দাউদকান্দিতে মসজিদ কমিটি গঠন ঘিরে সংঘর্ষ, আহত অন্তত ৩০

Newsdesk
Newsdesk Newsdesk
প্রকাশিত: ৫:১২ অপরাহ্ন, ০৬ জুলাই ২০২৬ | আপডেট: ১২:১১ পূর্বাহ্ন, ০৭ জুলাই ২০২৬

কুমিল্লার দাউদকান্দি উপজেলার পশ্চিম হুগুলিয়া গ্রামের মারকাজ মসজিদের কমিটি গঠনকে কেন্দ্র করে তাবলিগ জামাতের দুই পক্ষের বিরোধ রক্তক্ষয়ী সংঘর্ষে গড়িয়েছে।

রোববার (৫ জুলাই) রাত সাড়ে ৯টা থেকে প্রায় এক ঘণ্টা দফায় দফায় চলা সংঘর্ষে অন্তত ৩০ জন আহত হয়েছেন। তাদের মধ্যে ১৭ জনকে দাউদকান্দি উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করা হয়েছে।

আহতদের মধ্যে পাঁচজনের অবস্থা আশঙ্কাজনক বলে জানিয়েছেন উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের চিকিৎসক আবদুল লতিফ। তিনি বলেন, ধারালো অস্ত্র, টেঁটা ও ইটপাটকেলের আঘাতে আহত এসব ব্যক্তিকে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নেওয়ার পরামর্শ দেওয়া হলেও আর্থিক সংকটের কারণে তারা স্থানীয় হাসপাতালেই চিকিৎসা নিচ্ছেন।

স্থানীয়দের দাবি, মরহুম হাজি জৈনুদ্দিন দান করা সাড়ে চার বিঘা জমিতে মারকাজ মসজিদটি নির্মাণ করা হয়। দলিল অনুযায়ী স্থানীয় বাসিন্দাদের মসজিদ উন্নয়ন কমিটিতে থাকার কথা থাকলেও বহিরাগতদের আধিপত্যের কারণে তারা বঞ্চিত হচ্ছেন।

আহত সাইফুল্লাহ অভিযোগ করেন, দান করা জমিতে নির্মিত মাদ্রাসা পরিচালনার মাধ্যমে বহিরাগতরা আর্থিক সুবিধা নিচ্ছেন এবং সম্পত্তি আত্মসাতের চেষ্টা করছেন। সম্পত্তি রক্ষার আন্দোলনে নামায় প্রবাসী দুলাল মিয়ার নেতৃত্বে তাদের ওপর হামলা চালানো হয়েছে বলেও অভিযোগ করেন তিনি।

অন্যদিকে প্রবাসী দুলাল মিয়া দাবি করেন, হাজি জৈনুদ্দিনের দান করা সম্পত্তি আলেম সমাজের তত্ত্বাবধানে পরিচালনার পক্ষে তারা অবস্থান নিয়েছেন। এ বিষয়েই দীর্ঘদিন ধরে গ্রামের দুই পক্ষের মধ্যে বিরোধ, হামলা ও পাল্টা হামলার ঘটনা ঘটছে।

ঘটনার বিষয়ে দাউদকান্দি মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. সাজেদুল ইসলাম বলেন, মসজিদ কমিটি নিয়ে সংঘর্ষের খবর পাওয়া গেছে। লিখিত অভিযোগ পেলে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) নাছরীন আক্তার জানান, ঘটনাস্থল পরিদর্শনের পর জড়িতদের বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

স্থানীয় সূত্র জানায়, একই বিরোধের জেরে গত ২২ মার্চ থেকে মারকাজ মসজিদে তালা ঝুলছে। এর আগে ২৮ এপ্রিল তালা খোলাকে কেন্দ্র করেও দুই পক্ষের সংঘর্ষে অন্তত ১০ জন আহত হয়েছিলেন। দুই পক্ষই একে অপরের বিরুদ্ধে ওয়াক্‌ফ সম্পত্তি দখলের চেষ্টা, প্রশাসনের সিদ্ধান্ত অমান্য এবং আলোচনায় অনাগ্রহের অভিযোগ করে আসছে।