নীতি সুদহার ১০ শতাংশই বহাল, কমলো ঋণ প্রবৃদ্ধির লক্ষ্যমাত্রা
প্রধান নীতি সুদহার (রেপো রেট) ১০ শতাংশে অপরিবর্তিত রেখে ২০২৬-২৭ অর্থবছরের জুলাই-ডিসেম্বর সময়ের জন্য প্রথমার্ধের মুদ্রানীতি ঘোষণা করেছে বাংলাদেশ ব্যাংক। একই সঙ্গে আগামী ডিসেম্বর পর্যন্ত বেসরকারি খাতে ঋণ প্রবৃদ্ধির লক্ষ্যমাত্রা ৮ দশমিক ৫০ শতাংশ থেকে কমিয়ে ৬ দশমিক ৮০ শতাংশ নির্ধারণ করা হয়েছে।
মঙ্গলবার (৩০ জুন) দুপুরে বাংলাদেশ ব্যাংকের সম্মেলনকক্ষে নতুন মুদ্রানীতি ঘোষণা করেন গভর্নর মোস্তাকুর রহমান। এ সময় শুরুতে ডেপুটি গভর্নর ড. হাবিবুর রহমান মুদ্রানীতির বিভিন্ন দিক তুলে ধরেন। অনুষ্ঠানে চার ডেপুটি গভর্নর, প্রধান অর্থনীতিবিদসহ কেন্দ্রীয় ব্যাংকের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।
বাংলাদেশ ব্যাংকের তথ্য অনুযায়ী, আগের মুদ্রানীতিতে চলতি বছরের জুন পর্যন্ত বেসরকারি খাতে ঋণ প্রবৃদ্ধির লক্ষ্য ছিল ৮ দশমিক ৫০ শতাংশ। তবে মে মাস পর্যন্ত অর্জিত হয়েছে মাত্র ৪ দশমিক ৯৮ শতাংশ। এ বাস্তবতায় নতুন করে ডিসেম্বর পর্যন্ত ঋণ প্রবৃদ্ধির প্রাক্কলন কমিয়ে ৬ দশমিক ৮০ শতাংশ নির্ধারণ করা হয়েছে।
ড. হাবিবুর রহমান বলেন, সরকার ও কেন্দ্রীয় ব্যাংকের বিভিন্ন প্রণোদনামূলক পদক্ষেপের ফলে আগামীতে অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ডে গতি আসবে। তার আশা, অর্থবছর শেষে বেসরকারি খাতে ঋণ প্রবৃদ্ধি ৮ শতাংশে পৌঁছাবে। পাশাপাশি জিডিপি প্রবৃদ্ধি ৬ দশমিক ৫ শতাংশ এবং মূল্যস্ফীতি ৭ দশমিক ৫ শতাংশে নামিয়ে আনা সম্ভব হবে।
মুদ্রানীতিতে বলা হয়েছে, মূল্যস্ফীতি কিছুটা কমার পর ইরানে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের যৌথ হামলার জেরে মধ্যপ্রাচ্যের পরিস্থিতির অবনতি হয়েছে। এর প্রভাবে গত মে মাসে মূল্যস্ফীতি বেড়ে ৯ দশমিক ৪২ শতাংশে পৌঁছেছে, যা ২০২৫ সালের জানুয়ারির পর সর্বোচ্চ। মূল্যস্ফীতি দ্রুত কমার লক্ষণ না থাকায় নীতি সুদহার ১০ শতাংশেই বহাল রাখার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।
বাংলাদেশ ব্যাংকের আগের মুদ্রানীতিতে জুন পর্যন্ত বেসরকারি খাতে ঋণ প্রবৃদ্ধির লক্ষ্য ছিল ৮ দশমিক ৫০ শতাংশ। কিন্তু এপ্রিল পর্যন্ত এ হার ছিল মাত্র ৪ দশমিক ৭৫ শতাংশ, যা এ পর্যন্ত সর্বনিম্ন। কেন্দ্রীয় ব্যাংকের ভাষ্য অনুযায়ী, বর্তমান ঋণের গড় সুদহার ১১ শতাংশের বেশি হওয়ায় প্রকৃত হিসাবে এ প্রবৃদ্ধি ঋণাত্মক। অন্যদিকে সরকারি খাতের ঋণের লক্ষ্যমাত্রা ২১ দশমিক ৬০ শতাংশ হলেও এপ্রিল পর্যন্ত তা দাঁড়িয়েছে ২২ দশমিক ১৬ শতাংশ।
নতুন গভর্নর দায়িত্ব নেওয়ার পর নীতি সুদহার ৫০ বেসিস পয়েন্ট কমানোর আলোচনা শুরু হয়েছিল। কর্মসংস্থান ও বিনিয়োগ বাড়ানোর যুক্তিতে এ উদ্যোগ নেওয়া হলেও মধ্যপ্রাচ্যের সংঘাত শুরু হওয়ার পর সেই পরিকল্পনা থেকে সরে আসে কেন্দ্রীয় ব্যাংক। শেষ পর্যন্ত নতুন মুদ্রানীতিতে নীতি সুদহার অপরিবর্তিত রাখার সিদ্ধান্তই ঘোষণা করা হয়েছে।