ধর্ষণে কিশোরী অন্তঃসত্ত্বা: সৎবাবার মৃত্যুদণ্ড

Newsdesk
Newsdesk Newsdesk
প্রকাশিত: ৫:০৭ অপরাহ্ন, ২৯ সেপ্টেম্বর ২০২৬ | আপডেট: ৪:১৫ পূর্বাহ্ন, ৩০ সেপ্টেম্বর ২০২৬

ঢাকার কামরাঙ্গীরচরে সপ্তম শ্রেণির এক কিশোরীকে ধর্ষণের মামলায় তার সৎবাবা জামাল হোসেনকে মৃত্যুদণ্ড দিয়েছেন আদালত। একই সঙ্গে তাকে পাঁচ লাখ টাকা জরিমানা করা হয়েছে। প্রায় তিন বছর আগে ওই কিশোরী ধর্ষণের শিকার হয়ে অন্তঃসত্ত্বা হয়েছিল।

মঙ্গলবার (২৯ সেপ্টেম্বর) ঢাকার শিশু সহিংসতা দমন ট্রাইব্যুনালের বিচারক মাসরুর সালেকীন এ রায় ঘোষণা করেন। রায় ঘোষণার আগে জামাল হোসেনকে ট্রাইব্যুনালে হাজির করা হয়। পরে সাজা পরোয়ানা দিয়ে তাকে কারাগারে পাঠানো হয়।


রায়ের পর্যবেক্ষণে বিচারক মাসরুর সালেকীন বলেন, জামাল হোসেন ১৩ বছর বয়সী ওই কিশোরীর ওপর পাশবিক নির্যাতন চালিয়েছেন। ৫৬ বছর বয়সী জামাল ‘ঘৃণ্য অপরাধ’ করেছেন বলেও মন্তব্য করেন তিনি।

পর্যবেক্ষণে বিচারক আরও বলেন, ‘সুপ্রিম কোর্টের আপিল বিভাগের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, আদালত তার কর্তব্য পালনে ব্যর্থ হবে যদি এই অপরাধের জন্য যথোপযুক্ত শাস্তি প্রদান করা না হয়; যা কেবল দুর্ভাগ্যজনক ভুক্তভোগীর বিরুদ্ধেই নয়, ভুক্তভোগী যে সমাজের অন্তর্ভুক্ত, সেই সমাজের বিরুদ্ধেও সংঘটিত হয়েছে। এটি আদালতের দায়িত্ব সমাজের আর্তনাদে সাড়া দেওয়া এবং একটি ঘৃণ্য অপরাধের জন্য যথাযথ শাস্তি নির্ধারণ করা।’


ট্রাইব্যুনালের বেঞ্চ সহকারী পঙ্কজ কুমার গোমেজ জানান, জরিমানার পাঁচ লাখ টাকা আদায় না হলে দণ্ডিত ব্যক্তির স্থাবর বা অস্থাবর সম্পত্তি নিলামে বিক্রি করে সেই অর্থ ভুক্তভোগী বা তার আইনগত উত্তরাধিকারীকে ক্ষতিপূরণ হিসেবে দেওয়ার জন্য জেলা কালেক্টরকে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

মামলার নথি অনুযায়ী, ওই কিশোরী মা ও সৎবাবার সঙ্গে কামরাঙ্গীরচরে থাকত এবং স্থানীয় একটি বিদ্যালয়ে সপ্তম শ্রেণিতে পড়াশোনা করত। ২০২৩ সালের ২৮ আগস্ট মা বাড়িতে না থাকার সুযোগে জামাল হোসেন তাকে ধর্ষণ করেন। এর আগেও কয়েক দফা ধর্ষণের শিকার হয়েছিল কিশোরীটি। পরে সে অন্তঃসত্ত্বা হয় এবং একটি সন্তান জন্ম দেয়।


এ ঘটনায় ওই কিশোরীর মা ২০২৩ সালের ২৮ আগস্ট কামরাঙ্গীরচর থানায় মামলা করেন। মামলাটি তদন্ত করে পুলিশের উপপরিদর্শক (এসআই) মোহাম্মদ আলী হোসেন ২০২৫ সালের ২৩ জানুয়ারি জামাল হোসেনের বিরুদ্ধে আদালতে অভিযোগপত্র জমা দেন।

২০২৫ সালের ২৪ আগস্ট জামাল হোসেনের বিরুদ্ধে অভিযোগ গঠনের মাধ্যমে এ মামলার বিচার শুরু হয়। বিচার চলাকালে ট্রাইব্যুনাল আটজনের সাক্ষ্য গ্রহণ করেন। পরে আসামির আত্মপক্ষ সমর্থনের বক্তব্য ও উভয় পক্ষের যুক্তিতর্ক উপস্থাপন শেষে আজ জামাল হোসেনকে সর্বোচ্চ সাজা মৃত্যুদণ্ড দেওয়া হলো।