ফ্লোরিডায় বাংলাদেশি শিক্ষার্থী খুন: অভিযুক্তের মিথ্যা বয়ান, তদন্তে চাঞ্চল্যকর তথ্য

Newsdesk
Newsdesk Newsdesk
প্রকাশিত: ৩:২২ অপরাহ্ন, ২৭ এপ্রিল ২০২৬ | আপডেট: ৫:৪১ অপরাহ্ন, ২৭ এপ্রিল ২০২৬

যুক্তরাষ্ট্রের ফ্লোরিডা অঙ্গরাজ্যে দক্ষিণ ফ্লোরিডা বিশ্ববিদ্যালয়ের দুই বাংলাদেশি পিএইচডি শিক্ষার্থীর নৃশংস হত্যাকাণ্ড ঘিরে চাঞ্চল্যকর তথ্য প্রকাশ করেছেন মার্কিন প্রসিকিউটররা। ফ্লোরিডার হাওয়ার্ড ফ্রাঙ্কল্যান্ড ব্রিজ এলাকা থেকে উদ্ধার হওয়া জামিল আহমেদ লিমন (২৭) ও নাহিদা এস বৃষ্টির (২৭) নিখোঁজ ও হত্যার ঘটনায় এখন মূল সন্দেহভাজন হিসেবে উঠে এসেছে লিমনের রুমমেট হিশাম আবুঘরবেহর (২৬) নাম।

রোববার (২৬ এপ্রিল) হিলসবরো কাউন্টি আদালতে প্রসিকিউটরদের দাখিল করা প্রি-ট্রায়াল ডিটেনশন (বিচার শুরুর আগে আটকাদেশ) মোশনে বলা হয়, হত্যাকাণ্ডের ধরন এতটাই ভয়াবহ যে অভিযুক্তকে জামিন দিলে তা সমাজের জন্য গুরুতর ঝুঁকি তৈরি করতে পারে।

তদন্তকারীদের বরাতে জানা যায়, হাওয়ার্ড ফ্রাঙ্কল্যান্ড ব্রিজ থেকে লিমনের ক্ষতবিক্ষত মরদেহ উদ্ধার করা হয়। ময়নাতদন্তে তার শরীরে একাধিক ধারালো অস্ত্রের আঘাতের চিহ্ন পাওয়া গেছে। এর মধ্যে পিঠের নিচের অংশে একটি গভীর আঘাত পাওয়া যায়, যা লিভার ভেদ করে গিয়েছিল বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।

প্রসিকিউটররা আদালতকে জানান, নাহিদা এস বৃষ্টির পরিণতিও একই ধরনের হতে পারে এবং তাকেও ব্রিজের আশপাশের কোনো স্থানে ফেলে দেওয়া হয়েছে বলে ধারণা করা হচ্ছে। তদন্তকারীরা বৃষ্টির পরিবারকে জানিয়েছেন, তার বেঁচে থাকার সম্ভাবনা অত্যন্ত ক্ষীণ। এ বিষয়ে তারা লিমন ও হিশামের শেয়ার করা অ্যাপার্টমেন্টে বিপুল পরিমাণ রক্তের উপস্থিতির কথা উল্লেখ করেন।


বৃষ্টির ভাই জাহিদ হাসান প্রান্ত সিএনএনের সহযোগী সংবাদমাধ্যম ডব্লিউটিএসপিকে জানান, অ্যাপার্টমেন্টে পাওয়া রক্তের পরিমাণ দেখে গোয়েন্দারা নিশ্চিত হয়েছেন সেখানে বড় ধরনের সহিংস ঘটনা ঘটেছে।

উল্লেখ্য, রোববার রাতে হাওয়ার্ড ফ্রাঙ্কল্যান্ড ব্রিজের দক্ষিণ পাশের জলাশয় থেকে কিছু দেহাংশ উদ্ধার করা হয়। তবে ডিএনএ পরীক্ষার আগে সেগুলো বৃষ্টির কিনা তা নিশ্চিত হওয়া যায়নি।

তদন্তের শুরুতে হিশাম আবুঘরবেহ গোয়েন্দাদের জানিয়েছিলেন, তিনি ওই দিন লিমন বা বৃষ্টিকে দেখেননি। এমনকি তিনি দাবি করেন, তার গাড়িতে তারা কখনো ওঠেননি এবং তিনি ক্লিয়ারওয়াটার বিচ এলাকাতেও যাননি। তবে প্রসিকিউটররা আদালতে তার বক্তব্যকে মিথ্যা প্রমাণ করতে একাধিক তথ্য উপস্থাপন করেন—

১. মোবাইল ও গাড়ির লোকেশন: লিমনের ফোনের শেষ অবস্থান এবং হিশামের গাড়ির লোকেশন একই সময়ে ক্লিয়ারওয়াটার বিচে পাওয়া যায়। এই প্রমাণের মুখোমুখি হলে হিশাম পরে দাবি করেন, তিনি লিমন ও তার বান্ধবীকে সেখানে নামিয়ে দিয়েছিলেন।

২. আঙুলে ব্যান্ডেজ: জিজ্ঞাসাবাদের সময় হিশামের বাম হাতের কনিষ্ঠ আঙুলে ব্যান্ডেজ দেখা যায়। তিনি জানান, পেঁয়াজ কাটতে গিয়ে আঘাত পেয়েছেন। তবে তদন্তকারীদের ধারণা, এটি ধস্তাধস্তির সময়ের আঘাত হতে পারে।

৩. আলামত নষ্টের ইঙ্গিত: লিমন ও হিশামের অ্যাপার্টমেন্ট থেকে একটি সিভিএস ফার্মেসির রসিদ উদ্ধার করা হয়। ১৬ এপ্রিলের ওই রসিদে ট্র্যাশ ব্যাগ, লাইসল ওয়াইপস ও ফেব্রেজ কেনার তথ্য পাওয়া যায়, যা হত্যাকাণ্ডের আলামত ও রক্তের গন্ধ লুকাতে ব্যবহার করা হতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে।

হিশাম আবুঘরবেহর বিরুদ্ধে বর্তমানে জোড়া খুন (পরিকল্পিত হত্যা), মৃতদেহ গোপন করা, আলামত নষ্ট করা, মিথ্যা তথ্য প্রদান এবং শারীরিক আঘাতসহ একাধিক অভিযোগ আনা হয়েছে। গত শুক্রবার একটি সাধারণ ঘরোয়া বিবাদের সূত্র ধরে পুলিশ তার বাসায় গেলে পুরো ঘটনা প্রকাশ্যে আসে।

হিলসবরো কাউন্টি শেরিফ চ্যাড ক্রনিস্টার এক আবেগঘন বিবৃতিতে বলেন, “এই ঘটনা আমাদের পুরো কমিউনিটিকে নাড়িয়ে দিয়েছে। আমরা আশা করেছিলাম তারা সুস্থভাবে ফিরে আসবে, কিন্তু এমন পরিণতি অত্যন্ত মর্মান্তিক।”

আগামী মঙ্গলবার (২৮ এপ্রিল) হিশামের প্রি-ট্রায়াল ডিটেনশন শুনানি অনুষ্ঠিত হবে। সেখানে প্রসিকিউটররা তার জামিন না দিয়ে বিচার শেষ না হওয়া পর্যন্ত কারাগারে রাখার পক্ষে যুক্তি উপস্থাপন করবেন।