ট্রাম্পের চীন সফর ঘিরে কমলো তেলের দাম

Newsdesk
Newsdesk Newsdesk
প্রকাশিত: ২:৪৪ অপরাহ্ন, ১৩ মে ২০২৬ | আপডেট: ১২:৩২ পূর্বাহ্ন, ১৪ মে ২০২৬

তিন দিনের রাষ্ট্রীয় সফরে চীনে পৌঁছেছেন যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। এই খবরে

বিশ্ব বাজারে তেলের দাম কমেছে। টানা তিন দিনের মূল্যবৃদ্ধির পর এদিন বাজারে কিছুটা পতন দেখা যায়।

আজ বুধবার ব্রেন্ট ক্রুডের দাম ব্যারেলপ্রতি ১ দশমিক ২২ ডলার কমে ১০৬ দশমিক ৫৫ ডলারে নেমে আসে। অন্যদিকে যুক্তরাষ্ট্রের ওয়েস্ট টেক্সাস ইন্টারমিডিয়েট (ডব্লিউটিআই) ক্রুডের দাম ১ দশমিক ১৬ ডলার কমে দাঁড়ায় ১০১ দশমিক ২ ডলারে।

ফেব্রুয়ারির শেষ দিকে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের ইরানে হামলার পর থেকেই তেলের বাজারে সংকট সৃষ্টি হয়। এরপর ইরান কার্যত হরমুজ প্রণালিতে নিয়ন্ত্রণ জোরদার করায় বিশ্ববাজারে তেলের সরবরাহ নিয়ে উদ্বেগ বাড়ে। এর ফলে বেশিরভাগ সময়ই তেলের দাম ব্যারেলপ্রতি ১০০ ডলারের ওপরে অবস্থান করছে।

মঙ্গলবার তেলের দাম ৩ শতাংশের বেশি বেড়েছিল। যুক্তরাষ্ট্র-ইরান স্থায়ী যুদ্ধবিরতির সম্ভাবনা ক্ষীণ হয়ে পড়ায় এবং হরমুজ প্রণালি পুনরায় চালু হওয়ার আশা কমে যাওয়ায় বাজারে উদ্বেগ বেড়ে যায়। বিশ্বে মোট তেল ও তরলীকৃত প্রাকৃতিক গ্যাসের প্রায় এক-পঞ্চমাংশ সাধারণত এই প্রণালি দিয়ে পরিবাহিত হয়।

চীন বর্তমানে ইরানি তেলের সবচেয়ে বড় ক্রেতা। এ অবস্থায় বৃহস্পতিবার ও শুক্রবার বেইজিংয়ে ট্রাম্প ও চীনের প্রেসিডেন্ট শি জিনপিংয়ের বৈঠক আন্তর্জাতিক বাজারে বিশেষ গুরুত্ব পাচ্ছে।

গবেষণা প্রতিষ্ঠান ইউরেশিয়া গ্রুপ জানিয়েছে, সরবরাহে দীর্ঘমেয়াদি বিঘ্ন এবং বিপুল পরিমাণ তেল উৎপাদন কমে যাওয়ার কারণে চলতি বছরের বাকি সময় তেলের দাম ব্যারেলপ্রতি ৮০ ডলারের ওপরে থাকতে পারে।

ইরান যুদ্ধের প্রভাব এখন যুক্তরাষ্ট্রের অর্থনীতিতেও পড়তে শুরু করেছে। জ্বালানির দাম বাড়ায় মূল্যস্ফীতি বেড়েছে এবং সাধারণ মানুষের ব্যয়ও বৃদ্ধি পেয়েছে। এপ্রিল মাসে যুক্তরাষ্ট্রে মূল্যস্ফীতি প্রায় তিন বছরের মধ্যে সবচেয়ে বেশি বেড়েছে।

বিশ্লেষকদের ধারণা, এই পরিস্থিতিতে মার্কিন কেন্দ্রীয় ব্যাংক ফেডারেল রিজার্ভ আপাতত সুদের হার কমানোর পথে হাঁটবে না।

এদিকে যুক্তরাষ্ট্রে টানা চতুর্থ সপ্তাহের মতো অপরিশোধিত তেলের মজুত কমেছে বলেও জানিয়েছে বাজার সংশ্লিষ্ট সূত্র। তথ্যসূত্র: রয়টার্স