চোরাচালান চক্রে চীনা নাগরিক, জব্দ সাড়ে ৭ কোটি টাকার ওষুধ

Newsdesk
Newsdesk Newsdesk
প্রকাশিত: ৬:০০ অপরাহ্ন, ১৫ অক্টোবর ২০২৬ | আপডেট: ৪:০৩ পূর্বাহ্ন, ১৬ অক্টোবর ২০২৬

ঢাকার উত্তরা থেকে সাড়ে সাত কোটি টাকা মূল্যের ওষুধসহ চোরাচালান চক্রের চার সদস্যকে গ্রেপ্তার করেছে স্পেশাল রেসপন্স ব্যাটালিয়ন (এসআরবি)। তাদের মধ্যে একজন চীনা নাগরিক। ক্যান্সারসহ জটিল রোগের চিকিৎসায় ব্যবহৃত ওষুধ তুলনামূলক কম দামে কিনে বিভিন্ন দেশে কুরিয়ার সার্ভিসের মাধ্যমে পাঠানোর অভিযোগ রয়েছে তাদের বিরুদ্ধে।

গ্রেপ্তার ব্যক্তিরা হলেন— চীনা নাগরিক লি ফেন (৩৪), বকুল নাহার বীথি (২৪), ইউনুস আলী (২৬) ও সজীব হাওলাদার (২৮)। গতকাল বুধবার রাতে উত্তরা এলাকায় অভিযান চালিয়ে তাদের গ্রেপ্তার করা হয়। এ সময় ওষুধের পাশাপাশি নগদ ৬ লাখ ৬ হাজার ১৪০ টাকা জব্দ করা হয়েছে বলে এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে জানিয়েছে এসআরবি।

সংস্থাটির ভাষ্য, চীনা নাগরিক লি ফেন ও তার সহযোগীরা বাংলাদেশ থেকে তুলনামূলক কম দামে ওষুধ সংগ্রহ করে লাওস, কম্বোডিয়া, ভিয়েতনামসহ বিভিন্ন দেশে পাঠাতেন। ক্যান্সারসহ জটিল ও দুরারোগ্য রোগের চিকিৎসায় ব্যবহৃত ওষুধই ছিল তাদের ব্যবসার অন্যতম লক্ষ্য। কুরিয়ার সার্ভিসে পাঠানোর জন্য ২৪ থেকে ২৫ কেজি ওজনের কার্টনে ওষুধ প্যাকেটজাত করা হতো।

এসআরবির বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, লি ফেন ২০২৪ সালের আগস্টে ৩০ দিনের ভ্রমণ ভিসায় বাংলাদেশে আসেন। ভিসার মেয়াদ শেষ হওয়ার দুই থেকে তিন দিন আগে তিনি চীনে ফিরে যান। তবে কয়েক দিন পর আবারও ভ্রমণ ভিসায় বাংলাদেশে আসেন।

গ্রেপ্তার বকুল নাহার বীথি ২০১৯ থেকে ২০২৩ সাল পর্যন্ত চীনের একটি বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়াশোনা করেন। সেখানে চীনা ভাষা শেখার পর দেশে ফিরে তিনি লি ফেনের দোভাষী হিসেবে কাজ করছিলেন বলে জানিয়েছে এসআরবি।

সংস্থাটির দাবি, বিভিন্ন ওষুধ কোম্পানির কর্মচারীদের সঙ্গেও চক্রটির যোগসাজশ ছিল। মঙ্গলবার হজরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের কাস্টমস কর্তৃপক্ষ প্রায় ১০০ কেজি ওজনের ওষুধের একটি চালান আটক করে। ওই ঘটনার সূত্র ধরে তদন্তে নেমে চক্রটির চার সদস্যকে গ্রেপ্তার করা হয়।

ওষুধগুলো অবৈধভাবে বিদেশে পাঠানো এবং রাজস্ব ফাঁকির অভিযোগে গ্রেপ্তার ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে। এ ঘটনায় জড়িত অন্যদের শনাক্ত ও গ্রেপ্তারে অভিযান অব্যাহত থাকবে বলে জানিয়েছে এসআরবি।