সারাদেশে উদযাপিত হচ্ছে পবিত্র ঈদুল ফিতর

Shahinur Rahman Uzzol
Shahinur Rahman Uzzol Shahinur Rahman Uzzol
প্রকাশিত: ৫:৪৩ অপরাহ্ন, ২১ মার্চ ২০২৬ | আপডেট: ৩:০৫ অপরাহ্ন, ২৮ মার্চ ২০২৬
দীর্ঘ এক মাস সিয়াম সাধনার পর মুসলিম উম্মাহর সবচেয়ে বড় ধর্মীয় উৎসব পবিত্র ঈদুল ফিতর আজ শনিবার (২১ মার্চ) সারাদেশে উদযাপিত হচ্ছে। দীর্ঘ প্রতীক্ষার অবসান ঘটিয়ে উৎসবের আনন্দে ভাসছে রাজধানীসহ পুরো দেশ।

ঈদকে ঘিরে ঘরে ঘরে ছিল শেষ মুহূর্তের প্রস্তুতি। সেমাই, চিনি, পোলাওয়ের চাল আর নতুন পোশাকের সুবাসে মুখর ছিল চারপাশ।

শুক্রবার (২০ মার্চ) সন্ধ্যায় শাওয়াল মাসের চাঁদ দেখা যাওয়ার খবরে পাড়া-মহল্লায় নেমে আসে আনন্দের ঢেউ। শিশু-কিশোররা মেতে ওঠে উল্লাসে।

এর আগে বৃহস্পতিবার (১৯ মার্চ )জাতীয় চাঁদ দেখা কমিটির বৈঠকে জানানো হয়, দেশের কোথাও চাঁদ দেখা যায়নি। ফলে রমজান মাস ৩০ দিন পূর্ণ হয়।

পরদিন শুক্রবার চাঁদ দেখা যাওয়ার পরই ঈদ উদযাপনের ঘোষণা আসে।
এবারের ঈদে রয়েছে ভিন্ন মাত্রা। নতুন সরকারের অধীনে এটি প্রথম ঈদ হওয়ায় রাজনৈতিক অঙ্গনেও রয়েছে বাড়তি আলোচনা ও উৎসাহ।

তবে ঈদের আনন্দে কিছুটা বিঘ্ন ঘটাতে পারে আবহাওয়া।

আবহাওয়া অধিদপ্তর জানিয়েছে, ঈদের দিন দেশের বিভিন্ন স্থানে বৃষ্টিপাত হতে পারে। ফলে ঈদের জামাতে অংশ নিতে মুসল্লিদের বাড়তি প্রস্তুতি নেওয়ার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।

রাজধানীর জাতীয় ঈদগাহ ময়দানে সকাল সাড়ে ৮টায় প্রধান জামাত অনুষ্ঠিত হয়েছে। এ উপলক্ষে সব প্রস্তুতি সম্পন্ন করা হয়। প্যান্ডেল, মাইক ও ওজুখানার ব্যবস্থা করা হয়েছে এবং নিরাপত্তা জোরদার করা হয়েছে।

প্রবেশপথে মেটাল ডিটেক্টর ও আর্চওয়ে বসানো হয়, পাশাপাশি সিসিটিভি ক্যামেরায় সার্বক্ষণিক নজরদারি রাখা হয়েছে।
জাতীয় ঈদগাহ ছাড়াও বায়তুল মোকাররম জাতীয় মসজিদে পর্যায়ক্রমে একাধিক জামাত অনুষ্ঠিত হচ্ছে।

ঈদকে ঘিরে রাজধানীর বিপণিবিতানগুলোতে ছিল উপচে পড়া ভিড়। শেষ মুহূর্তেও নিউ মার্কেট, গাউছিয়া, বসুন্ধরা সিটি ও যমুনা ফিউচার পার্কে কেনাকাটায় ব্যস্ত ছিল মানুষ। জুতা, টুপি ও আতরের দোকানগুলোতে ছিল ক্রেতাদের দীর্ঘ সারি।

আজও নাড়ির টানে ঘরে ফিরেছেন মানুষ। এতে রাজধানী অনেকটাই ফাঁকা হয়ে গেছে।

পবিত্র ঈদুল ফিতর উপলক্ষে রাষ্ট্রপতি ও প্রধানমন্ত্রী দেশবাসীকে শুভেচ্ছা জানিয়েছেন। তারা ত্যাগের শিক্ষা ধারণ করে সম্প্রীতির সমাজ গড়ে তোলার আহ্বান জানিয়েছেন।

ঈদের এই আনন্দ ধনী-দরিদ্রের ভেদাভেদ ভুলে এক হওয়ার। ঈদগাহে কাঁধে কাঁধ মিলিয়ে নামাজ আদায়ের মধ্য দিয়ে সাম্যের বার্তা ছড়িয়ে পড়ছে সর্বত্র। ঘরে ঘরে তৈরি হচ্ছে সুস্বাদু খাবার, চলছে কোলাকুলি ও শুভেচ্ছা বিনিময়।

হিংসা-বিদ্বেষ ভুলে সম্প্রীতির বন্ধনে আবদ্ধ হচ্ছে পুরো জাতি-এভাবেই উদযাপিত হচ্ছে পবিত্র ঈদুল ফিতর।