয়ের পর হত্যার অভিযোগে এবং সুজনের বিরুদ্ধে চোরাই মাল নিজের কাছে রাখার অপরাধে ২০২৩ সালের ৩১ জানুয়ারি আদালতে অভিযোগপত্র জমা দেন দারুস সালাম থানার এসআই সোহান আহমেদ।

২০২৩ সালের ২ আগস্ট আসামিদের বিরুদ্ধে অভিযোগ গঠন করে বিচার শুরু হয়। মামলার বিচার চলাকালে আদালত ১৮ জনের সাক্ষ্য গ্রহণ করেন। পরে আসামিদের আত্মপক্ষ সমর্থনের শুনানি ও মামলার যুক্তিতর্ক উপস্থাপন শেষে আজ মঙ্গলবার রায় ঘোষণা করলেন আদালত।