৩০ লাখ কোটি টাকা ঋণ নিয়ে যাত্রা শুরু করেছে সরকার: প্রধানমন্ত্রী

Shahinur Rahman Uzzol
Shahinur Rahman Uzzol Shahinur Rahman Uzzol
প্রকাশিত: ৩:৫৫ অপরাহ্ন, ০৩ মে ২০২৬ | আপডেট: ৫:১০ অপরাহ্ন, ০৩ মে ২০২৬
প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান বলেছেন, ফ্যাসিবাদী শাসনামলে দুর্নীতি, লুটপাট রাষ্ট্র এবং জনগণকে ঋণগ্রস্ত করে ফেলেছিল। ফলে ৩০ লাখ কোটি টাকা ঋণের বোঝা নিয়েই বর্তমান সরকার যাত্রা শুরু করেছে। 

রবিবার (৩ মার্চ) সকালে রাজধানীর ওসমানী স্মৃতি মিলনায়তনে জেলা প্রশাসক (ডিসি) সম্মেলনে অংশ নিয়ে এসব কথা বলেন তিনি।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, দেশের ইতিহাসে সবচেয়ে ভঙ্গুর অর্থনীতি, দুর্বল ও বিভাজিত জনপ্রশাসন এবং অবনতিশীল আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির মধ্যে বর্তমান সরকার দায়িত্ব গ্রহণ করেছে। বিচার বিভাগ, নির্বাচন কমিশন, দুদকসহ প্রতিটি সাংবিধানিক ও বিধিবদ্ধ প্রতিষ্ঠানকে অকার্যকর করে দেওয়া হয়েছিল। শিক্ষা ও স্বাস্থ্য খাতেও ছিল ভঙ্গুর অবস্থা। দেশকে আমদানিনির্ভর রাষ্ট্রে পরিণত করা হয়েছিল, বেড়েছিল দারিদ্র্য ও বেকারত্ব, তৈরি হয়নি নতুন কর্মসংস্থান।

এই প্রতিকূল পরিস্থিতির পাশাপাশি যুদ্ধ পরিস্থিতিও নতুন সরকারের সামনে চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়িয়েছে উল্লেখ করে তারেক রহমান বলেন, যুদ্ধ পরিস্থিতি থেকে কোনো দেশই রেহাই পায়নি। তবে জনগণের ভোগান্তি না বাড়িয়ে কীভাবে পরিস্থিতি মোকাবিলা করা যায়, সেই প্রচেষ্টা সরকার অব্যাহত রেখেছে।

সরকারপ্রধান আরও বলেন, ১২ ফেব্রুয়ারির নির্বাচনে প্রমাণ হয়েছে, জনপ্রশাসন যদি সঠিকভাবে কাজ করে তাহলে সঠিকভাবে জনরায়ের প্রতিফলন হয়— যোগ করেন তিনি।

এ সময় জনপ্রশাসনের প্রতিটি পদকে গুরুত্বপূর্ণ ভেবে, যেকোনো পদে কাজ করতে নিজেদের প্রস্তুত করার আহ্বান জানান প্রধানমন্ত্রী। সেই সঙ্গে স্বচ্ছতা ও দ্রুততার সঙ্গে জনপ্রশাসনে শূন্য পদে নিয়োগ দেয়া হবে বলেও ঘোষণা দেন তিনি।

তিনি বলেন, দলমত নির্বিশেষে রাষ্ট্রের প্রতিটি নাগরিকের নিরাপত্তা নিশ্চিত করাই এ সরকারের অন্যতম লক্ষ্য। এরই মধ্যে বিভিন্ন সেক্টর চিহ্নিত করে, সরকার দেশে বিদেশে কর্মসংস্থান সৃষ্টিতে কাজ শুরু করেছে।

জুলাই সনদের প্রসঙ্গে তিনি বলেন, নির্বাচনি ইশতেহার ও স্বাক্ষরিত জুলাই সনদের প্রতিটি দফা পর্যায়ক্রমে বাস্তবায়নে এ সরকার বদ্ধপরিকর।

তিনি আরও বলেন, সুশাসন হবে বর্তমান সরকারের রাষ্ট্র পরিচালনার মূল ভিত্তি। ইচ্ছামতো নিত্যপণ্যের দাম বাড়ানো, সিন্ডিকেট তৈরি, কৃত্রিম সংকট তৈরি রোধে নিয়মিত বাজার তদারকি করতে হবে।

এসময় মোবাইল কোর্ট পরিচালনা নিয়মিত ও দৃশ্যমান করতে ডিসিদের প্রতি আহ্বান জানান প্রধানমন্ত্রী।