বার বার মুখ শুকিয়ে গেলে যে বিপদ হতে পারে!

অনলাইন ডেস্ক | প্রকাশিত: ১২:৫৮ অপরাহ্ন, ১৬ জুলাই ২০২১
অনেকেই বলে থাকেন মুখ শুকিয়ে যায়। পর্যাপ্ত পানি পানের পরও এই সমস্যা অনেকের দেখা দেয়। অনেকে এটি ডায়াবেটিসের লক্ষণ বলে ধরে নেন। ডায়াবেটিসের চেয়েও বড় সমস্যার কারণে এমনটি হতে পারে। তাই মুখ শুষ্ক হয়ে গেলে বিষয়টি গুরুত্ব না দেওয়ার কোনো কারণ নেই। এই সমস্যা দীর্ঘদিন জিইয়ে রাখতে মারাত্মক বিপদও হতে পারে।

বিশেষজ্ঞরা বলছেন, হরমোনের তারতম্যের কারণে মুখে বিভিন্ন ধরনের সমস্যা দেখা দিতে পারে। থাইরয়েড হরমোন বেশি হওয়ার কারণে বার্নিং মাউথ সিনড্রোম অর্থাৎ মুখে জ্বালাপোড়া হতে পারে। যাদের থাইরয়েড হরমোনের পরিমাণ কম থাকে তাদের ক্ষত বা আলসার দেরিতে শুকায়।

হাইপোথাইরয়ডিজমে রোগীরা জিহ্বার মেটালিক স্বাদ পেতে পারে। মাঝে মাঝে হাইপোথাইরয়ডিজমে জগ্রেন্স সিনড্রোম দেখা দিয়ে থাকে, যার কারণে শুষ্ক মুখের সৃষ্টি হয়ে থাকে। 

মুখ শুকিয়ে থাকার কারণ ও প্রতিকার নিয়ে যুগান্তরকে পরামর্শ দিয়েছেন মুখ ও দন্তরোগ বিশেষজ্ঞ ডা. মো. ফারুক হোসেন।

শুষ্ক মুখের প্রভাবে দন্তক্ষয়ের পরিমাণ বেড়ে যায়। হাইপোথাইরয়ডিজমে প্রাপ্ত বয়স্কদের ক্ষেত্রে ম্যাক্রোগ্লসিয়া বা জিহ্বা বড় হতে পারে। ঠোঁট বড় হয়ে যেতে পারে। এটি হতে পারে পানি এবং প্রোটিন জমা হওয়ার কারণে। ম্যান্ডিবল আন্ডার ডেভেলপড্ বা সঠিকভাবে গঠন হয় না অথবা পুরোপুরি গঠন হয় না। তাছাড়া পেরিওডন্টাল রোগের ঝুঁকি থাকে। 

থাইরয়েড হরমোন কম বা বেশি হলে পেরিওডন্টাল রোগ হওয়ার সম্ভাবনা থাকে। হাইপারথাইরয়ডিজমে পেরিওডন্টাল রোগ, ম্যাক্সিলারি বা ম্যান্ডিবুলার অস্টিওপরোসিস এবং দাঁত তাড়াতাড়ি ওঠে। 

হাইপোথাইরয়ডিজমের রোগীদের ঘা বা ক্ষত যেহেতু দেরিতে শুকায় সে কারণে অস্ত্রোপচারের পর সংক্রমণের ঝুঁকি বেড়ে যায়। তাই দাঁত তোলা অথবা সার্জারির সময় সতর্ক থাকতে হবে। বয়ঃসন্ধিকালে ইস্ট্রোজেন এবং প্রজেসটেরন হরমোন বেশি নিঃসরণ হওয়ার কারণে মাড়ি রোগ দেখা দিতে পারে।  দাঁতে পাথর থাকলে স্কেলিং করিয়ে নিতে হবে।  জিনজাইভাল হাইপারপ্লাসিয়া হতে পারে। মনে রাখতে হবে কিছু ওষুধের কারণেও জিনজাইভাল হাইপারপ্লাসিয়া হতে পারে। মাসিকের সময় প্রজেসটেরন হরমোন বেশি হওয়ার কারণে মাড়িতে আলসারসহ বিভিন্ন সমস্যা দেখা দিতে পারে। তবে এসব ক্ষেত্রে তেমন কোনো চিকিৎসার প্রয়োজন নাই। 

গর্ভাবস্থায় প্রথম তিন মাস ইস্ট্রোজেন লেভেল দ্রুত বৃদ্ধি পায়। এতে বমি বমি ভাব হতে পারে। এ সময় গর্ভবতীর মুখের অধিকতর যত্ন নিতে হবে। শুধু ইস্ট্রোজেন নয় বরং প্রজেসটেরন লেভেলও বৃদ্ধি পেয়ে থাকে। দুটি হরমোন বৃদ্ধি পাওয়ার কারণে মাড়িতে রক্ত সঞ্চালনও বেশি হয়। সে কারণে মাড়ি অধিকতর সংবেদনশীল হয়ে থাকে। মাড়ি ফুলে যেতে পারে। এ সময় জেল জাতীয় টুথপেস্ট ব্যবহার করবেন না। 

গর্ভাবস্থায় তিন থেকে ছয় মাসের মধ্যে মুখ ও দাঁতের চিকিৎসা করে নিতে হবে। জরুরি চিকিৎসা যে কোনো সময় ডাক্তারের পরামর্শ অনুযায়ী করবেন।  মেনোপজ অর্থাৎ মাসিক যখন বন্ধ হয়ে যায় তখন হরমোনের তারতম্যের কারণে বার্নিং মাউথ সিনড্রোম বা মুখের জ্বালাপোড়া দেখা দিতে পারে। 

হরমোনের তারতম্যের কারণে অনেক সময় মেয়েদের মেজাজ খিটখিটে থাকে। তাই মুখের কোনো সমস্যা দেখা দিলে অবশ্যই মুখের ডাক্তারের পরামর্শ নিতে হবে। মেনোপজের সময় বা মেনোপজ পরবর্তীকালে বিষণ্নতায় আক্রান্ত হলে মুখে বিভিন্ন ধরনের সমস্যা দেখা দিয়ে থাকে। তাই এসব বিষয়ে অবশ্যই সচেতন হতে হবে। 
মেনোপজ পরবর্তীকালে নারীর মানসিক স্বাস্থ্যের প্রতি অবশ্যই খেয়াল রাখতে হবে। মেনোপজের সময় হরমোনের তারতম্যের কারণে শুষ্ক মুখ হতে পারে। শুষ্ক মুখের কারণে মুখে তেতো স্বাদ হতে পারে। জন্ম নিয়ন্ত্রণ বড়ি সেবন করলে শুষ্ক মুখ হতে পারে। মুখে দুর্গন্ধ সৃষ্টি হতে পারে। 

মনে রাখতে হবে অন্যান্য অনেক কারণে একই ধরনের সমস্যার সৃষ্টি হয়। ইস্ট্রোজেন এবং প্রজেসটেরন হরমোন মাড়িতে রক্তের প্রবাহ বৃদ্ধি করে। মাড়ি ফুলে যেতে পারে। মাড়ি থেকে রক্তপাত হতে পারে। মাড়ি রোগসহ মাড়ি এবং দাঁত অধিক সংবেদনশীল হতে পারে। এ বিষয়গুলো অবশ্যই চিকিৎসার সময় গুরুত্ব দিতে হবে। মেয়েদের মধ্যে যারা নিয়মিত জন্ম নিরোধক ওষুধ বা পিল সেবন করেন তাদের ক্ষেত্রে মাড়ি রোগ দেখা দিতে পারে। 

দাঁত তোলার পর ড্রাই সকেট বা অ্যালভিওলার অস্টাইটিস দেখা দিতে পারে। যারা নিয়মিত জন্ম নিয়ন্ত্রণ বড়ি সেবন করেন তাদের ক্ষেত্রে মাসিকের শেষ সপ্তাহে ২৩-২৮ দিনের মধ্যে দাঁত তোলা ভালো। কারণ এ সময় ইস্ট্রোজেন লেভেল কম থাকে, অথবা কার্যকর থাকে না। ইস্ট্রোজেন প্রণোদনা দেয় ফিব্রিনোলাইসিসের ক্ষেত্রে। ফলে রক্ত জমাট বাঁধা প্রক্রিয়া ক্ষতিগ্রস্ত হয়। এ ছাড়া ইস্ট্রোজেন ক্ষতস্থান শুকানোর প্রক্রিয়াকে বাধাগ্রস্ত করে। শরীরে স্বাভাবিক বৃদ্ধির জন্য গ্রোথ হরমোন আবশ্যক। কিন্তু যখন কোনো কারণে মাত্রাতিরিক্ত গ্রোথ হরমোন নিঃসরিত হয় তখন মানবদেহের নিচের চোয়াল বা ম্যান্ডিবল বড় হয়ে যাওয়ার সঙ্গে সঙ্গে দাঁত ফাঁকা হয়ে যায়। 

উপরের দাঁত এবং নিচের দাঁতের স্বাভাবিক রিলেশন নষ্ট হয়ে যায় বলে এ অবস্থায় দাঁতের চিকিৎসা করতে হলে আগে চোয়াল ঠিক করতে হবে। অর্থাৎ অর্থোগন্যাথিক সার্জারির প্রয়োজন হতে পারে। অতএব বুঝতেই পারছেন একটি হরমোন বেশি নিঃসরণ হওয়ার কারণে বিভিন্ন ধরনের সমস্যা সৃষ্টি হতে পারে। 

ক্রমাগত দুশ্চিন্তা করলে স্ট্রেস হরমোন কর্টিসল নিঃসরিত হয়ে থাকে। এ  ধরনের রোগীদের চিকিৎসার ক্ষেত্রে রোগীর ওষুধের ইতিহাসসহ পূর্ণ ইতিহাস গ্রহণ করতে হবে। সব ধরনের প্রস্তুতি গ্রহণ করার পরেই রোগীর মুখের চিকিৎসা প্রয়োজন হলে করতে হবে। অক্সিটোসিন হরমোন বা লাভ হরমোন মুখের প্রদাহ কমাতে সাহায্য করে থাকে। অতিরিক্ত মানসিক চাপে দাঁত কামড়ানো, ক্যানকার সোর বা ক্ষত, মাড়ি রোগ এবং টেম্পেরোম্যান্ডিবুলার জয়েন্টের অচলাবস্থা দেখা দিতে পারে। 

এডরেনালিন হার্ট রেট বৃদ্ধি করে, রক্তচাপ বৃদ্ধি করে। দাঁতের চিকিৎসার সময় রোগী অতিরিক্ত দুশ্চিন্তা করলে চিকিৎসা শুরু করার আধা ঘণ্টা আগে ট্রাংকুলাইজার জাতীয় ওষুধ প্রয়োগ করা যেতে পারে। এ ক্ষেত্রে রোগীর আগের ইতিহাস অবশ্যই গ্রহণ করতে হবে। হরমোন শরীরের জন্য অত্যন্ত প্রয়োজন। 

আবার হরমোনের কম-বেশি হওয়ার কারণে আমাদের শরীরে এবং মুখে বিরূপ প্রতিক্রিয়ার সৃষ্টি হয়ে থাকে। তাই হরমোন সম্পর্কে সচেতন হতে হবে।

পরবর্তী খবর

ঢাকায় শেষ হলো ‘আন্তর্জাতিক ফাইট নাইটের আসর’

| প্রকাশিত: ১১:১১ পূর্বাহ্ন, ১৯ এপ্রিল ২০২৬

রাজধানীতে জমকালো আয়োজনের মধ্য দিয়ে শেষ হলো ‘আন্তর্জাতিক ফাইট নাইট’। তানভীর বসুন্ধরা গ্রুপের (টিবিজি) পৃষ্ঠপোষকতায় শনিবার (১৮ এপ্রিল) সন্ধ্যায় বসুন্ধরা স্পোর্টস সিটির জুলকান ইনডোর অ্যারেনায় দেশি-বিদেশি ২৪ জন ফাইটারের লড়াইয়ে মুখরিত ছিল গ্যালারি। মুইয়েথাই, মিক্সড মার্শাল আর্ট ও বক্সিংয়ের ১২টি বাউটে বাংলাদেশসহ থাইল্যান্ড, ফিলিপাইন ও সিঙ্গাপুরের প্রতিযোগীরা অংশ নেন, যেখানে লড়াকু পারফরম্যান্স দেখিয়ে দর্শকদের মাতান লাল-সবুজের প্রতিনিধিরা।

দেশ-বিদেশের ফাইটিং স্টারদের ফাইট দেখতে দর্শকদের গুঞ্জরণে মুখরিত হয়ে ছিল জুলকান ইনডোর অ্যারেনা। এই প্রতিযোগিতার আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন করেন তানভীর বসুন্ধরা গ্রুপের (টিবিজি) ব্যবস্থাপনা পরিচালক (এমডি) আহমেদ ইব্রাহিম সোবহান।

বিশেষ এই প্রতিযোগিতাটি দর্শক গ্যালারিতে থেকে উপভোগ করেন সাফওয়ান বসুন্ধরা গ্লোবালের চেয়ারম্যান সাফওয়ান সোবহান ও ভাইস চেয়ারম্যান ইয়াশা সোবহান।

এছাড়াও উপস্থিত ছিলেন সানভীর বসুন্ধরা গ্রুপের ভাইস চেয়ারম্যান এমিল আহমেদ সোবহান।

তিন ডিসিপ্লিনের এই ফাইটে মুখোমুখি লড়েছেন বাংলাদেশ , থাইল্যান্ড, ফিলিপাইন ও সিঙ্গাপুরের প্রতিযোগীরা। ফাইট কার্ডে ছিল বেশ কয়েকটি আকর্ষণীয় ম্যাচআপ। ১২ বাউটের এই প্রতিযোগিতায় অংশ নেন দেশ-বিদেশের ২৪ জন প্রতিযোগী।

এর মধ্যে বাউট ১ এ অংশ নেয় বাংলাদেশের ইয়াহসান হাসিন এবং আজিজুল সরকার। প্রতিপক্ষকে হারিয়ে চ্যাম্পিয়নশীপ বেল্ট ছিনিয়ে নেন বাংলাদেশের ইয়াহসান হাসিন।

বাউট ২ এ বাংলাদেশের আজিদ বেবি লড়েছেন সিঙ্গাপুরের নিক চুয়া এর বিপক্ষে। প্রতিপক্ষকে হারিয়ে চ্যাম্পিয়নশীপ বেল্ট ছিনিয়ে নেন নিক চুয়া ।

বাউট ৩ এ বাংলাদেশের আব্দুল হামিদ নূরের বিপরীতে লড়েছেন সিঙ্গাপুরের শন রাফায়েল স্যানি। প্রতিপক্ষকে হারিয়ে চ্যাম্পিয়নশীপ বেল্ট ছিনিয়ে নেন শন রাফায়েল স্যানি।

বাউট ৪ এ বাংলাদেশের ইমন তঞ্চঙ্গ্যা লড়েছেন ফিলিপাইনের রকি ব্যাকটলের বিপক্ষে। প্রতিপক্ষকে হারিয়ে চ্যাম্পিয়নশীপ বেল্ট ছিনিয়ে নেন ইমন তঞ্চঙ্গ্যা।

বাউট ৫ এ বাংলাদেশের হোসাইন আহমেদ লড়েছেন থাইল্যান্ডের উইরাওয়াত সাপনলার বিপক্ষে। প্রতিপক্ষকে হারিয়ে চ্যাম্পিয়নশীপ বেল্ট ছিনিয়ে নেন হোসাইন আহমেদ।

বাউট ৬ এ ফিলিপাইনের মার্ক জোসেফ অ্যাব্রিলো লড়েছেন থাইল্যান্ডের নাট্টাওয়াত কাওখানচুমের বিপক্ষে। প্রতিপক্ষকে হারিয়ে চ্যাম্পিয়নশীপ বেল্ট ছিনিয়ে নেন

নাট্টাওয়াত কাওখানচুমের।

বাউট ৭ এ বাংলাদেশের ইসার কবির লড়েছেন স্বদেশী রোনাল্ড হালদারের বিপক্ষে। প্রতিপক্ষকে হারিয়ে চ্যাম্পিয়নশীপ বেল্ট ছিনিয়ে নেন ইসার কবির।

বাউট ৮ এ বাংলাদেশের গাজ্জালী বেনজাদিদ জিদান লড়েছেন স্বদেশী কাজী জারিফ এর বিপক্ষে। প্রতিপক্ষকে হারিয়ে চ্যাম্পিয়নশীপ বেল্ট ছিনিয়ে নেন গাজ্জালী বেনজাদিদ জিদান।

বাউট ৯ এ বাংলাদেশের মাসাদুল রেজা অমিও লড়েছেন বাংলাদেশের কালেব চাক এর বিপক্ষে। প্রতিপক্ষকে হারিয়ে চ্যাম্পিয়নশীপ বেল্ট ছিনিয়ে নেন মাসাদুল রেজা অমিও।

বাউট ১০ এ বাংলাদেশের মনজুর আলমের প্রতিপক্ষ ছিল ফিলিপাইনের জন ইজেকিয়েল পাগালাঙ্গান। প্রতিপক্ষকে হারিয়ে চ্যাম্পিয়নশীপ বেল্ট ছিনিয়ে নেন মনজুর আলম।

বাউট ১১ এ নারীদের বক্সিংয়ে বাংলাদেশের সানজিদা জান্নাত লড়েছেন থাইল্যান্ডের পর্নপিমন পংপেও এর বিপক্ষে। প্রতিপক্ষকে হারিয়ে চ্যাম্পিয়নশীপ বেল্ট ছিনিয়ে নেন সানজিদা জান্নাত।

বাউট ১২ এ বাংলাদেশের মোহাম্মদ রাশেদ লড়েছেন থাইল্যান্ডের সিংথং সর সিঙইউ এর বিপক্ষে। প্রতিপক্ষকে হারিয়ে চ্যাম্পিয়নশীপ বেল্ট ছিনিয়ে নেন মোহাম্মদ রাশেদ।

এই মেগা ইভেন্টটির আয়োজনে ছিল তানভীর বসুন্ধরা গ্রুপ (টিবিজি)। তরুণ প্রজন্মকে ক্রীড়ামুখী করতে তারা এই প্ল্যাটফর্ম তৈরি করছেন ।

ক্রীড়াবিদ ও আয়োজকরা মনে করছেন, এই ধরনের ইভেন্ট দেশের কমব্যাট স্পোর্টসকে জনপ্রিয় করার পাশাপাশি নতুন প্রজন্মকে ক্রীড়ামুখী করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে। এই ধরনের আয়োজন দেশের তরুণ ফাইটারদের জন্য আন্তর্জাতিক মঞ্চ তৈরি এবং বিশ্বমানের প্রতিযোগিতায় অংশ নিতে বাতিঘর হয়ে উঠবে।

পরবর্তী খবর

বিচ্ছেদের পথে হাঁটছেন রণবীর-দীপিকা?

| প্রকাশিত: ৬:০৪ অপরাহ্ন, ১৫ এপ্রিল ২০২৬
দীপিকা পাড়ুকোন এবং রণবীর সিং, বলিউডের এই ‘পাওয়ার কাপল’-এর রসায়ন নিয়ে সবসময়ই আলোচনা থাকে তুঙ্গে। তবে সম্প্রতি নেটপাড়ায় এক চাঞ্চল্যকর জল্পনা ছড়িয়েছে। শোনা যাচ্ছে, এই তারকা দম্পতির সাজানো সংসারে নাকি ফাটল ধরেছে! কিন্তু প্রশ্ন উঠছে, এই গুঞ্জনের ভিত্তি ঠিক কতোটা?

দীর্ঘদিন ধরেই সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে এই বিচ্ছেদের সুর বাজছে। রেড্ডিট-এর মতো প্ল্যাটফর্মে একাংশ দাবি করছেন, তাদের মধ্যে নাকি আর বনিবনা হচ্ছে না। সমাজমাধ্যমে ছড়িয়েছে, চলতি বছরের ১ জুন থেকে ৩ সেপ্টেম্বরের মধ্যে নাকি বিচ্ছেদের পথে হাঁটবেন তাঁরা! এই খবর ছড়িয়ে পড়তেই তুমুল উত্তেজনা ছড়িয়েছে নেটিজেনদের মধ্যে। পরিস্থিতি এমন পর্যায়ে পৌঁছেছে যে, নেটিজেনরা রণবীরের বিশ্বস্ততা নিয়েও প্রশ্ন তুলতে শুরু করেছেন। 

আবার কেউ কেউ বলছেন, তাদের চিন্তা-ভাবনা বা আদর্শের অমিলের কারণেই এই দূরত্বের সৃষ্টি। এমনকি দীপিকা যখন রণবীরের সাম্প্রতিক সাফল্য নিয়ে শুরুতে কোনও প্রতিক্রিয়া জানাননি, তখন সেই জল্পনার আগুনে ঘি পড়ে। যদিও পরে দীপিকা স্পষ্ট করে দেন যে, তিনি রণবীরের কাজ দেখেছেন এবং প্রশংসা করেছেন।

২০১৮ সালে ইতালির লেক কোমোতে জাঁকজমকপূর্ণ অনুষ্ঠানের মাধ্যমে বিবাহবন্ধনে আবদ্ধ হয়েছিলেন রণবীর-দীপিকা। দাম্পত্য জীবনে তাদের কোলে এসেছে ফুটফুটে এক কন্যা সন্তান, দুয়া পাড়ুকোন সিং। এতো বছর একসঙ্গে কাটানোর পরও বিচ্ছেদের খবর ভক্তদের মনে বিষাদ তৈরি করেছে।

বছরের পর বছর ধরে দীপিকা পাড়ুকোন এবং রণবীর সিংয়ের সম্পর্ক নিয়ে অনেক গুজব শোনা গেছে। এমনকি তাদের ব্যক্তিগত জীবনে টানাপোড়েন চলছে বলেও নানা গুঞ্জন রটেছে। কিন্তু বাইরের এই গুঞ্জনকে তাঁরা কখনও গুরুত্ব দেননি। বরং সবসময় একে অপরের সবচেয়ে বড় সমর্থক হয়ে পাশে দাঁড়িয়েছেন। এভাবেই বারবার তাঁরা প্রমাণ করেছেন, কেন তাদের বলিউডের অন্যতম ‘পাওয়ার কাপল’ বলা হয়।
পরবর্তী খবর

বাংলাদেশ যাদুকর পরিষদের উদ্যোগে বাংলা নববর্ষ বরণ ও ঈদ পূনমিলনী অনুষ্ঠান অনুষ্ঠিত

| প্রকাশিত: ১০:২৭ অপরাহ্ন, ১৪ এপ্রিল ২০২৬



ঢাকা, ১৪ এপ্রিল: বাংলা নববর্ষ ১৪৩৩ উদযাপন উপলক্ষে বাংলাদেশ যাদুকর পরিষদের উদ্যোগে এক বর্ণাঢ্য বর্ষবরণ ও ঈদ পূনমিলনী অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়। রাজধানীর বনানীর চেয়ারম্যানবাড়ীস্থ শিকদার প্লাজায় সংগঠনের কার্যালয়ের  মিলনায়তনে অনুষ্ঠিত এ অনুষ্ঠানে দেশের খ্যাতনামা জাদুকররা অংশ নেন এবং মনোমুগ্ধকর জাদু প্রদর্শনের মাধ্যমে দর্শকদের মুগ্ধ করেন।

অনুষ্ঠানের শুরুতেই নববর্ষকে স্বাগত জানিয়ে পরিবেশিত হয় সাংস্কৃতিক পরিবেশনা ও পান্তা-ইলিশসহ বিভিন্ন প্রকার ভর্তা দিয়ে খাবার পরিবেশনা।  এরপর একে একে মঞ্চে আসেন অভিজ্ঞ ও তরুণ জাদুশিল্পীরা। তাদের চমকপ্রদ ম্যাজিক শো, হাতের কারসাজি ও আধুনিক জাদু কৌশল দর্শকদের মাঝে ব্যাপক সাড়া ফেলে।

বাংলাদেশ যাদুকর পরিষদের সভাপতি ও আন্তর্জাতিক অঙ্গনে নন্দিত খ্যাতনামা যাদুশিল্পী মো: ছফির উল্লাহ শিকদার  বলেন, বাংলা নববর্ষ আমাদের ঐতিহ্য ও সংস্কৃতির অন্যতম প্রধান অংশ। এই দিনটি উদযাপনের মাধ্যমে আমরা আমাদের শিকড়ের সঙ্গে নতুন করে সংযুক্ত হই। একই সঙ্গে নতুন প্রজন্মের কাছে জাদুশিল্পকে জনপ্রিয় করে তুলতে এ ধরনের আয়োজন গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে।

অনুষ্ঠানে বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ উপস্থিত ছিলেন। পরিবার-পরিজন নিয়ে অনেকেই এ বিশেষ আয়োজন উপভোগ করেন। শিশু-কিশোরদের উপস্থিতি ছিল চোখে পড়ার মতো।

শেষে নববর্ষের শুভেচ্ছা বিনিময়ের মাধ্যমে অনুষ্ঠানের সমাপ্তি ঘটে। আয়োজকরা ভবিষ্যতেও এ ধরনের আয়োজন অব্যাহত রাখার প্রত্যয় ব্যক্ত করেন।

পরবর্তী খবর

রমনায় ছায়ানটের বর্ষবরণ, ভয়হীন-শঙ্কামুক্ত সমাজের আকাঙ্ক্ষা

| প্রকাশিত: ১০:৪৪ পূর্বাহ্ন, ১৪ এপ্রিল ২০২৬

বরাবরের মতোই রাজধানীর রমনার বটমূলে সুরের মূর্ছনায় নতুন বঙ্গাব্দ ১৪৩৩ বরণ করে নিলো সাংস্কৃতিক সংগঠন ছায়ানট। নতুন বছরের প্রথম আলো ফোটার সঙ্গে সঙ্গেই ভৈরব ঠাঁটের রাগ রামকেলিতে সুরারোপিত ‘জাগো আলোক-লগনে’ গানের সুরে শুরু হয় এ আয়োজন। নানা পরিবেশনা ও বক্তব্যের মধ্য দিয়ে অনুষ্ঠান শেষ হয়েছে একটি ভয়হীন ও শঙ্কামুক্ত সমাজ ও যাপনের প্রত্যাশায়।


মঙ্গলবার (১৪ এপ্রিল) ভোর ৬টা ১৫ মিনিটে শুরু হয় ছায়ানটের বর্ষবরণের অনুষ্ঠান। একক ও সমবেত সংগীতের পাশাপাশি আবৃত্তির পর জাতীয় সংগীতের মধ্য দিয়ে সকাল ৮টা ২৫ মিনিটে অনুষ্ঠান শেষ হয়।

ভোরের আলো ফোটার আগেই ছায়ানটের অনুষ্ঠানে অংশ নিতে রাজধানীর বিভিন্ন প্রান্ত থেকে ছুটে গিয়েছিলেন ধর্ম-বর্ণ-লিঙ্গ নির্বিশেষে নানা বয়সী মানুষ। ‘চিত্ত যেথা ভয়শূন্য, উচ্চ যেথা শির’ প্রতিপাদ্যে আয়োজিত অনুষ্ঠানে গান-কবিতার সঙ্গে গলা মিলিয়েছেন তারা। জানিয়েছেন একটি নির্বিঘ্ন সমাজের প্রত্যাশার কথা।

ছায়ানট সভাপতি সারওয়ার আলী বলেন, সমাজে অসহিষ্ণুতা বেড়েছে, বেড়েছে মত প্রকাশের ক্ষেত্রে দলবদ্ধ নিগ্রহের আশঙ্কা। মার্কিন-ইসরায়েলি নিগ্রহে আজ পারস্য সভ্যতাও ভয়াবহ বিপর্যয়ের সম্মুখীন। বিশ্ববাসী আজ বিপর্যস্ত ও আতঙ্কিত। স্বদেশে আজ নতুন বছরের আজ প্রথম প্রহরে কামনা করছেন বিশ্বশান্তি।


ছায়ানট সভাপতি আরও বলেন, আমরা সমাজের কাছে অভয় বাণী শুনতে চাই— সংবাদকর্মীরা যেন নির্ভয়ে প্রকৃত মত প্রকাশ করতে পারেন, আমরা যেন নির্ভয়ে গান গাইতে পারি, সংস্কৃতির সকল প্রকাশ যেন নির্বিঘ্নে হয়। বাঙালি যেন শঙ্কামুক্ত জীবন যাপন করতে পারে।

এর আগে অনুষ্ঠানের সূচায় অজয় ভট্টাচার্যের কথায় ও ভীষ্মদেব চট্টোপাধ্যায়ের সুরে ‘জাগো আলোক-লগনে’ যৌথভাবে পরিবেশন করেন মিরাজুল জান্নাত সোনিয়া, ঐশ্বর্য সমাদ্দার, প্রিয়ন্তু দেব ও সমুদ্র শুভম। এরপর একে একে আটটি সম্মেলক ও ১৪টি একক গান পরিবেশিত হয়, ছিল দুইটি পাঠ। সব মিলিয়ে অংশ নিয়েছেন প্রায় ২০০ শিল্পী। পাশাপাশি ব্রিটিশবিরোধী আন্দোলনের প্রখ্যাত গণসঙ্গীতজ্ঞ সলিল চৌধুরী ও পাকিস্তানবিরোধী আন্দোলনের গীতিকার-সুরকার মতলুব আলীর প্রতি শ্রদ্ধাঞ্জলি জানানো হয়।

অনুষ্ঠানে একক রবীন্দ্রসংগীত পরিবেশনকারীদের মধ্যে ছিলেন মাকছুরা আখতার অন্তরা, আজিজুর রহমান তুহিন, সেমন্তী মঞ্জরী, তানিয়া মান্নান ও লাইসা আহমদ লিসা। নজরুলগীতি পরিবেশন করেন বিটু কুমার শীল, বিজন চন্দ্র মিস্ত্রী, নাসিমা শাহীন ফ্যান্সি, খায়রুল আনাম শাকিল ও শারমিন সাথী ইসলাম ময়না। দ্বিজেন্দ্রলাল রায়ের গান গেয়ে শোনান শ্রাবন্তী ধর। লালন সাঁইয়ের গান পরিবেশন করেন চন্দনা মজুমদার।


অনুষ্ঠানে আবৃত্তি পরিবেশন করেন ভাস্বর বন্দোপাধ্যায়। সলিল চৌধুরীর ‘এক গুচ্ছ চাবি’ আবৃত্তি করেন খায়রুল আলম সবুজ। সম্মেলক পরিবেশনায় ছিল ‘ভয় হতে তব অভয় মাঝে’, ‘জগতে আজিকে যারা’, ‘পথে এবার নামো সাথী’, ‘এসো মুক্ত করো’ ও ‘সেদিন আর কত দূরে’সহ নানা গান। আবদুল লতিফ, মতলুব আলী ও সাধন চন্দ্র বর্মণের গানও পরিবেশিত হয় দলীয় কণ্ঠে।

অনুষ্ঠানের শেষ পর্বে বক্তব্য দেন ছায়ানটের সভাপতি সারওয়ার আলী। তিনি বলেন, যে সংগীত বাঙালির আনন্দ-বেদনা- মিলন-বিরহ-সংকটের সঙ্গী, মুক্তিযুদ্ধ থেকে সব অধিকার অর্জনের অবলম্বন, সব ধর্ম-জাতির মানুষকে সম্প্রীতির বন্ধনে আবদ্ধ করে, অপশক্তি ভয় দেখিয়ে সেই সংগীত থেকে শান্তিপ্রিয় মানুষকে দূরে রাখতে চায়। তারা আবহমান বাংলা গানকে তার সমৃদ্ধ উত্তরাধিকার থেকে শেকড়বিচ্ছিন্ন করতে উদ্যত।

ছায়ানট কর্মীদের সঙ্গে সেবায় যুক্ত ছিল থার্টিনথ হুসার্স ওপেন রোভার গ্রুপ ও এজিস সার্ভিসেস লিমিটেড। মঞ্চসজ্জায় ছিলেন ছায়ানটেরই দুই সাবেক শিল্পী— মমিনুল হক দুলু ও রণজিত রায়।

পরবর্তী খবর

কারামুক্ত বাউলশিল্পী আবুল সরকার

| প্রকাশিত: ৫:১৬ অপরাহ্ন, ১৩ এপ্রিল ২০২৬

ধর্ম অবমাননা ও কটূক্তির অভিযোগে করা মামলায় কারাগারে থাকা বাউলশিল্পী আবুল সরকার জামিনে মুক্তি পেয়েছেন।আজ সোমবার সকাল ১১টা ২০ মিনিটে গাজীপুরের কাশিমপুর হাইসিকিউরিটি কেন্দ্রীয় কারাগার পার্ট-২ থেকে তিনি মুক্তি পান।

কারাগার থেকে বের হয়ে প্রথমে রিকশায় করে মূল ফটকে আসেন। পরে সাদা রঙের একটি হাইচ গাড়িতে করে তিনি স্থান ত্যাগ করেন। এ সময় তার পরিবারের সদস্যরা উপস্থিত ছিলেন। তবে অসুস্থ থাকায় মুক্তির পর তিনি সাংবাদিকদের সঙ্গে কোনো কথা বলেননি।

কাশিমপুর হাইসিকিউরিটি কেন্দ্রীয় কারাগার পার্ট-২ এর সিনিয়র জেল সুপার হালিমা খাতুন বিষয়টি নিশ্চিত করে জানান, জামিনের কাগজপত্র কারাগারে পৌঁছানোর পর যাচাই-বাছাই শেষে অন্য কোনো মামলা না থাকায় তাকে মুক্তি দেওয়া হয়।

উল্লেখ্য, আবুল সরকার মানিকগঞ্জ জেলার সাটুরিয়া উপজেলার চর তিল্লী গ্রামের বাসিন্দা। তিনি মৃত আমজাদ আলীর ছেলে।

এর আগে, গত ৫ এপ্রিল ধর্ম অবমাননার অভিযোগে গ্রেপ্তার হয়ে কারাগারে যান তিনি। পরে জামিনের আবেদন করলে বিচারপতি মো. আতোয়ার রহমান ও বিচারপতি মো. সগীর হোসেনের সমন্বয়ে গঠিত হাইকোর্ট বেঞ্চ তাকে ৬ মাসের অন্তর্বর্তীকালীন জামিন দেন।

প্রসঙ্গত, গত বছরের ৪ নভেম্বর মানিকগঞ্জের ঘিওর উপজেলার জাবরা এলাকায় একটি মেলায় পালাগানের আসরে ধর্ম অবমাননাকর মন্তব্য করার অভিযোগ ওঠে তার বিরুদ্ধে। সেই বক্তব্যের ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়লে ব্যাপক সমালোচনার সৃষ্টি হয়।

এরপর ১৯ নভেম্বর রাতে মাদারীপুরে একটি গানের আসর থেকে তাকে আটক করে মানিকগঞ্জ ডিবি পুলিশের একটি দল। পরবর্তীতে তাকে আদালতের মাধ্যমে কারাগারে পাঠানো হয়। পরে তিনি হাইকোর্টে জামিনের আবেদন করলে আদালত তার জামিন মঞ্জুর করেন।

পরবর্তী খবর

মারা গেছেন কিংবদন্তি গায়িকা আশা ভোঁসলে

| প্রকাশিত: ৭:১৬ অপরাহ্ন, ১২ এপ্রিল ২০২৬
ভারতীয় সংগীতজগতের অমর কণ্ঠস্বর, কিংবদন্তি গায়িকা আশা ভোঁসলে আর নেই। ৯২ বছর বয়সে তিনি পৃথিবীর মায়া ত্যাগ করেছেন। মুম্বাইয়ে একটি হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তার মৃত্যু হয়েছে। 

এমন তথ্যই নিশ্চিত করেছে এনডিটিভিসহ ভারতের বেশ কিছু গণমাধ্যম।এর আগে হৃদরোগে আক্রান্ত হলে আশা ভোঁসলেকে মুম্বাইয়ের একটি বেসরকারি হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছিলো। সূত্রের বরাতে আনন্দবাজারের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, হৃদরোগে আক্রান্ত হওয়ায় আশা ভোঁসলেকে হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। তিনি ফুসফুসের সমস্যাতেও ভুগছিলেন।

অবশেষে সেখানেই চিকিৎসাধীন অবস্থায় আজ রোববার (১২ এপ্রিল) দুপুরে শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন তিনি।

প্রায় আট দশকের কর্মজীবনে বিভিন্ন ভারতীয় চলচ্চিত্র ও অ্যালবামের জন্য অসংখ্য গান রেকর্ড করেছেন কিংবদন্তি এ গায়িকা । তার ঝুড়িতে রয়েছে অসংখ্য পুরস্কার। তিনি দাদাসাহেব ফালকে পুরস্কারে সম্মানিত হয়েছেন। ২০০৮ সালে পেয়েছেন পদ্মভূষণ। ১৯৯৭ সালে গ্র্যামির জন্য মনোনীত হন তিনি।

বাঙালি কন্যা আশা ভোঁসলে নানা ভাষার গান কণ্ঠে ধারন করে ভারত উপমহাদেশে সুরের আলো জ্বেলে গেছেন আমৃত্যু। বিশেষ করে তিনি হিন্দি গানের ভুবনে অমর এক নাম। লতা মুঙ্গেশকরের বোন ও আর ডি বর্মণের স্ত্রী পরিচয়কে ছাপিয়ে হয়ে উঠেছিলেন নিজেই এক মহাতারকা। তার কণ্ঠ চিরকাল কোটি মানুষের হৃদয়ে ছুঁয়ে যাবে।

তার মৃত্যুতে ভারত উপমহাদেশের শোবিজে শোক নেমেছে।
পরবর্তী খবর

নাট্যপাড়ায় সপরিবারে নাটক দেখলেন প্রধানমন্ত্রী

| প্রকাশিত: ১১:১৫ পূর্বাহ্ন, ১২ এপ্রিল ২০২৬

রাজধানীর নাট্যপাড়ায় সপরিবারে হাজির হয়ে শিশুতোষ নাটক উপভোগ করলেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। শনিবার (১১ এপ্রিল) সন্ধ্যায় বেইলি রোডের একটি থিয়েটারে শিশুতোষ নাটক ‘কবি চিতাবাঘ’ উপভোগ করেন তিনি।

সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, ব্যস্ত সূচির মাঝেও কিছুটা সময় বের করে প্রধানমন্ত্রী তার স্ত্রী জুবাইদা রহমান ও কন্যা জাইমা রহমানকে নিয়ে নাটকটি দেখতে যান।


এর আগে গত ৩ এপ্রিল কন্যা জাইমা রহমানকে নিয়ে ধানমন্ডির সীমান্ত সম্ভারে অবস্থিত স্টার সিনেপ্লেক্সে একটি চলচ্চিত্র উপভোগ করেছিলেন তারেক রহমান।

সাংস্কৃতিক কর্মকাণ্ডের প্রতি প্রধানমন্ত্রীর এই ধারাবাহিক অংশগ্রহণ দেশের শিল্প-সংস্কৃতির অঙ্গনে ইতিবাচক প্রভাব ফেলছে বলে মনে করছেন সংস্কৃতিকর্মীরা।

তারা বলছেন, খোদ সরকারপ্রধানের থিয়েটার ও সিনেমায় উপস্থিতি সাধারণ দর্শকদেরও বিনোদনের সুস্থ ধারায় উৎসাহিত করবে।

পরবর্তী খবর

‘ফ্রেন্ডস’ তারকার মৃত্যুতে ১৫ বছরের সাজা ‘কেটামিন কুইনের’

| প্রকাশিত: ১১:৪০ অপরাহ্ন, ১০ এপ্রিল ২০২৬
হলিউড অভিনেতা ম্যাথু পেরির কাছে প্রাণঘাতি মাদক বিক্রির দায়ে ‘কেটামিন কুইন’ নামের কুখ্যাত এক নারীকে ১৫ বছরের কারাদণ্ড দেয়া হয়েছে। তার কাছ থেকে কেনা মাদক সেবনের জেরেই ৫৪ বছর বয়সী ‘ফ্রেন্ডস’ তারকা পেরির মৃত্যু হয় বলে জানিয়েছে বিবিসি। 

জাসভিন সাংঘা নামের ওই নারী গত বছরের সেপ্টেম্বরে তার বিরুদ্ধে আনীত পাঁচটি অভিযোগে দোষ স্বীকার করেন। এর মধ্যে ছিল কেটামিন সরবরাহ করে মৃত্যু বা শারীরিক ক্ষতির কারণ হওয়ার অভিযোগ।

অভিযোগকারীরা জানান, যুক্তরাষ্ট্র ও যুক্তরাজ্যের দ্বৈত নাগরিক এই নারীর নর্থ হলিউডের বাসভবনটি ছিল একটি ‘মাদক বিক্রির আড্ডাখানা’। সেখানে ধনী ও প্রভাবশালী গ্রাহকদের কাছে বিভিন্ন ধরনের মাদক বিক্রি করা হতো। 

দীর্ঘদিন ধরে মাদকাসক্তির সঙ্গে লড়াই করা ম্যাথু পেরিকে ২০২৩ সালের অক্টোবরে তার লস অ্যাঞ্জেলেসের বাড়ির হট টাবে মৃত অবস্থায় পাওয়া যায়। তার মৃত্যু কেটামিনের তীব্র প্রভাবের কারণে হয়েছে বলে নিশ্চিত করেন তদন্তকারীরা।

কেটামিন একটি ডিসোসিয়েটিভ অ্যানেস্থেটিক, যার কিছু হ্যালুসিনোজেনিক প্রভাব রয়েছে। এটি শুধুমাত্র চিকিৎসকের তত্ত্বাবধানে ব্যবহারের কথা।

আদালতে পেরির স্বজনরা বক্তব্য দেয়ার সময় সাংঘা কান্নায় ভেঙে পড়েন। পরে বিচারক তার সাজা ঘোষণা করেন।

বিচারক বলেন, সাংঘাকে তার অপরাধের জবাব দিতে হবে। গ্রেপ্তারের পর থেকে তিনি কোনও অনুশোচনা দেখাননি। আদালতে বক্তব্য দেওয়ার সুযোগ পেয়ে সাংঘা স্বীকার করেন, তার ভুল সিদ্ধান্ত বহু মানুষের জীবন ধ্বংস করেছে। তিনি তার কর্মকাণ্ডের জন্য গভীরভাবে লজ্জিত ও দুঃখিত।

সাজার আগে বিচারকের কাছে সাংঘার সর্বোচ্চ শাস্তির আবেদন জানান পেরির সৎমা ডেবি পেরি।

১৯৯৪ থেকে ২০০৪ সাল পর্যন্ত এনবিসিতে প্রচারিত সিটকম ‘ফ্রেন্ডস’-এ চ্যান্ডলার বিং চরিত্রে অভিনয় করে বিশ্বজোড়া খ্যাতি পান পেরি। এই সিরিজ চলাকালেই মাদকের অন্ধকার জগতে প্রবেশ করেন তিনি। 
পরবর্তী খবর

আনন্দ বা মঙ্গল নয়, নববর্ষে হবে ‘বৈশাখী শোভাযাত্রা’

| প্রকাশিত: ৩:৫৮ অপরাহ্ন, ০৫ এপ্রিল ২০২৬

আগামী পহেলা বৈশাখের মঙ্গল শোভাযাত্রা নিয়ে চলমান বিতর্ক ও বিভাজন এড়াতে এর নতুন নাম ঘোষণা করেছে সরকার। সংস্কৃতিমন্ত্রী নিতাই রায় চৌধুরী সচিবালয়ে এক সভায় জানান, এ বছর থেকে এই বর্ণাঢ্য আয়োজনটি ‘বৈশাখী শোভাযাত্রা’ নামে অনুষ্ঠিত হবে। উৎসবের বৈচিত্র্যের মধ্যে ঐক্য বজায় রাখতেই এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে বলে তিনি উল্লেখ করেন।

রবিবার (৫ এপ্রিল) সচিবালয়ে নিজ দপ্তরে এ তথ্য জানান তিনি।

এর আগে তিনি সচিবালয়ে বাংলা নববর্ষ এবং চাকমা, মারমা, ত্রিপুরা, গারো ও অন্যান্য জাতিগোষ্ঠীর নববর্ষ উদযাপনের লক্ষ্যে এক সভা করেন মন্ত্রী।

মন্ত্রী বলেন, ‘পয়লা বৈশাখ উদ্‌যাপনের লক্ষ্যে শোভাযাত্রার নাম আনন্দ কিংবা মঙ্গল নিয়ে বিতর্ক হচ্ছে। এই বিতর্কের কোনো মানে হয় না।’

তিনি আরও বলেন, ‘আমরা কোনো বিভাজন চাই না। বৈচিত্র্যের মাধ্যমে আমরা ঐক্য চাই। এ অবস্থায় সরকার সিদ্ধান্ত নিয়েছে এবারের পয়লা বৈশাখে শোভাযাত্রা আনন্দ কিংবা মঙ্গল নামে নয়, বৈশাখী শোভাযাত্রা নামে হবে।

এখন থেকে প্রতিবছর এই নামই থাকবে।’

পহেলা বৈশাখের শোভাযাত্রার নাম ‘বৈশাখী শোভাযাত্রা’ হলেও ইউনেস্কোর স্বীকৃতি নিয়ে কোনো সমস্যা হবে না বলে জানিয়েছেন মন্ত্রী।

পরবর্তী খবর

১৭ এপ্রিল মুক্তি পাচ্ছে ‘আতরবিবিলেন’

| প্রকাশিত: ১২:৪২ পূর্বাহ্ন, ০৪ এপ্রিল ২০২৬
আগামী ১৭ এপ্রিল সারাদেশের প্রেক্ষাগৃহে মুক্তি পেতে যাচ্ছে টাইমস মিডিয়ার ব্যানারে নির্মিত নতুন চলচ্চিত্র ‘আতরবিবিলেন’। মিজানুর রহমান লাবু পরিচালিত এই সিনেমাটিকে ঘিরে ইতোমধ্যেই শুরু হয়েছে জোর প্রচারণা। মুক্তির ঘোষণা দিতে সম্প্রতি প্রকাশ করা হয়েছে ছবিটির অফিসিয়াল ট্রেইলার ও পোস্টার, যা দর্শকদের মধ্যে কৌতূহল বাড়িয়েছে।

টাইমস মিডিয়ার ইউটিউব চ্যানেলে ট্রেইলার প্রকাশের মধ্য দিয়ে আনুষ্ঠানিকভাবে ছবিটির মুক্তির তারিখ জানানো হয়। নির্মাতা নিজেই গল্প, সংলাপ ও চিত্রনাট্য রচনা করেছেন। কেন্দ্রীয় চরিত্র আতরবিবির ভূমিকায় অভিনয় করেছেন ফারজানা সুমি। তার বিপরীতে দেখা যাবে দুই বাংলার পরিচিত মুখ মুস্তফা প্রকাশকে।

ছবিতে আরও অভিনয় করেছেন রাশেদ মামুন অপু, আশীষ খন্দকার, এলিনা শাম্মী, সানজিদা মিলা, জয়রাজ, পারভেজ সুমন, ফরহাদ লিমন, কাজী উজ্জ্বল, সকাল ও সীমান্তসহ একঝাঁক শিল্পী, যারা বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ চরিত্রে গল্পকে এগিয়ে নিয়ে গেছেন।

সিনেমাটি নিয়ে নির্মাতা মিজানুর রহমান লাবু বলেন, ছবিটি তার জন্য বিশেষ এক অনুভূতির। দীর্ঘ সময় ও শ্রম দিয়ে নির্মিত এই কাজটি দর্শকদের ভালো লাগবে বলেই তিনি আশাবাদী। তিনি সবাইকে প্রেক্ষাগৃহে গিয়ে সিনেমাটি দেখার আমন্ত্রণ জানিয়েছেন।

‘আতরবিবিলেন’-এর গল্পে উঠে এসেছে এক প্রান্তিক নারীর জীবনসংগ্রাম। আতরবিবি নামের সেই নারী সাধারণ জীবনের স্বপ্ন দেখলেও বাস্তবতার কঠিন মুখোমুখি হয়ে বারবার প্রতারিত হয় সমাজের ভদ্রবেশী স্বার্থান্বেষী মানুষের কাছে। প্রতিকূলতার বিরুদ্ধে তার লড়াই এবং টিকে থাকার গল্পই মূলত চলচ্চিত্রটির উপজীব্য, যা সমাজের প্রান্তিক নারীদের বাস্তব চিত্র তুলে ধরার চেষ্টা করেছে।