ইরানের সঙ্গে প্রধান প্রধান বিষয়ে ঐকমত্যের দাবি ট্রাম্পের

Newsdesk
Newsdesk Newsdesk
প্রকাশিত: ১:২৭ পূর্বাহ্ন, ২৪ মার্চ ২০২৬ | আপডেট: ২:০৭ পূর্বাহ্ন, ২৫ মার্চ ২০২৬

পারস্য উপসাগর অঞ্চলে ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে উত্তেজনার মধ্যেই কূটনৈতিক অগ্রগতির ইঙ্গিত দিয়েছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ট্রুথ সোশ্যালে দেওয়া বার্তার পর এবার সাংবাদিকদের সামনেও তিনি দাবি করেছেন, তেহরান ও ওয়াশিংটনের মধ্যে ফলপ্রসূ আলোচনা হয়েছে। একই সঙ্গে দীর্ঘদিনের বৈরিতা কাটিয়ে প্রধান কিছু বিষয়ে ঐকমত্যের ক্ষেত্র তৈরি হয়েছে বলেও জানান তিনি।

স্থানীয় সময় সোমবার ফ্লোরিডার একটি বিমানবন্দরে গণমাধ্যমের সঙ্গে কথা বলেন ট্রাম্প। এ সময় তিনি বলেন, ‘আমাদের মধ্যে জোরালো আলোচনা হয়েছে। বিষয়গুলো কোথায় গিয়ে দাঁড়ায়, সেটাই এখন দেখার। তবে প্রধান প্রধান ইস্যুতে ঐকমত্যের ক্ষেত্র তৈরি হয়েছে। এমনকি প্রায় সব বিষয়েই আমরা একমত হতে পেরেছি।’

তিনি আরও জানান, ইরান একটি চুক্তিতে পৌঁছাতে আগ্রহী এবং যুক্তরাষ্ট্রও একই লক্ষ্য নিয়ে এগোচ্ছে। সম্ভবত আজ ফোনে আবারও কথা হবে।

এদিকে গত শনিবার ট্রাম্প হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেন, ইরানকে আগামী ৪৮ ঘণ্টার মধ্যে হরমুজ প্রণালী খুলে দিতে হবে, নয়তো তাদের বিদ্যুৎ অবকাঠামো লক্ষ্য করে হামলা চালানো হবে। তার এই বক্তব্যের পর পাল্টা প্রতিক্রিয়া জানায় ইরান। দেশটি হরমুজ প্রণালী সম্পূর্ণ বন্ধ করে দেওয়ার হুমকি দেয়।

এরপর ট্রাম্প জানান, মধ্যপ্রাচ্যে চলমান উত্তেজনার একটি পূর্ণাঙ্গ ও স্থায়ী সমাধান নিয়ে দুই দেশের মধ্যে আলোচনা হয়েছে। তিনি আপাতত ইরানের বিদ্যুৎ ও জ্বালানি অবকাঠামোতে হামলা না করার ইঙ্গিতও দেন।

ইউরোপীয় ইউনিয়নের পররাষ্ট্রনীতি বিষয়ক প্রধান কাজা কালাস এই অবস্থানকে স্বাগত জানিয়ে বলেন, অবকাঠামোতে হামলা বন্ধ থাকলে অঞ্চলের অস্থিতিশীলতা কিছুটা কমতে পারে।

এদিকে সামরিক অঙ্গনে নতুন করে আলোচনা শুরু হয়েছে। গত সপ্তাহে একটি মার্কিন এফ-৩৫ যুদ্ধবিমান মধ্যপ্রাচ্যের একটি ঘাঁটিতে জরুরি অবতরণ করে। কিছু সূত্র ও ইরানি গণমাধ্যমের দাবি, বিমানটি হামলায় ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছিল। তবে এ বিষয়ে আনুষ্ঠানিকভাবে কোনো পক্ষ থেকে নিশ্চিত করা হয়নি।

যুক্তরাজ্যের প্রধানমন্ত্রী কিয়ার স্টারমার এক বিবৃতিতে জানিয়েছেন, ইরান থেকে ব্রিটেনের ওপর সরাসরি হামলার আশঙ্কা নেই। তিনি দ্রুত উত্তেজনা কমানোর আহ্বান জানান এবং হরমুজ প্রণালী নিয়ে সমন্বিত উদ্যোগের ওপর জোর দেন।

কাতার ইউনিভার্সিটির অধ্যাপক আব্দুল্লাহ আল-ইতাইবি আল-জাজিরাকে বলেন, আগামী শুক্রবার পর্যন্ত সময়টি অত্যন্ত স্পর্শকাতর। তার মতে, এই সময়ের মধ্যে কোনো আনুষ্ঠানিক সমঝোতা না হলে পরিস্থিতি আরও জটিল হয়ে উঠতে পারে।