পলাশবাড়ীর বরিশাল ইউনিয়নের হিন্দু সম্প্রদায়ের মাঝে নগদ অর্থ বিতরণ

আল কাদরি কিবরিয়া সবুজ, (গাইবান্ধা) প্রতিনিধি | প্রকাশিত: ২:০১ অপরাহ্ন, ২৮ জুলাই ২০২১

গাইবান্ধার পলাশবাড়ী উপজেলার ৪নং বরিশাল ইউনিয়নে নগদ অর্থ সহায়তা প্রদান করা হয়েছে।

গতকাল ২৭ জুলাই মঙ্গলবার বিকেলে বরিশাল ইউনিয়নের ভবানীপুর মজুমদার পাড়ার হিন্দু সম্প্রদায়ের গরীব-দুঃখী ও অসহায়দের মাঝে নগদ অর্থ সহায়তা তুলে দেন বীরমুক্তিযোদ্ধা, সমাজসেবক ও শিল্পপতি অবঃ মেজর মফিজুল হক সরকার।

এসময় উপস্থিত ছিলেন বরিশাল ইউপি চেয়ারম্যান ও ইউনিয়ন আওয়ামী লীগ সভাপতি আব্দুল মান্নান, মলয় মাষ্টার, সমাজসেবক হাবিবুর রহমান মাষ্টার, হারুন অর রশিদ রিহান, ডাঃ পুলক মজুমদার, পিংকি রানি মজুমদারসহ স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যাক্তিবর্গ।

এসময় গরীব-দুঃখী ও অসহায় মানুষগুলো তার এই উপহারে আবেগে আপ্লুত হয়ে পড়েন এবং তার দীর্ঘায়ু কামনা করেন।

পরবর্তী খবর

আ. লীগকে রাজনীতিতে ফিরতে দেওয়া হবে না: প্রতিমন্ত্রী শাহে আলম

| প্রকাশিত: ৩:৩৫ অপরাহ্ন, ১৮ জুন ২০২৬

আওয়ামী লীগকে দেশের রাজনীতিতে পুনরায় সক্রিয় হওয়ার সুযোগ দেওয়া হবে না বলে মন্তব্য করেছেন স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় প্রতিমন্ত্রী মীর শাহে আলম। একই সঙ্গে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে বিভ্রান্তি ছড়িয়ে দলটিকে পুনর্বাসনের চেষ্টা হতে পারে বলেও সতর্ক করেছেন তিনি।

বৃহস্পতিবার (১৮ জুন) সকালে বগুড়ায় শহীদ জিয়াউর রহমান শিশু হাসপাতালের বহির্বিভাগ ও আন্তঃবিভাগের সেবা কার্যক্রম উদ্বোধন অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে এসব কথা বলেন প্রতিমন্ত্রী।

মীর শাহে আলম বলেন, আওয়ামী লীগের প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষে ২৩ জুনকে সামনে রেখে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে নানা ধরনের বিভ্রান্তিকর প্রচারণা চালানো হচ্ছে। তার দাবি, কিছু গোষ্ঠী পরিকল্পিতভাবে জনমত প্রভাবিত করে স্বৈরাচারী শক্তিকে আবারও রাজনৈতিক পরিসরে ফিরিয়ে আনার চেষ্টা করছে। এ ধরনের প্রচেষ্টার বিরুদ্ধে সবাইকে সতর্ক ও ঐক্যবদ্ধ থাকার আহ্বান জানান তিনি।


অনুষ্ঠানে স্বাস্থ্য খাত নিয়েও কথা বলেন প্রতিমন্ত্রী। তিনি জানান, শহীদ জিয়াউর রহমান শিশু হাসপাতালের নির্ধারিত ছয়তলা ভবনকে আটতলায় উন্নীত করার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। পাশাপাশি হাসপাতালের পাশে থাকা একটি বহুতল ভবন অধিগ্রহণ করে চিকিৎসাসেবার পরিধি বাড়ানোর পরিকল্পনাও রয়েছে সরকারের।

অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন বগুড়া-৬ আসনের সংসদ সদস্য ও জেলা বিএনপির সভাপতি রেজাউল করিম বাদশা। উপস্থিত ছিলেন স্বাস্থ্য ও পরিবারকল্যাণ মন্ত্রণালয়ের সচিব কামরুজ্জামান চৌধুরী, বগুড়া-৪ আসনের সংসদ সদস্য ও জেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক মোশারফ হোসেন, বিএনপি চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা এ কে এম মাহবুবুর রহমান, বগুড়া সিটি করপোরেশনের প্রশাসক এম আর ইসলাম স্বাধীন এবং জেলা পরিষদের প্রশাসক আহসানুল তৈয়ব জাকিরসহ বিভিন্ন পর্যায়ের নেতারা।

দিনব্যাপী কর্মসূচির অংশ হিসেবে সাধারণ মানুষের জন্য বিনামূল্যে হৃদরোগবিষয়ক পরামর্শসেবা দেওয়া হয়। পাশাপাশি হৃদরোগ প্রতিরোধে সচেতনতা বাড়াতে একটি আলোচনা সভার আয়োজন করা হয়।

পরবর্তী খবর

শিশু আয়াত হত্যা মামলার প্রধান আসামি আবিরের মৃত্যুদণ্ড

| প্রকাশিত: ২:৫৬ অপরাহ্ন, ১৭ জুন ২০২৬

চট্টগ্রামে পাঁচ বছরের শিশু আলিনা ইসলাম আয়াতকে অপহরণের পর শ্বাসরোধে হত্যা এবং মরদেহ ছয় টুকরো করে বিভিন্ন স্থানে ফেলে দেওয়ার লোমহর্ষক মামলায় প্রধান আসামি আবীর আলীকে মৃত্যুদণ্ডের আদেশ দিয়েছেন আদালত।

আজ বুধবার (১৭ জুন) দুপুরে চট্টগ্রামের ষষ্ঠ অতিরিক্ত মহানগর দায়রা জজ মুহাম্মদ আলী আক্কাস এই রায় ঘোষণা করেন। রাষ্ট্রপক্ষের ৩৩ জন সাক্ষীর সাক্ষ্যগ্রহণ এবং দীর্ঘ বিচারিক প্রক্রিয়া শেষে দেশজুড়ে ব্যাপক আলোড়ন সৃষ্টিকারী এই হত্যাকাণ্ডের চার বছর পর আদালত আজ এই চূড়ান্ত রায় দিলেন।

আদালত সূত্রে জানা গেছে, গত শনিবার মামলার যুক্তিতর্ক শুনানি শেষ হয়। বিচারিক কার্যক্রমে রাষ্ট্রপক্ষের পক্ষে ৩৩ জন সাক্ষী সাক্ষ্য দেন।

মামলার বিবরণে জানা যায়, ২০২২ সালের ১৪ নভেম্বর চট্টগ্রাম নগরের ইপিজেড থানার নয়ারহাট এলাকায় বাড়ির পাশের মসজিদে আরবি পড়তে যাওয়ার সময় নিখোঁজ হয় শিশুটি। পরে তদন্তে বেরিয়ে আসে, মুক্তিপণের উদ্দেশ্যে প্রতিবেশী আবীর আলী তাকে অপহরণ করে।

তদন্তসংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে, অপহরণের পর শিশুটিকে কোথাও লুকিয়ে রাখার সুযোগ না পেয়ে আবীর শ্বাসরোধে হত্যা করে। পরে মরদেহ খণ্ডিত করে বিভিন্ন স্থানে ফেলে দেয়।

ঘটনার ১৬ দিন পর, ৩০ নভেম্বর আউটার রিং রোডের আকমল আলী ঘাটসংলগ্ন সুইচ গেট এলাকার একটি গর্ত থেকে শিশুটির দুই পা উদ্ধার করে পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশন (পিবিআই)। পরদিন একই এলাকা থেকে উদ্ধার করা হয় খণ্ডিত মাথা।

ঘটনাটি দেশজুড়ে ব্যাপক আলোড়ন সৃষ্টি করেছিল। দীর্ঘ তদন্ত ও বিচারিক প্রক্রিয়া শেষে আদালত আজ এ মামলার রায় ঘোষণা করলেন।

পরবর্তী খবর

রামগঞ্জে ছাত্রবাস থেকে শিক্ষার্থীর মরদেহ উদ্ধার

| প্রকাশিত: ১১:৫৭ পূর্বাহ্ন, ১৭ জুন ২০২৬

লক্ষ্মীপুরের রামগঞ্জ উপজেলার ফরিদ আহমেদ ভূঁইয়া একাডেমির ছাত্রবাস থেকে মেহেদী হাসান (১৫) নামে এক শিক্ষার্থীর ঝুলন্ত মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে। তবে পরিবারের দাবি—তাকে পিটিয়ে হত্যা করা হয়েছে।

এ ঘটনাকে কেন্দ্র করে মঙ্গলবার (১৬ জুন) রাতে বিক্ষুব্ধ এলাকাবাসী শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানটিতে ব্যাপক ভাঙচুর চালায়।

এর আগে বিকেলে প্রতিষ্ঠানটির ছাত্রবাস থেকে শিক্ষার্থী মেহেদী হাসানের (১৫) মরদেহ উদ্ধার করা হয়। সে ইছাপুর ইউনিয়নের রাঘবপুত গ্রামের জিয়াউদ্দিন জিয়ার ছেলে।

পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, মেহেদীকে পিটিয়ে হত্যা করা হয়েছে—পরিবারের এমন অভিযোগের পর রাত ৮টার দিকে একাডেমির সামনে লোকজন জড়ো হতে থাকে। একপর্যায়ে উত্তেজিত জনতা শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানটির প্রধান ফটক ও অভ্যর্থনা কক্ষ ভাঙচুর করে এবং ইটপাটকেল ছুড়তে শুরু করে। খবর পেয়ে উপজেলা প্রশাসন ও পুলিশ দ্রুত ঘটনাস্থলে উপস্থিত হয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে।

পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে রামগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) নিজেই মাইক হাতে উত্তেজিত এলাকাবাসীকে শান্ত করার চেষ্টা করেন। তিনি মাইকে ঘোষণা করেন, ‘পুলিশ মরদেহ উদ্ধার করেছে এবং তদন্তের মাধ্যমে ঘটনার মূল কারণ উদঘাটন করা হবে।’ তদন্ত শেষ না হওয়া পর্যন্ত তিনি সবাইকে ধৈর্য ধরে শান্ত থাকার আহ্বান জানান।

এ বিষয়ে জেলার অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (প্রশাসন ও অর্থ) হোসাইন মোহাম্মদ রায়হান কাজেমী বলেন, ‘ছাত্রের ঝুলন্ত মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে। ময়নাতদন্তের চূড়ান্ত প্রতিবেদন পেলেই মৃত্যুর আসল কারণ জানা যাবে।’

তিনি আরও জানান, তাকে হত্যা করা হয়েছে দাবি করে উত্তেজিত এলাকাবাসী শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে ভাঙচুর চালিয়েছে। তবে অনাকাঙ্ক্ষিত পরিস্থিতি মোকাবিলায় ঘটনাস্থলে অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয় এবং বর্তমানে পরিস্থিতি স্বাভাবিক রয়েছে।

পরবর্তী খবর

দিনাজপুর বোচাগঞ্জে সাবেক স্ত্রীর হাতে স্বামী খু'ন পায়ের রগ কেটে নির্মম হ'ত্যাকাণ্ড ।

| প্রকাশিত: ১২:৩৭ পূর্বাহ্ন, ১৬ জুন ২০২৬


রনজিৎ সরকার রাজ দিনাজপুর প্রতিনিধি :দিনাজপুরের বোচাগঞ্জে সাবেক স্ত্রীর হাতে নির্মমভাবে প্রাণ হারিয়েছেন ডিএন অটো রাইস মিলের স্বত্বাধিকারী মোস্তাফিজুর রহমান। অভিযোগ উঠেছে, তার সাবেক স্ত্রী মোছা. শিল্পী পায়ের রগ কেটে তাকে হ'ত্যা করেছেন।

সোমবার (১৫ জুন) বোচাগঞ্জে এই মর্মান্তিক ঘটনাটি ঘটে। স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, এর আগেও একাধিকবার মোস্তাফিজুর রহমানের উপর শারীরিক নি'র্যাতনের অভিযোগ উঠেছিল। তবে এবার সেই নি'র্যাতনই তার মৃ'ত্যুর কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে।

হ'ত্যাকাণ্ডের খবর ছড়িয়ে পড়লে স্থানীয়দের মধ্যে তীব্র আ'তঙ্ক ও ক্ষো'ভের সৃষ্টি হয়। বোচাগঞ্জ থানা পুলিশ দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে তদন্ত শুরু করেছে।


এ বিষয়ে বোচাগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) জানান, ঘটনাটি তদন্তাধীন রয়েছে এবং আইনগত ব্যবস্থা প্রক্রিয়াধীন।

পরবর্তী খবর

এলজিআরডি প্রতিমন্ত্রীর মানহানির অভিযোগে ৪ সাংবাদিকের বিরুদ্ধে মামলা

| প্রকাশিত: ১২:৩৩ পূর্বাহ্ন, ১৬ জুন ২০২৬
স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় প্রতিমন্ত্রী মীর শাহে আলমের বিরুদ্ধে ভুয়া, বিভ্রান্তিকর ও মানহানিকর তথ্য প্রচারের অভিযোগে ‘অগ্রযাত্রা প্রতিদিন’-এর সম্পাদকসহ ৪ জনের বিরুদ্ধে মামলা করা হয়েছে। আজ সোমবার (১৫ জুন) বগুড়ার সিনিয়র জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট সদর আমলী আদালতে বগুড়া প্রেসক্লাবের কোষাধ্যক্ষ তানভীর আলম বাদী হয়ে মামলাটি দায়ের করেন। শুনানি শেষে আদালতের বিচারক মেহেদী হাসান অভিযোগটি আমলে নিয়ে মামলাটি এজাহার (এফআইআর) হিসেবে গ্রহণের নির্দেশ দেন এবং প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য সংশ্লিষ্ট থানাকে আদেশ দিয়েছেন।

বাদীর আইনজীবী অ্যাডভোকেট আবদুল ওহাব এসব তথ্য নিশ্চিত করেছেন। মামলার আবেদনে শুনানিতে অ্যাডভোকেট আবদুল ওহাব ছাড়াও অ্যাডভোকেট শাহাদাত হোসেন শহলসহ আরও ১৪-১৫ জন আইনজীবী উপস্থিত ছিলেন। মামলায় বাংলাদেশ দণ্ডবিধির ৫০০, ৫০১, ৫০৪ ও ১০৯ ধারায় অপরাধ সংঘটনের অভিযোগ আনা হয়েছে।

অভিযুক্তরা হলেন— দৈনিক ‘অগ্রযাত্রা প্রতিদিন’-এর প্রকাশক ও সম্পাদক মেহেদী হাসান, বার্তা সম্পাদক আশরাফ আলী ফারুকী, প্রতিবেদক সালেহ কায়সার এবং বগুড়া প্রতিনিধি শামস। মামলার আবেদনে বলা হয়, বিবাদীরা পরিকল্পিতভাবে মিথ্যা, বানোয়াট ও বিভ্রান্তিকর তথ্য প্রকাশ ও প্রচার করে বাদী এবং বগুড়ার সংসদ সদস্য ও স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় প্রতিমন্ত্রী মীর শাহ আলমের ব্যক্তিগত, সামাজিক ও রাজনৈতিক সুনাম ক্ষুণ্ণ করার চেষ্টা করেছেন।

অভিযোগে বলা হয়, গত ১২ জুন বগুড়া প্রেসক্লাবে অনুষ্ঠিত এক সংবাদ সম্মেলনে প্রতিমন্ত্রীর বক্তব্যকে বিকৃতভাবে উপস্থাপন করে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ‘এবার সাংবাদিকদের উপদেশ দিলেন রাস্তাকাণ্ডে বিতর্কিত প্রতিমন্ত্রী মীর শাহে আলম’ শিরোনামে একটি পোস্ট প্রচার করা হয়। এছাড়া ১৩ জুন প্রধানমন্ত্রীর জাতীয় সফর উপলক্ষে প্রতিমন্ত্রীকে নিয়ে উসকানিমূলক, বিভ্রান্তিকর ও মানহানিকর মন্তব্য সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে দেওয়া হয়েছে বলেও অভিযোগে বলা হয়েছে।

বাদী তানভীর আলম তাঁর আবেদনে উল্লেখ করেন, বিবাদীরা কোনো ধরনের নির্ভরযোগ্য তথ্য-প্রমাণ ছাড়াই উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবে এসব তথ্য প্রচার করেছেন। এর ফলে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের সুনাম ক্ষুণ্ণ হওয়ার পাশাপাশি জনমনে বিভ্রান্তি ও বিরূপ প্রতিক্রিয়া সৃষ্টি হয়েছে।

আইনজীবী অ্যাডভোকেট আবদুল ওহাব জানান, বাদীর আবেদন ও প্রাথমিক শুনানি শেষে আদালত মামলাটি এজাহার হিসেবে গ্রহণের নির্দেশ দেন। আদালতের আদেশের পর মামলাটি সংশ্লিষ্ট থানায় প্রেরণ করা হবে এবং এজাহার হিসেবে রেকর্ড করে পরবর্তী আইনানুগ তদন্ত ও ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।

বগুড়া জেলা ও দায়রা জজ আদালতের পাবলিক প্রসিকিউটর (পিপি) অ্যাডভোকেট আব্দুল বাছেদ বলেন, ‘মামলার বিয়ষটি সম্পর্কে অবগত রয়েছি। আদালত ন্যায়বিচার নিশ্চিত করতে প্রয়োজনীয় আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করবেন বলে আমার বিশ্বাস।’
পরবর্তী খবর

৩ তরুণকে নির্যাতনের ঘটনায় মামলা: বাদীর 'চোখ তুলে নেওয়া'র হুমকি

| প্রকাশিত: ৫:০৩ অপরাহ্ন, ১৫ জুন ২০২৬

পটুয়াখালী সদর উপজেলায় তিন তরুণকে গাছে বেঁধে নির্যাতনের ঘটনায় দায়ের করা মামলার বাদী ও তার পরিবারকে হুমকি দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে। মামলা প্রত্যাহার না করলে বাদীর (ভুক্তভোগী এক তরুণের বাবা) 'হাত-পা ভেঙে দেওয়া এবং চোখ তুলে নেওয়া'র হুমকি দেওয়া হচ্ছে বলে অভিযোগ উঠেছে।

মামলার বাদী আব্দুর রব মোল্লা বলেন, এজাহারভুক্ত আসামি মনির গাইন, সুমন মোল্লা ও মুসা নিয়মিত তার স্বজনদের ফোন করে মামলা তুলে নিতে চাপ দিচ্ছেন। এতে তিনি ও তার পরিবারের সদস্যরা নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছেন।

ঘটনাটি ঘটে গত ৩ জুন পটুয়াখালী সদর উপজেলার বোতলবুনিয়া গ্রামে। ব্যাটারি চুরির অভিযোগ তুলে বায়জীদ মোল্লা, মিরাজ মৃধা ও আসলাম নামে তিন তরুণকে বাড়ি থেকে ধরে নিয়ে একটি পরিত্যক্ত বাগানে গাছের সঙ্গে বেঁধে মারধর করা হয়। ভুক্তভোগীদের অভিযোগ, প্রায় আধা ঘণ্টা ধরে তাদের ওপর নির্যাতন চালানো হয়। পরে ঘটনাটি প্রকাশ না করার জন্যও হুমকি দেওয়া হয়।


এ ঘটনায় নির্যাতনের একটি ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ে। ১ মিনিট ২৪ সেকেন্ডের ওই ভিডিওতে বায়জীদকে লাঠি ও শক্ত বস্তু দিয়ে মারধরের দৃশ্য দেখা যায়। একপর্যায়ে তিনি বাঁচার জন্য দৌড়ে পালানোর চেষ্টা করলেও তাকে ধরে এনে আবার গাছের সঙ্গে বেঁধে নির্যাতন করা হয়। একইভাবে নির্যাতনের শিকার হন মিরাজ ও আসলামও।

ভিডিওটি ছড়িয়ে পড়ার পর গত ১০ জুন বায়জীদের বাবা আব্দুর রব মোল্লা পাঁচজনের বিরুদ্ধে থানায় লিখিত অভিযোগ দেন। পরে ১২ জুন অভিযোগটি মামলা হিসেবে নথিভুক্ত করে পুলিশ। তবে এখনো কাউকে গ্রেপ্তার করা হয়নি।

ভুক্তভোগী বায়জীদের দাবি, ঘটনার আগে নূর মোহাম্মদ নামে এক ব্যক্তি তার কাছে ১০ হাজার টাকা দাবি করেছিলেন। টাকা না পেয়ে তিনি ক্ষুব্ধ হন এবং পরে শ্বশুরবাড়ি থেকে তুলে এনে তাকে নির্যাতন করা হয়। আহত অবস্থায় তাকে পটুয়াখালী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছিল।


মামলার বাদীর (বায়জীদের বাবা) অভিযোগ, কয়েকজন আসামি পলাতক থাকলেও অন্যরা প্রকাশ্যে ঘুরে বেড়াচ্ছেন এবং রাজনৈতিক প্রভাব ব্যবহার করে ভয়ভীতি দেখাচ্ছেন। অভিযোগের বিষয়ে বক্তব্য জানতে মনির গাইন ও সুমন মোল্লার মুঠোফোনে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও সেগুলো বন্ধ পাওয়া যায়।

মামলার তদন্ত কর্মকর্তা সদর থানার উপপরিদর্শক (এসআই) কমল বড়াল বলেন, আসামিদের গ্রেপ্তারে পুলিশ কাজ করছে। হুমকির বিষয়ে নির্দিষ্ট অভিযোগ পেলে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. মনিরুজ্জামান বলেন, বাদী নিরাপত্তাহীনতার অভিযোগ করলে সে বিষয়েও প্রয়োজনীয় আইনি পদক্ষেপ নেওয়া হবে। পাশাপাশি মামলার তদন্তের ভিত্তিতে আসামিদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

পরবর্তী খবর

আনোয়ারায় মা-মেয়েকে কুপিয়ে হত্যার ঘটনায় প্রতিবেশী গ্রেপ্তার

| প্রকাশিত: ১১:৩৫ পূর্বাহ্ন, ১৫ জুন ২০২৬

চট্টগ্রামের আনোয়ারার পরৈকোড়া ইউনিয়নে এনি বড়ুয়া ও তার মেয়ে প্রিয়ন্তী বড়ুয়াকে হত্যা মামলায় এক প্রতিবেশীকে পুলিশ গ্রেপ্তার করেছে। গ্রেপ্তার প্রতিবেশীর নাম তেজ বড়ুয়া (৩২)। তিনি পরৈকোড়া ইউনিয়নের চেনামতি এলাকার বেশান্ত বড়ুয়ার ছেলে।

গতকাল রোববার (১৪ জুন) দিবাগত রাত ১২টার দিকে তাকে পার্শ্ববর্তী পটিয়া উপজেলা থেকে গ্রেপ্তার করা হয়। মা-মেয়েকে খুনের ঘটনায় হওয়া মামলার প্রধান আসামি তিনি।


তেজ বড়ুয়াকে গ্রেপ্তারের বিষয়টি চট্টগ্রাম জেলার অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (ডিবি ও শিল্পাঞ্চল) মো. রাসেল নিশ্চিত করেছেন। তিনি বলেন, আনোয়ারা থানা ও জেলা গোয়েন্দা পুলিশের যৌথ অভিযানে তেজ বড়ুয়াকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।

এর আগে গত শনিবার রাতে নিজ বাড়ি থেকে এনি বড়ুয়া ও তার মেয়ে প্রিয়ন্তী বড়ুয়ার রক্তাক্ত লাশ উদ্ধার হয়। তাদের কুপিয়ে হত্যা করা হয়েছে বলে জানায় পুলিশ। একই সময়ে এনি বড়ুয়ার পাঁচ বছর বয়সী এক শিশুসন্তানকেও কুপিয়ে জখম করা হয়।


নিহত এনির পরিবার ও স্থানীয় বাসিন্দারা জানান, শনিবার দিবাগত রাত ১২টার সময় প্রতিবেশীরা এনি বড়ুয়ার ঘরে চিৎকার শুনে এগিয়ে যান। ওই সময় ঘরের দরজায় এনি বড়ুয়া রক্তাক্ত অবস্থায় ছটফট করছিলেন। একই সময়ে ঘরের ভেতরে প্রিয়ন্তী বড়ুয়ার রক্তাক্ত মরদেহ পড়ে ছিল। লোকজন এনিকে উদ্ধার করে হাসপাতালে নিতে চাইলে তিনি কথা বলতে বলতে মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়েন।

এ ঘটনায় রাতে আনোয়ারা থানায় মামলা করেন এনি বড়ুয়ার স্বামী সুজন বড়ুয়া। মামলায় তেজ বড়ুয়াকে প্রধান আসামি করা হয়। এ ছাড়া অজ্ঞাতপরিচয় দু-তিনজনকে আসামি করা হয়। সুজন বড়ুয়া বলেন, ‘প্রধান আসামি গ্রেপ্তার হওয়ায় বিচারের পথ সুগম হলো।’ তিনি নিজের স্ত্রী ও মেয়ে হত্যাকাণ্ডের কঠিন শাস্তি দাবি করেন।


পরবর্তী খবর

খুলনায় মসজিদে সন্ত্রাসীদের গুলি, দুই মুসল্লি গুলিবিদ্ধ

| প্রকাশিত: ২:৪৯ অপরাহ্ন, ১৪ জুন ২০২৬
খুলনায় মসজিদে সন্ত্রাসীদের গুলিতে দুই মুসল্লি গুলিবিদ্ধ হয়েছেন। রবিবার (১৪ জুন) ভোর সাড়ে ৫টার দিকে মহানগরীর দৌলতপুর থানাধীন পশ্চিম কাশিপুর বিদ্যুৎকেন্দ্র জামে মসজিদে ফজরের নামাজ চলাকালে এ ঘটনা ঘটে।

গুলিবিদ্ধরা হলেন- মসজিদ কমিটির সেক্রেটারি লোকমান হাকিম (৪৫) এবং আলম মন্ডল (৫৫)। লোকমান হাকিম উত্তর কাশিপুর এলাকার মৃত জব্বার শেখের ছেলে। আলম মন্ডল একই এলাকার মৃত আব্দুল খালেকের ছেলে।

পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, ফজরের নামাজ আদায়ের সময় কয়েকজন সন্ত্রাসী মসজিদে প্রবেশ করে লোকমান হাকিমকে লক্ষ্য করে গুলি ছোড়ে।

এ সময় পাশে থাকা মুসল্লি আলম মন্ডলও গুলিবিদ্ধ হন। গুলিতে লোকমানের মাথায় আঘাত লাগে এবং তিনি গুরুতর আহত হন। তার অবস্থা আশঙ্কাজনক হওয়ায় উন্নত চিকিৎসার জন্য ঢাকায় নেওয়া হয়েছে। আলম মন্ডলের মাথা, গলার বাম পাশ এবং ডান হাতের বাহুতে গুলি লাগে বলে জানা গেছে। তাকে খুলনা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। তবে সে আশংকামুক্ত বলে হাসপাতাল সূত্রে জানা গেছে।

খুলনা মেট্রোপলিটন পুলিশের (কেএমপি) সহকারী কমিশনার মো. আব্দুর রাজ্জাক বলেন, ঘটনার খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে গেছে। বিষয়টি তদন্ত করে দেখা হচ্ছে। বিস্তারিত পরে জানানো হবে। হামলার কারণ ও জড়িতদের শনাক্ত করতে পুলিশ তদন্ত শুরু করেছে।

এদিকে, মসজিদের ভেতরে নামাজরত অবস্থায় এমন হামলার ঘটনায় স্থানীয় সাধারণ মানুষ ও মুসল্লিদের মাঝে চরম আতঙ্ক ও তীব্র চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে। 
পরবর্তী খবর

চট্টগ্রামে নিজ বাড়ি থেকে মা-মেয়ের রক্তাক্ত মরদেহ উদ্ধার

| প্রকাশিত: ২:৪৭ অপরাহ্ন, ১৪ জুন ২০২৬
চট্টগ্রামের আনোয়ারা উপজেলায় নিজ বাড়ি থেকে মা ও মেয়ের রক্তাক্ত মরদেহ উদ্ধার করেছে পুলিশ। এ ঘটনায় গুরুতর আহত অবস্থায় চিকিৎসাধীন রয়েছে পরিবারের ৫ বছর বয়সী এক শিশু।

শনিবার (১৩ জুন) দিবাগত রাত সাড়ে ১১টার দিকে উপজেলার পরৈকোড়া ইউনিয়নের ৬ নম্বর ওয়ার্ডের চেনামতি বড়ুয়াপাড়া এলাকা থেকে তাদের মরদেহ উদ্ধার করা হয়।

নিহতরা হলেন- ওই এলাকার সুজন বড়ুয়ার স্ত্রী এনি বড়ুয়া (৪০) এবং তাদের মেয়ে প্রিয়ন্তী বড়ুয়া (১৬)। আহত শিশুটি তাদের ছেলে পিয়াস বড়ুয়া (৫)। সুজন বড়ুয়া চট্টগ্রাম নগরের খাতুনগঞ্জ এলাকায় একটি আবাসিক ভবনে নিরাপত্তাকর্মী হিসেবে কর্মরত।

স্থানীয় বাসিন্দা সুরভী বড়ুয়া জানান, চিৎকার শুনে তারা ঘটনাস্থলে গিয়ে ঘরের দরজার কাছে এনি বড়ুয়া ও তার ছেলেকে রক্তাক্ত অবস্থায় পড়ে থাকতে দেখেন। এ সময় ঘরের ভেতরে প্রিয়ন্তী বড়ুয়াকেও রক্তাক্ত অবস্থায় পাওয়া যায়। দ্রুত তাদের হাসপাতালে নেওয়ার উদ্যোগ নেওয়া হলে এনি বড়ুয়ার মৃত্যু হয়। পরে পুলিশকে খবর দেওয়া হয়।

নিহত এনি বড়ুয়ার স্বামী সুজন বড়ুয়া বলেন, ঘটনার সময় তিনি চট্টগ্রাম শহরে কর্মস্থলে ছিলেন। রাতে বড় ভাইয়ের ফোন পেয়ে বাড়িতে এসে স্ত্রী ও মেয়েকে মৃত অবস্থায় দেখতে পান।

তিনি দাবি করেন, প্রতিবেশী লিমন বড়ুয়া তেজপ্রিয়র সঙ্গে তার আর্থিক লেনদেন ছিল। ওই লেনদেন-সংক্রান্ত কাগজপত্রের খোঁজে লিমন তার বাড়িতে এসে এ ঘটনা ঘটিয়ে থাকতে পারেন বলে তার সন্দেহ। এছাড়া মৃত্যুর আগে তার স্ত্রী লিমন বড়ুয়ার নাম উল্লেখ করেছিলেন বলেও দাবি করেন তিনি।

আনোয়ারা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. জুনায়েত চৌধুরী বলেন, খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে মা ও মেয়ের মরদেহ উদ্ধার করে। মরদেহ দুটি ময়নাতদন্তের জন্য পাঠানোর প্রস্তুতি চলছে। ঘটনার রহস্য উদ্ঘাটন ও জড়িতদের গ্রেপ্তারে পুলিশের অভিযান অব্যাহত রয়েছে।
পরবর্তী খবর

যতক্ষণ প্রাণ থাকবে দেশ ও দেশের মানুষের জন্য কাজ করে যাব : প্রধানমন্ত্রী

| প্রকাশিত: ৪:৪৫ অপরাহ্ন, ১৩ জুন ২০২৬

প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান বলেন, জনগণের সমর্থনই আমাদের শক্তি। তাই যতক্ষণ আমাদের প্রাণ থাকবে ততক্ষণ পর্যন্ত এই দেশ এবং এই দেশের মানুষের জন্য কাজ করে যাব।

তিনি আজ সকালে পিএমখালি ইউনিয়নের পাতলী খাল পুনঃখননের কাজ শুরুর পরে সংক্ষিপ্ত সমাবেশে এ কথা বলেন। 

বিএনপি জনগণের জন্য রাজনীতি করে উল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রী বলেন,  'বিএনপির সকল ক্ষমতার উৎস হচ্ছে জনগণ। আর বিএনপি সরকার দেশের মানুষের ভাগ্য পরিবর্তন করতে চায়।’ 

তিনি বলেন, খবরের কাগজগুলোতে দেখলাম, এবারের বাজেটের পরে এখন পর্যন্ত কোন জিনিসের দাম বাড়েনি। কারণ চাল, ডাল, তেল, নুনসহ সকল প্রয়োজনীয় জিনিসের ওপর যে ট্যাক্স ছিল বর্তমান সরকার এই দুইদিন আগের বাজেটে ৬০টি পণ্যের ওপর থেকে তা তুলে নিয়েছে। যেন নিত্য প্রয়োজনীয় জিনিসের দাম না বাড়ে। এর উদ্দেশ্য ও লক্ষ্য একটাই, দেশের মানুষ যাতে ভালো থাকতে পারে।'

দেশে অস্থিতিশীলতা তৈরি করতে বিরোধী দল প্রস্তাবিত বাজেটের বিরোধিতা করছে উল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, 'বিরোধী দল বলছে যে এই গণবিরোধী বাজেট তারা মানে না।'


উপস্থিত জনগণের উদ্দেশে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান বলেন, 'আপনাদের কাছে আমি প্রশ্ন রেখে যেতে চাই, যেই বাজেটে ট্যাক্স কমানো হয় সেই বাজেটও বিরোধী দল মানে না। যেই বাজেটে মদের দাম বাড়ানো হয়, যেই বাজেটে সিগারেটের দাম বাড়ানো হয়, সেই বাজেটও বিরোধী দলের পছন্দ নয়। তাহলে এবার বিরোধী দলের উদ্দেশ্য বুঝতে পেরেছেন?

তারেক রহমান বলেন, ‘তাদের (বিরোধী দল) লক্ষ্য বা উদ্দেশ্য দেশের মানুষের পাশে দাঁড়ানো নয়। তাদের উদ্দেশ্য একটাই,  সেটা হচ্ছে দেশের মধ্যে অস্থিতিশীতা ও অশান্তি তৈরি করা, মানুষকে বিভ্রান্ত করা।’

উল্লেখ্য, গত বৃহস্পতিবার অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী সংসদে ২০২৬-২৭ অর্থ বছরের বাজেট উপস্থাপন করেন।

এদিকে বক্তব্যের শুরুতেই প্রধানমন্ত্রী উপস্থিত জনগণের উদ্দেশে প্রশ্ন ছুঁড়ে দিয়ে বলেন,  এখানে  কেনো এসেছি বলেন তো? পাতলী খাল পুনঃখনন কাজের উদ্বোধন করতে। আজ থেকে প্রায় ৫০ বছর আগে এই খাল খনন করেছিলেন শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমান। এই খাল খননের ফলে ৪০ হাজার মানুষের উপকার হবে। উপকৃত হবে সাড়ে ৮ হাজার কৃষক। এ কারণে আমারা আগামী পাঁচ বছরে ২৩ হাজার খাল খননের লক্ষ্য নির্ধারণ করেছি।

তিনি বলেন, ‘বাংলাদেশ কৃষি প্রধান দেশ। কিন্তু কৃষির সাথে সাথে আমাদেরকে শিল্প-বাণিজ্যেও গুরুত্ব দিতে হবে। শিল্প- বাণিজ্যের উন্নতি ঘটলে আমাদের সন্তানদের কর্মসংস্থানের ব্যবস্থা হবে। চাকরি বাকরি, ব্যবসা বাণিজ্য করতে পারবে। এ কারণে  যে সকল দ্রব্য দেশে উৎপাদিত হয় অথচ একই জিনিস যেগুলো বিদেশ থেকে আসে সেগুলোর ওপর আমরা ট্যাক্স বাড়িয়েছি। যাতে করে দেশে উৎপাদিত দ্রব্যটি যারা উৎপাদন করে, সেই শিল্প কারখানাটি সাপোর্ট পায়, তার ব্যবস্থা আমরা এই বাজেটের মধ্যে রেখেছি। এটিও বিরোধী দলের পছন্দ নয়।’

তিনি বলেন, 'আমি বলতে চাই, এদেশের মালিক আপনারা। দেশের মালিক কোন রাজনৈতিক দল নয়, দেশের মালিক কোন পরিবার নয়, দেশের মালিক হচ্ছে বাংলাদেশের ২০ কোটি জনগণ।'

প্রধানমন্ত্রী বলেন,  ‘দেশ আমাদের সকলের। এই দেশই আমাদের প্রথম ঠিকানা, এই দেশই আমাদের শেষ ঠিকানা। সেজন্যই আমরা বলি এই দেশকে গড়লে আমরাই ভালো থাকবো,আমাদের সন্তানরাই শান্তিতে থাকতে পারবে।’

তিনি বলেন, 'এই দেশকে যদি আমরা গড়তে না পারি তাহলে আমাদের সন্তানরা দুঃখ কষ্টে থাকবে। কেউ কি চায় নিজের সন্তান কষ্টে থাকুক? কেউ আমরা চাই না। সেজন্যই আমরা একটি কথাই বলি, করব কাজ, গড়ব দেশ, সবার আগে বাংলাদেশ।'

কক্সবাজার সদর উপজেলা বিএনপির সভাপতি আবদুল মাবুদের সভাপতিত্বে এই সমাবেশে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ, পানিসম্পদ মন্ত্রী শহীদ উদ্দিন চৌধুরী এ্যানি, প্রতিমন্ত্রী ফরহাদ হোসেন আজাদ, কক্সবাজার-৩ আসনের সংসদ সদস্য লুৎফুর রহমান কাজল, স্থ্নাীয় নেতা হারুনুর রশীদ প্রমুখ বক্তব্য রাখেন।

এর আগে সদর উপজেলার পিএমখালী ইউনিয়নে এই খাল পুনঃখনন কাজের উদ্বোধন করেন প্রধানমন্ত্রী।

প্রধানমন্ত্রী মুষল বৃষ্টির মধ্যেই ফ্লাইট থেকে নেমে সড়ক পথে পিএমখালীতে আসেন। বৃষ্টি উপেক্ষা করেই নিজের হাতে কোদাল দিয়ে পাতলী খাল পুনঃখনন কাজের উদ্বোধন করেন তিনি। পরে প্রধানমন্ত্রী খালের পাড়ে একটি খেজুর গাছের চারা রোপণ করেন।