জাতীয় বাজেট ও আমাদের গণমাধ্যম --আবু সালেহ আখন্দ
বাজেটে তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রণালয়ের জন্য ১ হাজার ১৯০ কোটি টাকা বরাদ্দের প্রস্তাব করা হয়েছে। যা গতবছরের সংশোধিত বাজেটের তুলনায় ৩৩ কোটি টাকা কম। যা দু:থজনক। জাতীয় বাজেটে গণমাধ্যমের জন্য আলাদা কোন বাজেট থাকে না। তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রণালয়ের বরাদ্দ থেকেই গণমাধ্যম বরাদ্দ পায়। সেই বরাদ্দ যে যথাযথভাবে ব্যবহৃত হয় তার কোন নজির নেই!
গণমাধ্যম বেঁচে থাকার মূল যে অর্থটা আসে তা হলো বিজ্ঞাপন থেকে। সেক্ষেত্রেও দেখা গেছে দেশীয় বিজ্ঞাপনের একটি বড় অংশ চলে যায় বিদেশীদের হাতে। যেমন ফেসবুক, ইউটিউবসহ অন্যান্য মাধ্যমে। তাহলে দেশীয় গণমাধ্যম কিভাবে বাঁচবে তা নিয়ে কারো ভাবনা আপতত নেই!
আমরা বরাবরই সরকারের কাছে সাংবাদিকদের জন্য অবসরভাতা, চিকিৎসাভাতা, বেকারভাতাসহ অন্যান্য সুযোগসুবিধা দাবি করে আসছি। বরাবরের মতো এবারও সেটি উপেক্ষিত। কল্যানট্রাষ্টের মাধ্যমে সাংবাদিকদের যে অনুদান দেয়া হয়, অনেক সাংবাদিক না খেয়ে থাকলেও সেই দান গ্রহণ করবেন না। কিন্তু অবসরভাতা, চিকিৎসাভাতা বা বেকারভাতা সরকারিভাবে ঘোষণা করা হলে তা গ্রহণ করবেন। বিষয়গুলো অবশ্যই এই সরকারকে ভাবতে হবে।
ফ্যাসিষ্ট আমলে অনেক মিডিয়া মালিক এবং কিছু সাংবাদিক আঙ্গুল ফুলে কলাগাছ হয়েছে। তারা সরকারি নানা সুযোগসুবিধা ভোগ করেছে। শতশত কোটি টাকা লোপাট করেছে। বিজ্ঞাপনের ক্ষেত্রেও অসমনীতি ছিলো সেই আমলে। আমরা তেমনটি আর চাই না। বিজ্ঞাপনের সুসমবন্টন হবে, সাংবাদিকরা সকল প্রকার সুযোগ সুবিধা পাবে; এটাই এই সরকারের কাছে প্রত্যাশা।
আবু সালেহ আখন্দ, সভাপতি, ঢাকা রিপোর্টাস ইউনিটি