অটোরিকশাচালক সুমনই তাজমিনকে ধর্ষণের পর শ্বাসরোধে হত্যা করেন : পুলিশ

Newsdesk
Newsdesk Newsdesk
প্রকাশিত: ৩:৪৯ অপরাহ্ন, ১০ অক্টোবর ২০২৬ | আপডেট: ৪:১২ পূর্বাহ্ন, ১১ অক্টোবর ২০২৬
কুমিল্লায় স্কুলছাত্রী জান্নাতুল তাজমিন হত্যার ঘটনার রহস্য উদঘাটন করেছে পুলিশ। অটোরিকশাচালক সুমনই তাজমিনকে ধর্ষণের পর শ্বাসরোধে হত্যা করেছেন বলে জানিয়েছে পুলিশ।

শনিবার (১০ অক্টোবর) সকাল সাড়ে ১০টায় জেলা পুলিশ সুপারের কার্যালয়ে সংবাদ সম্মেলনে এসব তথ্য জানিয়েছেন অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (অপরাধ) পঙ্কজ বড়ুয়া।

সংবাদ সম্মেলনে বলা হয়, বুধবার (৭ অক্টোবর) রাত সাড়ে ১২টার দিকে তাজমিন সুমন নামের ওই সিএনজিচালিত অটোরিকশাচালককে কুমিল্লা রেসকোর্স নামিয়ে দেওয়ার জন্য ভাড়া করে। এ সময় অটোরিকশাচালকের মনে দুষ্ট চিন্তা ভর করে। পদুয়ার বাজার থেকে শহরের দিকে না নিয়ে অটোরিকশাচালক তাজমিনকে নিয়ে বিজরার দিকে চলে যান। দীর্ঘ সময় ধরে এদিক-সেদিক ঘুরিয়ে তাকে লালমাই উপজেলার জগতপুর এলাকার নির্জন রাস্তায় নিয়ে ধর্ষণের চেষ্টা করেন। এ সময় ভিকটিম তাজমিন ও অটোরিকশাচালক সুমনের মধ্যে ধস্তাধস্তি হয়। এক পর্যায়ে অটোরিকশাটি ধানখেতে কাত হয়ে পড়ে যায়। ভিকটিম দৌড়ে নিজেকে রক্ষার চেষ্টা করে, তবে সে দুর্বল হয়ে পড়ে। পরে তাকে কাবু করে ফেলেন সুমন।

সংবাদ সম্মেলনে আরও বলা হয়, জিজ্ঞাসাবাদে সুমন ভিকটিমকে ধর্ষণের কথা স্বীকার করেছেন। ধর্ষণের পর গলায় গামছা পেচিয়ে তাজমিনকে হত্যা করে ঘটনাস্থল ত্যাগ করে পাশের এলাকার একটি পুকুরে গিয়ে গোসল করেন। যাওয়ার সময় ভিকটিমের ভ্যানেটি ব্যাগ থেকে আইফোন নিয়ে যান। আইফোনটি একটি ধানখেতে লুকিয়ে রেখে চট্টগ্রামের দিকে চলে যান।

সংবাদ সম্মেলনে আরও বলা হয়, পরবর্তীতে ফেলে যাওয়া সিএনজিচালিত অটোরিকশাটির রেজিস্ট্রেশন নম্বর ধরে তদন্ত শুরু করে পুলিশ। তদন্তে সুমনকে চট্টগ্রাম নগরীর একটি এলাকা থেকে গ্রেপ্তার করতে সক্ষম হয় ডিবি পুলিশ।

সংবাদ সম্মেলনে পুলিশ কর্মকর্তা পঙ্কজ বড়ুয়া বলেন, প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে সুমন ঘটনার কথা স্বীকার করেছেন। তাকে আদালতে সোপর্দ করা হবে। জবানবন্দি দেবেন কিনা এমন প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, আমরা তাকে আদালতে তুলব। তোলার পর বোঝা যাবে।

সংবাদ সম্মেলনে লালমাই থানা পুলিশের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মিজানুর রহমান, গোয়েন্দা পুলিশের উপপরিদর্শক (এসআই) পবিত্র সরকার, উপপরিদর্শক অর্ণবসহ অন্যান্যরা উপস্থিত ছিলেন।

প্রসঙ্গত, বৃহস্পতিবার (৮ অক্টোবর) সকালে কুমিল্লার লালমাই উপজেলার জগতপুর গ্রামের ধানখেত থেকে জান্নাতুল তাজমিন (১৪) নামের এক কিশোরীর মরদেহ উদ্ধার করে পুলিশ। নিহত তাজমিন যশোর সদর উপজেলার ছাতিয়াতলা গ্রামের আব্দুল আলিমের মেয়ে। সে কুমিল্লা নগরীর ফরিদা বিদ্যায়তন স্কুলের ৭ম শ্রেণির শিক্ষার্থী ছিল। চলতি বছরের ফেব্রুয়ারি থেকে সে আর স্কুলে যায়নি বলে জানিয়েছে স্কুল কর্তৃপক্ষ। তাজমিনের বাবা আব্দুল আলিম রেনেটা ওষুধ কোম্পানির কুমিল্লা রিজিয়নে চাকরি করছেন। তারা কুমিল্লা নগরীর রেসকোর্স এলাকায় একটি ভাড়া বাসায় বসবাস করেন। 

গত ৪ অক্টোবর সকালে বান্ধবীর বাসায় যাওয়ার কথা বলে বাসা থেকে বের হয় তাজমিন। গত বুধবার (৭ অক্টোবর) রাত ১২টা ১৯ মিনিটের সময় তাকে সবশেষ কুমিল্লার হোটেল নূরজাহানের সামনে দেখা গেছে। ওইদিন রাত ২টা ৫৮ মিনিটে বাবার হোয়াটসঅ্যাপে তার লাইভ লোকেশন পাঠিয়ে তাকে নিয়ে যেতে বলে একটি বার্তা দেয়। তখন বাবা ঘুমিয়ে থাকায় সে বার্তাটি দেখতে পাননি তিনি। পরদিন সকালে অজ্ঞাত হিসেবে তার মৃতদেহ উদ্ধার করে পুলিশ। পরে পরিচয় শনাক্ত হয়। মরদেহের পাশে পড়ে থাকা সিএনজিচালিত অটোরিকশা জব্দ করে পুলিশ। ঘটনার পর নিহত তাজমিনের বাবা আব্দুল আলিম বাদী হয়ে লালমাই থানায় অজ্ঞাত আসামিদের বিরুদ্ধে হত্যা মামলা দায়ের করেন।