ভারতীয় পানি সন্ত্রাস ও আধিপত্যবাদের বিরুদ্ধে জনতার দলের আলোচনা সভা ও গণ যোগদান অনুষ্ঠান অনুষ্ঠিত

Tajuddin Ahmed
Tajuddin Ahmed Tajuddin Ahmed
প্রকাশিত: ৪:১৭ অপরাহ্ন, ২৭ জুন ২০২৬ | আপডেট: ৭:১১ অপরাহ্ন, ২৭ জুন ২০২৬


অবৈধ পুশইন ও পানি-সন্ত্রাসের বিরুদ্ধে একটি গুরুত্বপূর্ণ আলোচনা সভা ও সভা শেষে জনতার দলে তিন শতাধিক নতুন আজ ২৭ জুন ২০২৬ ইং সকাল এগারোটায় জহুর হোসেন চৌধুরী হলে জনতার দল কর্তৃক ভারতীয় আধিপত্যবাদ, সীমান্তে নেতা-কর্মীদের যোগদান অনুষ্ঠিত হয়। উক্ত আলোচনা সভায় গুরুত্বপূর্ণ বক্তব্য রাখেন দলের চেয়ারম্যান ব্রিগেডিয়ার (অবসরপ্রাপ্ত) শামীম কামাল, দলীয় মহাসচিব বীর মুক্তিযোদ্ধা আজম খান, দলের জ্যেষ্ঠ কৌশলগত ও পরিকল্পনা কমিটির চেয়ারম্যান অবসরপ্রাপ্ত লেফটেন্যান্ট জেনারেল সাব্বির আহমেদ, জনতার দলের নৈতিক কমিটির চেয়ারম্যান অবসরপ্রাপ্ত মেজর জেনারেল মাহাবুবুল আলম, জনতার দলের সাংগঠনিক সম্পাদক ও মুখপাত্র মেজর (অবসরপ্রাপ্ত) ডেল এইচ খান, প্রবীণ সাংবাদিক জাহাঙ্গীর চৌধুরী, বিশিষ্ট আইনজীবী পারভীন সুলতানা, বিশিষ্ট সমাজসেবী জাহান আরা আবেদীন, মেরিন ক্যাপ্টেন রেদোয়ান শিকদার, জুলাই যোদ্ধা আফসানা মনা ও জামাল, বিশিষ্ট কৃষিবিদ শাহাবুদ্দিন ফরাজি, শেখ মামুন এবং

জনতার দলে যুক্ত হওয়া সদ্য যুগ্ম মহাসচিব ফুয়াদ সাকী।

উক্ত আলোচনায় প্রবীণ সাংবাদিক জাহাঙ্গীর চৌধুরীর শেখ হাসিনাকে বাংলাদেশের লেন্দুপ দর্জি নামে অভিহিত করে বলেন যে ভারত ও ইসরায়েল উভয়ে যোগসাজশের মাধ্যমে বাংলাদেশে তাদের আধিপত্যবাদ বিস্তার করেছিল আওয়ামী আমলে এবং পরোক্ষভাবে বাংলাদেশকে তাদের শাসিত করে রেখেছিল, যা ২৪ এর জুলাইতে ভেঙে পড়ে। এখন থেকে আমাদেরকে

সজাগ থাকতে হবে দেশপ্রেমে উদ্বুদ্ধ হয়ে।

বিশিষ্ট আইনজীবী ও বাংলাদেশ মঞ্চের উপদেষ্টা পারভীন সুলতানা তার বক্তব্যে বাংলাদেশের ন্যায্য পানির হিস্যা নিয়ে ভারতের নানা অনিয়ম, অনীহা ও ভারতের অবৈধ জল-রাজনীতির বিষয়গুলি তুলে ধরেন।

জনতার দলের মুখপাত্র ও সাংগঠনিক সম্পাদক মেজর অবসরপ্রাপ্ত ডেল এইচ খান বাংলাদেশের বিভিন্ন সীমান্তে ও মানচিত্রে প্রতিবেশী শকুনের কুনজর পড়েছে বলে জানান। ২৪এর গণ অভ্যুত্থানের পরে মানচিত্র খাদক সেই শকুন পুনরায় জেগে উঠেছে। তারই প্রমাণ ভারতের এই অবৈধ পুশইন। এমন সময় তিনি পুরো দেশবাসীকে এক হয়ে থেকে সম্মুখের বিপদকে মোকাবেলা করতে বলেন ও প্রত্যেক বাংলাদেশবাসীর বাধ্যতামূলক সামরিক প্রশিক্ষণের গুরুত্ব তুলে ধরে বক্তব্য দেন। তিনি এ বিষয়ে সরকারের সাহায্য কামনা করেন ও জনতার দলের সারা বাংলাদেশবাসীকে এই সামরিক প্রশিক্ষণ দিতে সদা প্রস্তুত বলে জাान।

আলোচনা সভার জনতার দলের যুগ্ম মহাসচিব মেজর অবসরপ্রাপ্ত জাকির হুসেইন ভারতীয় আগ্রাসনের ও আধিপত্যবাদের তীব্র নিন্দা জ্ঞাপন করেন।

উক্ত আলোচনা সভায় ভারতীয় আগ্রাসন, অবৈধ পুশইন নিয়ে বক্তব্য দেন জনতার দলের মহাসচিব বীর মুক্তিযোদ্ধা আজম খান। তিনি ভারতের মান্ধাতা আমলের দূর্বল ও স্বৈরাচারী পররাষ্ট্রনীতির তীব্র সমালোচনা করে বলেন যে ভারত যদি বাংলাদেশের সাথে সুসম্পর্ক বজায় রাখতে চায়, তবে তাকে এই দাসপ্রথার মানসিকতা থেকে বের হয়ে পারষ্পরিক শ্রদ্ধাবোধ নিয়ে এগিয়ে আসতে হবে। আমাদের ভেতরের বাণিজ্যিক ঘাটতিকে কমিয়ে আনতে হবে এবং বাংলাদেশের নিজস্ব আভ্যন্তরীণ বিষয়ে আমরা কোনক্রমেই আর ভারতের নাক গলানো মেনে নিবোনা। তিনি বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রীর রাজনৈতিক উপদেষ্টার সাথে ভারতীয় এয়ারপোর্ট ইমিগ্রেশনে ঘটে যাওয়া অসৌজন্যমূলক আচরণের তীব্র নিন্দা করে বলেন যে ভারতের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের এ বিষয়ে প্রকাশ্যে ক্ষমা চাওয়া উচিৎ বাংলাদেশের কাছে।।

বাংলাদেশের সার্বভৌমত্ব ও সার্বিক রক্ষা নিয়ে বক্তব্য দেন জনতার দলের জ্যেষ্ঠ কৌশলগত ও পরিকল্পনা বিষয়ক কমিটির চেয়ারম্যান অবসরপ্রাপ্ত লেফটেন্যান্ট জেনারেল সাব্বির আহমেদ। তিনি দেশপ্রেমের কথা উল্লেখ করে বলেন, এদেশবাসীকে সবার আগে তাদের মাটিকে ভালোবাসতে হবে। আমাদেরকে শুধু পাসপোর্টে নয়, মন-মনন ও মগজে বাংলাদেশী হতে হবে।